হার্বার্ট স্পেন্সার
অবয়ব

হার্বার্ট স্পেন্সার (২৭ এপ্রিল ১৮২০ - ৮ ডিসেম্বর ১৯০৩) ভিক্টোরীয় যুগের একজন ইংরেজ দার্শনিক, ধ্রুপদী উদারপন্থী রাজনৈতিক তাত্ত্বিক এবং সমাজবিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি বিবর্তনবাদের এক সর্বব্যাপী ধারণা তৈরি করেছিলেন। তার মতে ভৌত জগত, জৈবিক কাঠামো, মানুষের মন এবং মানব সংস্কৃতি ও সমাজ—সবই এক প্রগতিশীল ক্রমবিকাশের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে। তিনি "সারভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট" বা "যোগ্যতমের জয়" শব্দগুচ্ছটি প্রবর্তনের জন্য পরিচিত।

উক্তি
[সম্পাদনা]
- বিজ্ঞান এবং কবিতা একে অপরের বিরোধী—বর্তমানে প্রচলিত এই ধারণাটি একটি ভুল বিশ্বাস। ... সাধারণের চোখে যা কেবল এক ফোঁটা পানি, একজন পদার্থবিদের চোখে কি তার গুরুত্ব কমে যায়? তিনি জানেন যে সেই অণুগুলো এমন এক শক্তির মাধ্যমে আবদ্ধ যা হঠাৎ মুক্ত হলে বজ্রপাত ঘটাতে পারে। যারা জানেন না তাদের চোখে যা কেবল সাধারণ বরফ কণা, একজন অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখা বিজ্ঞানীর কাছে কি তা ভিন্ন তাৎপর্য বহন করে না? তিনি তো সেখানে তুষার-স্ফটিকের অদ্ভুত বৈচিত্র্যময় ও মার্জিত রূপ দেখেছেন। সমান্তরাল দাগ কাটা একটি গোলাকার পাথর কি একজন সাধারণ মানুষের মনে ততটা কবিতা জাগাতে পারে যতটা একজন ভূতাত্ত্বিকের মনে জাগায়? ভূতাত্ত্বিক তো জানেন যে দশ লক্ষ বছর আগে এই পাথরের ওপর দিয়ে হিমবাহ স্লাইড করে চলে গিয়েছিল। সত্য হলো এই যে, যারা বৈজ্ঞানিক চর্চায় কখনও প্রবেশ করেনি তারা তাদের চারপাশের কবিতার এক শতাংশও অনুভব করতে পারে না।
- রয়্যাল ইনস্টিটিউশন অব গ্রেট ব্রিটেন, লন্ডন (১৮৫৫) এ প্রদত্ত বক্তৃতায়; প্রকাশিত: "হোয়াট নলেজ ইজ অব মোস্ট ওয়ার্থ", দ্য ওয়েস্টমিনিস্টার রিভিউ (জুলাই ১৮৫৯), খণ্ড ১৪১, পৃষ্ঠা ১৯।
- সময়: সেই জিনিস যা মানুষ সবসময় মেরে ফেলতে চায়, কিন্তু দিনশেষে সময় তাকেই মেরে ফেলে।
- ডেফিনিশনস; কেভিন গোল্ডস্টেইন-জ্যাকসন সম্পাদিত দ্য ডিকশনারি অব এসেনশিয়াল কোটেশনস (১৯৮৩) এ উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ১৫৪।
সোশ্যাল স্ট্যাটিকস (১৮৫১)
[সম্পাদনা]


- সব মন্দের মূলে রয়েছে পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে না পারা। এটি প্রতিটি প্রাণীর ক্ষেত্রে সত্য। একটি গুল্ম কি অনুর্বর মাটিতে শুকিয়ে যায়, বা আলো না পেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে, কিংবা শীতপ্রধান দেশে নিয়ে গেলে মারা যায়? এর কারণ হলো তার গঠন এবং পরিস্থিতির মধ্যে বিদ্যমান সামঞ্জস্য নষ্ট হয়ে গেছে।
