বিষয়বস্তুতে চলুন

হেরমান হেস

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
পরস্পরকে চেনা এবং সম্মান জানানোই আমাদের উদ্দেশ্য। আমাদের কাজ একে অপরের মতো হওয়া নয় বরং অন্যের বৈশিষ্ট্য অনুধাবন করা। আমরা প্রত্যেকেই একে অপরের পরিপূরক এবং বিপরীত সত্তা।

হেরমান কার্ল হেস (২ জুলাই ১৮৭৭ - ৯ আগস্ট ১৯৬২) একজন জার্মান-সুইস কবি, ঔপন্যাসিক এবং চিত্রকর ছিলেন। ১৯৪৬ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তার বিখ্যাত কাজের মধ্যে রয়েছে স্টেপেনউলফ, সিদ্ধার্থ এবং দ্য গ্লাস বিড গেম (যা 'ম্যাজিস্টার লুডি' নামেও পরিচিত)। তার সবকটি বই-ই ব্যক্তির আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের কথা বলে।

উক্তি

[সম্পাদনা]
শুরুতেই ছিল পুরাণ।
  • ভগবদ্গীতার বিস্ময়কর দিক হলো এর চমৎকার জীবনদর্শন, যা দর্শনকে ধর্মের পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

পিটার ক্যামেনজিন্দ (১৯০৪)

[সম্পাদনা]
  • শুরুতেই ছিল পুরাণ। ঈশ্বর নিজেকে প্রকাশের জন্য হিন্দু, গ্রিক এবং জার্মানদের আত্মায় কাব্যিক রূপ দিয়েছিলেন। আজও তিনি প্রতিদিন প্রতিটি শিশুর আত্মায় কাব্যিক ছন্দের সৃষ্টি করেন।
  • ভালোবাসা আমাদের সুখী করার জন্য আসেনি। আমি বিশ্বাস করি ভালোবাসা আমাদের সহনক্ষমতা পরীক্ষার জন্য এসেছে।
  • ভালোবাসলে এমনই হয়, এটি মানুষকে কষ্ট দেয়। গত কয়েক বছরে আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি। তবে ভালোবাসা বেঁচে থাকলে এবং সব জীবের সাথে বন্ধন অনুভব করলে কষ্টের গুরুত্ব থাকে না।
  • আনন্দ থাকার কথা সেখানে বিষণ্ণতা এবং ভালোবাসা থাকার কথা সেখানে ঘৃণা থাকা উচিত নয়। একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন। কারণ আমাদের সবারই এমন কিছু ক্ষত এবং কষ্ট আছে যা আমরা ছাড়া অন্য কেউ বুঝবে না। তাই আমার বিরুদ্ধে না থেকে আমার সাথে থাকো এবং আমাদের সেই দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে চলো যেখানে আমরা সুখী ও স্বাধীন ছিলাম।

কুয়াশার মধ্যে (১৯০৫)

[সম্পাদনা]
  • একসময় আমার জগত বন্ধুদের পূর্ণ ছিল,
যখন আমার জীবনে আলো ছিল;
এখন কুয়াশা নেমে এসেছে,
কাউকেই আর দেখা যায় না।
সে-ই জ্ঞানী যে জানে
চারপাশে নেমে আসা এই অন্ধকার
তাকে সবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।

গেরত্রুদ (১৯১০)

