বিষয়বস্তুতে চলুন

রামসে ম্যাকডোনাল্ড

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
র‍্যামজে ম্যাকডোনাল্ড

র‍্যামজে ম্যাকডোনাল্ড (১২ অক্টোবর, ১৮৬৬ – ৯ নভেম্বর, ১৯৩৭) ছিলেন একজন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ। তিনি যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম লেবার প্রধানমন্ত্রী। তিনি ১৯২৪ সালে এবং ১৯২৯ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত লেবার সরকারের নেতৃত্ব দেন। এছাড়া ১৯৩১ থেকে ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত তিনি একটি জাতীয় সরকারের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

উদ্ধৃতি

[সম্পাদনা]
  • একজন হিন্দু তার ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে দেশটিকে কেবল একটি রাজনৈতিক একক বা একটি সার্বভৌমত্বের অধীনস্থ বিষয় হিসেবে দেখেন না। বরং তিনি একে তার আধ্যাত্মিক সংস্কৃতির বাহ্যিক রূপ, মন্দির, এমনকি দেবী মা হিসেবে গণ্য করেন। ভারত ও হিন্দুধর্ম দেহ ও আত্মার মতো অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
    • "দ্য ফান্ডামেন্টাল ইউনিটি অফ ইন্ডিয়ার" ভূমিকা। সত্যব্রত রামদাস প্যাটেল রচিত দ্য সোল অফ ইন্ডিয়া (১৯৭৪), পৃ. ২০৮ লোধে, এস. (২০০৮) এ ট্রিবিউট টু হিন্দুইজম গ্রন্থে উদ্ধৃত।

১৮৮০ দশক

[সম্পাদনা]
  • আপনার নির্বাচনী লড়াইয়ের জন্য আমি শুভকামনা না জানিয়ে পারছি না... ফলাফল যা-ই হোক, আপনি পিছু হটবেন না। আপনি পিছিয়ে গেলে স্কটল্যান্ডের শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম ও স্কটিশ জাতীয়তাবাদের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। আপনার পরাজয় স্কটল্যান্ডকে জাগ্রত করবে আর আপনার বিজয় স্কটিশ লিবারেলবাদকে নতুন করে গড়ে তুলবে। জাতীয় স্বার্থে আপনার এই লড়াই সফল হোক। স্কটল্যান্ড ও স্কটিশ বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ একজন ইংরেজ ব্যারিস্টারের বদলে আপনাকে ভোট দেবে না এমন কোনো খনি শ্রমিক বা আত্মমর্যাদাশীল স্কটিশ থাকতে পারে না।
    • কিয়ার হার্ডিকে লেখা চিঠি। হার্ডি শ্রমজীবীদের স্বতন্ত্র প্রতিনিধিত্ব ও স্কটিশ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ১৮৮৮ সালের মিড ল্যানার্কশায়ার উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন (আনুমানিক এপ্রিল ১৮৮৮)। মাইকেল কিটিং ও ডেভিড ব্লাইম্যান রচিত লেবার অ্যান্ড স্কটিশ ন্যাশনালিজম (১৯৭৯) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃ. ৫১।

১৮৯০ দশক

[সম্পাদনা]
  • লেবার পার্টি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির চ্যাম্পিয়ন নয়। রাজনীতিতে এটি সরাসরি গণতান্ত্রিক এবং অর্থনীতিতে এটি সমত্তিক। বেতনভোগী শ্রমিকদের হয়ে প্রতিশোধ নিতে বা পুঁজিবাদীদের নির্মমভাবে ধ্বংস করতে এই দলের জন্ম হয়নি। ইংল্যান্ডের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে একটি নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন—এটি পুঁজিবাদী ও শ্রমিক উভয় পক্ষই অনুভব করে।
    • দ্য নিউ চার্টার: এ প্রোগ্রাম ফর ওয়ার্কিং ক্লাস পলিটিক্স (১৮৯২)। প্যাট থেন রচিত ‘লেবার অ্যান্ড লোকাল পলিটিক্স...’ প্রবন্ধে উদ্ধৃত (১৯৯১), পৃ. ২৬২।
  • পার্লামেন্টের ওপর অনেক বেশি প্রত্যাশা করা হয়। স্থানীয় এলাকার নিজেদের বিষয়গুলো নিজেদেরই পরিচালনা করা উচিত। প্রয়োজনে সাধারণ স্বার্থ রক্ষার জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন গঠন করা যেতে পারে। আমাদের কাউন্টি কাউন্সিলগুলো এই লক্ষ্যে একটি চমৎকার সূচনা।
    • দ্য নিউ চার্টার: এ প্রোগ্রাম ফর ওয়ার্কিং ক্লাস পলিটিক্স (১৮৯২)। প্যাট থেন রচিত ‘লেবার অ্যান্ড লোকাল পলিটিক্স...’ প্রবন্ধে উদ্ধৃত (১৯৯১), পৃ. ২৬২।
  • লিবারেল পার্টির ওপর আমাদের বিশ্বাস হারানোর কারণ হলো—ঐতিহাসিকভাবে তাদের প্রাসঙ্গিকতার সময় ফুরিয়ে গেছে। অগ্রগতির নতুন সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, ভিন্ন রাজনৈতিক নীতি ও মানসিক গুণসম্পন্ন এক নতুন ধরনের গণতান্ত্রিক সহমর্মী মানুষের প্রয়োজন। লিবারেল পার্টির সাধারণ সদস্যরা হয়তো প্রগতিশীল থাকবে। তবে তাদের সংগঠন এখন আর প্রগতিশীল আদর্শের একমাত্র রক্ষক নয়। ইন্ডিপেন্ডেন্ট লেবার পার্টি বা স্বতন্ত্র লেবার পার্টিই প্রকৃত অর্থে এই প্রগতিশীল ধারার উত্তরসূরি। কেবল এই দলটিই বর্তমান সময়ের চেতনা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম।
    • ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট লেবার পার্টি’স প্রোগ্রাম’ ( কিয়ার হার্ডির সাথে যৌথভাবে লেখা), দ্য নাইনটিন্থ সেঞ্চুরি: এ মান্থলি রিভিউ, খণ্ড ৪৫ (জানুয়ারি ১৮৯৯), পৃ. ২৪-২৫।
  • আমাদের লক্ষ্য হলো রাজনীতিতে পূর্ণ গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা অর্জন করা। একইসাথে শিল্পক্ষেত্রে একচেটিয়া আধিপত্য ও পুঁজিবাদের অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পাওয়া। সমাজতন্ত্রের ভাষায় বলতে গেলে, আদি র‍্যাডিকালরা গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার যে কাজ শুরু করেছিলেন কিন্তু আধুনিক প্রতিনিধিরা যা ছেড়ে দিয়েছেন—তা কীভাবে সম্পন্ন করা যায়, সেটি দেখানোই এখন একজন বাস্তববাদী গণতান্ত্রিক সংস্কারকের কাজ। রাজনৈতিক ও সামাজিক গণতন্ত্রের মধ্যে কীভাবে সেতুবন্ধন তৈরি করা যায় এবং সামাজিক গণতন্ত্রের ভিত্তি কীভাবে স্থাপন করা যায়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
    • ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট লেবার পার্টি’স প্রোগ্রাম’ (কিয়ার হার্ডির সাথে যৌথভাবে লেখা), দ্য নাইনটিন্থ সেঞ্চুরি: এ মান্থলি রিভিউ, খণ্ড ৪৫ (জানুয়ারি ১৮৯৯), পৃ. ২৭।