- ১ম খণ্ড, অধ্যায় ২, অনুচ্ছেদ ১
- মন্দ সবসময় বিলীন হওয়ার প্রবণতা রাখে।
- ১ম খণ্ড, অধ্যায় ২, অনুচ্ছেদ ২
- মানুষের আদিম অবস্থার জন্য এক ধরণের নৈতিক গঠনের প্রয়োজন ছিল; বর্তমান অবস্থার জন্য তার ভিন্ন এক গঠন প্রয়োজন। মানুষের এই অভিযোজন বা মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া আগে ছিল, বর্তমানেও চলছে এবং ভবিষ্যতে অনেকদিন চলবে। তাই উন্নতি বা প্রগতি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি আবশ্যকতা। সভ্যতা কোনো কৃত্রিম বিষয় নয়, এটি প্রকৃতিরই অংশ; ঠিক যেমন একটি ভ্রূণের বিকাশ বা একটি ফুলের প্রস্ফুটন।
- ১ম খণ্ড, অধ্যায় ২, সমাপনী অনুচ্ছেদ
- প্রতিটি মানুষ তার সক্ষমতা প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা দাবি করতে পারে, তবে শর্ত হলো অন্যেরও ঠিক একই রকম স্বাধীনতা থাকতে হবে।
- ২য় খণ্ড, অধ্যায় ৪, অনুচ্ছেদ ৩
- প্রতিটি মানুষের স্বাধীনতাকে অন্যের সমান স্বাধীনতা দিয়ে সীমাবদ্ধ করলে অনেক অনুচিত কাজ বন্ধ করা যায়, তবে সব অনুচিত কাজ এর মাধ্যমে দূর করা সম্ভব নয়।
- ২য় খণ্ড, অধ্যায় ৪, অনুচ্ছেদ ৪
- ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে লিঙ্গগত কোনো পার্থক্য নেই। এর অভিধানে 'মানুষ' শব্দটি সার্বজনীন অর্থে ব্যবহৃত হওয়া উচিত।
- ২য় খণ্ড, অধ্যায় ১৬: নারীর অধিকার
- আটিলার বিশ্বাস ছিল যে পৃথিবী শাসন করার ঐশ্বরিক অধিকার তার আছে। স্প্যানিশরা ইন্ডিয়ানদের জয় করার অজুহাত হিসেবে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার কথা বলেছিল। আমরা ইংরেজরা আমাদের ঔপনিবেশিক আগ্রাসনকে এই বলে সমর্থন করি যে সৃষ্টিকর্তা অ্যাংলো-স্যাক্সন জাতিকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন! বিজয় লাভের এক অতৃপ্ত লালসা নরহত্যাকে পুণ্য হিসেবে তুলে ধরে। অনেকের কাছে প্রতিশোধ নেওয়া একটি কর্তব্য। স্পার্টানদের কাছে ধূর্ত চুরি ছিল প্রশংসনীয়; খ্রিস্টানদের কাছেও তা প্রশংসনীয় যদি চুরির মাত্রা যথেষ্ট বড় হয়। শাসক শ্রেণি নিজেদের বিশ্বাস করায় যে ব্যক্তির চেয়ে সম্পত্তির প্রতিনিধিত্ব বেশি হওয়া উচিত। একজন দরিদ্র মানুষ বিশ্বাস করে যে ত্রাণ পাওয়া তার অধিকার। যাজক শ্রেণির কাছে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে চার্চ এবং রাষ্ট্র এক হওয়া উচিত। পুরো সমাজেই এমন স্বার্থপর চিন্তাধারা দেখা যায়।
- ২য় খণ্ড, অধ্যায় ১৬: নারীর অধিকার
