বিষয়বস্তুতে চলুন

সিটিয়ামের জেনো

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

সিটিয়ামের জেনো (ইংরেজি: Zeno of Citium; প্রাচীন গ্রিক: Ζήνων ὁ Κιτιεύς; আনু. খ্রিস্টপূর্ব ৩৩৪ – ২৬২) ছিলেন সাইপ্রাসের সিটিয়াম (গ্রিক: Κίτιον, কিটিয়ন) শহরে জন্মগ্রহণকারী একজন হেলেনিস্টিক দার্শনিক। তিনি স্টোইক দর্শন সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত, যা তিনি খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ সাল নাগাদ এথেন্সে শিক্ষাদান শুরু করেন। সিনিক দার্শনিকদের নৈতিক চিন্তাধারার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা স্টোইকবাদ প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সদাচরণের মাধ্যমে মানসিক শান্তি ও নৈতিক উত্তরণের উপর জোর দেয়। এই দর্শন অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল এবং হেলেনিস্টিক যুগ থেকে রোমান সাম্রাজ্য পর্যন্ত প্রধান দার্শনিক ধারা হিসেবে বিকশিত হয়। পরবর্তীতে রেনেসাঁ যুগে নব্য-স্টোইকবাদ এবং বর্তমান সময়ে আধুনিক স্টোইকবাদ হিসেবে এর পুনর্জাগরণ ঘটে।

জেনোর ভাস্কর্য

উক্তি

[সম্পাদনা]
যেহেতু বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সচেতন ও জ্ঞানী সত্তার জন্ম দেয়, তাহলে কি একেও সচেতন ও জ্ঞানী বলে বিবেচনা করা উচিত নয়? ~ জেনো
  • সুখ হলো জীবনের একটি সুপ্রবাহ।
  • কেউ মাতাল লোককে গোপন কথা বলে না; কিন্তু ভালো মানুষকে গোপন কথা বলা হয়। তাই, ভালো মানুষ মদ খেয়ে মাতাল হবেন না।
    • সেনেকা দ্বারা Epistulae morales ad Lucilius-এ উদ্ধৃত করা হয়েছে, Epistle LXXXIII (অনুবাদক: আর. এম. গুমেরে)
  • চরম লক্ষ্য হলো প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবন।"
    • সিটিয়ামের জেনো, ডায়োজেনিস লায়ার্টিয়াস-এর প্রখ্যাত দার্শনিকদের জীবনী-তে উদ্ধৃত ('জেনো' অধ্যায়, ৭.৮৭): এই কারণে, জেনো তাঁর "মানব প্রকৃতি প্রসঙ্গে" গ্রন্থে প্রথম 'প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবন'-কে চরম লক্ষ্য হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন...
  • আমাদের দুটি কান এবং একটি মুখ আছে, তাই আমাদের বলার চেয়ে বেশি শোনা উচিত।
    • বৈকল্পিক অনুবাদ:আমাদের দুটি কান এবং একটি মাত্র মুখ থাকার কারণ হল আমরা যত বেশি শুনতে পারি এবং তত কম কথা বলতে পারি।
  • কোন মন্দই সম্মানজনক নয়; কিন্তু মৃত্যু সম্মানজনক; তাই মৃত্যু মন্দ নয়।
  • খারাপ অনুভূতি হলো মনের এমন এক অস্থিরতা যা যুক্তির প্রতি বিরূপ এবং প্রকৃতির বিরুদ্ধে (দন্ডায়মান)।
    • সিসেরো দ্বারা Tusculanae Quaestiones-এ উদ্ধৃত করা হয়েছে, iv. ৬.
  • যা যুক্তি প্রয়োগ করে না তার চেয়ে যা যুক্তি প্রয়োগ করে তা উৎকৃষ্ট; মহাবিশ্বের চেয়ে উৎকৃষ্ট আর কিছু নেই, তাই মহাবিশ্ব যুক্তি মেনে চলে।
    • সিসেরো দ্বারা De Natura Deorum-এ উদ্ধৃত, ii. ৮.; iii. ৯.
  • যদি জলপাই গাছ থেকে মধুর সুরে বাঁশি বেজে উঠত, তবে কি আপনি সন্দেহ করতেন না যে জলপাই গাছে বাঁশি বাজানোর জ্ঞান নিহিত আছে? আর যদি চিনার গাছ ছন্দময় সুরে বীণা ধ্বনিত করত, নিশ্চয়ই আপনি একইভাবে ভাবতেন যে সঙ্গীতকলার রহস্য চিনার গাছের মাঝেই বিদ্যমান! যেহেতু বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সচেতন ও জ্ঞানী সত্তার জন্ম দেয়, তাহলে কি একেও সচেতন ও জ্ঞানী বলে বিবেচনা করা উচিত নয়?