১৯০০ দশক

[সম্পাদনা]
  • মিস্টার রকফেলার কেবল স্ট্যান্ডার্ড অয়েলের মালিকই নন বরং তার ট্রাস্টের ওপর নির্ভরশীল রেলপথ, ব্যাংক এবং দোকানপাটও তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন। স্টিল কর্পোরেশন কেবল ইস্পাতই তৈরি করে না। তারা কয়লা ও লোহার খনি, আকরিকবাহী জাহাজ, ইরি ও পিটসবার্গ খনিজ রেলপথ এবং হোমস্টেডের শ্রমিকদেরও মালিক। আমরা ট্রাস্টের বিরোধিতা করছি এর সংগঠনের জন্য নয়, বরং এটি ব্যক্তি স্বার্থে নিয়ন্ত্রিত হওয়ার জন্য। তবে ট্রাস্ট ব্রিটিশ অগ্রগতির পথকে নির্দেশ করে। আমাদের দেশে ট্রাস্টের প্রবর্তন হওয়া উচিত জনমালিকানার মাধ্যমে।
    • দ্য জোলভারিন অ্যান্ড ব্রিটিশ ইন্ডাস্ট্রি (১৯০৩), পৃ. ১৫৯-১৬০
  • কারখানার আইন, ন্যায্য মজুরি প্রস্তাব কিংবা ট্রেড ইউনিয়নিজম নিজেই আসলে এক ধরণের সুরক্ষা। এটি কোনো জমিদার মিস্টার চ্যাপলিন বা জনমোহিনী মিস্টার চেম্বারলেনের দেওয়া সুরক্ষা নয়। বরং এটি একজন সমাজতন্ত্রীর দেওয়া সুরক্ষা।
    • দ্য জোলভারিন অ্যান্ড ব্রিটিশ ইন্ডাস্ট্রি (১৯০৩), পৃ. ১৬৪
  • ট্রেড ইউনিয়নগুলোর দাবি কেবল শিল্পকারখানার দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আরও উচ্চতর ও ব্যাপক হওয়া উচিত। তাদের দাবিগুলোকে জাতীয় কল্যাণের একটি ব্যবস্থার মধ্যে স্থাপন করতে হবে। একজন মজুরিভোগী শ্রমিককে একজন নাগরিক হয়ে উঠতে হবে এবং ইউনিয়নকে হতে হবে অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের অভিভাবক।
    • 'দ্য নিউ লেবার মুভমেন্ট', নিউ লিবারেল রিভিউ (সেপ্টেম্বর ১৯০৩)। ডানকান ট্যানারের প্রবন্ধে উদ্ধৃত (১৯৯১), পৃ. ২৭৮।
  • নিম্নতর রূপগুলো উচ্চতর রূপের সাথে মিশে যায়, এক প্রজাতি অন্য প্রজাতির সাথে বিলীন হয়, এমনকি উদ্ভিদ জগতও এক সময় প্রাণী জগতের সাথে মিশে যায়। মানব ইতিহাসে একটি যুগ এভাবেই অন্য যুগে প্রবেশ করে। লিবারেলবাদের পরবর্তী ধাপ হলো সমাজতন্ত্র। লিবারেলবাদের উত্তরাধিকারী হওয়ার সুবাদে সমাজতন্ত্র এর সকল মূল্যবান উপাদানকে ধারণ করে।
    • সোশ্যালিজম অ্যান্ড সোসাইটি (১৯০৫), পৃ. ১৬৪-১৬৫
  • আমরা খনির মতো জাতীয় সম্পদের ব্যবহার শুরু করব। অথবা কৃষি নীতির মাধ্যমে শিল্প পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করব যা শহর ও গ্রামের মধ্যে সংযোগ তৈরি করবে। এটি জনশূন্য গ্রামগুলোকে আবারও জনবহুল করবে এবং পরিত্যক্ত জমিতে পুনরায় চাষাবাদ শুরু করবে।
    • সোশ্যালিজম অ্যান্ড সোসাইটি (১৯০৫), পৃ. ১৮০
নিম্নতর রূপগুলো উচ্চতর রূপের সাথে মিশে যায়, এক প্রজাতি অন্য প্রজাতির সাথে বিলীন হয়, এমনকি উদ্ভিদ জগতও এক সময় প্রাণী জগতের সাথে মিশে যায়। মানব ইতিহাসে একটি যুগ এভাবেই অন্য যুগে প্রবেশ করে। লিবারেলবাদের পরবর্তী ধাপ হলো সমাজতন্ত্র। লিবারেলবাদের উত্তরাধিকারী হওয়ার সুবাদে সমাজতন্ত্র এর সকল মূল্যবান উপাদানকে ধারণ করে।
  • তিনি রণক্ষেত্র ও খোলা পরিখাগুলো দেখেছেন এবং বুঝতে পেরেছেন যে সবকিছুই শেষ পর্যন্ত চীনা শ্রমিকদের বিষয়। তাদের বলা হয়েছিল যে এটি দাসদের মুক্ত করবে এবং উইটল্যান্ডারদের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকাকে উন্মুক্ত করবে। বলা হয়েছিল যে এটি মুক্ত মানুষের দেশে ইউনিয়ন জ্যাক ওড়াবে। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বন্দুকের আওয়াজ মিলিয়ে যাওয়ার আগেই যুদ্ধের ষড়যন্ত্রকারীরা চীনা দাস আনার ফন্দি শুরু করে। (হর্ষধ্বনি।) তারা তাদের সোনার কথা বলতে পারে, কিন্তু সেই সোনা কলঙ্কিত। (সমর্থনসূচক ধ্বনি।) তারা শ্বেতাঙ্গদের নিয়োগের কথা বললেও তা সত্য ছিল না। সত্য হলেও তিনি কি তার শ্বেতাঙ্গ ভাইদের হলুদ বর্ণের দাস চালক হিসেবে অবনমিত হতে দেখবেন? না, তিনি তা দেখবেন না। (প্রবল ও দীর্ঘস্থায়ী হর্ষধ্বনি।) এই দেশপ্রেমিকরা! এই অধম দেশপ্রেমিকরা! ৭৫ বছর আগে দেশের মতাদর্শের দায়িত্ব যদি তাদের হাতে থাকত, তবে উপনিবেশগুলোতে দাসপ্রথা চলতেই থাকত। যখন আমেরিকার উত্তরে উত্তরের লোকেরা মানুষের স্বাধীনতার জন্য দক্ষিণের সাথে লড়াই করছিল, তখন এই মানুষগুলো কেবল তাদের লাভ গুনত। তারা বলত যে কতজন শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে চাবুক মেরেছে এবং তুচ্ছ অর্থের জন্য দেশের মহান নাম বিক্রি করে দিত। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে সেই সময় ক্ষমতায় কোনো বিংশ শতাব্দীর ইউনিয়নিস্ট সাম্রাজ্যবাদী ছিল না। (জোরে হর্ষধ্বনি।)
    • লেস্টার ডেইলি মার্কারি (৬ জানুয়ারি ১৯০৬)
  • হিউ মিলারের বইগুলো আমাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে, বিশেষ করে তার "স্কুলস অ্যান্ড স্কুলমাস্টার্স"। এছাড়া স্কটিশ ইতিহাসের সাথে "ওয়েভারলি উপন্যাসগুলো" জাতীয় জীবনের বিশাল জগতকে আমার কাছে উন্মুক্ত করেছে এবং আমাকে রাজনীতির পথে নিয়ে এসেছে। তবে অন্য যেকোনো লেখকের চেয়ে হিউ মিলারের প্রভাব আমার ওপর সবচেয়ে বেশি ছিল।
    • 'ক্যারাক্টার স্কেচেস' সিরিজে অবদান, দ্য রিভিউ অফ রিভিউস, খণ্ড ৩৩ (জুন ১৯০৬), পৃ. ৫৭৭।
  • ১৮৪৪ সালের ইংল্যান্ড বিদ্রোহ করেনি এবং চার্টিজমও সমাজতন্ত্রে রূপ নেয়নি। বরং শ্রেণি সংগ্রামের ফলে ট্রেড ইউনিয়নিজমের জন্ম হয় এবং শ্রমিক শ্রেণি নাগরিকে পরিণত হয়। আইন, নৈতিকতা ও ঐক্যবদ্ধ শক্তির ফলে দেশের ওপর ঝুলে থাকা অন্ধকারের চাদর কিছুটা হলেও অপসারিত হয়েছে। আজকের মার্ক্সবাদীরা এখনও অবাক হয়ে ভাবে যে ইংল্যান্ড কেন বিপথে গেল। মার্ক্স বা এঙ্গেলস কেউই মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা শান্তিপূর্ণ অগ্রগতির সম্ভাবনাগুলো গভীরভাবে দেখতে পাননি। তাদের উপমাগুলো তাদের ভুল পথে চালিত করেছিল।
    • সোশ্যালিজম অ্যান্ড সোসাইটি (১৯০৭), পৃ. ১০৮-১০৯
  • সর্বহারা ও বুর্জোয়াদের স্বার্থ একে অপরের এতটাই বিপরীত যে সর্বহারারা অর্থনৈতিক স্বার্থে একতা অনুভব করবে। এমন ধারণাটি কেবল আনুষ্ঠানিক ও কৃত্রিম। আজও অনেক শ্রমিক আছেন যারা মালিক বা ব্যবস্থাপক হয়ে উঠছেন। এছাড়া কো-অপারেটিভ সোসাইটি বা বিল্ডিং সোসাইটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো শ্রমিক শ্রেণির স্বার্থকে বর্তমান ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করে রাখে। এছাড়া সমাজে এমন অনেক শ্রমিক আছেন যাদের তাৎক্ষণিক স্বার্থ বর্তমান সম্পদ বন্টন ব্যবস্থার সাথে জড়িত এবং তারা বর্তমান স্থিতাবস্থার পক্ষেই থাকবেন। বলা যেতে পারে যে তারা ভুল করছেন এবং সচেতন হলে তারা বুঝতেন যে তারা একটি শোষিত শ্রেণির অংশ। এটি সত্য হতে পারে, কিন্তু মানুষ "পুরোপুরি সচেতন" না হওয়া পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।
    • সোশ্যালিজম অ্যান্ড সোসাইটি (১৯০৭), পৃ. ১১২-১১৩
  • দরিদ্র আইনের শিথিল প্রশাসন বা জনকল্যাণে বেকারদের ফার্মে রাখা যে সমাজতান্ত্রিক কাজ—এমন ধারণা হাস্যকর। স্কুল শিশুদের খাবার দেওয়া সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শুরু বলে মনে করাও ভুল। আমরা আমাদের বেকার বা শোষিত শ্রমিকদের সমস্যা সমাধান করতে পারি কেবল বেকারত্ব ও মানবিক অবক্ষয়ের কারণগুলো দূর করার মাধ্যমে। সংকটের সময় মানবিক কারণে আমরা সাময়িক ত্রাণ বা উপশমের ব্যবস্থা নিতে পারি। তবে আমাদের এই পদক্ষেপগুলো গর্বের কিছু নয় বরং এটি হওয়া উচিত দ্বিধাযুক্ত ও সাময়িক।
    • সোশ্যালিজম (১৯০৭), পৃ. ১১৯-১২০
  • এই আন্দোলনের শক্তি আসবে সুসংগঠিত ও বুদ্ধিমান শ্রমিকদের কাতার থেকে। যারা পৌরসভা ও ট্রেড ইউনিয়নে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং জনগণের সক্ষমতা সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে। তারা আমাদের শিল্প বিবর্তনের পরবর্তী পর্যায়ের প্রধান কারিগর হবেন। তবে তারা একা নন। সমাজতন্ত্র কোনো বিশেষ শ্রেণির আন্দোলন নয়। এটি একটি জনমতের আন্দোলন, কোনো পদমর্যাদার সংগঠন নয়। এটি কেবল শ্রমিক শ্রেণির শাসন নয়; এটি পুরো সমাজের একটি সংগঠন। তাই বুদ্ধিজীবী মধ্যবিত্তদের সমাজতন্ত্রে রূপান্তর আমার কাছে বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
    • সোশ্যালিজম (১৯০৭), পৃ. ১২২-১২৩
  • দেশের প্রতিটি মানুষের যদি আদর্শ গুণাবলি ও কারিগরি দক্ষতাও থাকে, তবুও বর্তমান শিল্প অরাজকতার কারণে আমাদের বেকারত্বের সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। কারণ যারা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করেন তারা কখনোই চাহিদাকে সঠিকভাবে পরিমাপ করেন না। ফলে উৎপাদন ও ভোগের ভারসাম্য থাকে না। তাই এই সমস্যার সমাধান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বেকারত্ব কেবল ব্যক্তির দোষ এই পুরোনো ভুল ধারণা আমাদের মন থেকে চিরতরে দূর করতে হবে। বেকারত্ব হলো সামাজিক সংগঠনের ব্যর্থতা। তাই বেকারদের ভয়াবহ দুর্দশা থেকে রক্ষা করা রাষ্ট্রের কর্তব্য।
