বিষয়বস্তুতে চলুন

রাজেন্দ্র প্রসাদ

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ (৩ ডিসেম্বর, ১৮৮৪ – ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৩) ছিলেন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি। তিনি একজন রাজনীতিবিদের পাশাপাশি একজন পেশাগত আইনজীবীও ছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন। এরপর তিনি বিহার অঞ্চলের একজন প্রধান নেতৃত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • রাজেন্দ্র প্রসাদ এই দাঙ্গাগুলোর মধ্যে মুসলিমদের জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, কোনো রকম রাখঢাক না রেখেই। তিনি লিখেছেন — “১৯২২ সালের শেষের দিকে মুলতানে ভয়াবহ দাঙ্গা সংঘটিত হয়। এই দাঙ্গায় হিন্দু উপাসনাস্থলগুলিকে অপবিত্র করা হয়, অনেক হিন্দুকে হত্যা করা হয় এবং বহু হিন্দু বাড়ি লুঠ করা হয় ও আগুন ধরিয়ে দিয়ে ধ্বংস করা হয়। এটি ছিল অনেকগুলি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূচনা, যা পরবর্তী কয়েক বছর ধরে চলতে থাকে এবং এগুলি দেশের প্রায় সব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।”
  • স্বামী শ্রদ্ধানন্দের শুদ্ধি আন্দোলন নিয়ে যারা সমালোচনা করেছেন, তাদের দ্বিচারিতা রাজেন্দ্র প্রসাদ অকপটে তুলে ধরেছেন।তিনি লিখেছেন —“স্বামী শ্রদ্ধানন্দের শুদ্ধি আন্দোলন জাতীয়তাবাদী এবং মুসলমান — দুই পক্ষেরই সমালোচনার শিকার। সে সময় এই আন্দোলনের উপযুক্ততা নিয়ে যাই বলা হোক না কেন, বিষয়টির মূল বিচারে খ্রিস্টান ও মুসলমানরা কীভাবে এর বিরোধিতা করতে পারে, তা বোঝা কঠিন। তারা তো নিয়মিত ধর্মান্তর প্রচারের কাজে নিয়োজিত থাকে এবং হিন্দুদের নিজেদের ধর্মে রূপান্তর করে। তাহলে যদি হিন্দুরাও অ-হিন্দুদের নিজেদের ধর্মে রূপান্তর করতে শুরু করে, তবে তাতে অ-হিন্দুদের আপত্তির কোনো অধিকার নেই। বিশেষ করে যখন তারা নিজেরাই এই ধর্মান্তরের কাজ করে চলেছে। হিন্দুদেরও সেই একই অধিকার থাকা উচিত — যেমন অন্যদের আছে — নিজেদের ধর্ম প্রচার করার।”

১৯৩০-এর দশক

[সম্পাদনা]
  • উপরের বিষয়ে জবাব দিতে গিয়ে, ২২ নভেম্বর, ১৯৩৭ তারিখে ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ লিখেছিলেন —“তোমার সঙ্গে আমি পুরোপুরি একমত যে, কোনো ইতিহাসই প্রকৃত ইতিহাস নয় যদি তা সত্য গোপন করে অথবা বিকৃত করে। যে ইতিহাসবিদ ইচ্ছাকৃতভাবে এ কাজ করে এই ভেবে যে এতে সে নিজের দেশের উপকার করছে, সে আসলে দেশের ক্ষতিই করে। এই কথাটি আরও বেশি সত্য আমাদের দেশের ক্ষেত্রে, কারণ আমাদের দেশ জাতিগত দুর্বলতার জন্য বহু কষ্ট সহ্য করেছে।আর এই দুর্বলতাগুলো জানতে ও বুঝতে পারলেই কেবল আমরা তা ঠিক করার উপায় খুঁজে পেতে পারব।”
    • আর. সি. মজুমদার, দ্য হিস্ট্রি এন্ড কালচার অফ দ্য ইন্ডিয়ান পিউপিল, খণ্ড ৭, ভারতীয় বিদ্যা ভবন, বম্বে, ১৯৮৪ থেকে উদ্ধৃত।