[সম্পাদনা]
জ্ঞানের অন্তরালে থাকা বৈপরীত্যের অনুভূতি আমি কখনোই হারাইনি।
  • আমি যখন বাইরে থেকে নিজের জীবনের দিকে তাকাই, তখন একে খুব একটা সুখী মনে হয় না। তবে ভুল থাকা সত্ত্বেও একে অসুখী বলার কোনো কারণ নেই। আসলে সুখ বা অসুখ খুঁজে বেড়ানো বোকামি। কারণ আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ দিনগুলোও আমি ভালো দিনগুলোর সাথে বিনিময় করতে চাইব না। জীবনের উদ্দেশ্য যদি হয় সচেতনভাবে অনিবার্যকে মেনে নেওয়া, ভালো-মন্দকে পূর্ণভাবে গ্রহণ করা এবং বাহ্যিক ভাগ্যের পাশাপাশি নিজের একটি অভ্যন্তরীণ লক্ষ্য তৈরি করা, তবে আমার জীবন শূন্য বা মূল্যহীন ছিল না। দেবতারা যেভাবে নির্ধারণ করেছেন ভাগ্য সেভাবেই এগিয়েছে। তবে আমার অভ্যন্তরীণ জগত আমি নিজেই তৈরি করেছি। এর তিক্ততা ও মাধুর্যের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমার এবং আমি তা গ্রহণ করি।
  • আমি আমার পছন্দ এবং প্রতিভা আবিষ্কারের স্বাধীনতা পেয়েছিলাম। নিজের আনন্দ ও দুঃখ নিজেই সাজিয়েছি। আমি ভবিষ্যৎকে কোনো ভিনদেশি উচ্চতর শক্তি হিসেবে নয়, বরং নিজের শক্তির ফল হিসেবে দেখেছি।
  • ছয় বা সাত বছর বয়সেই আমি বুঝতে পেরেছি যে সংগীতই আমাকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করবে। সেই মুহূর্ত থেকে আমার নিজস্ব এক জগত এবং স্বর্গ তৈরি হয়েছে যা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। ওহ সংগীত! কোনো সুর যখন মনে আসে এবং আপনি যখন মনে মনে তা গেয়ে ওঠেন, তখন তা আপনার সব শক্তি ও আবেগ দখল করে নেয়। আপনার ভেতর থেকে সব মন্দ, স্থূলতা এবং দুঃখ মুছে ফেলে পৃথিবীকে আপনার জন্য আনন্দদায়ক করে তোলে। এটি বিষণ্ণ আত্মাকে ডানা মেলে উড়তে সাহায্য করে।
  • আমার সবচেয়ে সুন্দর স্বপ্ন ছিল হৃদস্পন্দনের এক মুহূর্তের জন্য হলেও মহাবিশ্বের সেই রহস্যময় সামঞ্জস্যের সুর শোনা।
  • সেটি কি সত্যিই ভালোবাসা ছিল? আমি আবেগপ্রবণ মানুষদের ঝড়ের মুখে এলোমেলোভাবে ঘুরতে দেখেছি। আজ যে মানুষটি কামনায় পূর্ণ, কালই সে তৃপ্ত হয়ে নিষ্ঠুরভাবে সঙ্গিনীকে ত্যাগ করছে। সে কারো প্রতি অনুগত নয় এবং কোনো ভালোবাসাতেই সুখী নয়।
  • তরুণদের অনেক আনন্দ এবং অনেক দুঃখ থাকে কারণ তারা কেবল নিজেদের কথা ভাবে। তাদের প্রতিটি ইচ্ছা ও ধারণা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তারা প্রতিটি আনন্দ ও দুঃখকে পূর্ণভাবে গ্রহণ করে। তাদের অনেক ইচ্ছা পূরণ না হলে তারা জীবন শেষ করে দেয়।
  • জীবন কঠিন—আমি এটি তিক্তভাবে অনুধাবন করেছি। বর্তমানেও আমি জ্ঞানের আড়ালে থাকা বৈপরীত্যের অনুভূতি হারাইনি। আমার জীবন অন্যদের কাছে সমৃদ্ধ মনে হলেও আমার নিজের কাছে এটি কঠিন ছিল। মানুষের জীবন আমার কাছে এক দীর্ঘ ক্লান্তিকর রাত বলে মনে হয়। মাঝে মাঝে আলোর ঝলকানি না থাকলে এটি অসহ্য হতো। সেই আলোর তীব্রতা এতই চমৎকার যে তা অন্ধকারের বছরগুলোকে সার্থক করে তোলে।
  • মানুষ যখন খুব বেশি চিন্তা করে না, তখন সে সকালে ঘুম থেকে উঠে আনন্দ পায়, খেয়ে ও পান করে তৃপ্তি পায়। সে জীবন যেমন আছে তেমনভাবেই মেনে নেয়। কিন্তু যখন সে সব কিছুকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারে না, তখন সে জীবনের প্রকৃত মুহূর্তগুলো খুঁজতে থাকে। সেই মুহূর্তগুলো মানুষকে সময়ের ঊর্ধ্বে নিয়ে যায়। সেই মুহূর্তগুলোকে সৃজনশীল বলা যেতে পারে কারণ তখন সৃষ্টিকর্তার সাথে মিলনের অনুভূতি হয়। মিস্টিকরা একে ঈশ্বরের সাথে মিলন বলেন। হয়তো সেই মুহূর্তগুলোর উজ্জ্বলতার কারণেই বাকি জীবন এত অন্ধকার ও কঠিন মনে হয়।
  • শান্ত হও আমার হৃদয়, যাতনা দূর হোক!
ধীরে বয়ে চলা রক্তে আবেগ যদি আবার জেগে ওঠে
আর পরিচিত সেই পথে নিয়ে যায়,
তবে মনে রেখো সেই সব পথ এখন বৃথা
কারণ যৌবন তো চলে গেছে।
  • আবেগ সবসময়ই এক রহস্যময় ও অস্পষ্ট বিষয়। জীবন তার সবচেয়ে পবিত্র সন্তানদেরও রেহাই দেয় না। প্রায়ই দেখা যায় যোগ্যতম ব্যক্তিরাও তাদেরই ভালোবাসেন যারা তাদের ধ্বংস করে দেয়।
  • আমরা জীবনের গতিপথ এড়াতে পারি না। তবে আমরা নিজেদের এমনভাবে গড়ে তুলতে পারি যাতে পরিস্থিতির ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ থাকে এবং যন্ত্রণাদায়ক বিষয়গুলোর দিকেও আমরা অপলক তাকাতে পারি।