    • হাউজ অব কমন্সে ভাষণ (৩০ জানুয়ারি ১৯০৮)।
  • বাজেট সম্পর্কে আমি শুধু বলব "সাবাশ"। আমি একে আদ্যোপান্ত সমর্থন করতে যাচ্ছি।
  • রাষ্ট্রের দানশীলতা সমাজতন্ত্র নয়। বরং এটি সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
    • একটি চিঠি (১৯০৯)। জন স্টুয়ার্টের প্রবন্ধে উদ্ধৃত (১৯৯৩), পৃ. ১১৪।
  • সমাজতন্ত্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সত্যগুলো ততক্ষণ স্বপ্নই থেকে যাবে, যতক্ষণ না আমরা জনগণের মধ্যে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ বোঝার রাজনৈতিক মানসিকতা বজায় রাখতে পারব। যখন মানুষের জয়গান গাইতে গিয়ে রক্তে শিহরণ জাগবে না, তখন বুঝতে হবে সেই মানুষের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে।
    • সোশ্যালিজম অ্যান্ড গভর্নমেন্ট (১৯০৯), পৃ. ২৬।
  • রাষ্ট্র মানুষকে মূলত অধিকারের অধিকারী হিসেবে নয়, বরং কর্তব্যের পালনকারী হিসেবে দেখে। অধিকার হলো একটি কর্তব্য পালনের সুযোগ মাত্র। কর্তব্য পালনের জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই অধিকার হিসেবে স্বীকৃত হওয়া উচিত। রাষ্ট্র কাউকে ভোটাধিকার দেবে না যদি না তা রাষ্ট্রের লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করে। মানুষ যখন স্বাধীনতার পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যায়, তখন তার অধিকারগুলোও আরও বিস্তৃত হয়। রাষ্ট্র মানুষকে অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে সংযোগকারী হিসেবে গণ্য করে এবং অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব তার ওপর অর্পণ করে। রাষ্ট্রই তাকে সেই পথ দেখায়।
    • সোশ্যালিজম অ্যান্ড গভর্নমেন্ট (১৯০৯), পৃ. ১১-১২
  • ভূমি কোনো না কোনোভাবে রাষ্ট্রের মালিকানাধীন থাকবে এবং খাজনা হবে রাষ্ট্রের আয়। বড় শিল্পকারখানাগুলো ভোক্তাদের সংগঠনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে যা মূলত রাষ্ট্রেরই একটি অংশ। সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র মূলত উৎপাদন ও ভোগের মধ্যে সমন্বয় করবে। এর ফলে অতিরিক্ত উৎপাদন, নিরর্থক পরিশ্রম, বিনাশ্রমে আয় এবং শিল্পের ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হবে। যা মূলত দারিদ্র্যের মূল কারণ।
    • সোশ্যালিজম অ্যান্ড গভর্নমেন্ট (১৯০৯), পৃ. ১১৯-১২০
  • স্থানীয় এলাকাগুলোকে নিজেদের বিষয়গুলো পরিচালনার জন্য আরও বেশি স্বাধীনতা দেওয়া হবে। তারা সম্পদ অর্জন করতে পারবে এবং সমবায় সমিতির মতো নিজেদের বাজার সংগঠিত করতে পারবে।
    • সোশ্যালিজম অ্যান্ড গভর্নমেন্ট (১৯০৯), পৃ. ১২৯।

১৯১০ দশক

[সম্পাদনা]
  • একজন সমাজতন্ত্রী কখনোই শ্রেণিগত আবেগ বা শ্রেণিবিদ্বেষের ওপর ভিত্তি করে কথা বলতে পারেন না। প্রকৃতপক্ষে তার উচিত এসব থেকে দূরে থাকা। কারণ লড়াইয়ের কোনো এক পক্ষ নেওয়ার মাধ্যমে যে জয় আসে, তা মূলত সেই বৈষম্যকেই টিকিয়ে রাখে যা একজন সমাজতন্ত্রী নির্মূল করতে চান। ধনী হোক বা গরিব। শ্রেনী স্বার্থের দোহাই দেওয়া মানেই বর্তমান ব্যবস্থাকে সমর্থন করা। যারা সমাজতন্ত্র বিরোধী তারাই শ্রেণির দোহাই দেয়। একজন সমাজতন্ত্রী কেবল সামাজিক সংহতির আহ্বান জানান। বর্তমান শোষণমূলক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার জন্য শ্রেণি সচেতনতা একটি হাতিয়ার মাত্র।
    • দ্য সোশ্যালিস্ট মুভমেন্ট (১৯১১), পৃ. ১৪৮
  • এই বিলের ক্ষেত্রে লেবার পার্টি একটি কন্ট্রিবিউটরি বা অংশীদারিত্বমূলক পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এছাড়া অসুস্থতার ক্ষেত্রে আমরা অংশীদারিত্বমূলক ব্যবস্থার পক্ষে থাকলেও বার্ধক্য ভাতার ক্ষেত্রে আমরা সবসময়ই অংশীদারিত্বহীন (রাষ্ট্রীয় খরচ) ব্যবস্থার পক্ষে ছিলাম।
  • মিস্টার লয়েড জর্জ জার্মান বিরোধী কোনো বিষয়েই পদত্যাগ করবেন না। তিনি মূলত জার্মান বিরোধী এবং যারা শান্তিকামী মানুষ হিসেবে তাকে বিশ্বাস করেন, তারা ভুল করছেন।
    • 'ফ্রম গ্রিন বেঞ্চেস', লেস্টার পায়োনিয়ার (২০ জুলাই ১৯১১)।
  • আমি সেনা কর্মকর্তাদের সাথে বেশ মেলামেশা করেছি। সেই সময়ে এমন কোনো সেনা কর্মকর্তার সাথে আমার দেখা হয়নি যিনি বলেননি যে, আলস্টারে স্বায়ত্তশাসন কার্যকর হলে তারা তা রুখে দেবেন। এমনকি ভারতে যাওয়ার সময় জাহাজেও তাদের সাথে আমার দেখা হয়েছে এবং তাদের হাতে আমি প্রায় খুন হতে যাচ্ছিলাম। আমার মনে আছে, ভারতে যাওয়ার পথে আমরা একটি মারকোনিগ্রাম (টেলিগ্রাম) পেলাম যে লারকিনকে জেলে পাঠানো হয়েছে। আমি তখন বলেছিলাম, লারকিন না হয়ে যদি স্যার এডওয়ার্ড কারসনকে জেলে পাঠানো হতো তবে আমি তা মেনে নিতে পারতাম। আমার এই কথা শুনে তারা আমাকে প্রায় সমুদ্রেই ছুড়ে ফেলে দিতে চেয়েছিল।
    • নিউক্যাসল-আপন-টাইন-এ প্রদত্ত ভাষণ (২৪ এপ্রিল ১৯১৪)। দ্য টাইমস (২৫ এপ্রিল ১৯১৪) উদ্ধৃত, পৃ. ১০।
  • স্যার এডওয়ার্ড গ্রে যখন জার্মানি ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি বজায় রাখতে ব্যর্থ হলেন, তখন তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের এই যুদ্ধে জড়িয়েছেন। এর প্রধান অজুহাত হিসেবে তিনি বেলজিয়ামকে ব্যবহার করেছিলেন।
    • লেস্টার পায়োনিয়ার (৭ আগস্ট ১৯১৪)। দ্য টাইমস (১৮ জানুয়ারি ১৯২৪)-এ উদ্ধৃত, পৃ. ১৪।
  • আমাদের পররাষ্ট্র দপ্তর জার্মান বিরোধী এবং অ্যাডমিরালটি (নৌ-বিভাগ) নৌবাহিনীর যুদ্ধ অনুশীলনের যেকোনো সুযোগ খুঁজছিল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এটিই যুদ্ধের একমাত্র কারণ। এর চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ কারণে আগে কখনো আমরা দেশের মানুষকে অস্ত্র হাতে নিতে বলিনি এবং তাদের জীবন উৎসর্গ করতে বলিনি।
    • লেস্টার পায়োনিয়ার (৭ আগস্ট ১৯১৪)। দ্য টাইমস উদ্ধৃত (১৮ জানুয়ারি ১৯২৪), পৃ. ১৪।
  • শক্তি ও মনোবলই শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে এবং এই জয়ের ফলে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন আসবে। তাই বিজয় আমাদের হতেই হবে। ইংল্যান্ডের শক্তি এখনও ফুরিয়ে যায়নি এবং তার লক্ষ্যও এখনও অপূর্ণ। ইংল্যান্ড চাইলে বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে সম্মানের স্থান করে নিতে পারে। ইউরোপের গণতন্ত্রকেই শান্তির রক্ষক হতে হবে। ইতিহাস যথাসময়ে প্রশংসা ও নিন্দার বিচার করবে, তবে বর্তমানে দেশের তরুণদেরই জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। যারা অতীতে দেশকে সম্মানিত করেছে, সেই সাহসী মানুষদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তাদের কাজ করতে হবে। এই লড়াই সাধারণ মানুষের ছিল না, কিন্তু এর শেষ হবে সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাধীনতার মাধ্যমে। যদি দেশের প্রতি নিখাঁদ ভালোবাসার আহ্বান জানানোর সুযোগ পাই। যা আমাদের সবার হৃদয়ে এক অমূল্য অনুভূতি তবে আমি অবশ্যই সেই সুযোগ নেব। আমি চাই ট্রেড ইউনিয়ন ও অন্যান্য আন্দোলনের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা তাদের দায়িত্ব পালন করুক। তাদের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, 'ইংল্যান্ডের আপনাকে প্রয়োজন'। তারা সহায়তায় এগিয়ে আসবে এবং যুদ্ধ শেষ হলে তারাই দেশ রক্ষা করবে। এই যুদ্ধ সৃষ্টিকারী নীতি ও পরিস্থিতিগুলো মহামারীর কুয়াশার মতো দূর হয়ে যাবে।
    • লেস্টার মেয়রের কাছে লেখা চিঠি (সেপ্টেম্বর ১৯১৪)। ডেভিড মার্কুয়ান্ড রচিত র‍্যামজে ম্যাকডোনাল্ড (১৯৯৭) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃ. ১৭৫।
  • আমাদের লক্ষ্য কী তা স্পষ্টভাবে বোঝা দরকার। আমি নির্দ্বিধায় বলছি, এই দেশ যদি সামান্যতম সম্মানও বজায় রাখতে চায়, তবে বেলজিয়ামের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে কোনো শান্তি প্রস্তাব মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। জার্মানি যদি মনে করে এদেশের কোনো অংশ বেলজিয়ামের সামান্যতম সার্বভৌমত্ব ত্যাগের বিনিময়ে শান্তি মেনে নেবে, তবে তাদের সেই ভুল ধারণা যত দ্রুত ভাঙে ততই মঙ্গল।
    • হাউজ অব কমন্সে ভাষণ (২৪ মে ১৯১৬)।
  • যৌবনে মানুষ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। বয়স বাড়লে মানুষ তা মেনে নিতে বাধ্য হয়।
    • ডায়েরির এন্ট্রি (২০ মার্চ ১৯১৯)। অক্সফোর্ড ডিকশনারি অফ ন্যাশনাল বায়োগ্রাফি-তে উদ্ধৃত (২০০৯)।
  • আমি যদি জার্মানির মন্ত্রী হতাম, তবে আমি স্পষ্ট করে দিতাম যে আমি বাধ্য হয়ে ভার্সাই চুক্তিতে স্বাক্ষর করছি। এই চুক্তির শর্তগুলো এমন যে এগুলো পালন করা সম্ভব হবে কি না সে বিষয়ে আমি কোনো গ্যারান্টি দিতে পারতাম না।
    • ফরোয়ার্ড (২৫ জুন ১৯১৯)। কুইন্টিন হগ রচিত দ্য লেফট ওয়াজ নেভার রাইট (১৯৪৫) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃ. ৩১।

১৯২০ দশক

[সম্পাদনা]
  • লিটন স্ট্র্যাচি ভিক্টোরীয় যুগের যে গুণাবলিগুলোর সমালোচনা করেছেন, আমি সেগুলো অনুভব করেছি। চপল বা অস্থির প্রকৃতির মানুষরা সবসময়ই সরল ও সৎ মানুষদের উপহাসের পাত্র বানাতে পারে।
    • ডায়েরির এন্ট্রি (২৩ এপ্রিল ১৯২১)। ডেভিড মার্কুয়ান্ড রচিত র‍্যামজে ম্যাকডোনাল্ড (১৯৯৭) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃ. ২৪৬। ম্যাকডোনাল্ড তখন স্ট্র্যাচির লেখা রানী ভিক্টোরিয়ার জীবনী পড়ছিলেন।
  • আমরা ফ্রান্সের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পুরো দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করব... ফ্রান্সের কর্মকাণ্ডের কারণে জার্মানির সম্পদ নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। রাইনল্যান্ডে ব্রিটিশদের অবস্থান যদি ফরাসি নীতির অংশ হয়, তবে তা চলতে দেওয়া যায় না।
    • রুঢ় অঞ্চলে ফ্রান্সের দখলদারিত্ব সম্পর্কে। ডেইলি হেরাল্ড (২৩ জানুয়ারি ১৯২৩)। কুইন্টিন হগ রচিত দ্য লেফট ওয়াজ নেভার রাইট (১৯৪৫) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃ. ১১৬।
  • তারা তাদের নিজেদের দেশকে সাধ্যমতো গড়ে তুলবে, যাতে মানুষের পরিশ্রমকে ঈশ্বরের প্রাকৃতিক সম্পদের সাথে যুক্ত করা যায়। এর ফলে দেশটি গোলাপের মতো প্রস্ফুটিত হবে এবং এমন সব ঘরবাড়ি ও পরিবার তৈরি হবে যেখানে সুখ ও মহৎ আকাঙ্ক্ষা বিরাজ করবে।
    • হোটেল বেলগ্রেভিয়াতে লেবার পার্টির মধ্যাহ্নভোজ সভায় ভাষণ (১ নভেম্বর ১৯২৩)। দ্য টাইমস (২ নভেম্বর ১৯২৩)-এ উদ্ধৃত, পৃ. ৯।
  • মিস্টার লয়েড জর্জ যখন বেকারত্ব নিয়ে কথা বলেন, তখন তিনি ভুলে যান যে তিনিই এর মূল কারণ। বেকারত্ব এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মূলে রয়েছে লয়েড জর্জের শাসনামলে শুরু হওয়া কিছু কর্মকাণ্ড। তিনি ১৯১৮ সালে দেওয়া তার নিরর্থক প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করতে প্যারিসে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি এমন এক শান্তি চুক্তি সমর্থন করেছিলেন যা ব্রিটেনকে প্রায় দেউলিয়া করে দিয়েছিল এবং নিশ্চিতভাবেই অনেক রাষ্ট্রকে দেউলিয়া করেছে। এর জন্য কেবল তিনিই দায়ী।
    • নর্থহ্যাম্পটনে প্রদত্ত ভাষণ (১৯ নভেম্বর ১৯২৩)। দ্য টাইমস (২০ নভেম্বর ১৯২৩) উদ্ধৃত, পৃ. ১৬।
  • আমি একজন মুক্ত-বাণিজ্যপন্থি (ফ্রি-ট্রেডার), কারণ সব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এটিই সর্বোত্তম ব্যবস্থা বলে আমি মনে করি। সংরক্ষিত বা প্রোটেক্টেড আমেরিকায় মজুরি বেশি হতে পারে, কিন্তু সেখানে রাজনীতি কলুষিত। আমেরিকায় সংরক্ষণবাদের অর্থ হলো ইংল্যান্ডের মুক্ত-বাণিজ্যের তুলনায় শ্রমিকদের বেশি শোষণ। ইংল্যান্ডের সবচেয়ে খারাপ বস্তিও আমেরিকার পিটসবার্গের লৌহ শ্রমিকদের অবস্থার তুলনায় স্বর্গ মনে হবে। পুরো সংরক্ষণবাদী ব্যবস্থা শ্রমিক বা গৃহিণীদের জন্য নয় বরং পুঁজিদারদের কোটিপতি বানানোর জন্য তৈরি।
    • নর্থহ্যাম্পটনে প্রদত্ত ভাষণ (১৯ নভেম্বর ১৯২৩)। দ্য টাইমস (২০ নভেম্বর ১৯২৩) উদ্ধৃত, পৃ. ১৬।
  • নির্বাচনের সময় ‘ডেইলি নিউজ’ এবং ‘ওয়েস্টমিনিস্টার গ্যাজেট’ যে আচরণ করেছে তা অত্যন্ত ঘৃণ্য। আমরা ‘ডেইলি মেইলের’ মতো পত্রিকা থেকে এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করি না। তবে এই লড়াইয়ের ফলে লিবারেলবাদ ও লেবার পার্টির মধ্যে একটি গভীর ও প্রশস্ত ব্যবধান তৈরি হয়েছে। সারা দেশ থেকে আমার বন্ধুরা জানিয়েছেন যে, লিবারেলদের নির্বাচনী লড়াই টোরিদের (কনজারভেটিভ) চেয়েও বেশি নোংরা ছিল। তাদের প্রচারপত্রগুলোতে অসততার চূড়ান্ত উদাহরণ দেখা গেছে।
    • সি. পি. স্কটের কাছে লেখা চিঠি (১১ ডিসেম্বর ১৯২৩)। 'দ্য পলিটিক্যাল ডায়েরিস অফ সি. পি. স্কট, ১৯১১–১৯২৮' উদ্ধৃত, পৃ. ৪৪৮-৪৪৯।
  • মিস্টার লয়েড জর্জের সস্তা ও জনমোহিনী প্রচারণা আমাদের এই সিদ্ধান্তকে আরও জোরালো করেছে যে, তার দলের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক রাখা উচিত নয়।
    • সি. পি. স্কটের কাছে লেখা চিঠি (১১ ডিসেম্বর ১৯২৩)। পৃ. ৪৪৯।
  • আমরা বিশ্বাস করি না যে সামরিক জোট নিরাপত্তা আনতে পারে। নিরাপত্তার চুক্তিতে সামরিক জোট অনেকটা সরিষার দানার মতো শুরুতে ছোট থাকে, কিন্তু বছরের পর বছর তা বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত এই গাছটি এতটাই বিশাল হয় যে তা আকাশকে ঢেকে দেয় এবং আমাদের ঠিক ১৯১৪ সালের সেই সামরিক উত্তেজনার পরিস্থিতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
    • জেনেভায় লিগ অফ নেশনসের সাধারণ সভায় ভাষণ (৪ সেপ্টেম্বর ১৯২৪)। দ্য টাইমস (৫ সেপ্টেম্বর ১৯২৪)-এ উদ্ধৃত, পৃ. ১২।
  • লিগ অফ নেশনসের প্রথম কাজ হলো ইউরোপীয় ব্যবস্থা পুনরায় গড়ে তোলা। কিন্তু আমাদের প্রাক্তন শত্রুরা যতক্ষণ না আমাদের সাথে অংশীদার হিসেবে কাজ শুরু করবে, ততক্ষণ এই ইউরোপীয় ব্যবস্থা কখনোই টিকে থাকবে না।
    • লিগ অফ নেশনসের সভায় ভাষণ (৪ সেপ্টেম্বর ১৯২৪)। পৃ. ১২।
  • আমি সালিশি বা আলোচনার (আর্বিট্রেশন) মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পক্ষে বিশ্বের জন্য এছাড়া আর কোনো পথ আমি দেখি না। যদি আমরা একটি সঠিক আলোচনার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারি, তবে শান্তি আসবে এই ভেবে নিজেদের বোকা বানানো উচিত হবে না। তাহলে আমাদের পুরোনো প্রতিযোগিতামূলক অস্ত্রসজ্জা এবং সামরিক চুক্তির সেই মেকি নিরাপত্তায় ফিরে যেতে হবে এবং পরবর্তী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে, যা তখন অনিবার্য হয়ে পড়বে।
    • লিগ অফ নেশনসের সভায় ভাষণ (৪ সেপ্টেম্বর ১৯২৪)। পৃ. ১২।
  • আমরা এখানে একটি আন্তর্জাতিক অস্ত্র সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এটিই হওয়া উচিত আমাদের লক্ষ্য। যদি আমরা এর পথের বাধাগুলো দূর করতে পারি, তবে আমরা একটি স্থায়ী কাজ সম্পন্ন করতে পারব। কারণ বিশ্বের বিবেক ও নৈতিকতা এর পাশে দাঁড়াবে।
    • লিগ অফ নেশনসের সভায় ভাষণ (৪ সেপ্টেম্বর ১৯২৪)। পৃ. ১২।
  • আমার রাজনৈতিক জীবনে আমি সবসময় একটি বিশ্বাসে অটল ছিলাম যে প্রগতি যদি টেকসই করতে হয়, তবে তা রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক উপায়েই করতে হবে। আমি ভারতে কোনো আশা দেখি না যদি সেখানে সংবিধানবাদ ও বিপ্লবের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ব্রিটেনের কোনো দলই বলপ্রয়োগের হুমকি বা সরকারকে অচল করার নীতিতে ভীত হবে না। ভারতের কেউ যদি অন্য কিছু ভাবেন, তবে তারা হতাশ হবেন। আমি ভারতের প্রকৃত বন্ধুদের বলব আমাদের থেকে দূরে না সরে আমাদের সাথে আলোচনায় আসতে।
    • ভারতে পাঠানো বার্তা (৬ জানুয়ারি ১৯২৫)। দ্য টাইমস (২৬ জানুয়ারি ১৯২৫) উদ্ধৃত, পৃ. ৯।
  • রাজনৈতিক নেতারা দলমত নির্বিশেষে এটি বুঝতে শুরু করেছেন যে ইউরোপে যদি একটি বিশাল মুক্ত-বাণিজ্য ফেডারেশন গড়ে তোলা না যায়, তবে ইউরোপের কোনো রাষ্ট্রই তার কাঙ্ক্ষিত শিল্প মানে পৌঁছাতে পারবে না।
    • নর্থহ্যাম্পটনে প্রদত্ত ভাষণ (২১ নভেম্বর ১৯২৫)। দ্য টাইমস (২৩ নভেম্বর ১৯২৫)-এ উদ্ধৃত, পৃ. ১৪।
  • আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি যে, রাজনৈতিক আদর্শ যা-ই হোক না কেন, আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলগুলো যুদ্ধের ময়দানেও জাতীয় স্বার্থ বা সাম্রাজ্যের স্বার্থকে কখনোই খাটো করে দেখে না।
    • অটোয়াতে রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় ভাষণ (৯ সেপ্টেম্বর ১৯২৮)। দ্য টাইমস (১১ সেপ্টেম্বর ১৯২৮) উদ্ধৃত, পৃ. ১৩।
  • ব্রিটেনের নীতি কোনো নির্দিষ্ট দেশগোষ্ঠীর সাথে সামরিক জোট করা নয়। আমাদের নীতি হলো সেই দেশগুলোর সাথে বন্ধুত্ব করা যারা গণতান্ত্রিক শাসন ও উন্নয়নে বিশ্বাসী। ব্রিটেনের নীতি এটিই হবে যে সব দেশ সদিচ্ছা ও নিঃস্বার্থভাবে একসাথে বসে বিশ্বের বড় সমস্যাগুলো আলোচনা করবে এবং সহযোগিতার মাধ্যমে এমন এক সাধারণ নীতি গ্রহণ করবে যা সামরিক জোটকে অতীতের বিষয়ে পরিণত করবে।
    • জার্মান রাইখস্ট্যাগে (সংসদ) ভাষণ (১৫ অক্টোবর ১৯২৮)। দ্য টাইমস (১৬ অক্টোবর ১৯২৮)-এ উদ্ধৃত, পৃ. ১৫।
  • লেবার পার্টির কর্মসূচির সাথে লিবারেলরা যা করেছে তা অনেকটা বেদুইনদের মতো তারা আমাদের সন্তানকে চুরি করে জমকালো পোশাক পরিয়ে সাধারণ নির্বাচনে নিজেদের বলে চালিয়ে দিচ্ছে।
    • সোয়ানসিতে ভাষণ (১৫ মার্চ ১৯২৯)। জন ক্যাম্পবেল রচিত লয়েড জর্জ: দ্য গোট ইন দ্য ওয়াইল্ডারনেস (১৯৭৭) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃ. ২২৬।
  • আমি দেখলাম মিস্টার লয়েড জর্জ স্বীকার করেছেন যে তিনি খবরের কাগজে বাজির খবর পড়েন। (হাসি)। আমি তার এই অধঃপতনের ওপর কেবল মাথা নাড়াতে পারি। (হাসি)। লয়েড জর্জ যে কর্মসূচির কথা বলছেন, তার মধ্যে একমাত্র লিবারেল অংশ হলো এর শিরোনাম। এটি কেবল কিছু তাৎক্ষণিক উত্তেজনার বিষয় ছাড়া আর কিছু নয়।
    • মেডলিতে প্রদত্ত ভাষণ (২৭ মার্চ ১৯২৯)। দ্য টাইমস (২৮ মার্চ ১৯২৯) উদ্ধৃত, পৃ. ১৬।
  • ১৯১৮ সালে মিস্টার লয়েড জর্জ এমন সব উন্নয়নের কথা বলেছিলেন যা তার প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও অবাক করে দিয়েছিল। তিনি জার্মান সম্রাট কাইজারকে ফাঁসিতে ঝোলাবেন বলেছিলেন। তিনি ১০ লাখ বাড়ি বানাবেন বলেছিলেন। তিনি দেশটিকে বীরদের বাসযোগ্য করবেন বলেছিলেন এবং আপনারা তা বিশ্বাস করেছিলেন। তিনি জার্মানির পকেট থেকে শেষ পয়সাটি পর্যন্ত খুঁজে বের করার কথা বলেছিলেন। আমার বন্ধুরা, এসবই ছিল অন্তঃসারশূন্য কথা। (হর্ষধ্বনি ও হাসি)। যুদ্ধের পরবর্তী তিন বছর যদি বেকারত্বকে গুরুত্বের সাথে মোকাবিলা করা হতো, তবে আজ তা এত ভয়াবহ আকার ধারণ করত না। লয়েড জর্জ ও স্ট্যানলি বল্ডউইন বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ছিলেন, কিন্তু তারা কী করেছেন? কোথাও কোনো উন্নতি হয়নি। আপনাদের সমস্যার সমাধানের জন্য কেবল লেবার পার্টির দিকেই তাকাতে হবে।
    • অ্যাবারাভনে ভাষণ (২ মে ১৯২৯)। দ্য টাইমস (৩ মে ১৯২৯) উদ্ধৃত, পৃ. ১১।
  • আসুন আমরা সাহসের সাথে নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে কথা বলি। আমরা আমাদের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরি এবং অন্যদেরও আমাদের সাথে যুক্ত করি। আন্তর্জাতিক শান্তির আন্দোলনে ব্রিটেন সবার সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে এটিই আমাদের লক্ষ্য।
    • ম্যানচেস্টারের ফ্রি ট্রেড হলে ভাষণ (২৪ মে ১৯২৯)। দ্য টাইমস (২৫ মে ১৯২৯)-এ উদ্ধৃত, পৃ. ৬।
  • আমরা অন্যের প্রতি কোনো অবিচার চাই না। আমি আপনাদের শুধু একটি শ্রেণি হিসেবে ডাকছি না; বরং আপনাদের বলছি একটি সংগঠন হিসেবে গড়ে উঠতে, যা রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে মানুষের অধিকার রক্ষা করবে এবং জীবনে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করবে।
    • ডার্লিংটনে ভাষণ (২৫ মে ১৯২৯)। দ্য টাইমস (২৭ মে ১৯২৯) উদ্ধৃত, পৃ. ৯।
  • যদি আমরা এই সুযোগটি হারাই এবং বর্তমান সরকারই ক্ষমতায় থেকে যায়, তবে সেই সুযোগ আমাদের বা আমাদের সন্তানদের কাছে আর ফিরে আসবে না। যুদ্ধের স্মৃতি ফিকে হয়ে আসবে, বিশ্ব আবার তার পুরোনো পথে ফিরে যাবে এবং বিভিন্ন দেশ আবার সামরিক প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করতে শুরু করবে। শেষ পর্যন্ত তারা যুদ্ধের স্রোতে ভেসে যাবে এবং ১৯১৪ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। মনে রাখবেন, পরবর্তী যুদ্ধ কেমন হবে। সেখানে যোদ্ধা আর সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না। আকাশ ও সমুদ্র থেকে সব ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে।
    • বিবিসি নিউক্যাসল থেকে রেডিওতে সম্প্রচারিত নির্বাচনী ভাষণ (২৮ মে ১৯২৯)। দ্য টাইমস (২৯ মে ১৯২৯) উদ্ধৃত, পৃ. ৯।
  • বড় শক্তিগুলো যতক্ষণ না তাদের বিরোধ সালিশি ও আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নিতে রাজি হবে, ততক্ষণ নিরাপত্তা আসবে না। এটিই ছিল ১৯২৪ সালে লেবার পার্টির নীতি এবং ক্ষমতায় গেলে আমরা আবারও এটিই অনুসরণ করব।
    • বিবিসি নিউক্যাসল থেকে রেডিওতে সম্প্রচারিত নির্বাচনী ভাষণ (২৮ মে ১৯২৯)। পৃ. ৯।
  • কেবল ত্রাণ বা সাময়িক কাজ দিয়ে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব নয়। আমাদের জাতীয় সম্পদ বাড়াতে হবে এবং বাণিজ্যের উন্নতি করতে হবে যাতে কর্মসংস্থান বাড়ে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্পে বিপ্লব আনতে হবে। পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, রাস্তাঘাট তৈরি এবং রেলওয়ের আধুনিকায়ন করতে হবে। এছাড়া বয়স্ক শ্রমিকদের অবসরের ব্যবস্থা এবং স্কুলে পড়াশোনার বয়স বাড়াতে হবে যাতে শিশুরা অকালেই কর্মক্ষেত্রে ঢুকে না পড়ে।
    • বিবিসি নিউক্যাসল থেকে রেডিওতে সম্প্রচারিত নির্বাচনী ভাষণ (২৮ মে ১৯২৯)। পৃ. ৯।
  • আমরা বিশ্বাস করি না যে জনগণকে গরিব রেখে কোনো জাতি উন্নত হতে পারে। খালি পকেট কেবল দারিদ্র্য নয় বরং এটি দারিদ্র্যের জন্ম দেয়। আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারই সবচেয়ে অবহেলিত অথচ লাভজনক। যারা মনে করেন সংরক্ষণবাদ এই বাজারের উন্নতি করবে, তারা যেন সেই সব দেশগুলো দেখেন যেখানে মজুরি কম এবং দারিদ্র্য আমাদের চেয়েও ভয়াবহ। বেকারত্ব বিমা কোনো করুণা নয়, এটি একটি অধিকার যা বিমার কিস্তির মতো মানুষ নিজেই পরিশোধ করেছে। আমাদের নীতি হলো প্রথমে কাজের সুযোগ দেওয়া, আর কাজ না থাকলে জীবনযাত্রার রক্ষণাবেক্ষণ করা।
    • বিবিসি নিউক্যাসল থেকে রেডিওতে সম্প্রচারিত নির্বাচনী ভাষণ (২৮ মে ১৯২৯)। পৃ. ৯।
  • আমি কেন লেবার পার্টি করি এবং সমাজতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্বাস করি। তার অন্যতম বড় কারণ হলো আমি শ্রেণিভিত্তিক রাজনীতি ঘৃণা করি এবং প্রকৃত জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে এর অবসান চাই। জাতীয় ঐক্য গড়তে হলে আমাদের সেই বিশাল জনগণের কথা ভাবতে হবে যারা দারিদ্র্যের কারণে নিজেদের রক্ষা করতে পারে না। মেশিনের পরিবর্তন তাদের গৃহহীন করতে পারে, ফ্যাশনের পরিবর্তন তাদের নিঃস্ব করতে পারে। লেবার পার্টি সমাজের একেবারে নিচের দিকের অবহেলিত মানুষকে জাতীয় ঐক্যের আওতায় আনতে চায়।
    • বিবিসি নিউক্যাসল থেকে রেডিওতে সম্প্রচারিত নির্বাচনী ভাষণ (২৮ মে ১৯২৯)। পৃ. ৯।
  • আমি শিল্পের নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়ন এবং দেশে-বিদেশে শান্তির বিষয়ে এতটাই আগ্রহী যে, পরবর্তী দুই বছর কোনো নির্বাচন যাতে না হয় সেজন্য আমি আমার সবটুকু প্রভাব খাটাব। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাইআমি কোনো প্রকার টালবাহানা বা বিশৃঙ্খলা সহ্য করব না।
    • অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের লন্ডন প্রতিনিধিকে দেওয়া বক্তব্য (১ জুন ১৯২৯)। 'কারেন্ট হিস্ট্রি', খণ্ড ৩০ (১৯২৯) উদ্ধৃত, পৃ. ৬৬০।