১৯৪০-এর দশক

[সম্পাদনা]
  • সম্মানীয় সদস্যবৃন্দ... আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, আপনারা দাঁড়িয়ে যান এবং কায়েদে-আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ-র প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করুন। তিনি তাঁর দৃঢ় সংকল্প এবং অবিচল নিষ্ঠার মাধ্যমে পাকিস্তান গঠন করতে সক্ষম হন। এই মুহূর্তে তাঁর প্রয়াণ আমাদের সকলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
    • ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ, ৪ নভেম্বর ১৯৪৮ তারিখে ভারতের গণপরিষদকে সম্বদোধন করেন (কনষ্টিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলি ডিবেটস, বই নং ২, খণ্ড ৭: ৪ নভেম্বর ১৯৪৮ — ৮ জানুয়ারি ১৯৪৯, লোকসভা সচিবালয়, ১৯৯৯)

১৯৫০-এর দশক

[সম্পাদনা]
  • আজ, আমাদের দীর্ঘ ও বিচিত্র ইতিহাসে এই প্রথমবার, আমরা দেখছি এই বিশাল ভূখণ্ডটি... একটি সংবিধান এবং একটি কেন্দ্রীয় সংঘের অধীনে একত্রিত হয়েছে। এই কেন্দ্রীয় সংঘ এখন তার মধ্যে বসবাসকারী ৩২ কোটিরও বেশি নারী-পুরুষের কল্যাণের দায়িত্ব গ্রহণ করছে।
    • উৎস: বিবিসি নিউজ: ১৯৫০: ভারত একটি প্রজাতন্ত্র পরিণত হয়, বিবিসি নিউজ, ২৬ জানুয়ারি ২০০৫
    • ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০-এ, ভারতের ৩৪তম ও শেষ গভর্নর-জেনারেল চক্রবর্তী রাজগোপালাচারী যখন ভারতকে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন, তখন ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ ভারতের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
  • আজ, মানুষের হাতে ব্যাপক অস্ত্র থাকায়, পুরো মানবজাতিই ধ্বংসের মুখোমুখি হয়ে পড়েছে। নিরামিষভোজন থেকে পরমাণু বা হাইড্রোজেন বোমার ব্যবধান অনেক দূরের মনে হতে পারে, কিন্তু একটু গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায় — হাইড্রোজেন বোমা থেকে রক্ষা পেতে চাইলে শেষ পর্যন্ত আমাদের নিরামিষভোজনেেই ফিরে যেতে হবে। জীবনকে সমগ্রভাবে একত্রীকৃত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে আমরা বুঝতে পারি, একজন ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাস ও তার অন্যের প্রতি আচরণের মধ্যে গভীর সম্পর্ক আছে। যদি যুক্তির মাধ্যমে চিন্তা করা হয় — যেটি কোনো রকম কল্পনাপ্রসূত ছাড়া — তাহলে আমরা এমন এক উপসংহারে পৌঁছাতে বাধ্য হব যে, হাইড্রোজেন বোমা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো সেই মানসিকতা থেকে সরে আসা, যে মানসিকতা এ ধরনের অস্ত্র তৈরি করেছে। আর সেই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ হলো — জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা গড়ে তোলা। সকল প্রাণের প্রতি, সব অবস্থায়। এই মানসিকতা, এই দৃষ্টিভঙ্গি — এটিই আসলে নিরামিষভাবনার আরেক নাম।
    • “আধ্যাত্মিকতা, নৈতিকতা ও খাদ্যাভ্যাস” (৯ নভেম্বর, ১৯৫৭, বোম্বেতে আন্তর্জাতিক নিরামিষভোজী সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণ), ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদের বক্তৃতা, ভারতের রাষ্ট্রপতি, ১৯৫৭-৫৮ থেকে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৯৬
  • ভাই ও বোনেরা, আমাদের ধর্মগ্রন্থসমূহে উল্লেখ আছে — সোমনাথ মন্দির বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের (অর্থাৎ শিবের দীপ্তিমান রূপ) অন্যতম। এই কারণেই প্রাচীন ভারতে এই মন্দির, ধর্ম, সংস্কৃতি ও সম্পদের এক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল এবং সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত ছিল। তবে, বিশ্বাস ও উপাসনা কেন্দ্র হয়তো ধ্বংস করা যায়, কিন্তু তার উৎসকে কখনও মুছে ফেলা যায় না। এই কারণেই মন্দির ভাঙা হলেও ভারতের মানুষের হৃদয়ে উপাসনার দীপ্তি জ্বলন্তই ছিল। আজ সেই সব মানুষের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে, কারণ দেশের নানা প্রান্ত থেকে আগত মানুষের উপস্থিতিতে এখানে ‘প্রাণ-প্রতিষ্ঠা’ হচ্ছে। আজকের দিনে সোমনাথ মন্দির গর্বের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এটি ঘোষণা করছে যে, যাকে জনগণ ভালোবাসে এবং যার প্রতি মানুষের হৃদয়ে বিশ্বাস থাকে, তাকে পৃথিবীর কোনো শক্তিই ধ্বংস করতে পারে না। যত বাধাই আসুক, যত দিন