- চরিত্র গঠনই হলো শিক্ষার উদ্দেশ্য। কুপ্রবৃত্তি দমন করা, সুপ্ত অনুভূতি জাগ্রত করা, উপলব্ধি শক্তি বৃদ্ধি করা এবং রুচির বিকাশ ঘটানোই শিক্ষক ও অভিভাবকের প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে শিশুকে এক সামঞ্জস্যপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা যায়।
- ২য় খণ্ড, অধ্যায় ১৭: শিশুদের অধিকার
- যদি প্রতিটি মানুষের ইচ্ছামতো কাজ করার স্বাধীনতা থাকে, তবে তার রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকারও থাকা উচিত। সে চাইলে রাষ্ট্রের সুরক্ষা ত্যাগ করতে পারে এবং রাষ্ট্রের ব্যয়নির্বাহে অর্থ দিতে অস্বীকার করতে পারে। সরকার মূলত একদল মানুষের নিযুক্ত একটি মাধ্যম মাত্র, যারা তাদের নির্দিষ্ট সুবিধা নিশ্চিত করার কাজ করে। সুতরাং এই মাধ্যমটি কেউ ব্যবহার করবে কি না, সেটি ব্যক্তির একান্ত নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়।
- ৩য় খণ্ড, অধ্যায় ১৯, অনুচ্ছেদ ১
- মানুষের তৈরি কোনো আইনই গ্রহণযোগ্য হবে না যদি তা প্রাকৃতিক আইনের পরিপন্থী হয়। আইনসভার ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, এটি জনগণের কাছ থেকে ধার করা।
- ৩য় খণ্ড, অধ্যায় ১৯, অনুচ্ছেদ ২
- অক্ষমদের দারিদ্র্য, অবিবেচকদের দুর্দশা, অলসদের অনাহার এবং দুর্বলের ওপর সবলের আধিপত্য—এগুলো একটি সুদূরপ্রসারী করুণারই প্রতিফলন।
- ৩য় খণ্ড, অধ্যায় ২৫: দরিদ্রদের আইন
- মতামত শেষ পর্যন্ত অনুভূতির মাধ্যমে নির্ধারিত হয়, বুদ্ধিবৃত্তি দিয়ে নয়।
- ৪র্থ খণ্ড, অধ্যায় ৩০: সাধারণ বিবেচনা
- নৈতিকতা কোনো ভৌগোলিক সীমানা বা জাতিগত পার্থক্য মানে না।
- ৪র্থ খণ্ড, অধ্যায় ৩০: সাধারণ বিবেচনা
- যতক্ষণ সবাই মুক্ত না হয়, ততক্ষণ কেউ পূর্ণ স্বাধীন হতে পারে না; যতক্ষণ সবাই নীতিবান না হয়, ততক্ষণ কেউ পূর্ণ নৈতিক হতে পারে না; যতক্ষণ সবাই সুখী না হয়, ততক্ষণ কেউ পূর্ণ সুখী হতে পারে না।
- ৪র্থ খণ্ড, অধ্যায় ৩০: সাধারণ বিবেচনা
দ্য ডেভেলপমেন্ট হাইপোথিসিস (১৮৫২)
[সম্পাদনা]
- যারা উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে বিবর্তনবাদকে তুচ্ছজ্ঞান করে বর্জন করেন, তারা সম্ভবত ভুলে যান যে তাদের নিজস্ব তত্ত্বের সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। অধিকাংশ মানুষের মতো তারাও অন্যের বিশ্বাসের কঠোর প্রমাণ চান, কিন্তু নিজেদের বিশ্বাসের ক্ষেত্রে প্রমাণের প্রয়োজন মনে করেন না।
- পৃথিবীতে থাকা এক কোটি প্রজাতির প্রাণী সম্পর্কে কোনটি সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত তত্ত্ব? কোনটি বেশি সম্ভব—প্রতিটি প্রজাতির জন্য আলাদা আলাদা সৃষ্টি হওয়া? নাকি পরিস্থিতির পরিবর্তনে ক্রমান্বয়ে পরিবর্তনের ফলে এক কোটি বৈচিত্র্য তৈরি হওয়া?