১৯৩০ দশক

[সম্পাদনা]
  • এমন দিন আসছে যখন আমাদের হয়তো সেই চিরাচরিত মুক্ত বাণিজ্য নীতি ত্যাগ করতে হবে যা আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি।
    • জে. এইচ. থমাসকে বলা মন্তব্য (১৪ জানুয়ারি ১৯৩০)। থমাস জোন্স রচিত হোয়াইটহল ডায়েরি (১৯৬৯) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃ. ২৩৫।
  • কেলগ চুক্তি হলো যুদ্ধের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী নৈতিক প্রতিরক্ষা দেয়াল আর আমাদের কখনোই এমন নৈতিক দেয়ালের কার্যকারিতাকে খাটো করে দেখা উচিত নয় যার পেছনে কোনো বন্দুক বা লাঠি নেই। পার্মানেন্ট কোর্ট অফ ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিসে আমেরিকার যোগদান এবং আদালতের ওপর ক্রমবর্ধমান আস্থা আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সামরিক শক্তির বদলে বিচারিক প্রক্রিয়াকে স্থলাভিষিক্ত করার পথে একটি বড় এবং অনড় পদক্ষেপ। রাজনৈতিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির সাথে সাথে যদি আমরা সামরিক শক্তি কমাতে না পারি, তবে আমাদের মতো সরকারি সেবকদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা ধরা হবে... আমি জোর দিয়ে বলতে পারি যে প্রধান নৌ-শক্তিগুলোর বর্তমান নৌ-পরিকল্পনায় প্রকৃত নিরাপত্তা এবং বর্তমান শক্তির মাঝে একটি ব্যবধান রয়েছে। বিশ্ব আশা করে এই সম্মেলন সেই ব্যবধান দূর করবে।
    • লন্ডন নেভাল কনফারেন্সের সভাপতি হিসেবে ভাষণ (জানুয়ারি ১৯৩০)। ডেভিড মার্কুয়ান্ড রচিত র‍্যামজে ম্যাকডোনাল্ড (১৯৯৭) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃ. ৫১০।
  • সরকারি কোষাগারের অনুদান দিয়ে বেকারত্ব দূর করার এই ভণ্ডামি হলো দলটির ওপর চাপিয়ে দেওয়া সবচেয়ে অগভীর এবং অদূরদর্শী প্রস্তাবগুলোর একটি। আজ সকালে নাস্তায় আমি যে কাপে চা খেয়েছি, তাতে যতটুকু সমাজতন্ত্র ছিল, এই প্রস্তাবে তার চেয়ে বেশি সমাজতন্ত্র নেই।
    • ওয়ালটন নিউবোল্ডকে লেখা চিঠি (২ জুন ১৯৩০)। মার্কুয়ান্ড রচিত গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃ. ৫৩৮।
  • বিভিন্ন মতাদর্শ সতর্কতার সাথে পরীক্ষার পর তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে প্রতিটি গঠনমূলক সরকারের প্রধান কাজ হওয়া উচিত মানুষকে কৃষিজমিতে ফিরিয়ে আনা। এটি একটি স্থায়ী সমাধান। তারা মানুষকে শহরের ফুটপাত থেকে সরিয়ে মাঠে নিয়ে যান যেখানে তারা চাষাবাদ, বপন ও ফসল সংগ্রহ করতে পারেন। খারাপ সময়েও তারা সেখানে নিজেদের খাদ্য উৎপাদন করতে পারবেন। এটি হয়তো খুব বিলাসবহুল নয়, কিন্তু স্বাস্থ্যকর।
    • ল্যান্ডুডনোতে লেবার পার্টির সম্মেলনে ভাষণ (৭ অক্টোবর ১৯৩০)। দ্য টাইমস (৮ অক্টোবর ১৯৩০) উদ্ধৃত, পৃ. ৭।
  • আমরা যদি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করি... তবে ভবিষ্যৎ কী? দমন-পীড়ন ছাড়া আর কিছুই নয়। আর এটি অত্যন্ত অস্বস্তিকর এক দমন-পীড়ন যার ফলে আমরা না পাব সম্মান, না পাব সাফল্য। এটি সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন যাদের বড় অংশই নারী ও শিশু। এটি কেবল কোনো সংগঠনের ওপর দমন-পীড়ন নয়; এটি পুরো জনসংখ্যার ওপর দমন-পীড়নে রূপ নেবে... অন্যদিকে, আপনি যদি আস্থা ও বিশ্বাসের মাধ্যমে ভারতকে আপনার সাথে যুক্ত রাখতে চান এবং তাদের আনন্দ ও গর্বের সাথে আপনার কমনওয়েলথে রাখতে চান, তবে গোলটেবিল বৈঠকের কাজগুলো গ্রহণ করুন এবং সরকারকে তা সম্পন্ন করার নির্দেশ দিন।
    • ভারতের সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে হাউজ অব কমন্সে ভাষণ (২৬ জানুয়ারি ১৯৩১)।
  • আমরা জেনেভায় যাচ্ছি অত্যন্ত দৃঢ় সংকল্প নিয়ে। যুক্তি, আপিল এবং সাধারণ বিচারবুদ্ধির মাধ্যমে আমরা বিশ্বের দেশগুলোকে এই বিশাল ও অপমানজনক অস্ত্রশস্ত্রের বোঝা কমাতে একতাবদ্ধ করতে চাই যা আমরা এখন বয়ে বেড়াচ্ছি।
    • জেনেভা নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনের সমর্থনে রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে ভাষণ (১১ জুলাই ১৯৩১)। দ্য টাইমস (১৩ জুলাই ১৯৩১) উদ্ধৃত, পৃ. ১৪।
  • এই দেশে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন ধ্বংসের পথে যাচ্ছে কারণ এটি এখন এমন কিছু মানুষের নিয়ন্ত্রণে যারা সরকারের সমালোচনা ছাড়া আর কিছুই বোঝে না এবং মনে করে যে কেবল জনগণকে দান-খয়রাত করাই তাদের কাজ। নীতিবোধ, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বান্তকরণে জনসেবার যে আদর্শ ছিল তা এখন হারিয়ে গেছে। আমাদের চিন্তাধারা এখন দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ আইনের সংকীর্ণতায় আটকে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
    • ক্যাপ্টেন বেনেটকে লেখা চিঠি (৮ আগস্ট ১৯৩১)। মার্কুয়ান্ড রচিত গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃ. ৬০৯।
  • আমরা যদি এখন টিইউসির কাছে নতি স্বীকার করি, তবে আমাদের দেহ, মন বা বুদ্ধিবৃত্তির ওপর আমাদের আর কোনো অধিকার থাকবে না।
    • সরকারি ব্যয় হ্রাসের প্রস্তাব টিইউসি প্রত্যাখ্যান করার পর ডায়েরির এন্ট্রি (২২ আগস্ট ১৯৩১)। অক্সফোর্ড ডিকশনারি অফ ন্যাশনাল বায়োগ্রাফি-তে উদ্ধৃত।
  • হ্যাঁ, আগামীকাল লন্ডনের প্রতিটি ডাচেস আমাকে চুমু খেতে চাইবে!
    • ন্যাশনাল গভর্নমেন্ট গঠনের পরের দিন ফিলিপ স্নোডেনকে বলা মন্তব্য (আনুমানিক ২৫ আগস্ট ১৯৩১)। স্নোডেনের আত্মজীবনী (১৯৩৪) গ্রন্থে উদ্ধৃত।
  • একাকীত্বের এই হাহাকার বড় ভয়াবহ। আমার সিদ্ধান্ত কি সঠিক ছিল? হয়তো না, কিন্তু সেই সময় অন্য কিছু করা অসম্ভব মনে হয়েছিল।
    • লেবার পার্টির সাথে সম্পর্কের অবনতি নিয়ে নোটবুকের এন্ট্রি (২৭ ডিসেম্বর ১৯৩২)। মার্কুয়ান্ড রচিত গ্রন্থে উদ্ধৃত।
  • এই বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্তি পেলে আমি আর কাজ চালিয়ে যেতে চাই না। পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই আমি সরে দাঁড়াব, তবে আমি লেবার পার্টিকে খারাপ অবস্থায় রেখে যেতে চাই না।
  • আমি যদি কেবল আমার সহকর্মীদের সাথে নিয়ে চলতে পারতাম তবে আমরা কত কিছুই না অর্জন করতে পারতাম! আমাদের কত বড় একটা সুযোগ ছিল! কিন্তু আমরা তা হারিয়েছি। তারা যদি অন্তত তাদের শুরু করা কাজগুলোর পাশে দাঁড়ানোর মতো সৎ থাকত, তবে আমি তাদের সাহায্য করতে পারতাম। কিন্তু যখন তারা পালিয়ে গেল এবং আমাদের প্রস্তাবগুলোর সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই বলে অস্বীকার করল, তখন আমি ভাবলাম রাজনীতি আমার জন্য অনেক নিচে নেমে গেছে। আপনি কি জানেন তারা আমাকে রাবার স্ট্যাম্প দিয়ে লেবার পার্টি থেকে বের করে দিয়েছে? ... আমি যখন ‘কীভাবে লেবার পার্টি সমাজতন্ত্রের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে’ শিরোনামে বই লিখব, তখন এই গল্পটি বলব।
    • ওয়াল্টার সাইট্রিনকে বলা মন্তব্য (২৭ জানুয়ারি ১৯৩৩)। সাইট্রিনের আত্মজীবনী (১৯৬৪) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃ. ২৮৮-২৮৯।
  • আপনাদের সামনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সমস্যার ওপরতলার সমাধানগুলো খোঁজার পর আপনারা নিশ্চয়ই জানতে চাইবেন যে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনার আওতায় আপনারা আসলে কী দিচ্ছেন এবং কী পাচ্ছেন। যতক্ষণ না কেউ এই সমস্যাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তুলে ধরছে যা নিরাপত্তা, নিরস্ত্রীকরণ ও ভবিষ্যতের আশা নিশ্চিত করবে। ততক্ষণ এই সম্মেলন সফল হতে পারবে না।
    • জেনেভা নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে ভাষণ (১৯৩৩)। জন গান্থার তার ইনসাইড ইউরোপ (১৯৪০) বইতে এটিকে ম্যাকডোনাল্ডের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
  • সেই ১৮৯৫ সাল থেকেই আমি দৃঢ়ভাবে ‘শ্রেণি সংগ্রামের’ মাধ্যমে সমাজতন্ত্র অর্জনের ধারণার বিরোধিতা করে আসছি। আমি সবসময়ই এর বিরোধী এবং আজও সেই অবস্থানেই আছি। সামাজিক অগ্রগতির একমাত্র পথ সমাজকে বিভক্ত করা নয়, বরং সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং আমাদের মাঝে সেই সামাজিক চেতনা তৈরি করা যা আমাদের সবাইকে একসাথে একটি মহৎ ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাবে।
    • সাউদাম্পটনে ভাষণ (১৩ নভেম্বর ১৯৩৪)। দ্য টাইমস (১৪ নভেম্বর ১৯৩৪) উদ্ধৃত, পৃ. ১৫।
  • বর্তমান পরিস্থিতি যেমনই হোক, আমাদের বিশ্বাস এখনও অটল। আমার হৃদয় হয়তো বিষণ্ণ হতে পারে। প্রকৃতপক্ষেই তা আছে কিন্তু আমি ‘শান্তির সেনাবাহিনী’ থেকে নাম প্রত্যাহার করিনি। আমি এখনও সেই বাহিনীর একজন লড়াকু সৈনিক হিসেবে থাকব যতক্ষণ আমার শরীরে নিঃশ্বাস এবং কণ্ঠে কথা বলার শক্তি আছে।
    • সাউদাম্পটনে ভাষণ (১৩ নভেম্বর ১৯৩৪)। দ্য টাইমস (১৪ নভেম্বর ১৯৩৪) উদ্ধৃত, পৃ. ১৬।
  • আমাদের যা করতে হবে তা হলো বস্তিগুলোর উচ্ছেদ নিশ্চিত করা। এবং আমরা তা করেছি। এটি সফল হতে হয়তো এক বা দুই বছর সময় লাগবে। আমরা কেবল বস্তিই নয়, অতিরিক্ত জনাকীর্ণ আবাসন সমস্যারও সমাধান করব। আগামী অধিবেশনে পার্লামেন্ট এমন আইন পাস করবে যা আবাসন সমস্যা দূর করবে।
    • সাউদাম্পটনে ভাষণ (১৩ নভেম্বর ১৯৩৪)। দ্য টাইমস (১৪ নভেম্বর ১৯৩৪) উদ্ধৃত, পৃ. ১৬।
  • জার্মানির সাধারণ দাবির পেছনে যুক্তি ও মানবিকতার পটভূমি আছে। কেউ আমাকে অভিযুক্ত করতে পারবে না যে আমি কখনো "ভার্সাই মানসে" বা এমন কোনো মানসিকতা নিয়ে এটি বিবেচনা করেছি যে একটি শক্তিশালী ও গর্বিত জাতিকে শক্তি দিয়ে দাবিয়ে রাখা যায়। আমি সবসময়ই দেখেছি যে বিজয়ীরা যদি তাদের বিজয়ের দিনের মানসিকতা নিয়ে লীগ অফ নেশনসকে ব্যবহার করে, তবে তা কেবল বিপর্যয়ই বয়ে আনবে... তা সত্ত্বেও জার্মানি এমনভাবে আচরণ করেছে যা ইউরোপে পারস্পরিক বিশ্বাসের পরিবেশ নষ্ট করেছে। এটি শান্তির পথ বন্ধ করে দিয়েছে এবং আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। জার্মানি এমন সামরিক শক্তির দাবি করছে যা ইউরোপের অধিকাংশ দেশকে তার দয়ার ওপর ছেড়ে দেয়। যেকোনো বিবেকবান জার্মান নাগরিক আমার এই পয়েন্টের গুরুত্ব বুঝতে পারবেন। তিনি অন্তরে জানেন যে কেবল বার্লিনই সব নয়। প্রকৃতপক্ষে এটি শান্তির চেয়ে অস্থিরতা অনেক বেশি তৈরি করেছে।
    • 'পিস, জার্মানি অ্যান্ড স্ট্রেসা', নিউজ লেটার (২৭ এপ্রিল ১৯৩৫)। দ্য টাইমস (২৬ এপ্রিল ১৯৩৫) উদ্ধৃত, পৃ. ১৬।
  • জার্মানি নিজের বিরুদ্ধে সন্দেহ ও ভয় জাগিয়ে তোলার আগে ইউরোপের সবচেয়ে নিরাপদ রাষ্ট্র ছিল। যে জার্মানরা অবরোধের গল্প বিশ্বাস করে তারা নিশ্চয়ই স্বীকার করবে যে তাদের সাম্প্রতিক সামরিক সম্প্রসারণ নীতি ইউরোপের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বড় সেনাবাহিনী, আমাদের সমান বিমানবাহিনী এবং ফরাসিদের সমান ও ইতালীয়দের চেয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনী অন্য দেশগুলোর মনে ভয় ও অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর ফলে ‘সম্মিলিত নিরাপত্তা’র ধারণাটি বিপজ্জনকভাবে সামরিক জোটে রূপ নিতে বাধ্য হচ্ছে।
    • 'পিস, জার্মানি অ্যান্ড স্ট্রেসা', নিউজ লেটার (২৭ এপ্রিল ১৯৩৫)। দ্য টাইমস (২৬ এপ্রিল ১৯৩৫) উদ্ধৃত, পৃ. ১৬।
  • জার্মান কূটনীতি নিয়ে আমার প্রথম গুরুতর সন্দেহ তখনই দেখা দেয় যখন তারা এমন কারণে লীগ অফ নেশনস ত্যাগ করে যা আমি কখনোই বুঝতে পারিনি। এর থেকে মনে হয়েছে যে জার্মান সরকার ইউরোপের শান্তি স্থাপনের বিষয়ে উদাসীন।
    • 'পিস, জার্মানি অ্যান্ড স্ট্রেসা', নিউজ লেটার (২৭ এপ্রিল ১৯৩৫)। দ্য টাইমস (২৬ এপ্রিল ১৯৩৫) উদ্ধৃত, পৃ. ১৮।
  • আমি জানি যে যখন সত্যের আলোয় এই সময়ের ইতিহাস লেখা হবে, তখন সব দোষ কেবল জার্মানির ওপর পড়বে না। কিন্তু এটি জার্মানিকে তার একগুঁয়েমি ও ভুল পদ্ধতিগুলোর জন্য রেহাই দেবে না। তারা শান্তি স্থাপনের সুযোগগুলোকে নষ্ট করেছে এবং ইউরোপের দেশগুলোকে পুনরায় সামরিক শক্তি বৃদ্ধির অসুস্থ প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
    • 'পিস, জার্মানি অ্যান্ড স্ট্রেসা', নিউজ লেটার (২৭ এপ্রিল ১৯৩৫)। দ্য টাইমস (২৬ এপ্রিল ১৯৩৫) উদ্ধৃত, পৃ. ১৮।
  • জাতীয়তাবাদী অর্থনৈতিক নীতির কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের পথ এতটাই অবরুদ্ধ যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এখন কেবল পুরোপুরি মুক্ত বাণিজ্যে ফিরে গেলে বেকারত্ব আরও বাড়বে।
    • লন্ডনের ক্যাক্সটন হলে ন্যাশনাল লেবার সম্মেলনে ভাষণ (২৮ অক্টোবর ১৯৩৫)। দ্য টাইমস (২৯ অক্টোবর ১৯৩৫) উদ্ধৃত, পৃ. ৯।
  • যদি কোনো আগ্রাসী শক্তি আমাদের হুমকি দেয়, তবে এই জাতির উচিত আত্মরক্ষা এবং লীগ অফ নেশনসের আওতায় পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখা। এই সময়ে একটি অরক্ষিত ব্রিটেন শান্তির সহায়ক হবে না বরং যুদ্ধের ইন্ধন জোগাবে। তবে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যেন আত্মরক্ষার এই প্রস্তুতি সামরিক উন্মাদনায় রূপ না নেয়। আমরা এই পার্থক্য বজায় রাখব।
    • লন্ডনের ক্যাক্সটন হলে ন্যাশনাল লেবার সম্মেলনে ভাষণ (২৮ অক্টোবর ১৯৩৫)। দ্য টাইমস (২৯ অক্টোবর ১৯৩৫) উদ্ধৃত, পৃ. ৯।
  • বিশ্বশান্তির পথে কলঙ্ক হয়ে থাকা ভার্সাই চুক্তি এখন বিলীন হচ্ছে এবং এর জন্য আমি কৃতজ্ঞ... ফ্রান্স আবারও একটি কঠিন শিক্ষা পেয়েছে এবং আমি আশা করি তারা এবার এটি মনে রাখবে। ভার্সাই বা লোকার্নো চুক্তির শর্তগুলোতে কঠোরভাবে আটকে থাকা ছিল একটি বোকামি। এখন আমাদের বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া উচিত।
    • রাইনল্যান্ডে পুনরায় সামরিকীকরণের প্রতিক্রিয়ায় ডায়েরির এন্ট্রি (৮ মার্চ ১৯৩৬)। ‘ফ্রান্স অ্যান্ড দ্য রিমিলিটারাইজেশন অফ দ্য রাইনল্যান্ড’ প্রবন্ধে উদ্ধৃত (১৯৮৬), পৃ. ৩১৪।