মানুষের হৃদয়ে এই মন্দিরের প্রতি বিশ্বাস থাকবে, ততদিন এই মন্দির অটলভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে। আজকের এই পবিত্র ও ঐতিহাসিক দিনে আমাদের ধর্মের এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটি অনুভব করা প্রয়োজন। আমাদের অনুধাবন করতে হবে যে, ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানোর বহু পথ রয়েছে। দুঃখজনকভাবে, এই বিশ্বাস বহু জাতি, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায় সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারেনি। ফলে ধর্মের নামে ব্যাপক ধ্বংসলীলা ও যুদ্ধ হয়েছে। ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে — ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা কেবল ঘৃণা ও বিভেদ সৃষ্টি করে। এই দেশের প্রতিটি মানুষের এটা বোঝা জরুরি যে, আমাদের জাতি হিসেবে সর্বদা সহিষ্ণু হওয়া উচিত — যে কোনো বর্ণ, সংস্কৃতি, সম্প্রদায় বা মতবাদের প্রতি। এবং প্রতিটি ধর্মের প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। এই উদ্দেশ্য নিয়েই আমরা আমাদের দেশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলেছি এবং দেশের প্রতিটি ধর্মকে সমান অধিকার দিয়েছি। এই পবিত্র দিনে, আমাদের শেখা উচিত — সোমনাথ মন্দিরের এই প্রাণ-প্রতিষ্ঠা থেকে। আমাদের সকলের শপথ নেওয়া উচিত — বিশ্বের দৃষ্টিতে ভারত যেন আরও সমৃদ্ধির প্রতীক হয়ে ওঠে। প্রাচীন যুগে আমাদের দেশ শিল্প-ব্যবসার পথিকৃৎ ছিল। এখানে তৈরি জিনিসপত্র সারা বিশ্বে রপ্তানি হতো। আমাদের রপ্তানি ছিল আমদানির চেয়ে বেশি, এবং এইভাবেই ভারত হয়ে উঠেছিল সম্পদের সম্মৃদ্ধ ভান্ডার। আজ যেসব উন্নত দেশের ভাণ্ডারে সোনা-রূপা মজুত রয়েছে, তা এক সময় ভারতের মন্দিরগুলিতে সংরক্ষিত ছিল। সোমনাথ মন্দির তারই একটি উদাহরণ। আমি মনে করি, এই ‘প্রাণ-প্রতিষ্ঠা’ তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন আমরা সেই প্রাচীন মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে পারব এবং সোমনাথ মন্দিরের প্রতি প্রকৃত ন্যায় করতে পারব। সেইসঙ্গে আমাদের ঔজ্জ্বল সংস্কৃতি, তাকেও আমরা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করব। যাতে আজকের যুগে আমাদের সংস্কৃতি নিয়ে যখন কথা উঠবে, তখন তারা বুঝতে পারে — আমরা আজও তাদের থেকে অনেক শ্রেষ্ঠ। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এই পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি ভেঙ্গে যাওয়া ভারতীয় রাজ্যগুলিকে একত্র করার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং মনে মনে চেয়েছিলেন, সেই পুনর্গঠনের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের এই প্রাচীন ঐতিহ্যকেও আমরা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করব। আজ ঈশ্বর তার সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। কিন্তু তার আসল ভাবনার বাস্তবায়ন তখনই হবে, যখন ভারত প্রাচীন যুগের সেই সাংস্কৃতিক গৌরব আবার অর্জন করবে। ভারত অমর হোক!"
  • আমি আগে যেটুকু বলেছি, তার অতিরিক্ত আর একটি বিষয় আমাকে উদ্বিগ্ন করেছে — আপনি যেটা বলেছেন, যদি কিছু জানাতে চাই, আমি যেন আপনাকে ডেকে নিয়ে কথা বলি, যেন চিঠি না লিখি। আমি ভয় পাচ্ছি, এতে আমার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে বাধা আসবে। কারণ, সরকারের নজরে কোনো বিষয় আনতে আমি যেভাবে উপযুক্ত মনে করি, সেই পদ্ধতিতে জানানো আমার অধিকার এবং দায়িত্ব। আমি আশঙ্কা করছি, এর ফলে যোগাযোগের একটি প্রচলন শুরু হয়ে যেতে পারে — যেটা শুধু আমাকে নয়, ভবিষ্যতের রাষ্ট্রপতিদেরও বিব্রত করতে পারে। আমি আশা করি, আমি এই ভয় খোলাখুলি প্রকাশ করায় আপনি মনঃক্ষুণ্ণ হবেন না। এই ভাবনাটিই অনেকদিন ধরে আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে এবং আপনার চিঠির জবাব দিতে দেরি হওয়ার এটিই আসল কারণ।
    • জওহরলাল নেহরুকে লেখা চিঠি, ১৮ ডিসেম্বর ১৯৫৯ (ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ, চিঠিপত্র এবং নির্বাচিত নথিপত্র, খণ্ড ১৯, সম্পাদনা: বাল্মীকি চৌধুরী, এলায়েড পাবলিশার্স, নয়াদিল্লি, ১৯৯৩, পৃষ্ঠা ১৭২
      এছাড়াও উদ্ধৃত: অরুণ শৌরী, সেল্ফ-ডিসেপশন: ইন্ডিয়া'জ চায়না পলিসিজ — অরিজিন্স, প্রিমিসেস, লেসন্স, হার্পার কলিন্স, ২০১৩)

