যোগিন্দর সিকান্দ
অবয়ব
যোগিন্দর সিং সিকান্দ (জন্ম ১৯৬৭) একজন ভারতীয় লেখক এবং শিক্ষাবিদ যিনি ভারতে ইসলাম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বেশ কিছু বই লিখেছেন।
উক্তি
[সম্পাদনা]- ফ্যাসিবাদী হিন্দুত্ববাদী ভাবনায় ভারতীয় মুসলিমদের ক্রমাগত পাকিস্তানি “ফিফথ কলামিস্ট”, “জাতির শত্রু” ইত্যাদি হিসেবে গালি দেওয়া হয় এবং তাদের দেশপ্রেম সন্দেহজনক বলা হয়। হুমকিস্বরূপ “অন্য পক্ষ” হিসেবে মুসলিমরা হিন্দুত্ববাদী আলোচনার কেন্দ্রে অবস্থান করে এবং এটি মুসলিম বিরোধী বড় মাপের সহিংসতাকে বৈধতা দিতে ব্যবহৃত হয়েছে।
- আবু-রাবি', ইব্রাহিম, সম্পাদক (২০০৬)। দ্য ব্ল্যাকওয়েল কম্প্যানিয়ন টু কনটেম্পোরারি ইসলামিক থট। পৃষ্ঠা ৮৮।
হোয়াই আই গেভ আপ অন 'সোশ্যাল অ্যাক্টিভিজম
[সম্পাদনা]- একজন 'সামাজিক কর্মী' হিসেবে এবং 'বিপ্লবের' উদ্দেশ্যে আমার যে শক্তি ও উৎসাহ ব্যয় হয়েছিল, তা আমাকে বস্তুগতভাবে ভালোই প্রতিদান দিয়েছিল। যদিও আমাকে বলতে হবে যে এটিই প্রথমত 'বিপ্লবের' পক্ষে কাজ করার একমাত্র বা প্রধান কারণ ছিল না। আমি ভারতের 'প্রান্তিক গোষ্ঠীগুলোর' বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণার জন্য পিএইচডি এবং পরে দুটি পোস্ট-ডক্টরাল প্রজেক্ট করতে বিদেশে যাওয়ার জন্য মোটা অংকের স্কলারশিপ পেয়েছিলাম। একই বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমাকে দুই ডজনেরও বেশি দেশে কনফারেন্সে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমি একটি ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলাম এবং 'নিপীড়িতদের' সম্পর্কে যন্ত্রের মতো যে নিবন্ধ ও বইগুলো আমি লিখে চলতাম, তার জন্য আমাকে বেশ ভালো পারিশ্রমিক দেওয়া হতো। এছাড়া বেশ কিছু এনজিও আমাকে 'নিপীড়িতদের' ওপর গবেষণার দায়িত্ব দিয়েছিল, যার জন্য আমি আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছিলাম। যদিও শুরুতে আমার উদ্দেশ্য এমনটি ছিল না, তবে শীঘ্রই 'নিপীড়িতদের' নিয়ে লেখালেখি এবং কনফারেন্স করা আমার জীবিকার একটি লাভজনক উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমি আসলে আক্ষরিক অর্থেই 'নিপীড়িতদের' দুর্দশা পুঁজি করে জীবনযাপন করছিলাম, যদিও তখন আমি তা পুরোপুরি বুঝতে পারিনি।
- তবে এই সবকিছুর জন্য আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বড় মূল্য দিতে হয়েছিল। আমি যত বেশি 'নিপীড়িতদের বিপ্লবের' সাথে একাত্ম হয়েছি, ব্যক্তি হিসেবে আমি তত বেশি অসহ্যরকম নেতিবাচক হয়ে উঠেছিলাম।
- উদাহরণস্বরূপ, আমি নিজেকে বিশ্বাস করিয়েছিলাম যে হিন্দু ঐতিহ্য বা আমেরিকা অথবা পুঁজিবাদী আধুনিকতার মধ্যে ভালো কিছুই নেই। কারণ আমি সেই 'প্রগতিশীল' এবং 'কট্টর' তত্ত্বে আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম যে সাধারণ 'উচ্চ' বর্ণের হিন্দুরা (আমার নিজের পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ!) এবং প্রায় প্রতিটি আমেরিকান এই 'নিপীড়ন' বজায় রাখার ক্ষেত্রে সহযোগী।
- এই নেতিবাচকতাই ছিল 'প্রগতিশীল' হওয়ার একটি সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্য এবং আমি এতেই আনন্দ পেতে শুরু করি। তবে 'সক্রীয়কর্মী' সার্কেলে এই নেতিবাচকতা ছিল প্রায় পুরোটাই একপাক্ষিক। কারণ একজন 'আসল' 'সমাজকর্মী' হিসেবে গণ্য হতে হলে এটি ভাবাই অকল্পনীয় ছিল যে 'নিপীড়িতদের' কোনো কিছুতেই দোষ দেওয়া যেতে পারে। একজন 'সমাজকর্মীর' জন্য 'নিপীড়িত সম্প্রদায়ের' দুর্বলতাগুলোর উল্লেখ করা, হোক তা লিঙ্গ বৈষম্য বা দলিতদের মধ্যে জাতিগত দ্বন্দ্ব অথবা অনেক মুসলিম মাদ্রাসায় শেখানো ধর্মান্ধতা ও নারীবিদ্বেষ কিংবা নকশাল