ম্যাকডোনাল্ড সম্পর্কে উক্তি

[সম্পাদনা]
  • র‍্যামজে ম্যাকডোনাল্ড ছিলেন একজন জন্মগত নেতা, যার ব্যক্তিত্ব ছিল অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং উপস্থিতি ছিল রাজকীয়। জনজীবনে দেখা সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ ছিলেন তিনি। তিনি ছিলেন একজন মহান বাগ্মী, যার গম্ভীর ও অনুরণিত কণ্ঠস্বর এবং নাটকীয় অঙ্গভঙ্গি তার কথাগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তুলত। তবে আবেগপ্রবণ হয়ে কথা বলার সময় তিনি মাঝেমধ্যে অদ্ভুত সব শব্দপ্রমাদ ঘটাতেন। আমার মনে আছে, একবার একটি আইএলপি সম্মেলনে প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন, "দিনে কাজ করুন আর রাতে বংশবিস্তার করুন।"
  • প্রধানমন্ত্রীর সবসময়ই সেই কল্পনাশক্তি আর আদর্শবাদী হওয়ার গুণটি ছিল, যা কেল্টীয় না বলে বরং স্কটিশ বলা ভালো। কারণ এটি তাদের সকল মানুষের জন্মগত অধিকার। তিনি এমন স্বপ্ন দেখতেন যা হয়তো অনেকের স্বপ্নের মতো ছিল না, কিন্তু জীবন নিয়ে তার সবসময় একটি সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। তার চরিত্রে যেমন কভেন্যান্টারদের দৃঢ়তা ছিল, তেমনি ছিল ক্যাভালিয়ারদের আভিজাত্য। অতীতের প্রতি তার প্রখর সংবেদনশীলতা ছিল এবং ইতিহাস তার কাছে জীবন্ত হয়ে ধরা দিত। তবে তিনি মোটেও কোনো নীরস পুরাতাত্ত্বিক ছিলেন না। তিনি আমাদের আঞ্চলিক আবেগের মূর্ত প্রতীক ছিলেন এবং জন্ম ও আবাসন উভয় দিক থেকেই তিনি ছিলেন একজন হাইল্যান্ডার।
    • জন বুকান, র‍্যামজে ম্যাকডোনাল্ডের জন্মদিনের নৈশভোজে প্রদত্ত ভাষণ (২৬ নভেম্বর ১৯৩১), দ্য টাইমস উদ্ধৃত (২৭ নভেম্বর ১৯৩১), পৃ. ১৪
  • প্রধানমন্ত্রী এখন কী করতে যাচ্ছেন? কিছুদিন আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাজনে পরাজিত হওয়ার পর আমি তার আঘাত না পেয়ে পড়ে যাওয়ার অদ্ভুত দক্ষতা সম্পর্কে বলেছিলাম। তিনি পড়ে যান ঠিকই, কিন্তু আবারও উঠে দাঁড়ান—হাসিখুশি মুখে, কিছুটা আলুথালু হলেও তার মুখে হাসি থাকে। তবে এই পরিস্থিতিটি তার সেই বিশেষ শিল্পকলাকে কঠোর পরীক্ষার মুখে ফেলবে। আমার মনে আছে, ছোটবেলায় আমাকে বিখ্যাত বারনামের সার্কাসে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল যেখানে অদ্ভুত সব প্রদর্শনী ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানের তালিকায় যা দেখে আমি সবচেয়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম তা হলো "অস্থিহীন বিস্ময়"। আমার বাবা-মা মনে করেছিলেন সেই দৃশ্যটি আমার কচি চোখের জন্য অত্যন্ত বিরক্তিকর ও মনোবল নষ্টকারী হবে। ট্রেজারি বেঞ্চে বসে থাকা সেই অস্থিহীন বিস্ময়কে দেখার জন্য আমাকে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে।
    • হাউজ অব কমন্সে উইনস্টন চার্চিল (২৮ জানুয়ারি ১৯৩১), মার্টিন গিলবার্ট রচিত প্রফেট অফ ট্রুথ: উইনস্টন এস. চার্চিল, ১৯২২-১৯৩৯ (১৯৭৯) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃ. ৩৮৯, নোট ১
  • ১৯২৩ সালের শুরুর দিকে মিস্টার বোনার ল প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে অবসরে যান। মিস্টার বাল্ডউইন তার স্থলাভিষিক্ত হন এবং লর্ড কার্জন নতুন প্রশাসনে পররাষ্ট্র সচিবের পদ গ্রহণ করেন। এভাবেই শুরু হয় সেই চৌদ্দ বছরের সময়কাল যাকে "বাল্ডউইন-ম্যাকডোনাল্ড শাসনকাল" বলা যেতে পারে। এই পুরোটা সময় মিস্টার বাল্ডউইন নামে হোক বা না হোক, কার্যত সরকারের প্রধান বা বিরোধী দলের নেতা হিসেবে ছিলেন। যেহেতু ম্যাকডোনাল্ড কখনোই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি, তাই সরকারে থাকুক বা বিরোধী দলে, বাল্ডউইনই ছিলেন ব্রিটিশ রাজনীতির প্রধান ব্যক্তিত্ব। এই দুই রাষ্ট্রনায়ক প্রথমে পর্যায়ক্রমে এবং পরে রাজনৈতিক ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে দেশ শাসন করেছেন। নামমাত্র বিরোধী দলের প্রতিনিধি বা ভিন্ন আদর্শের অনুসারী হলেও, বাস্তবে দৃষ্টিভঙ্গি, মেজাজ ও কর্মপদ্ধতির দিক থেকে সংবিধানের ইতিহাসে অন্য যেকোনো দুই প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে তারা একে অপরের অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ ছিলেন। মজার ব্যাপার হলো, তাদের প্রত্যেকের সহানুভূতি অন্যজনের রাজনৈতিক সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। র‍্যামজে ম্যাকডোনাল্ড অনেক পুরোনো টরি ভাবধারা লালন করতেন। অন্যদিকে স্ট্যানলি বাল্ডউইন, একজন শিল্পপতি হিসেবে জন্মগতভাবে সংরক্ষণবাদের সমর্থক হলেও, স্বভাবগতভাবে লেবার পার্টির অনেকের চেয়েও খাঁটি সমাজতন্ত্রের প্রতিনিধি ছিলেন।
    • উইনস্টন চার্চিল, দ্য সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার ১ম খণ্ড: দ্য গ্যাদারিং স্টর্ম (১৯৪৮), পৃ. ৩৯
  • ১৯২৯ সালের মে মাসের সাধারণ নির্বাচনে দেখা গেল যে পরিবর্তনের স্বাভাবিক ইচ্ছা ব্রিটিশ ভোটারদের মধ্যে প্রবল ছিল। নতুন হাউজ অব কমন্সে কনজারভেটিভদের চেয়ে সমাজতন্ত্রীরা সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। প্রায় ষাটটি আসন নিয়ে লিবারেলরা ছিল ভারসাম্য রক্ষাকারী অবস্থানে। এটি স্পষ্ট ছিল যে লয়েড জর্জের নেতৃত্বে তারা অন্তত শুরুতে কনজারভেটিভদের প্রতি প্রতিকূল আচরণ করবে। মিস্টার বাল্ডউইন এবং আমি একমত ছিলাম যে আমাদের সংখ্যালঘু হিসেবে বা লিবারেলদের অনিশ্চিত সমর্থনে ক্ষমতায় থাকা উচিত হবে না। তাই মন্ত্রিসভায় কিছুটা মতভেদ থাকলেও বাল্ডউইন রাজার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। আমরা সবাই সিলমোহর ও দপ্তর বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ ট্রেনে করে উইন্ডসরে গেলাম। এরপর ৭ জুন র‍্যামজে ম্যাকডোনাল্ড দ্বিতীয়বারের মতো লিবারেলদের ভোটের ওপর নির্ভরশীল এক সংখ্যালঘু সরকারের প্রধানমন্ত্রী হলেন। সমাজতন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী চেয়েছিলেন তার নতুন লেবার সরকার মিশরকে বড় ধরনের ছাড় দিয়ে, ভারতে সুদূরপ্রসারী সাংবিধানিক পরিবর্তন এনে এবং বিশ্বজুড়ে নিরস্ত্রীকরণের মাধ্যমে নিজের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখুক। এই লক্ষ্যগুলোতে তিনি লিবারেলদের সমর্থন পেতেন এবং এ কারণে সংসদে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতাও ছিল। এখানেই মিস্টার বাল্ডউইনের সাথে আমার মতপার্থক্য শুরু হয়। পাঁচ বছর আগে তিনি যখন আমাকে চ্যান্সেলর অফ দ্য এক্সচেকার নির্বাচিত করেছিলেন, তখন থেকে আমাদের মধ্যে যে সম্পর্ক ছিল তা বদলে যেতে শুরু করে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে যোগাযোগ থাকলেও আমরা বুঝতে পারতাম যে আমরা এক পথে চলছি না। আমার ধারণা ছিল কনজারভেটিভ বিরোধীরা সাম্রাজ্য ও জাতীয় ইস্যুতে লেবার সরকারকে দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করবে এবং লর্ড বিকনসফিল্ড ও লর্ড সলসবেরির মতো ব্রিটিশ মহিমা তুলে ধরবে। কিন্তু মিস্টার বাল্ডউইন মনে করতেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের সময় আর নেই। তিনি বিশ্বাস করতেন কনজারভেটিভ পার্টির ভবিষ্যৎ নিহিত আছে লিবারেল ও লেবার শক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মধ্যে। তিনি একজন অত্যন্ত সফল রাজনৈতিক ব্যবস্থাপক ছিলেন এবং নেতা হিসেবে পাঁচটি সাধারণ নির্বাচনের মধ্যে তিনটিতেই জয়লাভ করেন। ইতিহাসই এই সাধারণ ইস্যুগুলোর বিচার করবে।
    • উইনস্টন চার্চিল, দ্য সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার ১ম খণ্ড: দ্য গ্যাদারিং স্টর্ম (১৯৪৮), পৃ. ৫১-৫২
  • ১৯২৯ থেকে ১৯৩২ সালের মধ্যে শেয়ার বাজারের ধসের ফলে পণ্যের দাম ক্রমাগত কমতে থাকে এবং উৎপাদন কমে যাওয়ায় ব্যাপক বেকারত্ব দেখা দেয়। অর্থনৈতিক জীবনের এই বিশৃঙ্খলার প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বেকারত্ব ও উৎপাদন হ্রাসের ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে মন্দা দেখা দেয় এবং নিজ দেশের বাজার বাঁচাতে শুল্ক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এই মহাসঙ্কট তীব্র মুদ্রাসঙ্কট নিয়ে আসে এবং অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবস্থাকে অচল করে দেয়। মিস্টার ম্যাকডোনাল্ডের সরকার তাদের দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ১৯৩০ ও ১৯৩১ সালে বেকারত্বের হার দশ লক্ষ থেকে প্রায় ত্রিশ লক্ষে পৌঁছাতে দেখে। বলা হচ্ছিল যে যুক্তরাষ্ট্রে তখন এক কোটি মানুষ বেকার ছিল। সেই বিশাল প্রজাতন্ত্রের পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। এর ফলে জার্মানি ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশেও বিপর্যয় নেমে আসে। তবে ইংরেজিভাষী বিশ্বে কেউ না খেয়ে মারা যায়নি।
    • উইনস্টন চার্চিল, দ্য সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার ১ম খণ্ড: দ্য গ্যাদারিং স্টর্ম (১৯৪৮), পৃ. ৫৪-৫৫
  • ব্রিটেনের মতো একটি কৃত্রিম অর্থনীতির দেশে পুঁজির ওপর আক্রমণ করে এমন কোনো দল বা প্রশাসনের পক্ষে জনআস্থা ধরে রাখা সবসময়ই কঠিন। মিস্টার ম্যাকডোনাল্ডের লেবার-সোশ্যালিস্ট সরকার তাদের সামনে আসা সমস্যাগুলো মোকাবিলায় সম্পূর্ণ অক্ষম ছিল। তারা বাজেট ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় দলীয় শৃঙ্খলা বা শক্তি প্রদর্শন করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু এবং আর্থিক বিশ্বাস হারানো একটি সরকারের পক্ষে টিকে থাকা অসম্ভব ছিল। লেবার পার্টির এই ব্যর্থতা, ব্রিটিশ আর্থিক ক্রেডিটের হঠাৎ ধস এবং লিবারেল পার্টির ভাঙন একটি জাতীয় জোট গঠনের দিকে ধাবিত করে। মনে করা হচ্ছিল যে শুধুমাত্র সব দলের সমন্বয়ে গঠিত একটি সরকারই এই সংকট মোকাবিলা করতে পারবে। মিস্টার ম্যাকডোনাল্ড এবং তার চ্যান্সেলর অফ দ্য এক্সচেকার দেশপ্রেমের টানে লেবার পার্টির বড় অংশকে এই জোটে নেওয়ার চেষ্টা করেন। মিস্টার বাল্ডউইন সবসময়ই ক্ষমতা হাতে থাকলে পদ ছাড়তে রাজি ছিলেন, তাই তিনি ম্যাকডোনাল্ডের অধীনে কাজ করতে সম্মত হন। এই মনোভাব সম্মানের যোগ্য হলেও তা বাস্তব পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। লয়েড জর্জ তখন একটি অস্ত্রোপচার থেকে সেরে উঠছিলেন এবং স্যার জন সাইমন লিবারেলদের একটি বড় অংশকে এই সর্বদলীয় জোটে নেতৃত্ব দেন।
    • উইনস্টন চার্চিল, দ্য সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার ১ম খণ্ড: দ্য গ্যাদারিং স্টর্ম (১৯৪৮), পৃ. ৫৫-৫৬