ভারতের রাষ্ট্রপতি, ১৯৫০-২০০৩

[সম্পাদনা]
একটি জাতি বা জনগণের এগিয়ে চলার পথে কোথাও কোনো বিশ্রামের স্থান নেই।

উৎস: জনক রাজ জৈ, প্রেসিডেন্টস অফ ইন্ডিয়া, ১৯৫০–২০০৩, দয়া বুকস, ১ জানুয়ারি ২০০৩

  • একটি জাতি বা জনগণের এগিয়ে চলার পথে কোথাও কোনো বিশ্রামের স্থান নেই।
  • আমাদের সংবিধান তুলনামূলকভাবে নতুন। এটি প্রধানত ব্রিটিশ সংবিধানের আদলে রচিত। এই অর্থে এর পূর্বপুরুষ না থাকলেও, ইতিহাস রয়েছে — যা বহু শতাব্দী পর্যন্ত গড়িয়ে যেতে পারে। এই সংবিধান কাজ করছে — আমি সাহস করে বলছি — সফলভাবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সন্তুষ্টির সঙ্গেই কাজ করছে। যদিও মাত্র দশ বছরের মধ্যেই এতে সাতবার সংশোধন করতে হয়েছে। আমাদের সংবিধান অনেকাংশেই ব্রিটিশ সংবিধানের ভিত্তির ওপর নির্মিত। তবে কিছু সুস্পষ্ট পার্থক্যও রয়েছে। ব্রিটিশ সংবিধান একটি একক (ইউনিটারি) ধরণের সংবিধান, যেখানে সংসদই সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন। সেখানে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংসদের ক্ষমতা ভাগ করে নেওয়ার মতো কোনো পৃথক কর্তৃত্ব নেই, শুধুমাত্র সংসদের ইচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করা যেতে পারে। অন্যদিকে, আমাদের সংবিধান একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় সংবিধান। এখানে কেন্দ্রীয় সংসদ এবং রাজ্যগুলোর বিধানসভাগুলোর ক্ষমতা ও দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারিত। অন্য পক্ষের নির্ধারিত অধিকার ও ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপ করার অন্য এক পক্ষের কোনো অধিকার বা ক্ষমতা নেই।
    • ২৮ নভেম্বর ১৯৬০, ভারতীয় আইন ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণ থেকে। পৃষ্ঠা ১৪।
  • ব্রিটিশ সংবিধানে রাষ্ট্রপ্রধান হলেন একজন রাজা বা রানি, এবং সেই পদ উত্তরাধিকারসূত্রে পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়। অন্যদিকে, ভারতে রাষ্ট্রপ্রধান হলেন একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তিনি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পদে আসীন থাকেন এবং সংবিধানে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অসদাচরণের কারণে তাঁকে অপসারণও করা যেতে পারে।
    • ২৮ নভেম্বর ১৯৬০, ভারতীয় আইন ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রদত্ত ভাষণ থেকে। পৃষ্ঠা ১৫।
  • কেন্দ্রের কার্যনির্বাহী ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত। তিনি এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেন — হয় সরাসরি, নয়তো তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে — এবং তা সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পরিচালিত হয়। এছাড়া, ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ড বা অধিনায়কত্বও রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত। তার এই ক্ষমতা প্রয়োগ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
    • ২৮ নভেম্বর ১৯৬০, ভারতীয় আইন ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রদত্ত ভাষণ থেকে। পৃষ্ঠা ১৫।
  • আমরা ইংল্যান্ডের দৃষ্টান্ত বা নজিরের ওপর এতটাই নির্ভর করতে শিখেছি যে, আমাদের দেশের বাস্তব অবস্থা ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও, সেসব ক্ষেত্রে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া প্রায় পাপস্বরূপ বলে মনে হয়।
    • ২৮ নভেম্বর ১৯৬০, ভারতীয় আইন ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রদত্ত ভাষণ থেকে। পৃষ্ঠা ১৬।

ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ সম্বন্ধে

[সম্পাদনা]
  • তিনি মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের একজন প্রধান কর্মী ছিলেন, ভারতের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী [[জওহরলাল নেহেরু

|পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর]] সঙ্গে একযোগে কাজ করেছিলেন।

  • জওহরলাল নেহরু রাজেন্দ্র প্রসাদকে সোমনাথ যাত্রা না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

নেহরুর মনে হয়েছিল, এটি ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতির পরিপন্থী হবে।

    • প্রাক্তন ভারতীয় আমলা মাধব গডবোলের বই "দ্য গড হু ফেইল্ড: অ্যান এসেসমেন্ট অফ জওহরলাল নেহেরু'জ লিডারশিপ" থেকে
  • যখন ঘোষণা করা হয় যে রাজেন্দ্র প্রসাদ সোমনাথ মন্দিরের উদ্বোধনে যোগ দেবেন, তখন জওহরলাল নেহরু তীব্র প্রতিবাদ জানান। তবুও রাজেন্দ্র প্রসাদ নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন।
    • আর এন পি সিং-এর বই – “নেহেরু: এ ট্রাবলড লিগেসি,” পৃষ্ঠা ৫৩।

ভারতের রাষ্ট্রপতি, ১৯৫০-২০০৩

[সম্পাদনা]

উৎস: জনক রাজ জৈ, প্রেসিডেন্টস অফ ইন্ডিয়া, ১৯৫০–২০০৩, দয়া বুকস, ১ জানুয়ারি ২০০৩

