বিষয়বস্তুতে চলুন

সংবাদ

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

সংবাদ হলো সাম্প্রতিক ঘটনাবলির নির্বাচিত তথ্যের এমন এক যোগাযোগ, যা মুদ্রণ, সম্প্রচার, ইন্টারনেট বা মৌখিকভাবে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এটি সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে যেমন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে, মানুষের মুখে মুখে, ছাপা প্রক্রিয়ায়, পোস্ট করার মাধ্যমে, বেতার ও টিভি সম্প্রচার দ্বারা, দূর যোগাযোগ বা কোন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য দ্বারা সংবাদ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • একদিন রজনী সংবাদ পাইল মহেন্দ্র বাড়ি ফিরিয়া আসিতেছে। আহ্লাদে উৎফুল্ল হইয়া উঠিল। কিন্তু তাহার কিসের আহ্লাদ! মহেন্দ্র তো তাহাকে সেই ঘৃণাচক্ষে দেখিবে। তাহা হউক, কিন্তু তাহার জন্য মহেন্দ্র যে গৃহ পরিত্যাগ করিয়া বিদেশে কষ্ট পাইতেছে এ আত্মগ্লানির যন্ত্রণা হইতে অব্যাহতি পাইল—যে কারণেই হউক, মহেন্দ্র যে বিদেশে গিয়া কষ্ট পাইতেছে ইহা রজনীর অতিশয় কষ্টকর হইয়াছিল।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, করুণা, গল্পগুচ্ছ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৬৬
  • চীনের সাম্রাজ্যবাদী মতলব ছিল শুধু চীনা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমাদের স্বাধীনতা পাবার ইচ্ছা সকলের মনে আলোকায়িত, ইন্দোচীনের অবস্থাও তাই—অতএব এশিয়া আর পরাধীন থাকবে না। এখন বুঝতে পেরেছি বহুপূর্বে আমি যে ধারণা করেছিলাম তাই ফলবতী হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি এর চেয়ে আনন্দের সংবাদ আর কি হতে পারে?
    • রামনাথ বিশ্বাস, কান্দাহার, আফগানিস্থান ভ্রমণ - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- অশোক পুস্তকালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৭
  • তিনি বিশেষ সম্মানের সহিত ওয়ার্ণারকে বসিতে দিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “এই অসময়ে আপনি কি নিমিত্ত এখানে আগমন করিয়াছেন?” উত্তরে ওয়ার্ণার কহিল, “আমার আফিসে ভয়ানক চুরি হইয়া গিয়াছে; সেই চুরির সংবাদ প্রদানের নিমিত্তই আমার এখানে আগমন। তোমার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারী যদি উপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে তাঁহাকে সংবাদ প্রদান কর; তিনি আগমন করিলেই চুরির সমস্ত অবস্থা আমি তাহার নিকট বলিব।” সাহেবের কথা শুনিয়া কর্ম্মচারী দ্রুতপদে গমন করিয়া আপনার উর্দ্ধতন ইংরাজ-কর্ম্মচারীকে সংবাদ প্রদান করিল। সংবাদ পাইবামাত্র ইংরাজ-কর্ম্মচারী উপর হইতে আফিসে আগমন করিলেন।
    • প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, ইংরেজ ডাকাত, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, ইংরেজ ডাকাত - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক‍‍্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
  • বাহিরের সংবাদ ভিতরে কি করিয়া পৌঁছায়? আমাদের বাহহ্যেন্দ্রিয় চতুর্দ্দিকে প্রসারিত। বিবিধ ধাক্কা অথবা আঘাত তাহাদের উপর পতিত হইতেছে এবং সংবাদ ভিতরে প্রেরিত হইতেছে। আকাশের ঢেউ দ্বারা আহত হইয়া চক্ষু যে বার্ত্তা প্রেরণ করে তাহা আলো বলিয়া মনে করি। বায়ুর ঢেউ কর্ণে আঘাত করিয়া যে সংবাদ প্রেরণ করে তাহা শব্দ বলিয়া উপলব্ধি হয়।
    • জগদীশচন্দ্র বসু, স্নায়ুসূত্রে উত্তেজনা-প্রবাহ, অব্যক্ত - জগদীশচন্দ্র বসু, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৯৩
  • পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ:—
    “আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজ্রপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল। আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতদূর গিয়াছে, পরদিন প্রাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল। পলতায় আসিতে রাত্রি ৮টা হইল। পলতায় পৌঁছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্রস্তুত। এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল।
    • সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
  • কতলু খাঁর নিকট প্রত্যহই সেনানাশের সংবাদ আসিত। প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সকল সময়েই অমঙ্গল সংবাদ আসিত। ফলে, যে কার্য্যেই হউক না, পাঠান সেনার অল্প সংখ্যায় দুর্গ হইতে নিষ্ক্রান্ত হওয়া দুঃসাধ্য হইল। লুঠপাঠ একেবারে বন্ধ হইল; সেনা সকল দুর্গমধ্যে আশ্রয় লইল। অধিকন্তু আহার আহরণ করা সুকঠিন হইয়া উঠিল।
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কুলতিলক, নবম পরিচ্ছেদ, দুর্গেশনন্দিনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১
  • যুদ্ধ লাগল স্পেনে;
    চলছে দারুণ ভ্রাতৃহত্যা শতঘ্নীবাণ হেনে।
    সংবাদ তার মুখর হোলো দেশমহাদেশ জুড়ে,
    সংবাদ তার বেড়ায় উড়ে উড়ে
    দিকে দিকে যন্ত্র-গরুড় রথে
    উদয়-রবির পথ পেরিয়ে অস্তরবির পথে।
    কিন্তু যাদের নাই কোনো সংবাদ,
    কণ্ঠে যাদের নাইকো সিংহনাদ,
    সেই যে লক্ষকোটি মানুষ কেউ কালো কেউ ধলো,
    তাদের বাণী কে শুনছে আজ বলো।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চল্‌তি ছবি, সেঁজুতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
  • সাত বৎসর রাজত্ব করিয়া নক্ষত্ররায় পরলোকগমন করেন, এ সংবাদ শীঘ্রই চতুর্দ্দিকে প্রচার হইয়া গেল। মঘরাজ যখন এ সংবাদ পাইলেন তখন গোবিন্দমাণিক্যকে রাজসভায় ডাকাইয়া আনিলেন—“মহারাজ, আপনার দুঃখের দিন ফুরাইয়াছে এখন ত্রিপুরা অভিমুখে যাত্রা করুন। নক্ষত্ররায়ের মৃত্যুতে সিংহাসন শূন্য হইয়া পড়িয়াছে, এ সিংহাসন আপনার, অপর কাহারও ইহাতে অধিকার নাই।” এই বলিয়া মঘরাজ গোবিন্দমাণিক্যকে প্রচুর উপঢৌকন দিয়া বিদায় করিলেন।
    • ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, গোবিন্দমাণিক্যের পুনরভিষেক, রাজমালা - ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্ত্তী, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- টিচার্স এণ্ড কোম্পানি, প্রকাশস্থান- আগরতলা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
  • সংবাদ দেখিতে দেখিতে রাষ্ট্র হইল। অন্তঃপুরে ক্রন্দনধ্বনি উঠিল। রাজা নিভৃত কক্ষে দ্বার রুদ্ধ করিয়া বসিয়া পড়িলেন। জোড়হাতে কহিতে লাগিলেন, “প্রভু, আমি যদি কখনো অপরাধ করি আমাকে মার্জনা করিয়ো না, আমাকে কিছুমাত্র দয়া করিয়ো না। আমাকে আমার পাপের শাস্তি দাও। পাপ করিয়া শাস্তি বহন করা যায়, কিন্তু মার্জনাভার বহন করা যায় না প্রভু!”
