বিষয়বস্তুতে চলুন

রবার্ট ক্লাইভ

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
মাননীয় চেয়ারম্যান, এই মুহূর্তে আমি নিজেই আমার ধৈর্য দেখে বিস্মিত!

মেজর-জেনারেল রবার্ট ক্লাইভ, ১ম ব্যারন ক্লাইভ (২৯ সেপ্টেম্বর ১৭২৫ – ২২ নভেম্বর ১৭৭৪), যিনি ক্লাইভ অব ইন্ডিয়া নামেও পরিচিত, তিনি বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির প্রথম ব্রিটিশ গভর্নর ছিলেন। তিনি একজন ব্রিটিশ সামরিক কর্মকর্তা এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারী হিসেবে শুরু করে প্রথমে বাংলা এবং পরবর্তীতে সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশ ও মায়ানমারের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে কোম্পানির সামরিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। ওয়ারেন হেস্টিংস সহ তিনি সেইসব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ছিলেন, যাঁরা পরবর্তীকালে ব্রিটিশ ভারত হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রের সূচনা করেছিলেন।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • পলাশী বিজয়ের ফলে যে শাসক ঐ প্রদেশগুলোর সার্বভৌম ক্ষমতা পেয়েছে, সে এখনো আমাদের প্রতি অনুগত রয়েছে, এটা সত্যি। এবং যতদিন তার অন্য কোনো ভরসা নেই, ততদিন সম্ভবত সে এমনই থাকবে। কিন্তু মুসলমানরা কৃতজ্ঞতায় খুব একটা প্রভাবিত হয় না; তাই যদি কখনো সে মনে করে যে আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙা তার জন্য লাভজনক, তাহলে আমাদের প্রতি তার যে ঋণ আছে, তা তাকে থামাতে পারবে না। আরও একটি বিষয় হলো, সে বয়সে প্রবীণ, আর তার ছেলে অত্যন্ত নির্দয় ও বাজে একটি যুবক, এবং স্পষ্টতই ইংরেজদের বিরোধী। তাই তাকে উত্তরাধিকারী হিসেবে ভরসা করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হবে। মাত্র ২০০০ ইউরোপীয় সৈন্যদের একটি ছোট দল আমাদেরকে তাদের উভয়ের কাছ থেকেই কোনো আশঙ্কা ছাড়াই নিরাপদ রাখতে পারবে। আর যদি তারা কোনো ঝামেলা করার সাহস দেখায়, তাহলে কোম্পানি নিজেরাই প্রদেশের শাসনক্ষমতা নিজেদের হাতে নিতে পারবে। এমন পরিস্থিতি তৈরি করাও খুব কঠিন হবে না, কারণ এখানকার সাধারণ মানুষের নির্দিষ্ট কোনো শাসকের প্রতি তেমন কোনো অনুরাগ নেই। আর বর্তমান শাসনব্যবস্থায় তাদের জীবন ও সম্পত্তির কোনো নিরাপত্তা নেই, তাই তারা একনায়কতান্ত্রিক শাসনের বদলে একটি তুলনামূলক কোমল শাসনব্যবস্থা পেলে খুশিই হবে।
    • উইলিয়াম পিটকে লেখা চিঠি (৭ জানুয়ারি ১৭৫৯), আলেকজান্ডার জন আর্ভুথনটের লর্ড ক্লাইভ: দ্য ফাউন্ডেশন অব ব্রিটিশ রুল ইন ইন্ডিয়া (১৮৯৯), পৃষ্ঠা ১১৬ এ উল্লিখিত।
  • আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট যে, আমি আপনাকে যথেষ্ট পরিষ্কারভাবে বোঝাতে পেরেছি এই সমৃদ্ধ রাজ্যগুলোর সম্পূর্ণ সম্পদ দখল করার ক্ষেত্রে খুবই কম বা কোন বাধাই থাকবে না; এবং তা মোগল সম্রাটের নিজস্ব সম্মতিতেই, শর্ত শুধু এই যে আমরা তাকে ওই রাজস্বের পাঁচ ভাগের এক ভাগেরও কম প্রদান করব। এখন আপনি নিজেই বিচার করুন—প্রতি বছর দুই মিলিয়ন স্টার্লিংয়েরও বেশি আয়, সঙ্গে তিনটি প্রদেশের অধিকার, যেগুলো প্রকৃতি ও শিল্পের সবচেয়ে মূল্যবান উৎপাদনে পরিপূর্ণ—এগুলো কি জনসাধারণের মনোযোগ পাওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়? এবং এই অর্জনকে সুরক্ষিত করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া কি সার্থক হবে না? এমন এক অর্জন, যা একজন দক্ষ ও নিঃস্বার্থ মন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে সাম্রাজ্যের জন্য বিপুল সম্পদের উৎসে পরিণত হতে পারে, এবং সময়ের সাথে সাথে এর একটি অংশ বর্তমানের ভারী ঋণের বোঝা কমানোর জন্যও ব্যবহৃত হতে পারে। এর সাথে আরও যোগ করুন, এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে আসা অন্যান্য ইউরোপীয় জাতিগুলোর উপর আমরা যে প্রভাব বিস্তার করতে পারব; তারা তখন আর আমাদের অনুমতি ছাড়া এবং আমাদের নির্ধারিত শর্তের বাইরে কোনো ব্যবসা করতে পারবে না। এটাও বিশেষভাবে বিবেচনার যোগ্য যে, এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব মাতৃদেশকে নিঃস্ব না করেই, যেমনটি আমাদের আমেরিকার উপনিবেশগুলোর ক্ষেত্রে অতিরিক্তভাবে ঘটেছে।
    • লেটার টু উইলিয়াম পিট (৭ জানুয়ারি ১৭৫৯), কোটেড ইন আলেকজান্ডার জন আরবাথনট, লর্ড ক্লাইভ: দ্য ফাউন্ডেশন অব ব্রিটিশ রুল ইন ইন্ডিয়া (১৮৯৯), পৃ. ১১৮–১১৯
  • আমাদের এখানে আগমনের পর অল্প কয়েক দিনই অতিবাহিত হয়েছে; তবুও, ইতিমধ্যে যা কিছু আমরা জেনেছি তা বিবেচনা করলে, এই জায়গার বেসামরিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্র পরিচালনার ক্ষমতা আমাদের নিজেদের হাতে একটি সিলেক্ট কমিটির মাধ্যমে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি—এ বিষয়ে এক মুহূর্তও দ্বিধা করার সুযোগ নেই। আমরা যা শুনছি, আমরা যা দেখছি তা হচ্ছে চারদিকে শুধু বিশৃঙ্খলা, অগোছালো অবস্থা, আর তার চেয়েও খারাপ, প্রায় সর্বত্রই এক ধরনের ব্যাপক দুর্নীতি।
    • লেটার টু দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (৭ মে ১৭৬৫), কোটেড ইন জেমস মিল, দ্য হিস্ট্রি অব ব্রিটিশ ইন্ডিয়া, ভলিউম III (১৮২০), পৃ. ৩৫০–৩৫১
  • আমার কর্মকাণ্ডে যে ধৈর্য আমি দেখিয়েছি, তার জন্য কি আমি প্রশংসার যোগ্য নই? পলাশীর বিজয় আমাকে যে অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিল, তা একটু বিবেচনা করুন। এক শক্তিশালী নবাব আমার ইচ্ছায় চলছিল; এক সমৃদ্ধ নগরী আমার দয়ার উপর ন্যস্ত ছিল; তার সবচেয়ে ধনবানরা আমার অনুগ্রহ পাওয়ার জন্য একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছিল। আমি এমন সব ভাণ্ডারের মধ্যে দিয়ে হেঁটেছি, যার দুই পাশ সোনা ও রত্নে পরিপূর্ণ এবং যা শুধু আমার জন্যই খুলে দেওয়া হয়েছিল। মাননীয় চেয়ারম্যান, এই মুহূর্তে আমি নিজেই আমার ধৈর্য দেখে বিস্মিত!
