বিষয়বস্তুতে চলুন

হান কাং

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
২০১৬ সালে হান কাং

হান কাং (জন্ম নভেম্বর ২৭, ১৯৭০) দক্ষিণ কোরিয়ার একজন লেখক। তিনি ২০১৬ সালে তাঁর উপন্যাস দ্য ভেজিটেরিয়ানের জন্য ম্যান বুকার আন্তর্জাতিক পুরস্কার পান। ২০২৪ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • মানুষ যেমন রেললাইনে পড়ে যাওয়া একটি শিশুকে বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রাখতে পারে, তেমনি সে আবার আউশভিৎজের মতো ভয়াবহ সহিংসতাও দেখাতে পারে। মানুষের এই বৈপরীত্য, মহত্ত্ব থেকে চরম নিষ্ঠুরতা, শৈশব থেকেই আমার কাছে এক অমীমাংসিত প্রশ্ন হয়ে ছিল। বলা যেতে পারে, মানুষের ভেতরের এই সহিংতার বিষয়টিই আমার বইগুলোতে ঘুরেফিরে নানা রূপে উঠে এসেছে।
  • আমার কাছে মনে হয়, ট্রমা এমন কিছু নয় যা চাইলেই সারিয়ে ফেলা সম্ভব; বরং একে জীবনের অংশ হিসেবে মেনে নিতে হয়। শোকও অনেকটা তেমনই—এটি মৃত মানুষদের জন্য জীবিতদের মনে একটি স্থায়ী জায়গা তৈরি করে দেয়। সেই পুরনো জায়গায় বারবার ফিরে যাওয়া এবং সারাজীবন সেই ব্যথাকে নীরবে আঁকড়ে রাখা—হয়তো এভাবেই এক অদ্ভুত দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে আমাদের জীবন এগিয়ে চলে।
  • আমি ‘জাতীয়’ বা ‘সাহিত্য’কে একটিমাত্র স্থির ধারণা হিসেবে দেখি না। বরং ভাষাই আমাকে সবসময় টেনেছে। একটি ভাষার ভেতরে যে সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, তার স্তরগুলোর গভীরতা, জটিলতা আর সূক্ষ্মতা নিয়ে ভাবতে আমার ভালো লাগে। কৈশোরে আমি কোরীয় ভাষার কবিতা আর কাহিনিসাহিত্যের মধ্যে ডুবে ছিলাম, তাই তাদের কাছে আমি গভীরভাবে ঋণী।
  • আমি ‘জাতীয়তা’ বা ‘সাহিত্য’কে কোনো স্থির গণ্ডিতে আটকে রাখতে চাই না। বরং ভাষাই আমাকে সবসময় প্রবলভাবে আকর্ষণ করেছে। একটি ভাষার গভীরে যে সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, তার নানা স্তর, জটিলতা আর সূক্ষ্ম বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতেই আমি বেশি ভালোবাসি। কৈশোরে আমি কোরিয়ান কবিতা আর ফিকশনের জগতের ডুবে ছিলাম, তাই তাদের কাছে আমার ঋণ অনেক বেশি।
  • আমার কাছে লেখার অর্থ হলো অবিরত প্রশ্ন করে যাওয়া। আমি উত্তর খুঁজি না; বরং প্রশ্নটাকে যতটা সম্ভব পূর্ণতা দিতে চাই, অথবা যতক্ষণ পারি সেই প্রশ্নের ভেতরেই ডুবে থাকতে চাই। বলতে পারেন, গল্প লেখা হলো এদিক-সেদিক পায়চারি করার মতো। আপনি সামনে এগিয়ে যাবেন, আবার ফিরে আসবেন। এমন সব অমীমাংসিত প্রশ্ন নিয়ে ভাববেন, যা আপনার ভেতরে একই সাথে যন্ত্রণার আগুন জ্বালাবে, আবার প্রশান্তির শীতলতাও দেবে।
  • না, আমি আসলে প্রচার-প্রচারণা থেকে নিজেকে দূরেই রেখেছি। সবসময় চেয়েছি যত দ্রুত সম্ভব আমার লেখার টেবিলে ফিরে যেতে। পরবর্তী কাজের জন্য আমার একটি শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশ প্রয়োজন। তবে এই পুরো পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লেগেছে। এখন আমি চেষ্টা করছি এই নতুন পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার, যাতে যত দ্রুত সম্ভব আমার পরের বইটি লিখতে পারি।
  • ২০১৪ সালের শরৎ আর শীতকালটা আমি ওয়ারশে কাটিয়েছিলাম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বোমাবর্ষণে শহরটির ৯৫ শতাংশই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরে মানুষের অদম্য ইচ্ছায় সেটি আবার তিলে তিলে গড়ে তোলা হয়। সেই অচেনা রাস্তাগুলোতে প্রতিদিন হাঁটতে হাঁটতে আমার মনে হতো—এই শহরের মতো পুনর্জন্ম নেওয়া একজন মানুষকে নিয়ে আমার কিছু লেখা উচিত। হঠাৎ একদিন উপলব্ধি করলাম, সেই মানুষটি আর কেউ নন, আমার নিজের বড় বোন। সেই ছোট্ট শিশুটি জন্মের মাত্র দুই ঘণ্টা পরেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছিল। আমি চেয়েছিলাম আমার সমস্ত অনুভূতি আর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত তাকে ধার দিয়ে আবার বাঁচিয়ে তুলতে। এই বইটি লেখা ছিল আমার জন্য এক ধরনের প্রার্থনার মতো। আমি যা কিছু দেখেছি, শুনেছি, ছুঁয়েছি কিংবা অনুভব করেছি—আমার শরীরের এই জীবন্ত উষ্ণতা দিয়ে সেই সবকিছুকে ‘তার’ বা ‘তোমার’ করে দিতে চেয়েছি। আর প্রার্থনায় যেমনটা হয়, লিখতে লিখতে একসময় মনে হলো—আমি শুধু তার জন্যই লিখছি না, এর পেছনে আরও বড় কোনো কারণ মিশে আছে।
    • উদ্ধৃত, "দ্য হোয়াইট বুক নিয়ে সাক্ষাৎকার", দ্য বুকার প্রাইজেস (এপ্রিল ৫, ২০১৮)
    • হঠাৎ তোমার মনে প্রশ্ন জাগে—শরীর মরে গেলে আত্মার আসলে কী হয়? সে আর কতক্ষণ তার ফেলে আসা নিথর দেহটার মায়ায় পাশে পড়ে থাকে? জীবিত কেউ যখন কোনো মৃত মানুষকে দেখে, তখন কি সেই আত্মাটাও নিজের শরীরের ঠিক পাশে দাঁড়িয়ে নিজেরই মুখের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে না?

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]