- বিবর্তনবাদের সমর্থকরা দেখাতে পারেন যে যেকোনো উদ্ভিদ বা প্রাণী যখন তার আগের পরিস্থিতির চেয়ে ভিন্ন পরিস্থিতিতে থাকে, তখন সে নতুন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে বদলাতে শুরু করে। পরবর্তী প্রজন্মে এই পরিবর্তন চলতেই থাকে যতক্ষণ না নতুন পরিস্থিতিই তার স্বাভাবিক পরিস্থিতি হয়ে দাঁড়ায়। গৃহপালিত প্রাণী বা মানুষের বিভিন্ন জাতির মধ্যে এমন পরিবর্তন দেখা গেছে।
- ধীরগতিতে হলেও পরিবর্তনের এই প্রভাব মহাবিশ্বে কাজ করছে। ভূতাত্ত্বিক রেকর্ডে থাকা লক্ষ লক্ষ বছর এবং পরিস্থিতির ব্যাপক বৈচিত্র্য যেকোনো ধরণের বড় পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম।
- কোনো প্রোটোজোয়া বা এককোষী প্রাণী থেকে স্তন্যপায়ী প্রাণী তৈরি হওয়াকে যারা অদ্ভুত মনে করেন, তারা প্রাণীবিদ্যার সাথে পরিচিত নন। তারা জীবনকে স্থবিরভাবে দেখেন, কিন্তু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিবর্তনের মাধ্যমে সময়ের ব্যবধানে কত বড় রূপান্তর ঘটে তা তারা উপলব্ধি করেন না।
- যারা মনে করেন সাধারণ গঠন থেকে ক্রমান্বয়ে জটিল জৈবিক কাঠামো তৈরি হওয়া অসম্ভব, তাদের অন্ধত্ব দেখে অবাক হতে হয়। অথচ প্রতিদিন এমন জটিল রূপ তৈরি হচ্ছে। একটি গাছ এবং বীজের মধ্যে প্রতিটি দিক থেকে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। তবুও একটি অন্যটিতে রূপান্তরিত হয় এবং এই পরিবর্তন এত ধীরে ঘটে যে কোনো মুহূর্তেই বলা সম্ভব নয়—এখন বীজ শেষ হলো আর গাছের শুরু হলো।
- যদি একটি একক কোষ ২০ বছরের ব্যবধানে একজন মানুষে পরিণত হতে পারে, তবে লক্ষ লক্ষ বছরে একটি কোষ থেকে মানবজাতির উদ্ভব হওয়া কোনোভাবেই অসম্ভব নয়।
দ্য ফিলোসফি অব স্টাইল (১৮৫২)
[সম্পাদনা]
- একটি ভালো রচনা লেখার দক্ষতা তার নিয়মের ওপর যতটা না নির্ভর করে, তার চেয়ে বেশি নির্ভর করে চর্চা এবং স্বাভাবিক যোগ্যতার ওপর। একটি পরিষ্কার মাথা, দ্রুত কল্পনাশক্তি এবং একটি সংবেদনশীল কান থাকলে অলংকারশাস্ত্রের নিয়মের আর প্রয়োজন হয় না।
- ১ম অংশ, অনুচ্ছেদ ১
- প্রতিটি বাক্যের ক্ষেত্রে শব্দের একটি নির্দিষ্ট ক্রম অন্য যেকোনো ক্রমের চেয়ে বেশি কার্যকর হয়। এবং এই ক্রমটি হলো সেটি যা বিষয়বস্তুকে সহজভাবে উপস্থাপন করে।
- ১ম অংশ, অনুচ্ছেদ ৩
- কবিতা ভাষার কার্যকর নিয়মগুলো মেনে চলে বলেই মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
- ১ম অংশ, অনুচ্ছেদ ৬
এসেস অন এডুকেশন (১৮৬১)
[সম্পাদনা]- স্থাপত্য, ভাস্কর্য, চিত্রকর্ম, সংগীত এবং কবিতাকে সভ্য জীবনের প্রস্ফুটন বলা যেতে পারে।
- এডুকেশন: হোয়াট নলেজ ইজ অব মোস্ট ওয়ার্থ?