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
  • সংবাদ প্রদান করিয়াই আবেদ আলি সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিল। যেস্থানে ডাকাইতি হইবে, সেই স্থান ঐ স্থান হইতে প্রায় পাঁচক্রোশ ও সেই স্থান হইতে জেলাও প্রায় পাঁচক্রোশ দূরে। সংবাদপ্রাপ্তির স্থান হইতে জেলাও ৭ ক্রোশের কম নহে। এখন ৭ ক্রোশ পথ গমন করিলে, জেলায় সংবাদ পৌঁছিবে। সেই স্থান হইতে পাঁচক্রোশ পথ গমন করিলে, যে গ্রামে ডাকাইতি হইবে, সেই গ্রামে উপস্থিত হইতে পারা যাইবে। এদিকে সময় ৩ ঘণ্টা মাত্র। এত অল্প সময়ের মধ্যে কর্ম্মচারীগণ সেই স্থানে উপস্থিত হইতে পারিবেন কি না, বলা যায় না। যাহা হউক, ঐ কর্ম্মচারী সেই অশ্বারোহীকে তখনই সংবাদ প্রদান করিলেন, তিনি দ্রুতবেগে অশ্ব চালনা করিয়া কোন গতিকে রাত্রি ১২ টার সময় জেলায় গিয়া সংবাদ প্রদান করিলেন। এদিকে কর্ম্মচারীও যে গ্রামে ডাকাইতি হইবার কথা, সেই গ্রামভিমুখে গমন করিলেন। জেলায় কর্ম্মচারীগণও প্রস্তুত ছিলেন, তাঁহারাও সংবাদ প্রাপ্তিমাত্র অশ্বারোহণে সেই স্থান হইতে বহির্গত হইলেন।
    • প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, ভূতের বিচার, সপ্তম পরিচ্ছেদ, ভূতের বিচার - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
  • সুভাষবাবু ১৯৩৩ সালের মার্চ্চ হইতে ১৯৩৬ সালের মার্চ্চ পর্যন্ত তিন বৎসর কাল ইউরোপে ছিলেন। এই সুদীর্ঘ কালের মধ্যে তিনি তাঁহার পিতার অসুস্থতার সংবাদ পাইয়া অল্পদিনের জন্য ভারতে আসিয়াছিলেন। ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসের প্রথমে সুভাষবাবুর পিতা জানকী নাথ বসু মহাশয় অত্যন্ত অসুস্থ হইয়া পড়েন। এই সংবাদ পাইয়া সুভাষবাবু আর স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি অবিলম্বে আকাশপথে ইউরোপ হইতে করাচী আসিয়া উপস্থিত হইলেন। করাচীতে পৌঁছিয়াই তিনি শুনিলেন তাঁহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে। এই নিদারুণ সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া এবং মৃত্যুকালে পিতার দর্শনলাভে বঞ্চিত হওয়াতে সুভাষচন্দ্র মর্ম্মাহত হইলেন।
    • মহেন্দ্রনাথ গুহ, জানকী বাবুর মৃত্যু, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫০-৫১
  • বালক বিদ্যাসাগর বাল্যকালে পাড়ার লোকের বাগানের ফল পাড়িয়া চুপে চুপে খাইতেন; কেহ কাপড় শুখাইতে দিয়াছে দেখিলে, তাহার উপর মলমূত্র ত্যাগ করিতেন। প্রত্যহ পাঠশালায় যাইবার সময় মথুুর মণ্ডল নামক একজন প্রতিবেশীর দ্বারদেশে মলত্যাগ করিতেন। সকল সংবাদ মাতার কর্ণে প্রবেশ করিলে, তিনি বিদ্যাসাগরকে বলিলেন,—'বাপু, তুমি লোকের ছেঁড়া কাপড় দেখিলে, আপনার ভাল কাপড় তাহাকে পরাইয়া, নিজে সেই ছেঁড়া কাপড় পরিয়া বাটিতে আইস, লোকের দুঃখ দেখিলে তুমি মনে এত দুঃখ পাও, আর এরূপ করিয়া লোকের মনে ব্যথা দাও কেন? কোন খাদ্যদ্রব্য হস্তে তাহারা তোমার বিষ্ঠা স্পর্শ করিলে, সেই দ্রব্যগুলি তাহাদিগকে ফেলিয়া দিতে হয়, পুনরায় স্নান করিতে হয়। আহা, তাহাদের কত কষ্ট দেখ দেখি।” শুনা যায়, মাতার এরূপ শিক্ষায় সন্তানের সুফল ফলিয়াছিল।
    • প্রিয়দর্শন হালদার, বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
  • গবর্ণমেণ্টের কৌন্সেলের বিচারে, হিন্দুশাস্ত্রানুসারে বিধবার পুনর্ব্বার যখন বিবাহ হইতে পারে, তখন বিধবার গর্তজাত পুত্র ঔরসজাত পুত্র বলিয়া, পৈতৃক-সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবে, এই ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হইল। ইংরাজী ১৮৫৬ খৃঃ অব্দের ১৩ই জুলাই, এই আইন পাশ হইল। ইহার নাম ১৮৫৬ সালের ১৫ আইন হইল। এই সংবাদে ভারতবর্ষের সকলেই মনে মনে পরম আহ্লাদিত হইলেন। তৎকালে গ্রাণ্ড সাহেব, আইন-পাশ-বিষয়ে আশাতীত সাহায্য করিয়াছিলেন। তজ্জন্য ভারতবাসী হিন্দুমাত্রেই তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতা-পাশে বন্ধ আছেন।
    • শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, বিধবাবিবাহ, বিদ্যাসাগর জীবনচরিত - শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন, সম্পাদনা- ঈশানচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশসাল- ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২১
