শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতারকাণ্ড
অবয়ব
২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে রাত ১.৩০ মিনিটে (ইউটিসি+৬) নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সদ্য অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপ পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকায় অবস্থিত তার ব্যক্তিগত বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। এই গ্রেফতার অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল অপারেশন বিগ বার্ড যা অপারেশন সার্চলাইটের সাথে ঘটেছিল। গ্রেফতারের পর তাকে লায়ালপুর কারাগারে পাঠানো হয় এবং ২ আগস্টে সামরিক আদালতে তার বিচার গোপনে করার ঘোষণা দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনেছিল।
উক্তি
[সম্পাদনা]- সংবাদ নিয়ে জানা গেল আওয়ামী লীগের নেতা ও কর্মীরা বেশীর ভাগই রাতের অন্ধকারে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, আর শেখ মুজীব ২৫শে মার্চের রাতেই পাকিস্তান বাহিনীর হাতে ধরা দিয়েছেন। মনে হয় তিনি ধরা দেয়ার জন্যে প্রস্তুত হয়েই ছিলেন। একটা বিপ্লবের নেতৃত্ব যিনি দেবেন তিনি কখনও স্বেচ্ছায় ধরা দেন না। নেতাহীন বিপ্লব কোন-কালেই পূর্ণ সাফল্য আনতে পারে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি আনে, নীতিহীন হয়ে পড়ে। তাই বাঙালী তরুণদের মনে এই চিন্তাই আলোড়ন সৃষ্টি করতে লাগলো যে, শেখ মুজীব কি বিপ্লবকে এড়িয়ে যেতে চান? তিনি কি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চান না?
- সাংবাদিক মোহাম্মদ মোদাব্বের, ইতিহাস কথা কয় (১৯৮১), পৃষ্ঠা ২৭১ হতে উদ্ধৃত।
- একই রাতে শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়। শেষ কয়েকটি ঘণ্টা তিনি কাটিয়েছিলেন ঢাকার বিপুল জনগোষ্ঠীকে চরম আত্মদানের জন্য প্রণোদিত করে। সমঝোতার সকল সম্ভাবনা যখন তিরোহিত হলো, তিনি তখন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব অংশকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য একাদিক্রমে তাঁর চূড়ান্ত আদেশগুলো জারি করলেন এবং যাত্রা করলেন বাড়ির উদ্দেশ্যে গ্রেফতার হওয়ার জন্য অপেক্ষাকল্পে।
- লেখক আহমদ সালিম, পাকিস্তানের কারাগারে শেখ মুজিবের বন্দিজীবন (১৯৯৮), পৃষ্ঠা ২৭ হতে উদ্ধৃত।
- আওয়ামী লীগের লোকেরা এবং তাদের বুদ্ধিজীবীরা বলে শেখ মুজিবকে পাকিস্তানি বাহিনী গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে, তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। আমি বলেছি, তিনি আত্মসমর্পণ করেছেন। আমি বারবার বিভিন্ন লেখায় এ কথা লেখায় আমার বিরুদ্ধে তারা ক্ষুব্ধ। সবাইকে শেখ মুজিব পালিয়ে যেতে বলছেন, আর তিনি বাড়িতে বসে থাকেন, তার মানেই হলো তিনি আত্মসমর্পণের জন্য অপেক্ষা করছেন এবং পাকিস্তানি বাহিনী এসে তাকে তুলে নিয়ে গেল। এটা গ্রেপ্তার নয়, এটা আত্মসমর্পণ।
- ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঐতিহাসিক বদরুদ্দীন উমর, দেশ রূপান্তর হতে উদ্ধৃত।
- মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ইচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে বন্দি হয়ে বিজয়ের পর পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের জেলে বন্দি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি সরাসরি মাঠে ছিলেন না।
- ৪ জুন ২০২৫ সালে ফেসবুকে রাজনীতিবিদ সারজিস আলম, সারাবাংলা.নেট হতে উদ্ধৃত।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতারকাণ্ড সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।