বিষয়বস্তুতে চলুন

শেখ কামাল

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

শেখ কামাল (৫ আগস্ট ১৯৪৯ – ১৫ আগস্ট ১৯৭৫) ছিলেন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ, ক্রীড়া সংগঠক ও প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তা। তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তিনি মুক্তিবাহিনীর অন্যতম সংগঠক ছিলেন। যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি বঙ্গবীর মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর এইড ডি ক্যাম্প (এডিসি) হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই তিনি ক্রীড়াবিদ সুলতানা খুকিকে বিয়ে করেন। তিনি ঢাকা আবাহানী লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তিনি সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন। তার জন্মদিন শেখ হাসিনা সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালন করা হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ দিবসটি বাতিল করেছে।

উক্তি

[সম্পাদনা]

শেখ কামাল সম্পর্কে উক্তি

[সম্পাদনা]
  • একদিন সকালে আমি ও রেণু বিছানায় বসে গল্প করছিলাম। হাচু ও কামাল নিচে খেলছিল। হাচু মাঝে মাঝে খেলা ফেলে আমার কাছে আসে আর 'আব্বা' 'আব্বা' বলে ডাকে। কামাল চেয়ে থাকে। একসময় কামাল হাচিনাকে বলছে, “হাচু আপা, হাচু আপা, তোমার আব্বাকে আমি একটু আব্বা বলি।” আমি আর রেণু দু'জনই শুনলাম। আস্তে আস্তে বিছানা থেকে উঠে যেয়ে ওকে কোলে নিয়ে বললাম, "আমি তো তোমারও আব্বা।” কামাল আমার কাছে আসতে চাইত না। আজ গলা ধরে পড়ে রইল। বুঝতে পারলাম, এখন আর ও সহ্য করতে পারছে না। নিজের ছেলেও অনেক দিন না দেখলে ভুলে যায়! আমি যখন জেলে যাই তখন ওর বয়স মাত্র কয়েক মাস। রাজনৈতিক কারণে একজনকে বিনা বিচারে বন্দি করে রাখা আর তার আত্মীয়স্বজন ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে দূরে রাখা যে কত বড় জঘন্য কাজ তা কে বুঝবে?

বিতর্ক

[সম্পাদনা]
  • ১৯৭৩ সালের বিজয় দিবসের আগের রাতে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, সিরাজ শিকদার ও তাঁর দলবল এসে ঢাকায় সরকারবিরোধী লিফলেট প্রচার এবং বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাতে পারে। এই আশঙ্কায় শহরে রাতের বেলায় সাদাপোশাকে পুলিশ গাড়ি নিয়ে টহল দিতে থাকে। ওই রাতেই প্রধানমন্ত্রীর জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল, যিনি একজন ছাত্রনেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে প্রথম সামরিক অফিসার্স কোর্স (শর্ট সার্ভিস-১) সামরিক প্রশিক্ষণ নেন ও যুদ্ধের সময় কর্নেল ওসমানীর এডিসি হিসেবে কাজ করেন, তিনি ধানমন্ডি এলাকায় তাঁর সাতজন সমবয়সী বন্ধুকে নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে শহরে টহলে বের হন। একপর্যায়ে সিরাজ শিকদারের খোঁজে টহলরত স্পেশাল পুলিশ মাইক্রোবাসটি দেখতে পায় এবং সন্দেহ ও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে কোনো সতর্ক সংকেত না দিয়েই অতর্কিতে মাইক্রোবাসের ওপর গুলি চালায়। এতে কামালসহ তাঁর ছয়জন সঙ্গী আহত হন। পরে পুলিশই তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। শেখ কামালকে পরে পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।...এদিকে স্বাধীনতাবিরোধী ও আওয়ামী লীগবিদ্বেষীরা এই ঘটনাকে ভিন্নরূপে প্রচার করে। “ব্যাংক ডাকাতি” করতে গিয়ে কামাল পুলিশের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে তারা প্রচারণা চালায় এবং দেশ-বিদেশে ভুল তথ্য ছড়াতে থাকে। যদিও এসব প্রচারণায় সত্যের লেশমাত্র ছিল না।
  • মৃত্যুর পরে শেখ কামালের নামে অনেকে বদনাম করেছে। তখন নিজের দায়িত্ব নিয়ে সত্যি কথাগুলো বলেছি। আমাদের রিহার্সাল শেষে নাট্যদলের প্রধান ম হামিদ ভাই, ধানমন্ডির বাড়িতে যাওয়ার সময় কামাল ভাইয়ের সঙ্গে পাঠাতেন। কামাল ভাই তেমন খারাপ হলে এটা হামিদ ভাই করতেন? দায়িত্ব নিয়ে কতটা বিশ্বস্ত হলে তার সঙ্গে পাঠাতেন হামিদ ভাই। শেখ কামাল রাস্তায় সাধারণভাবে চলতেন। কাউকে বলেননিও কোনদিন রাস্তা ছাড়। সাধারণ একজন মানুষ নিয়ে এতো বাজে কথা ছড়িয়েছে। তখন আমি দায়িত্ব নিয়ে মানুষকে বলেছি, সাংবাদিকদের বলেছি সত্য কথাগুলো। রেহেনাকে (শেখ রেহানা) যে নজরে দেখতেন কামাল ভাই, আমাকেও তেমনই দেখতেন। ভাবি, কী সাধারণ ছিলেন তিনি। খুকি (সুলতানা কামাল) আপার কানেও বাজে কথাগুলো যেত। তখন আমি খুকি আপাকে বলতাম, কী করে হয়, যে লোকটার সাথে আমি সবসময় বাড়িতে রিকশায় করে যাই! যদি খারাপ মেয়ে না হয়ে থাকি তবে কামাল ভাইয়ের পক্ষে বলব। বাচ্চা মেয়ে ছিলাম তখন আমি, কেবল সত্যি কথাগুলো বলেছিলাম।
    • ডলি জহুর। ২৭ নভেম্বর ২০২২, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। [২]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]