  • তিনি ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের পর দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হন। তাঁকে দেশের "সাধু রাষ্ট্রপতি" হিসেবে গণ্য করা হতো।
    • উৎস: পৃষ্ঠা ১
  • তাঁর পারিবারিক পটভূমি ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ, এবং তিনি এক বিদ্বান পরিবারের সন্তান ছিলেন।
    • উৎস: পৃষ্ঠা ১
  • তাঁর শিক্ষাজীবন ছিল অসাধারণ।... তিনি ছাত্রজীবন থেকেই নেতৃত্বের গুণাবলি প্রকাশ করতে শুরু করেন। তিনি বিহার স্টুডেন্টস কনফারেন্স গঠন করেন, যা অসহযোগ আন্দোলনের সূচনালগ্ন পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিল।
    • উৎস: পৃষ্ঠা ২
  • তিনি জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেকে গড়ে তোলার অসাধারণ সুযোগ পেয়েছিলেন এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি অনন্য কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। প্রথম থেকেই যেন ভাগ্য তাঁকে ধীরে ধীরে প্রস্তুত করছিল ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ পদ - রাষ্ট্রপতির আসনের জন্য — যে পদের তিনি প্রকৃত অর্থেই যোগ্য ছিলেন।
    • উৎস: পৃষ্ঠা ১
  • ১৯১৬ সালে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে ঐতিহাসিক লখনউ অধিবেশনে সাক্ষাৎ করার চার বছর পর, তিনি তাঁর আইনি পেশা ত্যাগ করেন। তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ ও সিন্ডিকেট থেকেও পদত্যাগ করেন এবং ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন।
    • উৎস: পৃষ্ঠা ৩
  • একটি বিদ্বান পরিবার থেকে আসা এবং সম্পূর্ণভাবে আধ্যাত্মিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে তিনি ছিলেন কড়া নিরামিষভোজী এবং ভারতীয় সংস্কৃতিতে পরিপূর্ণভাবে সিক্ত।
    • উৎস: পৃষ্ঠা ৪
  • তিনি বিহারে বহুল আলোচিত লবণ সত্যাগ্রহ সংগঠিত করেন।
    • উৎস: পৃষ্ঠা ৪
  • ১৯৩৪ সালে তিনি ভূমিকম্প এবং ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত মানুষদের ত্রাণ প্রদানের দায়িত্ব নেন। এই কাজ গান্ধীজি, নেহরু এবং জয়প্রকাশ নারায়ণকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। জয়প্রকাশ নারায়ণ এই উদ্যোগে তাকে সাহায্যও করেন ।
    • উৎস: পৃষ্ঠা ৫
  • নিজের রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
    • উৎস: পৃষ্ঠা ৬
  • তিনি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন এক মহান চিন্তাবিদ, দার্শনিক এবং একজন রাজনৈতিক কর্মী।
