বিষয়বস্তুতে চলুন

রুটি

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
আমি এতটাই রোগা ছিলাম যে কাঁধের হাড় দিয়েও রুটি কাটতে পারতাম, অথচ আমি খুব কমই রুটি খেতাম।
—চার্লস বুকোস্কি
পৃথিবীতে এমন মানুষও আছে যারা এতটাই ক্ষুধার্ত যে, ঈশ্বর রুটির রূপ ছাড়া তাদের কাছে আবির্ভূত হতে পারেন না।
মহাত্মা গান্ধী

রুটি হলো ময়দা ও জল দিয়ে তৈরি মণ্ড সেঁকে প্রস্তুত করা একটি প্রধান খাদ্য। রুটি বিভিন্ন রূপে পরিবেশন করা যেতে পারে, জলখাবার হিসেবে খাওয়া যেতে পারে, এমনকি অন্যান্য রন্ধনপ্রণালীতে উপাদান হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। সাধারণত গমের ময়দার তালকে সেঁকে এটি প্রস্তুত করা হয়। কৃষির আবির্ভাবের পর থেকেই রুটি যথেষ্ট গুরুত্ব লাভ করেছে। ইউরোপীয় শৈলীতে তৈরি করা রুটিকে পাউরুটি বলে, আর একে বিভিন্ন উপায়ে খামির করা হয়। রুটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এবং বিশ্বের প্রাচীনতম খাদ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • প্রয়ােজন নেই কবিতার স্নিগ্ধতা—
    কবিতা তােমায় দিলাম আজকে ছুটি,
    ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়ঃ
    পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল‍্সানাে রুটি।।
  • “কী চমৎকার একটা গন্ধ, তাই না?” ট্যাক্সি ড্রাইভার বলল। “এইমাত্র পাঁচ ডজন পাউরুটি পৌঁছে দিলাম!”
    “ওটা,” যুবকটি বলল, “প্রথম প্রভাতে স্বর্গের সুগন্ধ।”
    • রে ব্র্যাডবেরি, সামহোয়ার এ ব্যান্ড ইজ প্লেইং এর নাউ অ্যান্ড ফরেভারএ, আইএসবিএন ৯৭৮-০-০৬-১১৩১৫৭-৮, পৃষ্ঠা ১৭
  • কেউ সারাদিনে এক টুকরা রুটি খেয়েছে, আর কেউ অভুক্ত অবস্থায়ই পথের দিকে চেয়ে বসে আছে। আমেরিকার ব্যাংকে প্রচুর স্বর্ণ আছে, বাগানে ফল আছে, মাঠে প্রচুর গম আছে, নদীতে জল আছে, দোকানে কাপড় জুতা সবই আছে কিন্তু ঐ ভিখারীদের কিছুই নাই। পরনে ছেঁড়া ট্রাউজার, গায়ে ছেঁড়া কোট, কারও গায়ে শার্ট আছে, কারও গায়ে তাও নেই! নেকটাই কিন্তু তবুও ঝুলছে।
    • রামনাথ বিশ্বাস, আজকের আমেরিকা - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয়- সংস্করণ, প্রকাশক- পর্যটক প্রকাশনা ভবন, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৫
  • খবরটা প্রথমে আমাকে দেওয়া হয় নাই, তাই প্রথম দিন ত’ ভাত, রুটি, ঘি খুব খাইয়া লইলাম। বলিলাম, রুটির দরকার নাই, কিন্তু উত্তর হইল—ডাক্তারের হুকুম, রুটি দেওয়া হইবেই। পনের দিন ত রুটি খাওয়া গেল। প্রথম দিন মজা করিয়া খাইলাম বটে, কিন্তু পরদিন জানিতে পারিলাম, এই রকম আদেশ দেওয়া হইয়াছে। আমি তখন ভাতের সঙ্গে ঘি ও রুটি লইতে অস্বীকার করিলাম। বড় দারোগাকে বলিলাম, যতক্ষণ না সকলেই ঘি পাইতেছে, ততক্ষণ আমি খাইতে পারি না।
    • মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, কারাকাহিনী- মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, অনুবাদক- অনাথনাথ বসু, প্রকাশক- বিচিত্রা প্রেস লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
  • যবের রুটির তুলনায় গমের রুটি বেশি পুষ্টিকর, সহজে হজমযোগ্য এবং সর্বতোভাবে উৎকৃষ্ট।
  • অনেকটা ঠাণ্ডা হইয়া সে তখন স্নেহকারীকে একটু খুসী করিবার জন্য তাহার সঙ্গে গল্প আরম্ভ করিয়া দিল, “সিং-জী! আচ্ছা তোমার বউমেয়েরা সেখানে গেলে তোমার রুটি গড়ে দেয় তো? সেখানে তো নিজে রাঁধতে হয় না?”