    • স্পিচ টু দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (সি. এপ্রিল ১৭৭২), কোটেড ইন আলেকজান্ডার জন আরবাথনট, লর্ড ক্লাইভ: দ্য ফাউন্ডেশন অব ব্রিটিশ রুল ইন ইন্ডিয়া (১৮৯৯), পৃ. ২০৭
  • জাল চুক্তি সম্পর্কে, লর্ড ক্লাইভ আপনার কমিটিকে জানিয়েছিলেন যে, ওমিচাঁদ নবাবের সমস্ত ধনসম্পদের ৫ শতাংশ দাবি করেছিল; এবং হুমকি দিয়েছিল, যদি তার এই দাবি মেনে নেওয়া না হয়, তবে সে অবিলম্বে সিরাজউদ্দৌলাকেচলমান সব বিষয় জানিয়ে দেবে এবং মি. ওয়াটসকে হত্যা করা হবে। তিনি আরও বলেন, এই সংবাদ পাওয়ার পর তিনি মনে করেছিলেন, এমন এক পাজী লোকের উদ্দেশ্য নস্যাৎ করতে কৌশল ও নীতি প্রয়োগ করা ন্যায্য; এবং এই জাল চুক্তির পরিকল্পনা তিনি নিজেই করেছিলেন, যাতে কমিটির সম্মতি ছিল। চুক্তিটি অ্যাডমিরাল ওয়াটসনের কাছে পাঠানো হয়েছিল; তিনি এতে স্বাক্ষর করতে আপত্তি জানান, কিন্তু তার যতদূর মনে পড়ে, যিনি এটি বহন করছিলেন (মি. লাশিংটন), তাকে নিজের নাম স্বাক্ষর করার অনুমতি দিয়েছিলেন:— তিনি আরও জানান, এ বিষয়টি তিনি কখনো গোপন করেননি; এমন পরিস্থিতিতে তিনি এটিকে ন্যায্য মনে করেন, এবং প্রয়োজনে তিনি এমন কাজ শতবারও করতে প্রস্তুত।
    • স্পিচ টু দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (১৭৭২), কোটেড ইন রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অ্যাপয়েন্টেড টু ইনকোয়ার ইনটু দ্য নেচার, স্টেট অ্যান্ড কন্ডিশন, অব দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, অ্যান্ড অব দ্য ব্রিটিশ অ্যাফেয়ার্স ইন দ্য ইস্ট-ইন্ডিজ (১৭৭৩), পৃ. ১৮
  • আমি নীরব দাঁড়িয়ে থেকে এটা মেনে নেব না যে, অসাধারণ দক্ষতা, অধ্যবসায় ও দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে অর্জিত একটি মহান সাম্রাজ্য অজ্ঞতা ও অলসতার কারণে হারিয়ে যাবে।
    • হেনরি স্ট্রেচিকলেখা চিঠি, যেখানে তিনি ব্যাখ্যা করেন কেন তিনি ভারতনীতি সম্পর্কিত তাঁর স্মারকলিপি লর্ড নর্থকে দিয়েছিলেন (৭ নভেম্বর ১৭৭২), মার্ক বেন্স-জোন্স, ক্লাইভ অফ ইন্ডিয়া (১৯৭৪), পৃষ্ঠা ২৭৭-এ উদ্ধৃত।
  • আমেরিকানরা যে আগে বা পরে স্পেনের সমস্ত সম্পদের মালিক হয়ে উঠবে এবং কেপ হর্নকে তাদের সাম্রাজ্যের সীমানা বানাবে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
    • ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সম্পর্ক বিবেচনা’ (২৪ নভেম্বর ১৭৭২), মার্ক বেন্স-জোন্স, ক্লাইভ অফ ইন্ডিয়া (১৯৭৪), পৃষ্ঠা ২৯৬-এ উল্লিখিত।
  • আমার সম্মান রেখে যাও, আমার সম্পদ কেড়ে নাও।
