শিরিন এবাদি
অবয়ব

শিরিন এবাদি (জন্ম ২১ জুন, ১৯৪৭) একজন ইরানি আইনজীবী এবং মানবাধিকার কর্মী। ২০০৩ সালের ১০ই ডিসেম্বর এবাদি নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন এবং এই পুরস্কার লাভকারী প্রথম ইরানি ও প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েন।
উক্তি
[সম্পাদনা]- ইরানে মানবাধিকারের জন্য সংগ্রামকারী যেকোনো ব্যক্তিকে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ভয়ের মধ্যে বাঁচতে হয়, কিন্তু আমি আমার ভয়কে জয় করতে শিখেছি।
- ১৯৯৯ সালের সাক্ষাৎকার থেকে।
- অক্টোবর ২০০৩-এ বিবিসি নিউজ-এ প্রকাশিত এবাদির সংক্ষিপ্ত পরিচিতিতে উল্লিখিত। (সংগৃহীত: ১৫ অক্টোবর ২০০৮)
- গত ২৩ বছর ধরে, যেদিন আমাকে বিচারকের পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছিল তার পর থেকে তেহরানের বিপ্লবী আদালতগুলোতে সংগ্রামের বছরগুলো পর্যন্ত আমি একটি কথাই বারবার বলে এসেছি: ইসলামের এমন ব্যাখ্যা যা সমতা ও গণতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটাই বিশ্বাসের প্রকৃত বহিঃপ্রকাশ হবে। ধর্ম নারীদের আবদ্ধ করে না, বরং যারা তাদের অবরুদ্ধ রাখতে চায়, তাদের চাপিয়ে দেওয়া বেছে বেছে নেওয়া নির্দেশাবলিই নারীদের আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখে। এই বিশ্বাস এবং ইরানে পরিবর্তন অবশ্যই শান্তিপূর্ণভাবে ও ভেতর থেকে আসতে হবে—এই দৃঢ় প্রত্যয়ই আমার কাজের ভিত্তি তৈরি করেছে।
- ইরান অ্যাওয়েকেনিং: আ মেমোয়ার অব রেভোলিউশন অ্যান্ড হোপ, র্যান্ডম হাউস, ২০০৬, পৃষ্ঠা ২০৪।
- আমার স্মৃতিকথায় আমি আমেরিকার নারীদের কাছে ইরানি নারীদের এবং আমাদের জীবনধারার পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছি। আমি সমাজের একেবারে উচ্চবিত্ত স্তর থেকে আসিনি, আবার নিম্নবিত্ত স্তর থেকেও না। আমি এমন একজন নারী, যে একজন আইনজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপিকা এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী। একই সাথে আমি রান্নাও করি। আর এমনকিযখন আমি জেলখানায় যাওয়ার উপক্রম হই, তখন আমার প্রথম কাজগুলোর মধ্যে একটি হলো পরিবারের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে খাবার তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দেওয়া।
- শিরিন এবাদির সদ্য প্রকাশিত বই ইরান অ্যাওয়েকেনিং: আ মেমোয়ার অব রেভোলিউশন অ্যান্ড হোপ উপলক্ষে ২০০৬ সালে নিউ আমেরিকা মিডিয়ার সম্পাদক ব্রায়ান শটের নেওয়া সাক্ষাৎকার থেকে (অনুবাদক: বানাফশেহ কাইনুশ)।
- নিউ আমেরিকা মিডিয়া, ২০০৬। (সংগ্রহের তারিখ: ১৫ অক্টোবর, ২০০৮)
- আমি আমার পরিস্থিতিকে জাহাজের একজন যাত্রীর সাথে তুলনা করি। যখন কোন জাহাজডুবি হয়, তখন যাত্রী সমুদ্রে পড়ে যায় এবং সাঁতরাতে থাকা ছাড়া তার আর কোনো উপায় থাকে না। আমাদের সমাজে যা ঘটেছে তা হলো, আইন নারীদের প্রতিটি অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আমার কোনো উপায় ছিল না। আমি ক্লান্ত হতে পারতাম না, আমি আশা হারাতে পারতাম না। আমার পক্ষে তা করা সম্ভব নয়।
- ২০০৬ সালে শিরিন এবাদির সদ্য প্রকাশিত বই 'ইরান অ্যাওয়েকেনিং: আ মেমোয়ার অব রেভোলিউশন অ্যান্ড হোপ' উপলক্ষে হ্যারি ক্রেইসলারের নেওয়া এবাদির একটি সাক্ষাৎকার (অনুবাদক: বানাফশেহ কেইনুশ)।
- বার্কলির ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এ ১০ মে ২০০৬ তারিখে গৃহীত শিরিন এবাদির সাক্ষাৎকার। (সংগৃহীত: ১৫ অক্টোবর ২০০৮)
- আমি, যিনি সাতজন কারারুদ্ধ বাহাই নেতা ও অন্যান্য অনেক রাজবন্দির হয়ে আইনি লড়াই করেছি, ইরানে ফিরে গেলে যদি আমাকে গ্রেপ্তার করা নাও হতো, আমার মানবাধিকার কর্মকাণ্ডের ওপর অগ্রহণযোগ্য বিধিনিষেধ আরোপ করা হতো। এখন আমার নিজের আইনজীবী—যিনি আরও অনেক কর্মীর প্রতিনিধিত্ব করেন—তাকে আটক করা হয়েছে এবং তার আইনজীবীকে তার পক্ষে লড়ার জন্য গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়েছে। আপনার পক্ষে লড়ার জন্য যদি আপনার আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে ন্যায়বিচার কোথায়?
- নাসরিন সোতুদেহ-র গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে। "ইরান: লয়ার্স ডিফেন্স ওয়ার্ক রিপেইড উইথ লস অব ফ্রিডম"। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ১ অক্টোবর ২০১০। ২৬ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০১১।
- মানবাধিকার একটি সার্বজনীন মানদণ্ড। এটি প্রতিটি ধর্ম ও সভ্যতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
- যখন কোনো ব্যক্তি অপমানিত হয়, যখন তার অধিকার লঙ্ঘিত হয় এবং তার উপযুক্ত শিক্ষা থাকে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই সে সন্ত্রাসবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় শিরিন এবাদি সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।