  • নতুন সরকার গঠনের ফলেও আর্থিক সংকটের সমাধান হয়নি এবং বিদেশ থেকে ফিরে আমি দেখলাম সবকিছুই অনিশ্চিত। ব্রিটিশ জাতি এই পরিস্থিতির যোগ্য এক রায় দিয়েছিল। লেবার-সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা র‍্যামজে ম্যাকডোনাল্ডের নেতৃত্বে একটি জাতীয় সরকার গঠিত হয়। তারা জনগণের কাছে কঠোর অকৃচ্ছ্রতা ও ত্যাগের একটি কর্মসূচি প্রস্তাব করে। এটি ছিল "রক্ত, ঘাম, কষ্ট এবং চোখের জল"-এর এক প্রাথমিক সংস্করণ, তবে এতে যুদ্ধের উদ্দীপনা ছিল না। সবাইকে তাদের মজুরি বা বেতন কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। চরম কৃচ্ছ্রসাধনের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণকে আহ্বান জানানো হয়। জাতিও বীরত্বপূর্ণ সাড়া দেয়। তাদের ঘোষণার বিপরীতে গিয়ে সরকার স্বর্ণমান ত্যাগ করে। যদিও মিস্টার বাল্ডউইন মার্কিন ঋণের সেই কিস্তিগুলো চিরতরে স্থগিত করতে বাধ্য হন যা তিনি ১৯২৩ সালে বোনার ল মন্ত্রিসভায় পাস করিয়েছিলেন, তবুও জনগণের আস্থা ফিরে আসে। নতুন প্রশাসনের পক্ষে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ম্যাকডোনাল্ডের পেছনে তার নিজের দলের মাত্র সাত-আটজন সদস্য থাকলেও তার বিরোধী ও প্রাক্তন অনুসারীদের মধ্যে মাত্র একশ জন পার্লামেন্টে ফিরতে পেরেছিলেন। তার স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছিল এবং এই জরাজীর্ণ অবস্থাতেই তিনি প্রায় চার বছর ব্রিটিশ ব্যবস্থার শীর্ষে রাজত্ব করেন। আর এই চার বছরের মধ্যেই হিটলারের উত্থান ঘটে।
    • উইনস্টন চার্চিল, দ্য সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার ১ম খণ্ড: দ্য গ্যাদারিং স্টর্ম (১৯৪৮), পৃ. ৫৫-৫৬
  • ১৯৩১ সালের সাধারণ নির্বাচনের ফলে গঠিত ব্রিটিশ সরকার দেখতে অত্যন্ত শক্তিশালী মনে হলেও বাস্তবে ছিল ব্রিটিশ ইতিহাসের অন্যতম দুর্বল সরকার। প্রধানমন্ত্রী র‍্যামজে ম্যাকডোনাল্ড অত্যন্ত তিক্ততার সাথে সেই সমাজতন্ত্রী দল থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছিলেন যা তিনি সারাজীবন ধরে গড়ে তুলেছিলেন। এরপর থেকে তিনি এমন এক প্রশাসনের প্রধান হিসেবে অলসভাবে দিন কাটান যা নামে জাতীয় হলেও মূলত কনজারভেটিভদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। মিস্টার বাল্ডউইন ক্ষমতার পদের চেয়ে প্রভাব ধরে রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দিতেন এবং নেপথ্যে থেকে শাসন করতেন। পররাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্ব পান লিবারেলদের অন্যতম নেতা স্যার জন সাইমন। প্রশাসনের প্রধান অভ্যন্তরীণ কাজগুলো সম্পন্ন করতেন মিস্টার নেভিল চেম্বারলেন, যিনি দ্রুতই মিস্টার স্নোডেনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে চ্যান্সেলর অফ দ্য এক্সচেকার হন। লেবার পার্টিকে আর্থিক সংকটের জন্য দায়ী করা হয় এবং নির্বাচনে তারা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন কট্টর শান্তিবাদী মিস্টার জর্জ ল্যান্সবারি। এই প্রশাসনের প্রায় পাঁচ বছরের মেয়াদে ইউরোপ মহাদেশের পুরো পরিস্থিতি ওলটপালট হয়ে যায়।
    • উইনস্টন চার্চিল, দ্য সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার ১ম খণ্ড: দ্য গ্যাদারিং স্টর্ম (১৯৪৮), পৃ. ৮৯
  • মিস্টার ম্যাকডোনাল্ডের স্বাস্থ্য ও সক্ষমতা এতটাই কমে গিয়েছিল যে তার পক্ষে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। কনজারভেটিভ পার্টির কাছে তিনি কখনোই জনপ্রিয় ছিলেন না; তারা তাকে তার রাজনৈতিক ইতিহাস ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বাসের কারণে দীর্ঘকাল ঘৃণা করত, যা পরবর্তী বছরগুলোতে করুণায় রূপ নেয়। লেবার-সোশ্যালিস্ট পার্টির কাছে তিনি ছিলেন সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি, কারণ তারা মনে করত ১৯৩১ সালে তিনি দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। সরকারের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতার মধ্যে তার নিজের অনুসারী ছিল মাত্র সাতজন। তার নিরস্ত্রীকরণ নীতিও তখন ব্যর্থ হয়েছে। সাধারণ নির্বাচন সন্নিকটে ছিল যেখানে তার কোনো কার্যকর ভূমিকা পালনের সুযোগ ছিল না। এই পরিস্থিতিতে ১৯৩৫ সালের ৭ জুন ঘোষণা করা হয় যে তিনি ও মিস্টার বাল্ডউইন তাদের পদ অদলবদল করেছেন। বাল্ডউইন তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন এবং পররাষ্ট্র দপ্তরও অন্য হাতে চলে যায়। স্যার স্যামুয়েল হোর ভারত শাসন আইন পাসের মাধ্যমে ভারত দপ্তরে তার কাজ শেষ করেন এবং এখন তিনি আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তরের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত ছিলেন। পররাষ্ট্র নীতির কারণে স্যার জন সাইমন কনজারভেটিভদের দ্বারা কঠোর সমালোচিত হচ্ছিলেন। তিনি স্বরাষ্ট্র দপ্তরে চলে যান এবং স্যার স্যামুয়েল হোর পররাষ্ট্র সচিব হন।
    • উইনস্টন চার্চিল, দ্য সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার ১ম খণ্ড: দ্য গ্যাদারিং স্টর্ম (১৯৪৮), পৃ. ১৬৮
  • যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক বিষয়ে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল, তবুও আমি আশা করি বর্তমান তিক্ত সময়ে আপনি গর্ব ও কৃতজ্ঞতার সাথে সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করবেন যখন সমাজতন্ত্র ও লেবার আন্দোলনের জন্য আপনার কাজ ছিল অগ্রগণ্য। সেই সময়ে এই পথে চলা সহজ বা জনপ্রিয় ছিল না।
    • ওয়াল্টার সিট্রিন, ১৯৩৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে আসন হারানোর পর ম্যাকডোনাল্ডকে লেখা চিঠি (নভেম্বর ১৯৩৫), মেন অ্যান্ড ওয়ার্ক: অ্যান অটোবায়োগ্রাফি (১৯৬৪) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃ. ২৯১
  • তার বিরুদ্ধে গভীর ক্ষোভ ছিল এবং বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগও ছিল বারবার। ১৯৩১ সালের কর্মকাণ্ডের জন্য লেবার আন্দোলনের সর্বত্র তাকে কঠোর সমালোচনা করা হতো এবং আমিও তাদের সাথে একমত ছিলাম... ১৯৩১ সাল ও তার আগে আমি তার কড়া সমালোচকদের একজন ছিলাম। তার বাগ্মিতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলেও আমি মনে করতাম তিনি অগোছালো চিন্তার মানুষ ছিলেন; আমি তাকে তার নির্বাহী বা প্রশাসনিক দক্ষতার অভাবের কথা সরাসরি জানিয়ে দিতাম। তবুও তিনি একবারও আমার প্রতি কোনো অসদাচরণ করেননি।
  • ম্যাকডোনাল্ড বুঝতেই পারতেন না কেন তার পুরনো ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা তাকে ছেড়ে চলে গেল। তিনি মনে করতেন তিনি তার সমাজতান্ত্রিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি এবং সেই চেতনার প্রতি অনুগত ছিলেন যা তাকে রাজনৈতিক জীবনে পথ দেখিয়েছে।
  • ১৯৩০ সালে ল্যান্ডুডনোতে ম্যাকডোনাল্ড জীবনের অন্যতম পরীক্ষার মুখোমুখি হন এবং তার ক্লান্ত চেহারা সত্ত্বেও তিনি অত্যন্ত সাহসের সাথে তা জয় করেন। আজও তার সেই ভাষণটি পড়লে এর শক্তি অনুভব করা যায়। যদিও তার ভাষণগুলো পড়ার চেয়ে শোনার জন্যই বেশি তৈরি হতো। সেই দৃশ্যটি কল্পনা করুন তার উপস্থিতি, অঙ্গভঙ্গি, সুন্দর উচ্চারণ এবং কণ্ঠ ও শরীরের সেই নিখুঁত সমন্বয়ে যা ছিল একটি মহান ভাষণের বৈশিষ্ট্য। এতে সহজেই বোঝা যায় তিনি মানুষকে কীভাবে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতেন।
    • মাইকেল ফুট, অ্যানিউরিন বেভান, ১ম খণ্ড (১৯৭৫), পৃ. ১২৫
  • ম্যাকডোনাল্ডের মেজাজ ছিল ধীরস্থির, হিসাবনিকাশপূর্ণ এবং অত্যন্ত সতর্ক... তার ধৈর্য ও সহনশীলতা ছিল অপরিসীম। এই গুণগুলোই তাকে একজন দক্ষ সমঝোতাকারী ও দলীয় ব্যবস্থাপক করে তুলেছিল... তার মধ্যে মাঝেমধ্যে কল্পনাশক্তির এমন ঝলক দেখা যেত যা তৎকালীন শ্বাসরুদ্ধকর গোঁড়ামিকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে পারত।
    • মাইকেল ফুট, লয়ালিস্টস অ্যান্ড লোনার্স (১৯৮৬), পৃ. ১৬১-১৬২
  • ১৯৩১ সালে ম্যাকডোনাল্ড দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছিলেন।কিন্তু তিনি জেনেশুনে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চাননি... বরং নিজের নেওয়া কঠিন সিদ্ধান্তের চাপে তিনি নিজেই চূর্ণ হয়ে গিয়েছিলেন। ১৯৩১ সালের ঘটনা ছিল একটি সামষ্টিক ব্যর্থতা, কোনো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়... তাকে বলির পাঁঠা বানানো ছিল একটি অন্যায় ও মিথ্যা কাজ... তবে তাদের কারোরই ময়দান ছেড়ে পালানোর অধিকার ছিল না, যা শত্রুর জন্য পথ সহজ করে দিয়েছিল। কোনো তত্ত্বই একে সঠিক প্রমাণ করতে পারে না।
    • মাইকেল ফুট, লয়ালিস্টস অ্যান্ড লোনার্স (১৯৮৬), পৃ. ১৬৫-১৬৬
  • যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডা সীমান্তে পৌঁছানোর পর পাঠানো বার্তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমি শুধু দেশের মানুষের অনুভূতির প্রতিধ্বনি করে বলতে চাই যে, আপনি যে মনোভাব নিয়ে আমাদের কাছে এসেছিলেন তার প্রশংসা করার সুযোগ পেয়ে আমরা কৃতজ্ঞ। আপনার এই সংবর্ধনা প্রমাণ করে যে ব্রিটিশ ও আমেরিকান জনগণ আপনার এই সফরের মাধ্যমে আরও কাছাকাছি এসেছে। মিসেস হুভারও আমার সাথে আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন এবং আপনার কানাডা সফর ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন।
    • হার্বার্ট হুভার, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ উপলক্ষে বার্তার বিনিময়।
  • স্টাডিতে লয়েড জর্জ, র‍্যামজে এবং স্ট্যানলি বাল্ডউইনের ছবি আছে। বাল্ডউইন ম্যাকডোনাল্ডের সময়ের একজন পরিচারিকার কাছ থেকে জানতে পেরেছিলেন যে, ছুটির দিনে যখনই ম্যাকডোনাল্ড স্টাডিতে ঢুকতেন, তিনি সবসময় লয়েড জর্জের ছবিটা ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখতেন, কারণ ওটা দেখলে তার মেজাজ গরম হয়ে যেত।
    • থমাস জোন্স, ডায়েরির এন্ট্রি (১৪ এপ্রিল ১৯২৯), থমাস জোন্স রচিত হোয়াইটহল ডায়েরি, ২য় খণ্ড: ১৯২৬-১৯৩০ গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃ. ১৮১
  • আমি কখনোই ভাবিনি র‍্যামজে স্বেচ্ছায় লিবারেলদের সাথে কাজ করবেন। তিনি তাদের ঘৃণা করেন। তিনি দম্ভ ও প্রতিহিংসার এক সংমিশ্রণ। তার আভিজাত্যপ্রীতি তাকে কনজারভেটিভদের সাথেই বেশি ঘনিষ্ঠ করে তোলে।
    • ডেভিড লয়েড জর্জ, সি. পি. স্কটকে লেখা চিঠি (১৯ অক্টোবর ১৯২৭), সি. পি. স্কটের রাজনৈতিক ডায়েরিতে উদ্ধৃত, পৃ. ৪৯৩
  • তাকে বিরক্ত করার মতো যথেষ্ট বিবেক তার ছিল, কিন্তু সঠিক পথে রাখার মতো যথেষ্ট ছিল না।
    • এক নৈশভোজে ডেভিড লয়েড জর্জ (২৯ আগস্ট ১৯৩৮), এ. জে. সিলভেস্টার রচিত লাইফ উইথ লয়েড জর্জ (১৯৭৫) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃ. ২১৬
  • বর্তমান সময়ে তাকে যতটা খাটো করে দেখা হয়, বাস্তবে তিনি তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মানুষ ছিলেন। তিনি লেবার পার্টির অন্যতম প্রধান স্থপতি ছিলেন। তিনি এই দলকে পার্লামেন্টে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে আসেন যা দুবার সফলভাবে ক্ষমতায় ছিল। ১৯৩১ সালের ঘটনাগুলো তার নিজের গড়া সৃষ্টিকেই ধ্বংস করে দিয়েছিল এবং লেবার পার্টিকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছিল, যা তার পুরোনো সহকর্মীদের মধ্যে তীব্র তিক্ততার সৃষ্টি করে। কিন্তু জাতীয় সরকার গঠন ছিল রাষ্ট্রের স্বার্থে তার গভীর আন্তরিকতার ফল... প্রায় সব নেতৃস্থানীয় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি যা করেছিলেন তার জন্য তাকে দোষ দেওয়া যায় না... ম্যাকডোনাল্ড এবং যারা তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন তাদের মধ্যে একমাত্র পার্থক্য হলো—ম্যাকডোনাল্ডের সেই পরামর্শ অনুসরণ করার সাহস ছিল যা তিনি সঠিক মনে করতেন, যেখানে অন্যরা অজনপ্রিয় হওয়ার ভয়ে পিছিয়ে গিয়েছিল... জীবনের শেষ দিকে তার চিন্তাভাবনায় অস্পষ্টতা এলেও সামগ্রিকভাবে তার অর্জনগুলো কোনোভাবেই নগণ্য নয়।