ভুলভাবে আরোপিত উক্তি

[সম্পাদনা]
  • পৃথিবী জয় করার মাধ্যমে মানুষ নিজেকে জয় করে।
    • এই উক্তিটি টুইটারে জেনোর নামে ব্যবহার করা হচ্ছে [১]। এটি একইভাবে ২০১৮ সালের উপন্যাস, নাদিয়া মার্ক্সের Secrets Under the Sun—এ দেখা যায়। এটি প্লেটোর এই লাইনের একটি সংক্ষেপ হতে পারে: একজন মানুষের জন্য নিজেকে জয় করা প্রথম এবং সর্বোত্তম বিজয় (Laws, i. 626E, Burges trans.)। বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ, ধর্মপদ-এ এই লাইনটি রয়েছে: যে ব্যক্তি হাজার হাজার মানুষকে জয় করতে পারে, তার চেয়ে যুদ্ধে সে মহান যে কেবল একজনকে জয় করতে পারে—নিজেকে। (৮.১০৩)

জেনো সম্পর্কে উক্তি

[সম্পাদনা]
  • প্রাচীন গ্রিসে নৈরাজ্যবাদী দর্শনের শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাকারী ছিলেন কিটিয়নের জেনো (খ্রিস্টপূর্ব ৩৪২–২৬৭/২৭০), যিনি স্টোয়িক দর্শনের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি প্লেটোর রাষ্ট্র-ইউটোপিয়ার বিপরীতে সরকারবিহীন একটি মুক্ত সমাজের নিজস্ব ধারণাকে স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা, তার হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণবাদকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং ঘোষণা দেন ব্যক্তির নৈতিক আইনের সার্বভৌমত্বের — এটিও উল্লেখ করেন যে, আত্মরক্ষার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি মানুষকে স্বার্থপরতার দিকে নিয়ে গেলেও প্রকৃতি তাকে সমাজবদ্ধতার আরেকটি প্রবৃত্তি দিয়ে সংশোধন করেছে। মানুষ যখন যুক্তিসঙ্গতভাবে তার প্রকৃতিগত প্রবৃত্তিগুলো অনুসরণ করবে, তখন তারা সীমানা অতিক্রম করে ঐক্যবদ্ধ হবে এবং মহাজাগতিক সম্প্রদায় গঠন করবে। তাদের আদালত বা পুলিশের প্রয়োজন হবে না, মন্দির বা সরকারি উপাসনার বালাই থাকবে না, টাকার বদলে চলবে স্বতঃস্ফূর্ত বিনিময়। দুর্ভাগ্যবশত, জেনোর রচনাগুলো আমাদের হস্তগত হয়নি — কেবল টুকরো উদ্ধৃতির মাধ্যমে সেগুলো জানা যায়। তবে তাঁর ব্যবহৃত শব্দাবলির সাথে আধুনিক পরিভাষার সাদৃশ্য প্রমাণ করে, মানব প্রকৃতির গভীরে যে প্রবণতা নিহিত, তিনি ছিলেন তার মুখপাত্র।
    • পিটার ক্রোপটকিন, এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (১৯১০) এর "অরাজকতা" প্রবন্ধে "অরাজকতার ঐতিহাসিক বিকাশ", অরাজকতা: বিপ্লবী লেখার একটি সংগ্রহ (১৯২৭), পৃষ্ঠা ২৮৮-এ উদ্ধৃত করা হয়েছে।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]