- প্রতিটি কারণ একাধিক ফলাফল তৈরি করে।
- অন প্রগ্রেস: ইটস ল অ্যান্ড কজ
- অন্য যেকোনো শোষণের চেয়ে সমাজের অন্ধ সংস্কারের শোষণ অনেক বেশি ভয়াবহ।
- অন ম্যানার্স অ্যান্ড ফ্যাশন
- সংগীতকে সব চারুকলার মধ্যে শীর্ষে রাখা উচিত। এটি মানুষের কল্যাণে অন্য যেকোনো শিল্পের চেয়ে বেশি অবদান রাখে।
- অন দ্য অরিজিন অ্যান্ড ফাংশন অব মিউজিক
এডুকেশন: ইন্টেলেকচুয়াল, মোরাল, অ্যান্ড ফিজিক্যাল (১৮৬১)
[সম্পাদনা]- শিশুর শিক্ষার ধরণ অবশ্যই মানবজাতির ঐতিহাসিক শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। অর্থাৎ একজন ব্যক্তির জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া হবে মানবজাতির জ্ঞান অর্জনের ধারার মতো।
ফার্স্ট প্রিন্সিপালস (১৮৬২)
[সম্পাদনা]

- আমরা প্রায়ই ভুলে যাই যে মন্দের ভেতরেও যেমন ভালোর ছায়া থাকে, তেমনি ভুল জিনিসের ভেতরেও অনেক সময় সত্যের কিছু অংশ লুকিয়ে থাকে।
- ১ম অংশ, 'দি আননোয়েবল'; অধ্যায় ১
- সব সম্ভাব্য ধারণাগুলো একে একে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং দেখা গেছে যে সেগুলো অপূর্ণ। অজানার পেছনে যে বাস্তবতা রয়েছে তা সবসময় মানুষের কাছে অজানাই থেকে যাবে।
- ১ম অংশ, অধ্যায় ৪
- ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মের নামে করা অধার্মিক কাজ নিয়ে অনেক বড় বই লেখা সম্ভব।
- ১ম অংশ, অধ্যায় ৫
- বিবর্তনের সংজ্ঞা হলো অসংলগ্ন সমজাতীয়তা থেকে সংলগ্ন ভিন্নজাতীয়তায় রূপান্তর, যেখানে গতির বিনাশ এবং বস্তুর সংহতি ঘটে।
- ২য় অংশ, অধ্যায় ১৫
প্রিন্সিপালস অব বায়োলজি (১৮৬৪)
[সম্পাদনা]- জৈবিক ক্রিয়াকলাপের সাথে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা প্রতিটি প্রাণীর জন্য প্রয়োজন। যারা ভারসাম্য রাখতে পারবে না তারা মারা যাবে এবং যারা পারবে তারাই টিকে থাকবে। যোগ্যতমের এই টিকে থাকার মানে হলো যোগ্যতমের বংশবৃদ্ধি।
দ্য ম্যান ভার্সাস দ্য স্টেট (১৮৮৪)
[সম্পাদনা]দ্য কামিং স্লেভারি
[সম্পাদনা]- নানা ধরণের প্রভাবের কারণে কর্পোরেট কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড হ্রাস পাচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সমাজতন্ত্র বা স্টেট-সোশ্যালিজম তৈরি হবে। অনেকে জিজ্ঞেস করতে পারেন, একে কেন 'আসন্ন দাসত্ব' বলা হচ্ছে? উত্তরটি সহজ—সব সমাজতন্ত্রই আসলে দাসত্ব।
