লোরঁ শোয়ার্তজ
অবয়ব

লোরঁ-মোয়িজ শোয়ার্তজ (৫ মার্চ ১৯১৫ – ৪ জুলাই ২০০২) ছিলেন একজন ফরাসি গণিতবিদ। তিনি ডিস্ট্রিবিউশন তত্ত্বের সূচনা করেছিলেন যার মাধ্যমে ডিরাক ডেল্টা ফাংশনের মতো জিনিসগুলোকে ভালোভাবে অনুধাবন করা যায়। ডিস্ট্রিবিউশন তত্ত্বের ওপর তাঁর কাজের জন্য ১৯৫০ সালে তাঁকে ফিল্ডস মেডেল প্রদান করা হয়। বেশ কয়েক বছর তিনি একোল পলিটেকনিকে শিক্ষকতা করেছেন।
উক্তি
[সম্পাদনা]- গণিতে কোনো কিছু আবিষ্কার করার অর্থ হলো একটি জড়তা এবং প্রথাকে অতিক্রম করা। আপনি যদি প্রথা-বিরোধী না হন, তবে আপনি সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন না।
- আঁ ম্যাথমেটিশিয়াঁ ও প্রিজ অ্যাভেক ল্য সিয়েকল (১৯৯৭)
- ট্রটস্কিবাদ আমাকে এক অসাধারণ শিক্ষা দিয়েছিল। এমন এক শিক্ষা, যা আমার সমবয়সী অধিকাংশ তরুণের তুলনায় নিঃসন্দেহে অনেক বেশি গভীর, পরিণত ও চিন্তাশীল ছিল। কিন্তু এর ধারণার চরমপন্থা ও গোষ্ঠীগত সংকীর্ণতা, সঙ্গে এর বাঁধাধরা ভাষা, দখলদারির সময় আমাকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল। সেই সময়ে আমার নিজের কর্মকাণ্ড, এবং ট্রটস্কিবাদী দলের অধিকাংশ সদস্যের ভূমিকা নিয়ে আমার মূল্যায়ন আজও অত্যন্ত কঠোর।
- আ ম্যাথমেটিশিয়ান গ্র্যাপলিং উইথ হিজ সেঞ্চুরি (২০০১)
- আমি সব সময় মনে করেছি যে রাজনীতিতে নৈতিকতা একটি অপরিহার্য বিষয়, ঠিক যেমন অনুভূতি এবং সখ্যতা একে অপরের জন্য অপরিহার্য।
- আমি সবসময় আমার নিজের মেধা নিয়ে তেমন একটা নিশ্চিত ছিলাম না; আমি ভাবতাম আমি বুদ্ধিহীন। এবং এটা সত্য যে আমি বেশ অলস ছিলাম এবং এখনও তাই আছি। কোনো কিছু বুঝতে আমার সময়ের প্রয়োজন হয় কারণ আমাকে সবসময় সেগুলো নিয়ে ভাবতে হয়। শিক্ষকের কোনো প্রশ্নের উত্তর যখন আমি সবার আগে দিতাম, তখনও আমি ভেতরে ভেতরে জানতাম—উত্তরটা আমার আগে থেকেই জানা ছিল বলেই আমি পেরেছি। কিন্তু যখনই কোনো নতুন প্রশ্ন করা হতো, তখন দেখা যেত যারা আমার মতো ততটা ভালো ছাত্র নয়, তারাও আমার আগে উত্তর দিয়ে দিচ্ছে। একাদশ শ্রেণির শেষের দিকে এসে আমার মনে হতে লাগল, আমি বোধহয় সত্যিই বোকা! দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়টা নিয়ে আমি বেশ ভুগেছি। আমি যে শুধু নিজেকে বোকা ভাবতাম তা-ই নয়; বরং আমার এই তথাকথিত 'নির্বুদ্ধিতা' আর ভালো ফলাফলের মধ্যকার আকাশপাতাল তফাতটাও কোনোভাবেই মেলাতে পারতাম না। আমি কখনো এ নিয়ে কারও সাথে কথা বলিনি। কিন্তু আমার সব সময় মনে হতো, আমার এই ছদ্মবেশ একদিন ঠিকই ধরা পড়ে যাবে। পুরো পৃথিবী আর আমি নিজেও হয়তো শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারব যে, আমার এই তথাকথিত বুদ্ধিমত্তা আসলে একটা বিভ্রম ছাড়া আর কিছুই নয়। যদি কখনো এমনটা ঘটেও থাকে, মনে হয় না কেউ সেটা খেয়াল করেছে; কারণ আমি আজও আগের মতোই ধীরগতিরই রয়ে গেছি। (...) একাদশ শ্রেণির শেষে আমি পুরো পরিস্থিতিটা আবার ভেবে দেখলাম এবং শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছালাম যে দ্রুত বুঝতে পারা বা ক্ষিপ্রতার সাথে বুদ্ধিমত্তার আসলে সুনির্দিষ্ট কোনো সম্পর্ক নেই। আসল বিষয় হলো কোনো কিছুকে গভীরভাবে বোঝা এবং তাদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কগুলো ধরতে পারা। মূলত এখানেই বুদ্ধিমত্তা লুকিয়ে থাকে। আপনি দ্রুত বুঝতে পারছেন নাকি দেরিতে তা আসলে খুব একটা যায় আসে না। অবশ্যই ক্ষিপ্র হওয়া বা দ্রুত বুঝতে পারাটা অনেক সহায়ক; ঠিক যেমন একটি ভালো স্মৃতিশক্তি থাকাটা উপকারে আসে। কিন্তু প্রকৃত বুদ্ধিবৃত্তিক সাফল্যের জন্য এগুলো যেমন অপরিহার্য নয়, তেমনি এগুলোই একমাত্র শর্ত নয়।
- আ ম্যাথমেটিশিয়ান গ্র্যাপলিং উইথ হিজ সেঞ্চুরি (২০০১)। স্লাইড নং ২২-এ উদ্ধৃত [১]
শোয়ার্তজ সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]
- গণিত, রাজনীতি এবং প্রজাপতি ছিল লোরঁ শোয়ার্তজের তিনটি প্রিয় জিনিস।
- অ্যাঞ্জেলো গুয়েরেজিও, ম্যাথমেটিক্যাল লাইভসে (২০১১) প্রকাশিত "লোরঁ শোয়ার্তজ: পলিটিক্যাল কমিটমেন্ট অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্যাল রিগরে", পৃ. ১৫৭-১৬৪
- শোয়ার্তজ কখনোই বাম বা ডানপন্থার প্রতি অন্ধ আনুগত্য প্রদর্শন করেননি। সর্বোপরি তাঁর নিজের ভাষায়, তিনি ছিলেন এমন এক মানুষ যিনি কোনো ব্যবস্থাকে ঠিকভাবে কাজ না পারাকে অপছন্দ করতেন।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিমিডিয়া কমন্সে লোরঁ শোয়ার্তজ সংক্রান্ত মিডিয়া রয়েছে।
উইকিপিডিয়ায় লোরঁ শোয়ার্তজ সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।