    • উৎস: পৃষ্ঠা ১২
  • আমার হাতে যদি বিষের পেয়ালা ধরি, অন্তত একজন মানুষ আছেন যিনি সেটা নিতে দ্বিধা করবেন না— তিনি রাজেন্দ্র প্রসাদ।
    • মহাত্মা গান্ধীর মন্তব্য, যখন রাজেন্দ্র প্রসাদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজের বেতন ১০,০০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২,৫০০ টাকা করার প্রস্তাব দেন; তিনি ছিলেন দেশের প্রথম শীর্ষপদাধিকারী যিনি স্বেচ্ছায় এমন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
    • উৎস: পৃষ্ঠা ১৩
  • তিনি (রাজেন্দ্র বাবু) ও ব্রিজ কিশোর বাবু ছিলেন এক অদ্বিতীয় জুটি। তাঁদের নিষ্ঠা এমন ছিল যে, তাঁদের সাহায্য ছাড়া আমি এক পা-ও এগোতে পারতাম না।
    • গান্ধীজি, চম্পারণ আন্দোলনে তাদের অবদান স্মরণ করে
    • উৎস: পৃষ্ঠা ১৩
  • তিনি ছিলেন এক সরল মানুষ, কোমল ভাষী এবং সংযমী স্বভাবের। নিজেই নিজের জীবনকর্ম সম্পর্কে বলেছিলেন— "এক সময় আমি ছিলাম আইনজীবী, পরে আইন ভাঙলাম, আর শেষে আইন নির্মাতা হয়ে উঠলাম।"
    • উৎস: পৃষ্ঠা ১৩
আমরা প্রায়ই ভুল করি। আমাদের পা টলে যায়, আমাদের মুখ ফসকে যায় বা জিভ পিছলে যায়। কিন্তু তিনি (রাজেন্দ্র প্রসাদ) এমন একজন ছিলেন যাকে কখনও তার বলা কথা ফিরিয়ে নিতে হয়নি, বা করা কাজের জন্য আফসোস করতে হয়নি। — পণ্ডিত নেহরু
  • আমরা প্রায়ই ভুল করি। আমাদের পা টলে যায়, আমাদের মুখ ফসকে যায় বা জিভ পিছলে যায়। কিন্তু তিনি (রাজেন্দ্র প্রসাদ) এমন একজন ছিলেন যাকে কখনও তার বলা কথা ফিরিয়ে নিতে হয়নি, বা করা কাজের জন্য আফসোস করতে হয়নি।
    • পণ্ডিত নেহরু, পৃ. ১৩
  • তিনি ছিলেন এক্স-রে যন্ত্রের মতো।
    • সর্দার প্যাটেলের মন্তব্য, ১৯৪০ সালের কংগ্রেসের রামগড় অধিবেশনে, পৃ. ১৩
  • তিনি ছিলেন গান্ধীজির আদর্শে বিশ্বাসী এক সহজ সরল জীবনযাপনকারী মানুষ, যিনি ভারতের স্বাধীনতার জন্য অহিংসভাবে সংগ্রাম করতে গিয়ে বহু বছর ব্রিটিশ কারাগারে কাটিয়েছেন। তার বড় গোঁফ ছিল, যা ওয়ালরাস বা সমুদ্র-সিংহের মতো দেখতে। তার অপূর্ব মুখাবয়ব দেখে মনে হতো যেন ইতিহাসের এক আশ্চর্য মোড়ে এসে তিনি সবসময় এক অদৃশ্য হাসি চেপে রেখেছেন—এক সময় যিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভাইসরয়ের কারাগারে, তিনিই পরে উঠলেন সেই ভাইসরয়ের প্রাসাদে, ভাইসরয়েরই দেহরক্ষীদের ঘিরে। তিনি ছিলেন এতটাই আন্তরিক ও বিনয়ী একজন মানুষ, যে সেই বিশাল অট্টালিকা ও সভাকক্ষগুলো তার কাছে অত্যন্ত কৃত্রিম ও জটিল মনে হতো।
    • চেস্টার বোলস, মার্কিন রাষ্ট্রদূত, পৃ. ১৪