    • হাউস অব কমন্সে তাঁর ভারে শাসনকে সমর্থন করে দেওয়া ভাষণ (২১ মে ১৭৭৩), মার্ক বেন্স-জোনস-এর ক্লাইভ অফ ইন্ডিয়া (১৯৭৪), পৃ. ২৮৭ এ উল্লিখিত

রবার্ট ক্লাইভকে নিয়ে উক্তি

[সম্পাদনা]
  • সাম্রাজ্যের ফুল, দেশের রক্ষক, বীর, যুদ্ধে দৃঢ় ও অটল।
    • আলমগীর দ্বিতীয়, মুঘল সম্রাট, রবার্ট ক্লাইভের “এ লেটার টু দ্য প্রোপ্রাইটর্স অব দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া স্টক, ফ্রম লর্ড ক্লাইভ”, খণ্ড I (১৭৬৪), পৃষ্ঠা ৭০-এ উল্লিখিত।
  • এইভাবে লর্ড ক্লাইভ অগ্নিপরীক্ষা থেকে বেরিয়ে এসেছেন, আগের চেয়ে আরও উজ্জ্বল হয়ে। তাঁর অর্জনগুলো এখন নথিভুক্ত হয়েছে; এবং শুধু যে তা নিন্দিত হয়নি তা নয়, বরং সংসদের দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। তাঁর দক্ষতার জন্য যে খ্যাতি তা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি উচ্চতায় অবস্থান করছে।
    • এডমন্ড বার্ক, চার্লস ওহারা-কে (২২ মে ১৭৭৩), এডমন্ড বার্কের চিঠিপত্র, খণ্ড II: জুলাই ১৭৬৮–জুন ১৭৭৪*, সম্পাদক লুসি এস. সাদারল্যান্ড (১৯৫৮), পৃষ্ঠা ৪৩৫-এ উল্লিখিত।’
  • সমস্ত লুটপাটের উৎস, সব ডাকাতির মূল কারণ।
    • চার্লস জেমস ফক্স, হাউস অব কমন্সে ভাষণ (২১ মে ১৭৭৩), *মেমোরিয়ালস অ্যান্ড করেসপনডেন্স অব চার্লস জেমস ফক্স*, খণ্ড I, সম্পাদক লর্ড জন রাসেল (১৮৫৩), পৃষ্ঠা ৯২-এ উল্লিখিত।’
তিনি ছিলেন স্বর্গ থেকে আসা এক সেনাপতি! — উইলিয়াম পিট
  • যুদ্ধবিদ্যায় একজন দক্ষ বিচারক হওয়া রাজা, পিটের ক্লাইভ সম্পর্কিত কথাবার্তার সঙ্গে একমত হয়েছিলেন। যখন এক তরুণ লর্ডকে জার্মানিতে গিয়ে যুদ্ধের কৌশল শেখার অনুমতি দিতে বলা হয়, তিনি বিরক্তি সহকারে বলেছিলেন, “ছিঃ! সেখানে সে কী শিখবে? যদি সত্যিই যুদ্ধবিদ্যা শিখতে চায়, তবে তাকে ক্লাইভের কাছে যেতে দাও।"
    • জর্জ দ্বিতীয়, বেসিল উইলিয়ামসের দ্য লাইফ অব উইলিয়াম পিট, আর্ল অব চ্যাথাম, খণ্ড II (১৯১৪), পৃষ্ঠা ২৪, টীকা ২-এ উল্লিখিত।’
  • আমি স্বীকার করি, আমি বিস্মিত হয়েছি কীভাবে ব্যক্তিগত স্বার্থ এতবেশি মানুষকে তাদের দেশের প্রতি যে দায়িত্ব তা ভুলিয়ে দিতে পারে, এবং এমন এক সিদ্ধান্তে উপনীত করতে পারে যা লর্ড ক্লাইভের লুণ্ঠনকে সমর্থন করে। তাঁর কৃতিত্বকে আমার চেয়ে বেশি কেউ মূল্য দেয় না, কিন্তু তা কখনোই এমন কাজের প্রশংসার কারণ হতে পারে না, যা নিঃসন্দেহে সেই দেশে আমরা প্রতিদিন যে বিপুল সম্পদ তৈরি হতে দেখি তার পথ খুলে দিয়েছিল।
    • জর্জ তৃতীয়, লর্ড নর্থকে(২১ মে ১৭৭৩), *দ্য করেসপন্ডেন্স অব কিং জর্জ দ্য থার্ড উইথ লর্ড নর্থ ফ্রম ১৭৬৮ টু ১৭৮৩*, খণ্ড I, সম্পাদক ডব্লিউ. বোডহাম ডন (১৮৬৭), পৃষ্ঠা ১৩৫-এ উল্লিখিত।