    কানাই সিং একগাল হাসিয়া জবাব দিল “আরে নারে বউয়া। সেখানে হামি কিসের দুখে নিজে রান্‌তে যাবে? কিস্‌মতিয়া, ববুয়া হামার বড়া পুতৌ নান্‌কিয়া মাই সবকোই রুটি পেকিয়ে দেয়, হামি বৈঠে বৈঠে খাই। সেখানে রুটি বড় মিট্‌ লাগে। পানীয়ে মিঠা বহুত। আহা কব্ না কব্ সেহাতি খেতে পারবে, সে তো না জানে কুছ।”
    • অনুরূপা দেবী, হারানো খাতা - অনুরূপা দেবী, পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- ভূদেব পাব্লিশিং হাউস, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫৭-১৫৮
  • বাঙালীদের যেমন প্রধান আহার ভাত ওদেশে সেরূপ নয়, ভাতের ব্যবহার আছে বটে কিন্তু সাধারণ লোকের মধ্যে বেশীর ভাগ রুটিই প্রচলিত, কোথাও বজরী (বজরা), কোথাও জোয়ারী বা গমের হাত-গড়া রুটি! ভাতই আমাদের যেমন প্রধান খাদ্য ওদেশে তেমনি রুটি। এই ভাতখোর ও রুটিখোর, দুই জাতির মধ্যে বলিষ্ঠ কোন জাতি? এই প্রশ্ন উঠল।
    • সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৬
  • রুটি বানানো এমন এক কাজ যা প্রায় সম্মোহনী, যেন কোনো প্রাচীন উৎসবের নৃত্য। এটি আপনাকে পৃথিবীর অন্যতম মধুর গন্ধে ভরিয়ে দেয়... কোনো কাইরোপ্র্যাকটিক চিকিৎসা, যোগব্যায়াম, বা সঙ্গীতমুখর গির্জায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধ্যানও আপনাকে রুটি তৈরির এই ঘরোয়া অনুষ্ঠানের চেয়ে বেশি খারাপ চিন্তামুক্ত করতে পারবে না।
  • আজ দুপুরবেলায় যখন খেতে ব’সেচি, এমন সময় —রোসো, আগে ব’লেনি কী খাচ্ছিলুম—খুব প্রকাণ্ড মোটা একটা রুটি—কিন্তু মনে ক’রো না তা’র সবটাই আমি খাচ্ছিলুম। রুটিটাকে যদি পূর্ণিমার চাঁদ বলে ধ’রে নেও তা হ’লে আমার টুক্‌রোটি দ্বিতীয়ার চাঁদের চেয়ে বড়ো হবে না। সেই রুটির সঙ্গে কিছু ডাল ছিল, আর ছিল চাট্‌নি আর একটা তরকারিও ছিল। যা হোক্, ব’সে ব’সে রুটি চিবোচ্চি, এমন সময়—রোসো, আগে ব’লে নিই রুটি, ডাল, চাট্‌নি এলো কোথা থেকে। —তুমি বোধ হয় জানো, আমার এখানে প্রায় পঁচিশজন গুজরাটি ছেলে আছে—আমাকে খাওয়াবে ব’লে তাদের হঠাৎ ইচ্ছা হ’য়েছিলো।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ভানুসিংহের পত্রাবলী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭৭-৭৮
  • হয়তো এই যুদ্ধটা আমাদের জন্য সেইসব পুরোনো অভ্যাসে ফিরে যাওয়া সহজ করে দেবে, যা আমরা এই দেশে এসে বিপুল অর্থ উপার্জন করার আগে জানতাম। হয়তো, আমরা আবার ভালো রুটি বানানোও ভুলে যাব।
  • লোকটা প্রায় আধ ঘণ্টা বাজে কথা বলল, তারপর চলে গেল তার বাড়িতে; আমি শুয়ে থাকলাম আরাম করে। কতক্ষণ পরে লোকটা ফিরে এল কয়েকখানা রুটি নিয়ে। সে আমাকে জাগালে এবং বললে, “ভাই, রুটি খাও।” চোখ মেলে রুটি নিলাম বটে, কিন্তু খেলাম না। ঘিএর গন্ধ সহ্য করতে পারতাম না।
    • রামনাথ বিশ্বাস, মাউ মাউএর দেশে - রামনাথ বিশ্বাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৭
  • সকালে একটা রুটির কারখানায় গিয়েছিলাম। পাঁচতলা উঁচুতে আটা বা ময়দা কলে মাখা হচ্ছে, আর নানা প্রকার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ধাপে-ধাপে একতলার কলের মুখ থেকে নানা আকারের ও মাপের রুটি বেরিয়ে আসছে। এর প্রত্যেক তলায় রাসায়নিক পরীক্ষাগার। প্রত্যেকবার নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে, বিশুদ্ধ কি না? এখানে দৈনিক ২৮ টন রুটি তৈরী হয়। মানুষের খাদ্য সম্পর্কে কত সতর্কতা! ময়দা বা আটা গোলা থেকে তপ্ত রুটি তৈরী পর্যন্ত দেখে ও চেখে আমরা কারখানার ডিরেক্টরের ঘরে এসে বসলাম।
    • সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭০-৭১

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]