ও কট্টর ইসলামপন্থীদের দ্বারা নিরপরাধ হত্যা ও সন্ত্রাসী হামলা – তা রাষ্ট্রদ্রোহের চেয়ে কম কিছু ছিল না। এই ধরণের বিষয় নিয়ে করা রিপোর্টগুলোকে সাধারণত 'বিদ্বেষপূর্ণ শাসকগোষ্ঠীর প্রোপাগান্ডা' বা 'বিদ্বেষপূর্ণ ব্রাহ্মণবাদী মগজধোলাই' অথবা 'শাসক জাতি/শ্রেণী/সাম্রাজ্যবাদী নিপীড়নের বিরুদ্ধে দুর্বল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া' হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া হতো। কখনও যদি অনিচ্ছাসত্ত্বেও এগুলোকে সত্য বলে স্বীকার করা হতো, তবে 'নিপীড়িতদের সংবেদনশীলতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের' জন্য বা 'সামান্য বিরোধ' হিসেবে সেগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া হতো। যুক্তি দেওয়া হতো যে এ নিয়ে কথা বললে নিপীড়িতরা 'বিভক্ত' হবে, সংগ্রামের 'ক্ষতি' হবে এবং এভাবে তা 'প্রকৃত অত্যাচারীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেবে'। আপনি যদি শুধু এটুকুও বলতেন যে মাদ্রাসাগুলোতে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে যা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন (এমনকি সেখানে পড়া মুসলিম শিশুদের স্বার্থেই) অথবা মুসলিম ব্যক্তিগত আইন মুসলিম নারীদের প্রতি চরম পক্ষপাতদুষ্ট অথবা সংরক্ষণের সুযোগ নেওয়া অনেক দলিত তাদের সহকর্মী দলিতদের সাথে ঠিক তেমনটাই খারাপ ব্যবহার করে যেমনটা তাদের 'উচ্চ' বর্ণের হিন্দু 'অত্যাচারীরা' করত, তবে নিশ্চিতভাবেই আপনাকে 'সরকারের দালাল' বা 'হিন্দুত্ববাদী শক্তির বেতনভুক্ত চর' হিসেবে চিৎকার করে থামিয়ে দেওয়া হতো। এই চিৎকার কেবল সহকর্মী 'প্রগতিশীলদের' কাছ থেকেই আসত না, বরং সেই সব সম্প্রদায়ের মধ্য থেকেও আসত যাদের রক্ষা ও প্রসারের জন্য আপনি বছরের পর বছর ব্যয় করেছেন। আপনি যদি সামান্যতম ইঙ্গিত দিতেন যে ভারতের মুসলিমদের অবস্থা উর্দু গণমাধ্যমে একাংশ যেমনটা বিশ্বাস করাতে চায় ততটা খারাপ নয় অথবা এই দেশে মুসলিমরা যেকোনো মুসলিম-প্রধান রাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে অথবা অস্পৃশ্যতা আগের মতো অতটা ব্যাপক নেই, তবে আপনাকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে অভিযুক্ত করা হতো এবং আপনার উদ্দেশ্য নিয়ে গুজব ছড়ানো হতো। আপনি যদি স্বীকার করতেন যে সম্ভবত ভারতে প্রতি বছর দাঙ্গায় হিন্দুদের হাতে যত মুসলিম মারা যায় তার চেয়ে বেশি মুসলিম তাদের সহধর্মীদের হাতে 'ইসলামিক' রিপাবলিক অফ পাকিস্তান বা আফগানিস্তানে মারা যায় অথবা অনেক মুসলিম দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দুর্দশা ভারতের চেয়ে অনেক বেশি খারাপ অথবা কিছু দলিত কর্মকর্তা দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত, তবে আপনাকে 'নিপীড়িতদের লক্ষ্য' বা 'কজ'-এর প্রতি 'গাদ্দার' হিসেবে গালমন্দ করা হতো। ঠিক সেই মানুষগুলোই যারা আপনাকে তাদের সমস্যা নিয়ে লিখতে এবং হিন্দুত্ববাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে উৎসাহিত করত (কারণ তারা হয় নিজেরা এটি করতে ভয় পেত অথবা তাদের লেখার দক্ষতা বা ইংরেজি গণমাধ্যমে প্রবেশের সুযোগ ছিল না), তারাই আপনাকে তীব্রভাবে কোনো না কোনো 'শক্তির দালাল' হিসেবে গালি দিত যদি আপনি আপনার সততা ও ভারসাম্য বজায় রাখার খাতিরে তাদের সামান্যতম ত্রুটিও তুলে ধরতেন। মনে হতো যেন সংজ্ঞাগতভাবেই 'নিপীড়িতরা' হলো নিষ্কলঙ্ক ফেরেশতা যারা কোনো ভুল করতে পারে না এবং তাদের 'অত্যাচারীরা' হলো পুরোপুরি আসুরিক।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় যোগিন্দর সিকান্দ সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।