  • একটী ছিন্নমস্তক কোন এক পুষ্করিণীর ভিতর পাওয়া গিয়াছে। ঐ মস্তকে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ সুদীর্ঘ কেশরাশী বর্ত্তমান। আরও সকলে অবগত হইল যে, যদি কোন গৃহস্থের ঐরূপ দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোক বাড়ীতে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে তিনি যেন তৎক্ষণাৎ থানায় সংবাদ প্রেরণ করেন। এই সংবাদ যে দিবস প্রচারিত হইল, সেই দিবস কোন স্ত্রীলোকেরই অনুপস্থিতি সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম না; কিন্তু পর দিবস এক এক করিয়া তিনটী ও তৎপর দিবস দুইটী নিরুদ্দেশের সংবাদ প্রাপ্ত হইলাম। এদিকে ডাক্তার সাহেব স্পিরিট বা অপর কোন দ্রব্য দ্বারা যাহাতে ঐ মস্তকটী কিছু দিবস রক্ষা করিতে পারেন, তাহার সবিশেষ চেষ্টা করিতে লাগিলেন। এই পাঁচটী দীর্ঘকেশী স্ত্রীলোকের নিরুদ্দেশের সংবাদ যাহারা প্রদান করিয়াছিল, সর্ব্বপ্রথমে তাহাদিগকে আনাইয়া সেই দীর্ঘ কেশযুক্ত ছিন্ন মস্তক দেখাইলাম, কেহই সবিশেষ চিনিতে পারিল না।
    • প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, দীর্ঘকেশী, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, দীর্ঘকেশী - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭-৮
  • মহাত্মা গান্ধীও এই সংবাদে মর্ম্মাহত হইয়া সুভাষচন্দ্রের আত্মীয়-স্বজনের নিকট সমবেদনা-পূর্ণ এক বাণী প্রেরণ করিয়াছিলেন। পরে যখন প্রতিপন্ন হইল যে এই সংবাদ মিথ্যা, তখন মহাত্মা তাঁহার বাণী প্রত্যাহার করেন; কিন্তু এইবার আর জাপানী নিউজ এজেন্সীর সংবাদ সঠিক ভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন হইতেছে না, দেশবাসীর পক্ষে ইহাই পরম বেদনার বিষয়। ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট তারিখে জাপানী নিউজ এজেন্সী সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু-সংবাদ প্রচার করিয়াছেন। তিনি আকাশ-যান দুর্ঘটনায় আহত হইয়া এক জাপানী হাসপাতালে মারা গিয়াছেন বলিয়া জাপানী নিউজ এজেন্সী জানাইয়াছে।
    • হেমেন্দ্রবিজয় সেন, বজ্রপাত, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩২-১৩৩
  • প্রথম পরাজয়-সংবাদ পাইয়া গবর্ণর জেনারেল সাহেব ইংরাজসৈন্যের দুর্গতির কথা একটু ভাবিলেন, ও কয়েদীদিগকে মুক্ত করিবার উপায় স্থির করিতে লাগিলেন। এমন সময় সেই লোমহর্ষণকর সংবাদ আসিয়া তাঁহার কর্ণে উপনীত হইল। তখন জানিতে পারিলেন যে, চিফ· কমিসনর প্রভৃতি প্রধান প্রধান কর্ম্মচারিগণ, মণিপুরিগণ কর্ত্তৃক অকালে কালকবলে প্রোথিত হইয়াছেন। এই সংবাদে তিনি অতিশয় দুঃখিত হইলেন, ও তৎক্ষণাৎ মণিপুরিগণের এই নৃশংস কার্য্যের প্রতিবিধানের নিমিত্ত আয়োজন করিতে লাগিলেন।
    • প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, মণিপুর-জয়, চতুর্ব্বিংশ পরিচ্ছেদ, মণিপুরের সেনাপতি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৬
  • সেই গভীর নিশীথে আনারের পিতা জুমলা খাঁ কোন এক অপরিচিতের মুখে সংবাদ পাইলেন—যে তাঁহার জামাতা, আহত অবস্থায় আরামবাগে পড়িয়া আছেন। সংবাদ পাইবামাত্র, জুমলা খাঁ সর্ব্বপ্রথমে হাকিমের সন্ধানে লোক পাঠাইলেন। তৎপরে লোকজন সঙ্গে লইয়া, পালকী সহায়তায় নবাবের আহত শোণিতাক্ত দেহ তাঁহার প্রাসাদে লইয়া আসিলেন। ধরাধরি করিয়া তাঁহাকে শয্যায় শোয়াইয়া দিলেন। নবাব সুজাখাঁ সম্পূর্ণরূপে চেতনাহীন—স্পন্দহীন।
    • হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, দেওয়ানা, দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ, দেওয়ানা - হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮১
  • রাজাকে এই সংবাদ পাঠাইয়া দি যে, আমার পুত্র নিতান্ত বালক, অদ্যাপি তাহার বুদ্ধির পরিপাক হয় নাই; তুমি আমার যে অবমাননা করিয়া ছিলে, সে তদ্দর্শনে অমর্ষবশ হইয়া তোমাকে শাপ দিয়াছে। এইরূপ কহিয়া সুব্রত তপঃপরায়ণ শমীকমুনি গৌরমুখনামক সুশীল সমাহিত স্বীয় শিষ্যকে রাজা পরীক্ষিতের নিকট পাঠাইলেন, এবং কহিয়া দিলেন, অগ্রে কুশল জিজ্ঞাসা করিয়া পরে এই সংবাদ নিবেদন করিবে। গৌরমুখ, গুরুর আদেশানুসারে ত্বরায় হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইয়া, দ্বারপাল দ্বারা সংবাদ দিয়া রাজভবনে প্রবেশ করিলেন, এবং রাজকৃত অভ্যাগতসৎকার স্বীকার ও শ্রান্তি পরিহার করিয়া আদ্যোপান্ত শমীকরাক্য নরপতিগোচরে নিবেদন করিতে লাগিলেন, মহারাজ! শান্ত, দান্ত, মহাতপাঃ পরমধর্ম্মাত্মা, মৌনব্রতপরায়ণ শমীকঋষি আপনকার রাজ্যে বাস করেন।
