যন্ত্র
অবয়ব
যন্ত্র হলো এক বা একাধিক অংশ নিয়ে গঠিত একটি সরঞ্জাম যা কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য তৈরি করা হয়। যন্ত্র হলো শক্তিচালিত সরঞ্জাম, যা সাধারণত যান্ত্রিক, রাসায়নিক, তাপীয় বা বৈদ্যুতিকভাবে চালিত হয় এবং প্রায়শই মোটরচালিত হয়ে থাকে। ঐতিহাসিকভাবে, কোনো সরঞ্জামকে যন্ত্র হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করার জন্য তাতে চলমান অংশের প্রয়োজন হতো; তবে, ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তির আবির্ভাবের ফলে এমন সব সরঞ্জামের বিকাশ ঘটেছে যেগুলোতে কোনো চলমান অংশ নেই, কিন্তু সেগুলোকে যন্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয়। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে যন্ত্র হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি বা উপায়, যার মাধ্যমে বল প্রয়োগে কোনো কাজ করা যায়।
উক্তি
[সম্পাদনা]- যদি তুমি বিশ্বাস করো যে তুমি যন্ত্র নও, কিন্তু আমি যন্ত্র, তাহলে আমি জানি না তুমি কেন এই বইটি পড়ছো।
- জাহাজে কোম্পাস নামে একটা যন্ত্র থাকে; ঐ যন্ত্রে একটী সূচী আছে; জাহাজ যে মুখে যাউক না কেন, সেই সূচী সর্ব্বদাই উত্তর মুখে থাকে। উহা দেখিয়া নাবিকেরা দিক্ নির্ণয় করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, জল—সমুদ্র—নদী, বোধোদয়- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দ (১২৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭২-৭৩
- ভবিষ্যতের কারখানায় মাত্র দুজন কর্মচারী থাকবে, একজন মানুষ ও একটি কুকুর। মানুষটি থাকবে কুকুরটিকে খাওয়ানোর জন্য। আর কুকুরটি থাকবে মানুষটিকে যন্ত্রপাতি স্পর্শ করা থেকে বিরত রাখার জন্য।
- ওয়ারেন জি. বেনিস; উদ্ধৃত: মার্ক ফিশার (১৯৯১) দি মিলিয়নেয়ার'স বুক অফ কোটেশনস, পৃষ্ঠা ১৫১
- অণুবীক্ষণ নামে এক রকম যন্ত্র আছে, যাহাতে ছোট জিনিষকে বড় করিয়া দেখায়; বড় জিনিষকে ছোট দেখাইবার নিমিত্ত উপায় পদার্থবিদ্যাশাস্ত্রে নির্দিষ্ট থাকিলেও, ঐ উদ্দেশ্যে নির্ম্মিত কোন যন্ত্র আমাদের মধ্যে সর্ব্বদা ব্যবহৃত হয় না।
- রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, চরিত-কথা - রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, প্রকাশক- নববিভাকর যন্ত্র, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩
- যখন কোনো যন্ত্র মানুষের সাহায্য ছাড়াই চলতে শুরু করে, তখন সেটিকে বাতিল করার সময় এসে যায় —সেটা কারখানা হোক বা সরকার।
- আলেকজান্ডার চেজ (১৯৬৬) পার্সপেক্টিভস; উদ্ধৃত: আনা হার্ট (১৯৮৮) এক্সপার্ট সিস্টেমস: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন ফর ম্যানেজারস, পৃ. ১১১
- একটী জীবন যন্ত্র বিকল হইলে
মিলিত ললিত তান
নীরব হয় সে গান,
জীবন বীণার তার বাজে নাগো আর,
ভগ্নস্বরে একা করি মৃদুল ঝঙ্কার।- প্রসন্নময়ী দেবী, স্নেহোপহার, নীহারিকা - প্রসন্নময়ী দেবী, প্রকাশক- এস্ কে্ লাহিড়ী কোং, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দ (১২৯০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩
- বর্তমানে সভ্যতার সামনে সবচেয়ে বড় কাজ হলো যন্ত্রকে তার প্রকৃত রূপে গড়ে তোলা—মানুষের প্রভু না করে দাস হিসেবে।