- দাসের মূল বৈশিষ্ট্য কী? আমরা মনে করি দাস হলো সে যার মালিক অন্য কেউ। দাস মূলত অন্য কারো ইচ্ছা পূরণে বাধ্য হয়ে শ্রম দেয়। যদি একজন দাসের সব পরিশ্রম তার মালিকের জন্য হয় তবে দাসত্ব কঠোর, আর যদি সামান্য অংশ নিজের জন্য হয় তবে তা কিছুটা সহজ। সমাজতন্ত্রে একজন ব্যক্তি তার মালিক হিসেবে কোনো একজন ব্যক্তি নয় বরং সমাজকে পায়। যদি কোনো বিকল্প ছাড়াই তাকে সমাজের জন্য শ্রম দিতে হয় এবং বিনিময়ে সমাজ তাকে যা দেবে সেটুকুই নিতে হয়, তবে সে আসলে সমাজের দাসে পরিণত হয়।
দ্য সিনস অব আওয়ার লেজিসলেটরস
[সম্পাদনা]- মানুষ মন্দের সাথে জন্মায় কি না তা নিয়ে তর্ক থাকতে পারে, তবে এটি নিশ্চিত যে আগ্রাসনের মাধ্যমেই সরকারের জন্ম হয়েছে। যে সমাজে দীর্ঘকাল শান্তি ছিল সেখানে সরকারের মতো কোনো দমনমূলক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। যুদ্ধের নেতৃত্বের মাধ্যমেই মূলত প্রধান বা রাজার ক্ষমতা স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। শাসন ক্ষমতার এই কঠোরতা বাইরের আগ্রাসনের সাথে সাথে বৃদ্ধি পায়। একটি দক্ষ সেনাবাহিনী তৈরি করতে যেমন সৈন্যদের তাদের কমান্ডারের অনুগত হতে হয়, তেমনি একটি যুদ্ধংদেহী সমাজ তৈরি করতে নাগরিকদের শাসন ক্ষমতার অনুগত হতে হয়।
এসেস: সায়েন্টিফিক, পলিটিক্যাল, অ্যান্ড স্পেকুলেটিভ (১৮৯১)
[সম্পাদনা]
- সৌন্দর্যের গভীরতা কেবল ত্বক পর্যন্ত—এই প্রবাদটি নিজেই একটি অগভীর কথা।
- ২য় খণ্ড, অধ্যায় ১৪
- ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত উদ্যোগ যেমন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে, রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো তা পারে না। এটি মূলত গড়পড়তা প্রয়োজনের জন্য তৈরি এবং অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সবসময় ব্যর্থ হয়।
- ৩য় খণ্ড, অধ্যায় ৭
- রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো শুরু থেকেই সবাইকে হতাশ করে। অথচ ব্যক্তিগত উদ্যোগগুলো প্রতিদিন এমন সব ফলাফল অর্জন করে যা বিশ্বকে চমকে দেয়।
- ৩য় খণ্ড, অধ্যায় ৭
- মানুষকে তার বোকামির ফল থেকে বাঁচানোর চূড়ান্ত ফলাফল হলো সারা পৃথিবী বোকাতে ভরে দেওয়া।
- ৩য় খণ্ড, অধ্যায় ৯
দ্য প্রিন্সিপালস অব এথিক্স (১৮৯৭)
[সম্পাদনা]- প্রতিটি সুখ জীবনের জোয়ার বাড়িয়ে দেয়; প্রতিটি কষ্ট সেই জোয়ার কমিয়ে দেয়।
- ১ম খণ্ড, অধ্যায় ৬
- নৈতিক চেতনার মূল বৈশিষ্ট্য হলো একটি অনুভূতির মাধ্যমে অন্য অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করা।
- ১ম খণ্ড, অধ্যায় ৭
- মানুষ অনেক সময় কোনো লক্ষ্য অর্জনের উপায় নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে যে উপায়টিকেই লক্ষ্য বলে ভুল করে। যেমন একজন কৃপণ মানুষের কাছে টাকা জমানোটাই বড় হয়ে ওঠে, অথচ টাকা ছিল অভাব মেটানোর একটি উপায় মাত্র।