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, দ্বাচত্বারিংশ অধ্যায়— আস্তীকপর্ব্ব, মহাভারত - উপক্রমণিকাভাগ - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭৭
  • আমার কথা শুনিয়া পথিক সেই স্থান হইতে প্রস্থান করিলেন, আমিও সেই স্থানে বেড়াইতে লাগিলাম। ইহার দশ মিনিট পরেই সংবাদ আসিল, চটমোড়া একটী লাস একটী বাক্সের ভিতর বেওয়ারিশ অবস্থায় যোড়াবাগান থানায় পাওয়া গিয়াছে। এই সংবাদ পাইয়া, পূর্ব্বের সংবাদকে আর মিথ্যা গুজব বলিতে পারিলাম না। আমাদিগের যেরূপ নিয়ম আছে, সেইরূপ ভাবে যোড়াবাগানের থানায় গিয়া উপস্থিত হইলাম। তথায় বুঝিলাম যে, যে সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছিলাম, তাহার একবর্ণও মিথ্যা নহে।
    • প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, বেওয়ারিশ লাস, প্রথম পরিচ্ছেদ, বেওয়ারিশ লাস - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- গ্রেট টাউন প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮-৯
  • করো আশীর্বাদ,
    যখনি তোমার দূত আনিবে সংবাদ
    তখনি তোমার কার্যে আনন্দিতমনে
    সব ছাড়ি যেতে পারি দুঃখে ও মরণে।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নৈবেদ্য, নৈবেদ্য-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৪
  • কর্তাদাদা যখন আমাদের ছেড়ে বিলাত যাত্রা করেন তখন আমরা নিতান্ত শিশু, সে সব ঘটনা কিছুই মনে নাই। এদেশে যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে তখন আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম—ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আর বড়দাদা হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,—সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভৃত্য কর্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুর্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌঁছলুম—পৌঁছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে।
    • সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বারকানাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
  • আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডার সম্বন্ধে বিগত ১৯৪৫ সালের ৭ই নভেম্বর তারিখে সুপ্রসিদ্ধ দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকায় আর একটি সংবাদ প্রকাশিত হইয়াছে। জাতীয় বাহিনীর ৭জন সৈনিক জব্বলপুরের রাজ-কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁহারা কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করিয়া সুভাষ বাবুর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে এই ঘটনার উল্লেখ করেন। গত ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি মাসে সুভাষ বাবুকে স্বর্ণমানে ওজন করা হইয়াছিল। স্বর্ণের বিক্রয়লব্ধ অর্থ পরিশেষে আজাদ হিন্দ ব্যাঙ্কের ধনভাণ্ডারে জমা দেওয়া হয়।
    • মহেন্দ্রনাথ গুহ, স্বর্ণদ্বারা নেতাজীর ওজন, বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ, প্রকাশসাল- ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
  • দোকানের অপরাপর কর্মচারীগণের সহিত পরামর্শ করিয়া ইহাই স্থির হইল যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া থানায় গিয়া এই সংবাদ প্রদান করা হউক। ঐ সংবাদ লইয়া থানায় যে লোক গমন করিতেছিল, আপনি তাহাকেই ধৃত করিয়া এখানে আনিয়াছেন।
    আমি। তাহা হইলে এখনও থানায় সংবাদ দেওয়া হয় নাই?
    জহরি। না।
    আমি। শীঘ্র সংবাদ পাঠাইয়া দিন।
    আবার কথা শুনিয়া সেই ব্যক্তি থানায় সংবাদ দিতে দ্রুতপদে গমন করিল। আমি। আপনি এত বড় চতুর লোক হইয়া একটা স্ত্রীলোকের নিকট এইরূপে প্রবঞ্চিত হইলেন?
