রথযাত্রা
অবয়ব

ভক্তেরা লুটায়ে পথে করিছে প্রণাম।
পথ ভাবে ‘আমি দেব’, রথ ভাবে ‘আমি’,
মূর্তি ভাবে ‘আমি দেব’—হাসে অন্তর্যামী।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রথযাত্রা বা রথদ্বিতীয়া একটি আষাঢ় মাসে আয়োজিত অন্যতম প্রধান হিন্দু উৎসব। ভারতের ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে এই উৎসব বিশেষ উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়। এছাড়া ইসকনের ব্যাপক প্রচারের জন্য এখন এটি বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর কৃষ্ণের বৃন্দাবন প্রত্যাবর্তনের স্মরণে এই উৎসব আয়োজিত হয়ে থাকে। ভারতের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ রথযাত্রা ওড়িশার পুরী শহরের জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রা। পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল, শ্রীরামপুর শহরের মাহেশের রথযাত্রা, গুপ্তিপাড়ার বৃন্দাবনচন্দ্র মঠের রথ, কলকাতার রথ এবং বাংলাদেশের ইসকনের রথ ও ধামরাই জগন্নাথ রথ বিশেষ প্রসিদ্ধ।
উক্তি
[সম্পাদনা]- রথযাত্রা, লোকারণ্য, মহা ধুমধাম,
ভক্তেরা লুটায়ে পথে করিছে প্রণাম।
পথ ভাবে ‘আমি দেব’, রথ ভাবে ‘আমি’,
মূর্তি ভাবে ‘আমি দেব’—হাসে অন্তর্যামী।- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। "কণিকা", প্রকাশক: বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়, প্রথম প্রকাশ: ১৩০৬, পৃষ্ঠা: ৫০
- পুরীর রাজাকে বলে চলন্ত বিষ্ণু, রাজ রথে হাত দিলে তবে রথ চলে। বহুকাল আগে একবার রথযাত্রা হবে, জগন্নাথ রথে চড়ে মাসির বাড়ি যাবেন। রাজা চলেছেন রথের আগে আগে, চামর করতে করতে। চারদিক লোকে লোকারণ্য; রথের দড়ি টানবার জন্য তীর্থযাত্রীদের তাড়াহুড়ো ঠেলাঠেলি; কেউ কেউ পড়ে যাচ্ছে ভিড়ের চাপে—দেখেছ রথযাত্রা কখনো? এখন, রথ চলেছে ভিড় ঠেলে।
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জোড়াসাঁকোর ধারে, জোড়াসাঁকোর ধারে- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬
- জ্যৈষ্ঠ মাসে ষষ্ঠীবাঁটা জামাই আন্তে দড়,
আষাঢ় মাসে রথযাত্রা যাত্রী হয় জড়।
শ্রাবণ মাসে ঢেলা-ফেলা, ঘী আর মুড়ি
ভাদ্র মাসে পচা পান্তা খান মন্সা বুড়ী!- যোগীন্দ্রনাথ সরকার, বারমেসে ছড়া, খুকুমণির ছড়া - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৪
- রথ নগরের মধ্যে প্রবেশ করতেই রাজমহিষী ও অন্যান্য নাগরিকগণ বাতায়ন হতে রথের উপর পুষ্পবৃষ্টি করতেন। এই রথযাত্রা অতি সমারোহের সঙ্গে সম্পাদিত হত। গোমতী-বিহার ছাড়া খোটানের অন্যান্য বিহারের ভিক্ষু-সংঘও বৎসরের অন্য সময়ে রথযাত্রা করত।
- প্রবোধচন্দ্র বাগচী, কাশগর ও খোটান, ভারত ও মধ্য এশিয়া - প্রবোধচন্দ্র বাগচী, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৭
- অমৃতা। আচ্ছা দিদিমা, সোজা রথ আর উল্টো রথ কেন বলে?
দিদিমা। জগন্নাথের চানযাত্রা কি না। যাবার সময় সোজা রথ, ফিরে আসবার সময় উল্টো রথ।
অমৃতা। রথের ঘোড়া কি হ’ল?
দিদিমা। সেকালে ঘোড়ায় টানত, এখন মানুষে টানে।
অমৃতা। সেকালে রথে চেপে যুদ্ধ করতে যেত। মেয়েদের কি রথে উঠতে নেই? তা হ’লে সুভদ্রা দুই ভাইয়ের মাঝখানে রথে ওঠেন কেন?- নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত, রথযাত্রা, রথযাত্রা ও অন্যান্য গল্প - নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড , প্রকাশস্থান- প্রয়াগরাজ, প্রকাশসাল- ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫
- আমরা দেখিয়াছি বৌদ্ধ মন্দিরে বৈষ্ণব দেবতা স্থান লইয়াছে, এককালে যাহা বুদ্ধের পদচিহ্ন বলিয়া পূজিত হইত তাহাই বিষ্ণুপদচিহ্ন বলিয়া গণ্য হইয়াছে, রথযাত্রা প্রভৃতি বৌদ্ধ উৎসবকে বৈষ্ণব আত্মসাৎ করিয়াছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। "বুদ্ধদেব", প্রকাশক: বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়, প্রথম প্রকাশ: বৈশাখী পূর্ণিমা, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৩৬৩, পৃষ্ঠা: ২৪ - ৪৭
- ফা-হিয়ানের বিবরণ থেকে বোঝা যায়, এ রথযাত্রা ছিল পুরীর জগন্নাথদেবের বা নেপালের মৎস্যেন্দ্রনাথের রথযাত্রার মত যাত্রা। খোটানের রথের দেবতা ছিলেন বুদ্ধদেব, আর সে রথের বর্ণনা দেখে মনে হয়, সে রথ দেখতেও জগন্নাথদেব বা মৎস্যেন্দ্রনাথের রথের মতই ছিল। খুব সম্ভব প্রাচীনকালে ভারতবর্ষেও বুদ্ধরথযাত্রার প্রচলন ছিল ও সেই ভারতীয় রীতিই খোটানে প্রসার লাভ করেছিল।
- প্রবোধচন্দ্র বাগচী, কাশগর ও খোটান, ভারত ও মধ্য এশিয়া - প্রবোধচন্দ্র বাগচী, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৭
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় রথযাত্রা সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।