- ১ম খণ্ড, অধ্যায় ১৪
- যারা নিজেদের সুস্বাস্থ্য এবং ফুরফুরে মেজাজে রাখার জন্য যত্ন নেন, তারা একদিকে যেমন নিজেদের আশপাশের মানুষের সুখের উৎস হয়ে ওঠেন, অন্যদিকে পরোপকারী কাজ করার সক্ষমতাও ধরে রাখেন। বিপরীতে যারা অতিরিক্ত আত্মত্যাগের মাধ্যমে নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট করেন, তারা অন্যদের বিষণ্ণতার কারণ হয়ে দাঁড়ান।
- নৈতিক ধারণা এবং অনুভূতিগুলোকে জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখা উচিত।
- ৩য় খণ্ড, অধ্যায় ১
- প্রতিটি মানুষ তার ইচ্ছামতো কাজ করতে স্বাধীন, যদি সে অন্যের সমান স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে।
- ৪র্থ খণ্ড, অধ্যায় ৬
ফ্যাক্টস অ্যান্ড কমেন্টস (১১০২)
[সম্পাদনা]- যখন মানুষ অন্য মানুষকে গুলি করার জন্য ভাড়ায় খাটে এবং সেই যুদ্ধের ন্যায়বিচার নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলে না, তখন তারা নিজেরা গুলিবিদ্ধ হলেও আমার কিছু যায় আসে না।
- "প্যাট্রিওটিজম", পৃষ্ঠা ১২৬
ভুলভাবে আরোপিত
[সম্পাদনা]- এমন একটি নীতি আছে যা সব তথ্যের পথ বন্ধ করে দেয়, সব যুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং মানুষকে অনন্তকাল অজ্ঞতার অন্ধকারে রাখতে পারে—সেই নীতিটি হলো কোনো কিছু তদন্তের আগেই অবজ্ঞা করা।
- এই উক্তিটি সাধারণত স্পেন্সারের নামে চালানো হলেও আসলে এটি উইলিয়াম প্যালির একটি উক্তির পরিবর্তিত রূপ। এটি 'অ্যালকোহলিকস অ্যানোনিমাস' বইয়ে ব্যবহারের ফলে স্পেন্সারের নামে পরিচিতি পায়।
স্পেন্সার সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]- স্পেন্সার সমাজবিজ্ঞানের একটি তত্ত্ব তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। তবে তিনি তার ধারণাগুলোকে গাণিতিক রূপ দিতে বা আদি নীতির মাধ্যমে প্রমাণ করতে পারেননি। জটিল ব্যবস্থা বা কমপ্লেক্স সিস্টেম নিয়ে গবেষণায় এটি একটি বড় সমস্যা।
- জে ডয়েন ফারমার, দ্য থার্ড কালচার (১৯৯৫)
- সমাজতাত্ত্বিক বিবর্তন জৈবিক বিবর্তনের চেয়ে আলাদা। এটি অনেক দ্রুত এবং এতে পরোপকার ও সহযোগিতার গুরুত্ব অনেক বেশি। স্পেন্সারের সময় এগুলো সঠিকভাবে বোঝা সম্ভব হয়নি।
- জে ডয়েন ফারমার, দ্য থার্ড কালচার (১৯৯৫)
- হার্বার্ট স্পেন্সার, যিনি শ্রেণিবিন্যাস করার প্রতি তার ভালোবাসার কারণে সব সময় পর্যুদস্ত হতেন।
- রেবেকা ওয়েস্ট, দ্য ক্ল্যারিয়ন (১৯১৩)
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় হার্বার্ট স্পেন্সার সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।