    • প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, সাবাইস বুদ্ধি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, সাবাইস বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
  • দুই একদিনের মধ্যেই স্মিথ উঠিয়া বেড়াইতে সমর্থ হইল। মিঃ ব্লেক তাহার সংবাদ না পাইয়া কিরূপ উৎকণ্ঠিত হইয়াছেন, তাহা বুঝিতে পারিয়া সে তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবার জন্য ব্যস্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু কোথায় তাঁহাকে সংবাদ পাঠাইবে? যে-কোনও-একটা বন্দরে নামিবার জন্য তাহার প্রবল আগ্রহ হইল। তিন সপ্তাহ পরে ‘আনাবেল্‌’ জাহাজ টেবিল উপসাগরে প্রবেশপূর্ব্বক একটি বৃহৎ বন্দরে নঙ্গর করিল। স্মিথ কাপ্তেনের নিকট বিদায় লইয়া টেলিগ্রাফ অফিসে ছুটিল; এবং মিঃ ব্লেকের লণ্ডনস্থ ভবনে গৃহকর্ত্রী মিসেস্‌ বার্ডেলের নিকট টেলিগ্রাম করিয়া মিঃ ব্লেকের সংবাদ জিজ্ঞাসা করিল।
    • দীনেন্দ্রকুমার রায়, রূপসী বোম্বেটে - দীনেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশস্থান- মেহেরপুর, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২২
  • মহম্মদ মসলিমকে জিজ্ঞাসা করায়. তিনিও মতিয়া বিরির মৃত্যুর কারণ যথাযথ বলিয়াা উঠিতে পারেন না বা ইচ্ছা করিয়া বলেন না। সুতরাং বাধ্য হইয়া সেই কবরস্থানের কর্ম্মচারী এই সংবাদ নিকটবর্ত্তী থানায় প্রেরণ করেন। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যে মরে নাই, তাহার মৃতদেহ কবরিত করিতে আদেশ দিবার ক্ষমতা সেই কর্ম্মচারীর নাই বলিয়াই, বাধ্য হইয়া এই সংবাদ তাঁহাকে থানায় প্রেরণ করিতে হয়। তিনি থানায় সংবাদ প্রদান করিলেন সত্য, কিন্তু যে পর্য্যন্ত পুলিশ আসিয়া সেই স্থানে উপস্থিত হইতে না পারে, সেই পর্য্যন্ত ঐ মৃতদেহের উপর কোনরূপ লক্ষ্য রাখিলেন না।
    • প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, মতিয়া বিবি, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, মতিয়া বিবি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১-১২
  • পরদিন ব্রিটিশ সেনা চলিয়া গেল ত অমনি চারি দিকে “বন্দে মাতরম্” গীত হইতে লাগিল। সাহেব খুঁজিয়া পান না, কোথা হইতে ইহারা পিপীলিকার মত এক এক রাত্রে নির্গত হইয়া, যে গ্রাম ইংরেজের বশীভূত হয়, তাহা দাহ করিয়া যায়, অথবা অল্পসংখ্যক ব্রিটিশ সেনা পাইলে তৎক্ষণাৎ সংহার করে। অনুসন্ধান করিতে করিতে সাহেব জানিলেন যে, পদচিহ্নে ইহারা দুর্গনির্ম্মাণ করিয়া, সেইখানে আপনাদিগের অস্ত্রাগার ও ধনাগার রক্ষা করিতেছে। অতএব সেই দুর্গ অধিকার করা বিধেয় বলিয়া স্থির করিলেন। চরের দ্বারা তিনি সংবাদ লইতে লাগিলেন যে, পদচিহ্নে কত সন্তান থাকে। যে সংবাদ পাইলেন, তাহাতে তিনি সহসা দুর্গ আক্রমণ করা বিধেয় বিবেচনা করিলেন না। মনে মনে এক অপূর্ব্ব কৌশল উদ্ভাবন করিলেন।
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১১৮
  • জমিদার মহাশয়ের কথা শুনিয়া আমি সে দিবস সেই স্থান হইতে চলিয়া আসিলাম সত্য, কিন্তু অপর অপর স্থান হইতে ঐ সংবাদ সংগ্রহ করিবার চেষ্টা করিতেও ভুলিলাম না। কিন্তু কৃষ্ণরাম যে এখন কোথায় আছে, তাহার কোন সংবাদ সংগ্রহ করিতে পারিলাম না। তবে এই মাত্র জানিতে পারিলাম যে, কৃষ্ণরাম নামক এক ব্যক্তি ব্রজবন্ধুর নিকট চাকরি করিয়া থাকে, ও জমিদার মহাশয় তাহার অবয়বের যাহা বর্ণন করিয়াছেন, তিনি দেখিতে ঠিক সেইরূপ।
    • প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, জীবন বীমা, সপ্তম পরিচ্ছেদ, জীবন বীমা - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
  • মীরমদনের প্রবেশ
    মীরমঃ। জনাব, সংবাদ অতি জরুরি, এই নিমিত্ত বান্দা এই আনন্দ-উৎসবের ব্যাঘাত ক’রে, হুজুরে উপস্থিত হ’তে বাধ্য হয়েছে, মার্জ্জনা আজ্ঞা হয়।
    সিরাজ। কি সংবাদ? তোমার মুখভাবে অতি উৎকট সংবাদ ব্যক্ত হচ্ছে।
    মীরমঃ। নচেৎ ক্রীতদাস আনন্দের বিঘ্ন কর্‌তে সাহসী হতো না। কলিকাতা হ’তে ইংরাজের এই পত্র উপস্থিত হয়েছে। অনুমতি হয় পাঠ করি।
    সিরাজ। পাঠ করো—
    • গিরিশচন্দ্র ঘোষ, সিরাজদ্দৌলা, দ্বিতীয় অঙ্ক, সিরাজদ্দৌলা - গিরিশচন্দ্র ঘোষ, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
  • মনে আছে, একবার এক বিখ্যাত ফরাসী সম্পাদক আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমাদের দেশের ইংরাজী কাগজগুলোতে বিদেশী সংবাদের এত প্রাধান্য কেন? দেখলে মনে হয়, যেন ইংলণ্ডের কোন কাগজ পড়ছি।’ উত্তরে বলেছিলাম, ‘আমরা ভারতে ইংরেজ চালিত কাগজগুলোর আদর্শ অনুসরণ করি, তারা যে শ্রেণীর সংবাদকে প্রাধান্য দেয়, সেগুলোকে তেমনি ভাবে ফলাও না করতে পারলে, ইংরেজীনবীশ ভারতীয়রা দেশী কাগজ ছোঁবেও না। দ্বিতীর কারণ, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনে আমাদের কোন জাতীয় প্রতিষ্ঠান নেই। সংবাদের একচেটিয়া কারবারী ‘রয়েটার’ই আমাদের একমাত্র সম্বল।’ অবশ্য এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
    • সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩-৬৪
  • আজ অমুক পোদ্দারের দোকানের ছাদ ফুটা করিয়া গৃহ মধ্যস্থিত লোহার সিন্ধুক খুলিয়া বা ভাঙ্গিয়া সোনা রূপা ও নগতে প্রায় দশ সহস্র মূল্যের দ্রব্য চুরি হইয়া গিয়াছে সংবাদ আসিল। কিছু দিবস পরে পুনরায় সংবাদ আসিল, অমুক মহাজনের ক্যাসঘর ভাঙ্গিয়া তাহা হইতে বিশ সহস্র টাকা অপহৃত হইয়াছে। এই প্রকারের বড় বড় চুরির সংবাদ ক্রমে থানায় আসিয়া পৌঁছিতে লাগিল, পুলিস সাধ্যমত তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন, কিন্তু একটীরও কোন কিনারা করিতে সমর্থ হইলেন না।
    • প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, মেকি লোক, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ, মেকি লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯১১ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫-৬
  • পর দিন চিন্তা আসিল। তখন শোকের প্রথম উচ্ছ্বাস অপগত। তাহার একমাত্র ভগিনীর মৃত্যুসংবাদ সে পায় নাই;— সংবাদ পাইবারও যথোচিত চেষ্টা করে নাই। যখন গৃহে সকলে শোকে অভিভূত, —তখন সে দূরে। সে কেমন করিয়া গৃহে মুখ দেখাইবে? তাহার পর সংবাদ পাইয়াও ঘটনাচক্রে তাহার গমনে বিলম্ব ঘটিল। পিতা যে যাইবার সময় তাহাকে সংবাদও দেন নাই, সে কি কেবল তাহার নিকট হইতে দুঃসংবাদ গোপন রাখিবার জন্য? সে ছাড়া তাঁহাদের আর কি অবলম্বন আছে; কে আছে? সেই একমাত্র সন্তানের মৃত্যুশোকে কাতর, স্নেহশীল পিতৃব্য!
    • হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, নাগপাশ, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, নাগপাশ - হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ, প্রকাশক- বসুমতী পুস্তকবিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৫
  • কাশীমিত্রের ঘাটে সেই সময় যে কর্ম্মচারী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি বহুদিবস হইতে সেই কার্য্য করিয়া আসিতেছিলেন। এই মৃতদেহ দেখিবামাত্র তাঁহার মনে সন্দেহের উদয় হইল, তিনি উহার সৎকার কার্য্য সমাধা করিতে না দিয়া, উহা সেইস্থানে রাখিয়া দিলেন এবং নিকটবর্ত্তী পুলিসে ইহার সংবাদ প্রদান করিলেন। সংবাদ পাইবামাত্র একজন উচ্চপদস্থ পুলিস-কর্ম্মচারী সেইস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘাটের কর্ম্মচারী পুলিসকে উক্ত মৃতদেহ দেখাইয়া দিয়া আমার সম্মুখেই কহিলেন, “মৃতদেহের লক্ষণ দেখিয়া, আমার বোধ হইতেছে, ইহার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে নাই; বিষপানে ইহার মৃত্যু হইয়াছে।”
    • প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড), পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ, ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৬
  • উমিচাঁদ লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “লোকে নবাবের ভয়ে কিছু বলিতে সাহস পাইতেছে না; কিন্তু ইংরাজদিগের পুনরাগমনের জন্য খোজা বাজিদ প্রভৃতি প্রধান প্রধান সওদাগরগণ একান্ত উৎসুক।” হলওয়েল সাহেব সংবাদ পাইলেন যে, ‘কলিকাতার দুর্গ একরূপ অরক্ষিত। তাহার চারিটি বুরুজই অকর্মণ্য। কলিকাতার লোকে নিরুদ্বেগে নিদ্রা যাইতেছে। তাহাদের বিশ্বাস যে, নবাব-দরবার হইতে ইংরাজাগমনের অনুমতি হইবার সম্ভাবনা দেখিয়া কেহ আর কলিকাতা রক্ষায় মনোেযোগ দিতেছে না।’ এই সকল সংবাদে ফলতার ইংরাজদল আশায় আনন্দে মাদ্রাজের সেনাদলের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন।
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬
  • এক দিবস রাজা মহাবল হরিদাসকে আজ্ঞা করিলেন হরিদাস দক্ষিণ দেশে হরিশ্চন্দ্র নামে রাজা আছেন। তিনি আমার পরম বন্ধু। বহুদিনাবধি তাঁহার শারীরিক ও রাজ্যবিষয়ক কোন সংবাদ না পাইয়া অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত আছি। অতএব তুমি তথায় গিয়া আমার কুশল সংবাদ দিয়া ত্বরায় তাঁহার সর্ব্বাঙ্গীন মঙ্গল সংবাদ লইয়া আইস। হরিদাস রাজকীয় আদেশানুসারে কিয়ৎ দিবসের মধ্যে রাজা হরিশচন্দ্রের রাজধানীতে উপস্থিত হইয়া তাঁহার নিকট নিজ প্রভুর আদেশ জানাইল।
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, পঞ্চম উপাখ্যান, বেতালপঞ্চবিংশতি - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, নবম সংস্করণ, প্রকাশক- সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দ (১২৭৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭
  • আমার বোধ হইল, তিনি একখানি পত্র লিখিতেছেনমাত্র। পত্র লিখিতেছেন সত্য; কিন্তু মধ্যে মধ্যে তাঁহার সম্মুখস্থিত একখানি সংবাদ-পত্রের দিকে এক একবার লক্ষ্য করিতেছেন। সংবাদ-পত্রখানি দেখিয়া বোধ হইল, উহা এদেশীয় সংবাদ-পত্র নহে, বোম্বাই প্রদেশের কোন একখানি সংবাদপত্র; কিন্তু ইংরাজীতে লেখা। আমরা সেই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিবামাত্রই, যে পত্রখানি তিনি লিখিতেছিলেন, তাহা নিতান্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডে ছিঁড়িয়া সেই স্থানে ফেলিয়া দিলেন, এবং সংবাদপত্রখানির উপর অপর কতকগুলি কাগজ-পত্র স্থাপিত করিয়া আমাদিগের দিকে একবার লক্ষ্য করিলেন ও কহিলেন, “কে? বালমুকুন্ আসিয়াছ? তোমার সঙ্গে এই যে বাবুটী আসিয়াছেন, ইনি কে?”
    • প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, দায়ে খুন, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, দায়ে খুন - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক‍‍্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯-৪০
  • তাহার পর আর কি! এই চরের হাঙ্গামা ও খুন লইয়া তুমুল ব্যাপার আরম্ভ হইল। মনোহরপুরে সংবাদ পৌঁছিল। তারক দাঙ্গা ও খুনের সংবাদ পাইলেন, কিন্তু কার্ত্তিকের কোন সংবাদ পাইলেন না। নায়েবের পত্রে কার্ত্তিকের কোন প্রসঙ্গই নাই। যে সকল পত্র আসিতে লাগিল, তাহা সকলই কার্ত্তিকের নামে। তারক বুঝিতে পারিলেন যে, কার্ত্তিক ব্যাপার গুরুতর দেখিয়া গা-ঢাকা দিয়াছেন।
    • জলধর সেন, বড়বাড়ী - জলধর সেন, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৮-৪৯
  • ক। আপনি কিছু সংবাদ রাখেন কি, আমার সুকুমারী কেমন আছে?