- হ্যাভলক এলিস (১৯৪৮) নৈতিকতা, শিষ্টাচার এবং মানুষ, পৃষ্ঠা ৪১
- শাস্ত্রকারেরা কচ্ছপী বীণাকেই বাগ্দেবী সরস্বতীর হাতের যন্ত্র বলিয়া ব্যাখ্যা করেন; আমাদিগের বর্ণ্যমান কচ্ছপী বীণাটীতে যে সাতটী তার আবদ্ধ আছে, তন্মধ্যে চারিটী লৌহের এবং তিনটী পিত্তলের। ।
- শৌরীন্দ্রমোহন ঠাকুর, যন্ত্রকোষ- শৌরীন্দ্রমোহন ঠাকুর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দ (১২৮২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮-১৯
- শিক্ষা এমন যন্ত্র তৈরি করে যা মানুষের মতো আচরণ করে এবং এমন মানুষ তৈরি করে যারা যন্ত্রের মতো আচরণ করে।
- এরিখ ফ্রম; উদ্ধৃত: নোয়া বেনশিয়া (২০০১) গ্রেট কোটস টু ইন্সপায়ার গ্রেট টিচার্স, পৃষ্ঠা ২৩
- সবে মাত্র তুমি যন্ত্রী, যন্ত্র আমরা তন্ত্রে চলি।
তুমি যেমন্ রাখ তেম্নি থাকি, যেমন্ বলাও তেম্নি ৰলি।৷- কমলাকান্ত ভট্টাচার্য, কমলাকান্ত-পদাবলি- কমলাকান্ত ভট্টাচার্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ (১২৯২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৭
- লৌহ সকল ধাতু অপেক্ষা অধিক কার্য্যোপযোগী। এই ধাতুতে লাঙ্গলের ফাল, কোদাল,ক্যাস্তয়া প্রভৃতি কৃষি কার্য্যের যন্ত্র সকল নিৰ্মাণ করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ধাতু, বোধোদয়- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দ (১২৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৯
- আমি নিজে ক্ষুদ্রাকারে হইলেও একজন শিল্প ব্যবসায়ী, সুতরাং প্রথমতঃ আমি এই আদিম যুগের যন্ত্রটির প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশই করিয়াছিলাম। কিন্তু বিশেষ চিন্তার পর আমি বুঝিতে পারিলাম—প্রত্যেক গৃহস্থের পক্ষে এই চরকা কত উপকারী, অবসর সময়ে এই চরকায় কত কাজ হইতে পারে। ভারতের যে সব লক্ষ লক্ষ লোক অতি কষ্টে অনশনে অর্দ্ধাশনে জীবন যাপন করে, তাহাদের পক্ষে এই চরকা জীবিকার্জনের একমাত্র গৌণ উপায়।
- প্রফুল্লচন্দ্র রায়, চরকার বার্তা—কাটুনীর বিলাপ, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, আত্মচরিত- প্রফুল্লচন্দ্র রায়, প্রকাশক- ওরিয়েণ্ট বুক কোম্পানি, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪২
- মানুষের যে-কোনো অস্ত্র বা যে-কোনো যন্ত্র বল- বড়ো-বড়ো কামান, এঞ্জিন বা মোটর হইতে লাঙল কোদাল কাঁটা পেরেক পর্যন্ত- সবটাতেই লোহার দরকার হয়। যার মধ্যে লোহা নাই এমনও অসংখ্য জিনিস তৈয়ারি করিবার সময়ে লোহার যন্ত্র ব্যবহার করিতে হয়।
- সুকুমার রায়, লোহা, সুকুমার রায় সমগ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী ও কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪৯
- বেসুরেই বাজবে তাদের রনোন্মাদের যন্ত্র গুলি,
গগন ছেয়ে উঠবে তাদের, নৃত্য পায়ের মুক্ত ধুলি।- মুকুন্দ দাস, অগ্নিময়ী মায়ের ছেলে আগুন নিয়েই খেলবে তারা [১]
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় যন্ত্র সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।
উইকিঅভিধানে যন্ত্র শব্দটি খুঁজুন।
উইকিমিডিয়া কমন্সে যন্ত্র সংক্রান্ত মিডিয়া রয়েছে।