  • হিংস্র ও মন্দ হলেও, তুমি এখনো যিহোবার সেবকই আছো, এবং তোমার ক্ষেত্রেও একটি স্বপ্ন তাঁর ইচ্ছার এক দূত হতে পারে।
    • হেনরি জর্জ কিন, “ক্লাইভস ড্রিম বিফোর দ্য ব্যাটল অব প্ল্যাসি”, *আন্ডার দ্য রোজ: পোয়েমস রিটেন চিফলি ইন ইন্ডিয়া* (১৮৬৮), পৃষ্ঠা ১৪১-এ উল্লিখিত।’
  • ক্লাইভ, যার জন্ম হয়েছে প্রবল আবেগ নিয়ে এবং জীবন কেটেছে কঠিন প্রলোভনের মধ্য দিয়ে, তিনি অনেক বড় বড় ভুল করেছেন। কিন্তু তাঁর পুরো জীবনকে ন্যায্য ও গভীরভাবে বিচার করলে যে কেউ মানতে বাধ্য হবে যে, আমাদের এই দ্বীপদেশ, যা বীর ও রাষ্ট্রনায়কে ভরপুর, তা থেকে যুদ্ধক্ষেত্র বা রাষ্ট্রপরিচালনার কোনোটিতেই তাঁর চেয়ে বেশি দক্ষ মানুষ খুব কমই জন্মেছে।
    • টমাস ম্যাকলে, লর্ড ক্লাইভ, এডিনবরো রিভিউ (জানুয়ারি ১৮৪০), ক্রিটিকাল, হিস্টোরিকাল অ্যান্ড মিসেলেনিয়াস এসেজ: খণ্ড IV* (১৮৬০), পৃষ্ঠা ১৯৬-এ উল্লিখিত।
  • দুর্গটি পরিধিতে এক মাইলেরও বেশি বিস্তৃত ছিল; দেয়ালগুলোর অনেক অংশই ভগ্নপ্রায়, টাওয়ারগুলো ছিল ঝামেলাপূর্ণ এবং জরাজীর্ণ, আর প্রতিরক্ষার জন্য প্রায় কিছুই অনুকূল ছিল না। তবুও ক্লাইভ কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হন। শত্রু যখন দুইটি বড় ভাঙা অংশ দিয়ে, একটি পঞ্চাশ ফুট এবং অন্যটি নব্বই ফুট প্রশস্ত, দুর্গে আক্রমণের চেষ্টা করে, তখন তিনি মাত্র আশি জন ইউরোপীয় সৈন্য এবং একশো পঞ্চাশ জন যুদ্ধ-সক্ষম সিপাহি নিয়ে তাদের প্রতিহত করেন। তিনি তাঁর সীমিত সম্পদকে এমন দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগিয়েছিলেন এবং তাঁর সৈন্যদের মনোবলকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন যে, তারা অসাধারণ দৃঢ়তায় লড়াই করতে সক্ষম হয়েছিল।
    • জেমস মিল, দ্য হিস্ট্রি অব ব্রিটিশ ইন্ডিয়া: খণ্ড III (১৮৫৮), পৃষ্ঠা ৮৪-এ আর্কট অবরোধ সম্পর্কে উল্লিখিত।
  • যুদ্ধে অবিচল
  • মুহাম্মদ আলী, মার্ক বেন্স-জোন্সের ক্লাইভ অফ ইন্ডিয়া (১৯৭৪), পৃষ্ঠা ৪৮-এ উল্লিখিত।’
  • তুমি একজন অত্যন্ত মহান বীর, যিনি সবসময় শত্রুদের ওপর বিজয়ী হয়েছে… তুমি একজন সুপরিচিত অপরাজেয় মানুষ… এবং তুমি একজন সম্পূর্ণ বিচক্ষণ ব্যক্তি।
    • সর্দার করাচুরি নানজারাজাইয়া উর্স, মাইসোরের রিজেন্ট, ক্লাইভকে (১৭৫২), মার্ক বেন্স-জোন্সের ক্লাইভ অফ ইন্ডিয়া (১৯৭৪), পৃষ্ঠা ৫০-এ উল্লিখিত।’