    ভব। অনেক দিন সে সংবাদ পাই নাই। জীবানন্দ অনেক দিন সে দিকে যান নাই।
    সে সংবাদ কি আমায় আনাইয়া দিতে পারেন না? স্বামীই আমার ত্যাজ্য, বাঁচিলাম ত কন্যা কেন ত্যাগ করিব? এখনও সুকুমারীকে পাইলে এ জীবনে কিছু সুখ সম্ভাবিত হয়। কিন্তু আমার জন্য আপনি কেন এত করিবেন?
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, আনন্দমঠ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৮৮
  • আশ্রয়দাতা গৃহস্থ যখন ব্রাহ্মণের মুখে শুনলেন যে পদ্মাবতীর সঙ্গে সেই জয়দেব গোস্বামীর বিয়ে দেবার জন্যে তিনি এসেছেন, গৃহকর্ত্তা অবাক্ হয়ে গেলেন। এরকম অসামান্য রূপলাবণ্যবতী কন্যার সঙ্গে নামহীন পরিচয়হীন যুবকের বিয়ে হবে? রাজরাণী হবার যোগ্যা এ কন্যা! নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণের সংবাদে কোন ভুল আছে! কিন্তু ব্রাহ্মণ নিজের মনে জানে, তার সংবাদে কোন ভুলই থাকবার উপায় নেই। বিশ্বচরাচরের সব সংবাদের যিনি বিধাতা, এ সংবাদ এসেছে তাঁর কাছ থেকেই। ক্রমশঃ খুঁজতে খুঁজতে ব্রাহ্মণ সন্ধান পেলো জয়দেব গোস্বামীর। বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে টুকরো টুকরো যে সব সংবাদ পেলো, তা একত্র করে জয়দেব গোস্বামীর চরিত্র যা দাঁড়ালো, সেই রূপলাবণ্যময়ী কন্যার ভবিষ্যৎ স্বামীরূপে তাকে কল্পনা করা ব্রাহ্মণের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠলো।
    • কবি জয়দেব, চিত্রে জয়দেব ও গীতগোবিন্দ, অনুবাদক- নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩-১৪
  • জুবেয়ারের মৃত্যু-সংবাদ লোক-মুখে প্রচারিত হইবার পূর্ব্বেই আমরা কিন্তু এই সংবাদ অবগত হইতে পারিয়াছিলাম। রাত্রি শেষ হইবার দুই এক ঘণ্টা বাকী থাকিতেই টেলিফোনযোগে এই সংবাদ আসিয়া আমাদিগের নিকট উপনীত হয়। সংবাদ পাইবামাত্র আমরাও গিয়া সেইস্থানে উপস্থিত হই।
    • প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, মিস্ মেরি, প্রথম পরিচ্ছেদ,মিস্ মেরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০১ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬
  • প্রত্যেক দৈনিক পত্র নিজস্ব ভঙ্গীতে বিশেষ বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে সংবাদ পরিবেশন ও আলোচনা করে থাকেন। এদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে, বৈশিষ্ট্য আছে। রুচিভেদে পাঠক-শ্রেণীও স্বতন্ত্র। সমাজতান্ত্রিক সমাজের কাগজে চুরি-ডাকাতি আইন-আদালত ধনীদের খেয়াল ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নেতাদের ভাষণ ধনী সমাজের বিবাহ বা প্রণয়-ঘটিত কেলেঙ্কারী এ সব সংবাদ প্রকাশিত হয় না। বিদেশী সংবাদের মধ্যে শ্রমিক-কৃষকদের আন্দোলন-আলোড়ন যুদ্ধ কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সংবাদ কিছু কিছু থাকে, কিন্তু প্রাধান্য পায়, সোবিয়েত রাশিয়ার নিজস্ব সংবাদ। ইদানীং শান্তি আন্দোলনের সংবাদ দৈনিকের অনেক স্থান অধিকার করছে। গঠন পুনর্গঠন শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাপারেরই বেশী প্রাধান্য। খেলাধুলা অভিনয় নৃত্য সিনেমা কলকারখানা নিয়ে আলোচনা হয়, এমন সংবাদপত্রও আছে।
    • সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, আমার দেখা রাশিয়া - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১-৬২
  • বিসূচিকারোগে মৃত্যু হইলে মৃতদেহে যে সকল নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়, এই মৃতদেহে সেই রূপ কোন চিহ্নই দেখিতে পাওয়া যায় নাই। সুতরাং তাহার মনে কেমন একরূপ সন্দেহ হয় এবং সেই সন্দেহের উপর নির্ভর করিয়াই তিনি ঐ মৃতদেহ দাহ করিতে অসম্মত হন, ও এই সংবাদ সেইস্থানের স্থানীয় পুলিসকে প্রদান করেন। স্থানীয় পুলিস সংবাদ পাইবামাত্র ঐ মৃতদেহের উপর একটা প্রহরীর পাহারা রাখিয়া দিয়া, ঐ সংবাদ আমার থানায় পাঠাইয়া দেন। আমি থানা হইতে এই অনুসন্ধানে বহির্গত হইয়া আসিবার পর ঐ সংবাদ আমার থানায় গিয়া উপস্থিত হয়।
    • প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, বিষম বুদ্ধি, প্রথম পরিচ্ছেদ, বিষম বুদ্ধি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩১১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯
  • রাজমহলে যখন পৌঁছিলেন, তখন ভারতবর্ষে হুলস্থূল পড়িয়া গিয়াছে। সংবাদ রাষ্ট্র হইয়াছে যে, শাজাহান মৃত্যুশয্যায় শয়ান। এই সংবাদ পাইবা মাত্র সুজা সৈন্য-সহিত দিল্লি-অভিমুখে ধাবমান হইয়াছেন। সম্রাটের চারি পুত্রই মুমূর্ষু শাজাহানের মাথার উপর হইতে মুকুটটা একেবারে ছোঁ মারিয়া উড়াইয়া লইবার দ্যোগ করিতেছেন!