    • হ্যারল্ড ম্যাকমিলান, উইন্ডস অফ চেঞ্জ (১৯৬৬), পৃ. ৫১৮-৫১৯
  • একবার হাউজ অব কমন্সে তিনি খুব একটা ছন্দে ছিলেন না। তিনি বারবার তোতলাচ্ছিলেন এবং একই কথা বলছিলেন। আমি তাকে এর আগে কখনো এতটা খারাপ অবস্থায় দেখিনি। তখন জিমি ম্যাক্সটন দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বললেন: "বসে পড়ো হে মানুষ, তুমি একটা আস্ত ট্র্যাজেডি।" পুরো ঘরে তখন পিনপতন নীরবতা নেমে এসেছিল।
    • ফ্রাঙ্ক মারখাম, বিবিসি ওয়ান টিভির অনুষ্ঠান দ্য লস্ট লিডার: জেমস র‍্যামজে ম্যাকডোনাল্ড (১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৬৮) সাক্ষাৎকারে উদ্ধৃত।
  • আমি অবাক হয়েছিলাম যখন আমাকে জানানো হলো যে তিনি আমার সাথে দেখা করতে চান... আমাকে ক্যাবিনেট রুমে নিয়ে যাওয়া হলো যেখানে প্রধানমন্ত্রী একা ছিলেন। রানি ভিক্টোরিয়া অভিযোগ করতেন যে মিস্টার গ্ল্যাডস্টোন তাকে জনসভার মতো সম্বোধন করতেন। আমি এখন তার কথা বুঝতে পারছি। মিস্টার ম্যাকডোনাল্ড দাঁড়িয়ে তার সুমধুর কণ্ঠে এবং একজন দক্ষ বাগ্মীর ভঙ্গিতে দীর্ঘ বক্তব্য শুরু করলেন। তিনি বললেন: "আমি আপাদমস্তক একজন সাধারণ মানুষ হলেও সমাজে ধর্মের গুরুত্ব ও মূল্য উপলব্ধি করি। ধর্ম হওয়া উচিত ঐক্যের শক্তি এবং ধ্বংসাত্মক শক্তির বিরুদ্ধে একটি ঢাল।" ... আমি অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনলাম এবং আমার দ্বিমত পোষণ করার পয়েন্টগুলো গুছিয়ে রাখলাম। কিন্তু সব চেষ্টাই বৃথা গেল। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণ শেষ করার সাথে সাথেই মিস্টার বাল্ডউইন ঘরে ঢুকলেন আর আমাকে বের করে দেওয়া হলো। পুরো সাক্ষাৎকারে আমি বড়জোর দুটি বাক্য বলতে পেরেছিলাম।
  • র‍্যামজে ম্যাকডোনাল্ডের চিন্তাধারা ছিল একজন শীর্ষস্থানীয় নেতার মতো। বহু বছর আগে আমি তাকে মন্ত্রণালয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু অন্যরা তখন অন্যরকম ভেবেছিলেন।
    • জন মর্লির মন্তব্য (সেপ্টেম্বর ১৯১৪), জে. এইচ. মরগান রচিত জন, ভিসকাউন্ট মর্লি (১৯২৪) গ্রন্থে উদ্ধৃত, পৃ. ৮০
  • ৫ আগস্ট ১৯২৪ তারিখে হ্যাঙ্কি ম্যাকডোনাল্ডের সাথে মধ্যাহ্নভোজ করেন এবং লয়েড জর্জের প্রতি তার গোপন ঘৃণার সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে লয়েড জর্জ কখনোই ম্যাকডোনাল্ডকে নিচু করে দেখেননি এবং তাকে একজন একাকী লড়াই করা সাহসী মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হ্যাঙ্কি মনে করতেন লয়েড জর্জের মতো বড় মাপের মানুষের প্রতি ঈর্ষা থেকেই ম্যাকডোনাল্ডের এমন মনোভাব জন্মেছে।
    • স্টিফেন রস্কিল, হ্যাঙ্কি, ম্যান অফ সিক্রেটস: ২য় খণ্ড (১৯৭২), পৃ. ৩৭১
  • ম্যাকডোনাল্ড তখন ফরাসি রাজনীতিবিদদের তীব্র নিন্দা করতে থাকেন। তাদের তিনি নিচ ও সম্মানহীন বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, "আমি ভার্সাইয়ে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম যেখানে প্রায় ৭০ জন প্রাক্তন ও হবু প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। ফ্রান্সে সবাই চার দিনের জন্য হলেও প্রধানমন্ত্রী হতে চায়। আমি টেবিলের মাঝখানে বসে সবাইকে দেখছিলাম। একজনের চেহারাতেও সততার ছাপ ছিল না। আমার পাশে বসা মাদাম হেরিয়টকে আমি জিজ্ঞেস করলাম যে তার স্বামী ছাড়া সেখানে কোনো সৎ মানুষ আছে কি না। তিনি উত্তর দিলেন, 'আমার মনে হয় আরও দুজন আছেন'।"
    • সি. পি. স্কট, ডায়েরির এন্ট্রি (১৫ জুলাই ১৯২৪), সি. পি. স্কটের রাজনৈতিক ডায়েরিতে উদ্ধৃত, পৃ. ৪৬০
  • তিনি বারবার লিবারেলদের প্রতি তার অনাস্থা ও অপছন্দের কথা বলতেন। তিনি কনজারভেটিভদের সাথে মানিয়ে নিতে পারতেন। তারা মাঝেমধ্যে প্রকাশ্যে দ্বিমত পোষণ করলেও পরে আবার হাত মেলাতেন এবং সব ভুলে যেতেন। তারা ছিলেন ভদ্রলোক, কিন্তু লিবারেলরা ছিল অভদ্র।
    • সি. পি. স্কট, ডায়েরির এন্ট্রি (১৫ জুলাই ১৯২৪), সি. পি. স্কটের রাজনৈতিক ডায়েরিতে উদ্ধৃত, পৃ. ৪৬০
  • জেনেভায় ম্যাকডোনাল্ড কী চমৎকার ভাষণই না দিলেন বিজ্ঞ, দূরদর্শী এবং সাহসী। আমি চাই আমাদের দলেও যদি এমন একজন মানুষ থাকত।
  • র‍্যামজে ম্যাকডোনাল্ড ১৯২৪ সালে ক্ষমতায় আসেন এবং এরপর ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক, পরবর্তী পনেরো বছর ব্রিটিশ পররাষ্ট্র নীতিতে নিজের ছাপ রেখে যান। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মনে হয়েছিল তার নীতি ব্যর্থ হয়েছে। আজ তার নাম ঘৃণার পাত্র। তার অস্তিত্বকে উপেক্ষা করা হয়। তবুও যারা জার্মানির সাথে সহযোগিতার পক্ষে, ম্যাকডোনাল্ড তাদের আদর্শ হওয়া উচিত। অন্য যেকোনো ব্রিটিশ রাষ্ট্রনায়কের চেয়ে ম্যাকডোনাল্ড "জার্মান সমস্যা" মোকাবিলা করে তা সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন। শক্তি প্রয়োগ যে বৃথা তা তখন প্রমাণিত হয়েছিল... তখন শুধু সমঝোতাই বাকি ছিল এবং যদি সমঝোতা করতেই হয় তবে তা মনপ্রাণ দিয়েই করা উচিত।
    • এ. জে. পি. টেলর, দ্য অরিজিনস অফ দ্য সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার (১৯৯১), পৃ. ৭৯
  • পার্লামেন্টারি লেবার পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি রাজনীতি ও জনমতের বিশাল বিশ্বে লেবার পার্টির স্থান করে দেওয়ার জন্য প্রধানত দায়ী ছিলেন। তার মধ্যে যদি অসাধারণ গুণাবলি না থাকত, তবে দক্ষিণ আফ্রিকান যুদ্ধ এবং পরে ১৯১৪ সালের যুদ্ধের শান্তিবাদী বিরোধিতার কারণে তিনি তার সব প্রভাব হারিয়ে ফেলতেন। কিন্তু প্রতিটি যুদ্ধের অল্প সময় পরেই তিনি আবার জনজীবনে ফিরে আসেন এবং একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠেন... প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি বিচক্ষণতার পরিচয় দেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা কমাতে তিনি সফল হয়েছিলেন। তিনি অ্যাংলো-ফ্রেঞ্চ সম্পর্কের উন্নতি ঘটান এবং তার ঐতিহ্যপ্রীতি দলের অরাজকপন্থীদের বিরুদ্ধে একটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছিল।
  • তিনি ছিলেন রোমান্টিক প্রকৃতির মানুষ। তার প্রখর কল্পনাশক্তি তাকে যেকোনো কাজের অসুবিধাগুলো আগেভাগেই দেখাত। এটি মাঝেমধ্যে তার যুক্তিকে কিছুটা অস্পষ্ট করলেও তাকে সময়ের প্রয়োজনে সংবেদনশীল রাখত এবং সহকর্মীদের সাথে কাজ করার ক্ষেত্রে তাকে সাহায্য করত।
  • ম্যাকডোনাল্ডের কৃতিত্ব হলো তিনি একতরফা দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ১৯৩৫ সালে জার্মানির সামরিকবাদের সমালোচনা করেছিলেন এবং যারা অন্ধভাবে জার্মানির পক্ষ নিচ্ছিল তাদেরও সতর্ক করেছিলেন।
  • র‍্যামজে বাল্ডউইনের চেয়েও সরল চরিত্রের মানুষ ছিলেন, যদিও তাকে দেখে তা মনে হতো না। তিনিও জটিল ছিলেন, তবে বাল্ডউইনের মতো সাধারণ সাজার ইচ্ছা তার ছিল না। হ্যারল্ড নিকলসন তাকে 'আন্তর্জাতিক আভিজাত্য ও স্কটিশ বুদ্ধির মিশ্রণ' বলে অভিহিত করেছেন... তিনি বিশ্বাস করতেন মানুষের প্রকৃত জাতীয়তা হলো মানবতা... তিনি বিশ্বাস করতেন যে মানুষ স্বভাবগতভাবেই ভালো এবং তাদের এক সুতোয় বাঁধা সম্ভব। তিনি রাজনীতিকে একটি জৌলুসপূর্ণ অ্যাডভেঞ্চার মনে করতেন, বিশেষ করে পররাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেখানে তিনি জাদুকরী সমাধানে বিশ্বাসী ছিলেন... এক কথায় তিনি বিশ্বাস করতেন যে আমরা চিরকাল ন্যায়ের পথে এগিয়ে চলেছি... চরমপন্থীদের চেয়ে তিনি লিবারেলদের বেশি কাছের ছিলেন। সমাজতন্ত্রের চেয়ে আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহেই তার বেশি আগ্রহ ছিল।
  • শিল্পাঞ্চলের বস্তিগুলোতে বা গ্রামাঞ্চলের কুঁড়েঘরে তিনি এক কিংবদন্তি হয়ে উঠেছেন—হাজার হাজার অবহেলিত নারী-পুরুষের আশা ও স্বপ্নের প্রতীক তিনি। লেনিনের মতো তিনিও একটি পুরো শ্রেণির মক আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু।
    • এগন রানশফেন-ওয়ার্থেইমার, পোর্ট্রেট অফ দ্য লেবার পার্টি (১৯২৯), পৃ. ১৭৬-১৭৭
  • লেবার পার্টি সবসময়ই এমন বিদ্রোহীদের প্রতি নমনীয় ছিল যারা নেতৃত্বের দৃঢ়তা বা সমাজতান্ত্রিক আদর্শের অভাব নিয়ে সমালোচনা করত। ১৯৩১ সালের ট্রমা এই সন্দেহগুলোকে এতটাই উসকে দিয়েছিল যে এক প্রজন্ম পরেও লেবার আন্দোলনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে র‍্যামজে ম্যাকডোনাল্ডের নাম উচ্চারিত হতো।
  • আমরা এমন একজন নেতার স্মৃতিচারণ করছি যিনি সৃষ্টির বছরগুলোতে তার সমসাময়িকদের চেয়ে অনেক উঁচুতে ছিলেন। তিনি সেই সমাজতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন এবং কষ্ট সয়েছেন যা এক প্রতিকূল যুগে প্রচার করা সহজ ছিল না। তিনি এমন এক মানুষ যার স্বপ্ন ছিল এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সাহস ছিল। তিনি তার সহকর্মীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। তিনি একটি স্থায়ী রাজনৈতিক শক্তি তৈরি করেছিলেন যা আজও এই দেশের সরকার পরিচালনা করছে এবং যার জন্য আমরা র‍্যামজে ম্যাকডোনাল্ডের কাছে ঋণী।
    • হ্যারল্ড উইলসন, র‍্যামজে ম্যাকডোনাল্ডের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রদত্ত ভাষণ (১২ অক্টোবর ১৯৬৬), দ্য টাইমসে উদ্ধৃত, পৃ. ১২
  • র‍্যামজে ম্যাকডোনাল্ডের ছেলে ম্যালকম ম্যাকডোনাল্ড আমাকে ও রালফকে চেকআর্সে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। রাস্তার ধারে আমরা প্রধানমন্ত্রীর দেখা পেলাম যিনি তার প্রাত্যহিক ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। মাথায় ক্যাপ, মুখে পাইপ আর হাতে লাঠি নিয়ে তাকে একজন গ্রাম্য জমিদারের মতো মনে হচ্ছিল, দেখে বোঝার উপায় নেই যে তিনি লেবার পার্টির নেতা। প্রথম দেখায় তাকে অত্যন্ত মর্যাদাবান এবং প্রধানমন্ত্রীত্বের গুরুভার সম্পর্কে সচেতন বলে মনে হলো। রাতের খাবারের পর আমরা ঐতিহাসিক লং রুমে কফি খেতে গেলাম। সেখানে ক্রোমওয়েলের ডেথ মাস্ক দেখার পর আমাদের মধ্যে আড্ডা জমে উঠল। আমি তাকে বললাম যে ১৯২১ সালে লন্ডনে যে দারিদ্র্য দেখেছিলাম, তা এখন অনেক কমেছে। দোকানগুলো এখন মালামালে ঠাসা এবং শিশুদের পায়ে ভালো জুতো দেখা যায়। এর কৃতিত্ব অবশ্যই লেবার সরকারের। তিনি গম্ভীর মুখে আমার কথা শুনলেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম সমাজতান্ত্রিক সরকার হিসেবে তাদের দেশের সংবিধান বদলানোর ক্ষমতা আছে কি না। তিনি হেসে উত্তর দিলেন: "থাকা উচিত, কিন্তু ব্রিটিশ রাজনীতির পরিহাস হলো ক্ষমতা পাওয়ার মুহূর্তেই মানুষ ক্ষমতাহীন হয়ে পড়ে।" তিনি একটু থেমে বাকিংহাম প্যালেসে তার প্রথম যাওয়ার গল্প শোনালেন। রাজা তাকে অভিবাদন জানিয়ে বলেছিলেন: "তাহলে আপনারা সমাজতন্ত্রীরা আমার ব্যাপারে কী করতে যাচ্ছেন?" প্রধানমন্ত্রী হেসে বলেছিলেন: "আপনার মহিমা ও দেশের স্বার্থে কাজ করা ছাড়া আর কিছুই নয়।"
    • চার্লি চ্যাপলিন, র‍্যামজে ম্যাকডোনাল্ডের সাথে সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে তার আত্মজীবনীতে (১৯৭৩) লিখেছেন, পৃ. ৩৩৭-৩৩৮।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]