  • আমরা এখন আমাদের গৌরব, সম্মান ও সুনাম সব জায়গায় হারিয়েছি—শুধু ভারত ছাড়া। ক্লাইভ—যিনি কেবল ডেস্কে বসে কাজ করার জন্য জন্মাননি—তিনি ছিলেন স্বর্গ থেকে আসা এক সেনাপতি! সত্যি বলতে, তিনি কখনো যুদ্ধবিদ্যা বা নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার সেই কৌশল শেখেননি, যা কেবল চল্লিশ বছরের চাকরিজীবনে অর্জিত হয়! তবুও তিনি এক বিশাল সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অল্প কিছু সৈন্য নিয়ে আক্রমণ করতে ভয় পাননি। তাঁর মধ্যে ছিল এমন উদারতা, দৃঢ়তা, সংকল্প এবং দক্ষতার সঙ্গে কাজ সম্পাদনের ক্ষমতা, যা প্রুশিয়ার কোনো রাজার মনও জয় করতে পারত। আর তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি ছিল এমনই অসাধারণ যে তা পুরো ভারতবর্ষকেই বিস্মিত করেছিল।
    • উইলিয়াম পিট, হাউস অব কমন্সে ভাষণ (১৪ ডিসেম্বর ১৭৫৭), বেসিল উইলিয়ামসের দ্য লাইফ অব উইলিয়াম পিট, আর্ল অব চ্যাথাম, খণ্ড II (১৯১৪), পৃষ্ঠা ২৪-এ উল্লিখিত।’
  • তিনি ছিলেন সাহসী এবং আপাতদৃষ্টিতে খোলামেলা, তিনি ক্ষমা চাওয়ার মতো মানুষ ছিলেন না। তাঁর মনে ছিল যেন এমন এক আত্মবিশ্বাস যে তিনি যথেষ্ট সমর্থন অর্জন করেছেন, অথবা তাঁর প্রভাব, বিচারকদের ভীরুতা কিংবা প্রতিপক্ষের দুর্বলতার কারণে তিনি সকল বিপদের ঊর্ধ্বে আছেন। তাই তিনি নির্দ্বিধায়, এমনকি মনে হয় বিচার না করেই, অন্যদের সমালোচনা করতেন। যদিও তিনি যথেষ্ট সম্পদ অর্জন করেছেন এবং যথেষ্ট আর্থিক-নিরাপদ ছিলেন, তবুও তিনি এ নিয়ে বড় গৌরব বোধ করতেন যে তিনি এর চেয়ে বেশি কিছু অর্জন করেননি; এবং এই সংযমকে তিনি নিজের গুণ বলে দাবি করতেন, যদিও সম্ভবত তা ছিল তাঁর বিচক্ষণতার ফল। তাঁর শরীরী ভাষা ছিল অত্যন্ত চমৎকার, এবং যখন তাঁর ভাষা অমার্জিত ছিল, তখনও তা তুচ্ছ তুচ্ছ করা যেত না। তাঁর শত্রুদের এবং এমনকি বিচারকদের প্রতি তাঁর অবজ্ঞা কখনো কখনো প্রকাশ পেত, তবে তা তাঁকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলত। আর যখন মন্ত্রীরা ও সংসদ তাঁর সামনে নত হয়ে পড়ত, তখন তিনি একজন সত্যিকারের মহান মানুষ হিসেবে উজ্জ্বল হয়ে উঠতেন, এত মহান যে অনেক বড় কাজ করেছেন, এবং যে হয়তো আরও অনেক বা আরও খারাপ অপরাধ করতে পারতেন, কিন্তু তা করেননি, যদিও দেখা যায় তিনি শাস্তির ভয় ছাড়াই আরও বেশি দোষী হতে পারতেন।
    • হোরেস ওয়ালপোল, ক্লাইভের ১৭৭৩ সালের মে মাসে ইন্ডিয়া বিষয়ক সিলেক্ট কমিটিতে দেওয়া ভাষণ সম্পর্কে, হোরেস ওয়ালপোলের জার্নাল অব দ্য রেইন অব কিং জর্জ দ্য থার্ড, ফ্রম দ্য ইয়ার ১৭৭১ টু ১৭৮৩, খণ্ড I, সম্পাদক জে. ডোরান (১৮৫৯), পৃষ্ঠা ২০৫–২০৬-এ উল্লিখিত।’
  • ক্লাইভ সম্পর্কে আমার যা ভালো লাগে
    তা হলো—তিনি আর বেঁচে নেই।
    মৃত থাকা নিয়ে বলার মতো
    অনেক কিছুই আছে।


আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]