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রাজর্ষি, অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ, রাজর্ষি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
  • এদিকে মনোহর দাসের কোন সংবাদ নাই। পশ্চাৎ জানিতে পারা গেল, যে বাঞ্ছারামের জীবিতাবস্থাতেও মনোহরের কেহ কোন সংবাদ পায় নাই। মনোহর দাস ভবানীনগর হইতে যে গিয়াছিল, সেই গিয়াছিল; কোথায় গেল, বাঞ্ছারাম তাহার অনেক সন্ধান করিলেন। কিছুতেই কোন সংবাদ পাইলেন না। তখন তিনি উইলের এক ক্রোড়পত্র সৃজন করিলেন।
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, পঞ্চম পরিচ্ছেদ, রজনী - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩০২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৩
  • দারোগা। তাহার বিবাহ হয় নাই?
    আগন্তুক। বিবাহ হইয়াছে বৈ কি। তাহার স্বামী এখনও বর্ত্তমান আছে।
    দারোগা। এ সংবাদ তাহার স্বামী শুনিয়াছে?
    আগন্তুক। এ সংবাদ তাহার স্বামীকে আমরা দেই নাই। তাহার স্বামী বিদেশে থাকেন। সুতরাং এ সংবাদ তিনি এখনও জানিতে পারেন নাই। তিনি না জানিতে জানিতে যদি আমার কন্যাকে উদ্ধার করিয়া আনিতে পারি, তাহা হইলে এ লজ্জার কথা আমি তাহাকে আর জানিতে দিব না।
    • প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, ঘর-পোড়া লোক, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, ঘর-পোড়া লোক - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- সিক‍‍্দার বাগান বান্ধব পুস্তকালয় ও সাধারণ পাঠাগার, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭
  • কোন অনিবার্য্য প্রাকৃতিক ঘটনার জন্য বিলাপ করিলে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা হইবে; তাহা হইলে দিবা রাত্রে আমার মনের শান্তি থাকিবে না। গভীর রজনীতে, যদি কোন সংবাদ আইসে, যদি কাহারও নিকট হইতে পত্র আইসে, অমনি আমি শয্যা হইতে লাফাইয়া উঠি এবং না জানি কি সংবাদ এই মনে করিয়া কাঁপিতে থাকি। “রোম হইতে একজন পত্রবাহক আসিয়াছে”—“যদি কোন অশুভ সংবাদ হয়।” তোমার কি অশুভ হইতে পারে যখন তুমি সেখানে নাই। “গ্রীস হইতে একটা পত্র আসিয়াছে,”—“কোন অশুভ সংবাদ নহে ত?”—এইরূপ সকল স্থানই তোমার পক্ষে অমঙ্গলের প্রস্রবণ হইয়া উঠে। যেখানে তুমি রহিয়াছ, সেখানকার অশুভই কি তোমার পক্ষে যথেষ্ট নহে?
    • জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিরহ বিচ্ছেদ, এপিক্‌টেটসের উপদেশ - জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- সান্যাল এণ্ড কোং, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৪
  • সকলই ফুরাইল! তথাপি এ সকল শোচনীয় কাহিনী সহসা মাদ্রাজের ইংরাজ-দরবারের কর্ণগোচর হইতে পারিল না! তাঁহারা সুদূর সমুদ্রকুলে বসিয়া ১৫ই জুলাই তারিখে কাশিমবাজার অবরোধের প্রথম সংবাদ প্রাপ্ত হন। তাহাতে তেমন বিচলিত হইবার কারণ ছিল না; বাঙ্গালাদেশ হইতে প্রায় মধ্যে মধ্যেই সেরূপ সংবাদ আসিত; আবার হয়ত সঙ্গে সঙ্গেই শুনা যাইত যে, “গোলযোগ মিটমাট হইয়া গিয়াছে; সময়োচিত উপঢৌকন দিয়া সকলকেই শান্ত করিয়াছি; বাণিজ্য-ব্যবসায় একরূপ ভালই চলিতেছে!”[৬] সুতরাং কাশিমবাজারের সংবাদ পাইয়াও, মাদ্রাজের ইংরাজ-দরবার কেবল কলিকাতায় সেনাবল বৃদ্ধি করিবার জন্য মেজর কিলপ্যাট্রিকের সঙ্গে ২৪০ জনমাত্র গোরা পল্টন পাঠাইয়া দিয়া, দ্বিতীয় সংবাদের অপেক্ষায় কথঞ্চিৎ নিশ্চিন্তমনেই কালযাপন করিতে লাগিলেন।
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, সিরাজদ্দৌলা, সপ্তদশ পরিচ্ছেদ, সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০২ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৭-২২৮
  • রূপসীর মৃত্যু-সংবাদে দুঃখ হওয়া দুরে থাক, আমার অত্যন্ত ক্রোধ হইল। আমি অতি কর্কশ স্বরে বলিলাম, “চলুন—আমি মৃতদেহ দেখিতে চাই। কেমন করিয়া কেই বা রূপসীকে খুন করিল, আপনিই বা এখনও থানায় এ সংবাদ দেন নাই কেন? আমি বড় ভাল বুঝিতেছি না। ইহার মধ্যে নিশ্চয়ই কোনরূপ ষড়যন্ত্র আছে। রূপসী যদি সত্য সত্যই খুন হইয়া থাকে, তাহা হইলে আমি আপনাকে সহজে ছাড়িব না। এই দণ্ডে আমার আটশত টাকা চাই।” আমার কথায় শোভন সিং কাতর হইলেন। বলিলেন, “আমার কন্যার মৃতদেহ পর্য্যন্ত পাইতেছি না। অগ্রে তাহার সন্ধান না করিয়া কেমন করিয়া থানায় সংবাদ দিব। যদি আপনার ইচ্ছা হয়, আপনি এখনই সংবাদ দিতে পারেন। আমি একা কোন্‌ দিক দেখিব”?
    • প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, খুন না চুরি, প্রথম পরিচ্ছেদ, খুন না চুরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, প্রকাশক- দারোগার দপ্তর কার্য্যালয়, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]