প্রথম নাগরিক

[সম্পাদনা]

সিদ্ধার্থ গম্ভীরওয়ালা: ফার্স্ট সিটিজেন, Indiatogether.org

  • গান্ধীজির প্রভাব রাজেন্দ্র প্রসাদের অনেক মত বদলে দিয়েছিল—সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল জাতিভেদঅস্পৃশ্যতা সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। গান্ধীজি তাকে বুঝিয়েছিলেন যে, যখন একটি জাতি একসঙ্গে একটি সাধারণ লক্ষ্যের জন্য কাজ করে, তখন তারা "একটাই জাতিতে পরিণত হয়—সহকর্মী জাতি"।
  • যখনই সাধারণ মানুষ কষ্ট পেত, তাদের যন্ত্রণাকে লাঘব করতে তিনি সেখানে হাজির হতেন।
  • তিনি গান্ধীজির অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিহারে অসহযোগের ডাক দেন। ১৯২১ সালে নিজের আইনি পেশা ত্যাগ করে পাটনার কাছে একটি ‘ন্যাশনাল কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরে গঙ্গার তীরে সদাকত আশ্রমে স্থানান্তরিত হয়। রাজেন্দ্র প্রসাদ রাজ্যজুড়ে সভা করে, তহবিল সংগ্রহ করে, মানুষকে উজ্জীবিত করে ইংরেজ সরকারের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস বয়কট করার জন্য আহ্বান জানান। তিনি চরকা কাটতে ও শুধুমাত্র খাদি পরতে অনুরোধ করেন। {বিহার এবং সারা ভারত যেন আন্দোলনের ঝড়ে কেঁপে ওঠে—মানুষ নেতার ডাকে সাড়া দেয়। ব্রিটিশ শাসনের প্রকাণ্ড যন্ত্র থেমে যেতে শুরু করে।
  • আমি নিশ্চিত, তোমার ব্যক্তিত্ব আঘাতপ্রাপ্ত আত্মাকে শান্তি দেবে এবং বিশৃঙ্খলা ও অবিশ্বাসের পরিবেশে শান্তি ও ঐক্য ফিরিয়ে আনবে।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গান্ধীজি ও সুভাষচন্দ্র বসুর মতবিরোধ মেটাতে রাজেন্দ্র প্রসাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে এই কথাগুলি বলেন। সেই সময় রাজেন্দ্র প্রসাদ ছিলেন কংগ্রেসের সভাপতি।
  • স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতা বাড়তে থাকে, এবং তার দুঃখ - সারা দেশে এবং বিহারে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। তিনি এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ছুটে বেড়ান এই দাঙ্গা থামাতে। স্বাধীনতা দ্রুত এগিয়ে এলেও দেশভাগের সম্ভাবনাও দেখা দেয়। তার শৈশবের মুসলিমহিন্দু বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার স্মৃতি তখন তার সামনে, আর এখন তিনি দেখছেন কীভাবে জাতি ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে।
১৯৪৬ সালের জুলাই মাসে ভারতের সংবিধান রচনার জন্য সংবিধান সভা গঠিত হয়।। রাজেন্দ্র প্রসাদ সেই সভার সভাপতি নির্বাচিত হন....
  • ১৯৪৬ সালের জুলাই মাসে ভারতের সংবিধান রচনার জন্য সংবিধান সভা গঠিত হয়। রাজেন্দ্র প্রসাদ সেই সভার সভাপতি নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার আড়াই বছর পর, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতের নতুন সংবিধান কার্যকর হয় এবং তিনি দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তিনি ব্রিটিশ শাসনের জাঁকজমকপূর্ণ ভাইসরয় হাউসকে পরিণত করেন এক ভারতীয় ঐতিহ্যে পরিপূর্ণ, সুশোভিত রাষ্ট্রপতি ভবনে। তিনি নতুন সম্পর্ক স্থাপন ও রক্ষণে উৎসাহ দেন এবং পারমাণবিক যুগে শান্তির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
  • ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মধ্যে সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য দেখা দেয় হিন্দু কোড বিল নিয়ে। সনংসদে বিলটি পেশ হওয়ার আগেই তিনি নেহরুকে স্পষ্ট জানান, তিনি হিন্দু কোড বিলের পক্ষে নন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান মন্ত্রিসভা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়, তাই তাদের এই বিল পাস করার অধিকার নেই। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘ চিঠিপত্র লেনদেন হয়।
    • পৃ. ১৬
    • অনেক রাজনৈতিক চিঠি আদানপ্রদানের পর, ১৯৬০ সালে সংসদে এই বিল পেশ হয় নি। পৃ. ২১

ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ: চিঠিপত্র এবং নির্বাচিত নথি: রাষ্ট্রপতির থাকাকালীন

[সম্পাদনা]

রাজেন্দ্র প্রসাদ, উদ্ধৃত: রাজেন্দ্র প্রসাদ: চিঠিপত্র এবং নির্বাচিত নথি: রাষ্ট্রপতির সময়কাল, অ্যালাইড পাবলিশার্স, ১ মে ১৯৯২

  • জেলখানায় অন্তরীণ থাকার সময় আপনি দেশের সাহিত্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে মনোনিবেশ করেছেন—এটি জেনে আমাদের সত্যিকার আনন্দ হয়েছে। , আপনি জানেন, পাঠশালা ছাপাখানা, পাঠশালা ও সমাজের সেবায় নিয়োজিত। সুতরাং আপনার রচনাবলী ছাপানোর ক্ষেত্রে এরই সর্বপ্রথম অধিকার আছে, এবং আমি নিশ্চিত ছাপাখানাকে আপনার রচনাবলীর মুদ্রণ ও প্রকাশনার সুযোগ দিয়ে আপনি আমাদের সম্মানিত করবেন।
    • পি. মোহন, পৃ. ৩
  • আজ না হোক, কোনও এক সময়ে জাতীয় সরকার গঠিত হবেই। আপনি এবং কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং সভাপতি হিসেবে মৌলানা আজাদ ও নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে মহাত্মা গান্ধী দেশের জন্য সর্বোত্তম দিশা নির্ধারণ করেছেন এবং দেশকে সব দিক থেকেই মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়েছেন। কংগ্রেসের অবস্থান ও মুসলিম লীগের দাবির সত্য কেবল ব্রিটেন নয়, সমগ্র বিশ্বের কাছেই পরিষ্কার হয়েছে।
    • টি. প্রকাশমের পত্র, ২০ জুলাই ১৯৪৫, পৃ. ৫
    • মুসলিম লীগ তখন দেশের বিভাজনের দাবি জানিয়েছিল।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]