ডেমিয়ান (১৯১৯)

[সম্পাদনা]
পাখি ডিমের ভেতর থেকে লড়াই করে বেরিয়ে আসে। ডিম হলো জগত। যাকে জন্মাতে হবে তাকে অবশ্যই একটি জগত ধ্বংস করতে হবে।
আমরা দেবতা তৈরি করি এবং তাদের সাথে লড়াই করি। পরে তারাই আমাদের আশীর্বাদ করেন।
  • আমি কেবল আমার প্রকৃত সত্তার তাগিদে বাঁচতে চেয়েছিলাম। সেটি করা কেন এত কঠিন ছিল?
  • "আপনার এমন ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করা উচিত নয় যাতে আপনি বিশ্বাস করেন না। আপনার আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করার ক্ষমতা থাকতে হবে অথবা সেই আকাঙ্ক্ষার জন্য নিজেকে উপযুক্ত মনে করতে হবে। আপনি যখন পূর্ণ নিশ্চয়তার সাথে কোনো কিছু প্রার্থনা করতে পারবেন, তখনই তা পূর্ণ হবে। বর্তমানে আপনি ইচ্ছা এবং ত্যাগের মাঝে দোদুল্যমান এবং সব সময় ভীত। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে হবে।"
  • উপন্যাস লেখার সময় ঔপন্যাসিকরা প্রায়ই ঈশ্বরতুল্য দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেন। তারা একজন মানুষের জীবনকে এমনভাবে বর্ণনা করেন যেন এর প্রতিটি মুহূর্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং সত্য। আমি তা করতে পারছি না। তবে আমার কাছে আমার জীবনযযুদ্ধে কাহিনি যেকোনো ঔপন্যাসিকের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি আমার রক্তমাংসের মানুষের গল্প। বর্তমানে একজন জীবন্ত মানুষ কী দিয়ে তৈরি তা খুব কম মানুষই বুঝতে পারে। প্রতিটি মানুষ প্রকৃতির এক অনন্য ও মূল্যবান পরীক্ষা। তাই নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রতিটি মানুষের গুরুত্ব যদি একটি বুলেটের মাধ্যমেই শেষ হয়ে যেত, তবে গল্প বলার আর কোনো প্রয়োজন থাকত না। কিন্তু প্রতিটি মানুষ কেবল তার নিজের চেয়েও বড় কিছু; সে বিশ্বের সব ঘটনার এক অনন্য ও অসাধারণ মিলনস্থল। এই মিলন কেবল একবারই ঘটে এবং আর কখনও হবে না। এজন্যই প্রতিটি মানুষের গল্প গুরুত্বপূর্ণ, শাশ্বত এবং পবিত্র। প্রতিটি ব্যক্তির মধ্যে আত্মা রক্তমাংসের রূপ পায়, প্রতিটি মানুষের মধ্যে সৃষ্টি যন্ত্রণা ভোগ করে এবং প্রত্যেকের মধ্যে একজন উদ্ধারকর্তা ক্রুশবিদ্ধ হন।
  • প্রতিটি মানুষের জীবন তার নিজের দিকে যাওয়ার এক একটি রাস্তা। কোনো মানুষই পুরোপুরি তার নিজের সত্তায় পৌঁছাতে পারেনি। তবুও প্রত্যেকে নিজের মতো করে সেরাটা হওয়ার চেষ্টা করে।
  • আপনাকে আপনার স্বপ্ন খুঁজে পেতে হবে, তবেই পথ চলা সহজ হবে। তবে কোনো স্বপ্নই চিরস্থায়ী নয়। প্রতিটি স্বপ্নের পরে নতুন স্বপ্ন আসে এবং কোনো একটি স্বপ্নে আটকে থাকা উচিত নয়।
  • ভালোবাসা কাকুতি-মিনতি বা দাবি করে না। ভালোবাসার মধ্যে আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। তবেই এটি কেবল আকর্ষিত হওয়ার বদলে অন্যকে আকর্ষণ করতে পারে।
  • সাহস এবং চারিত্রিক গুণসম্পন্ন মানুষদের অন্যরা সবসময় সন্দেহ করে। নির্ভীক মানুষদের স্বাধীনভাবে চলতে দেখে অন্যরা ঈর্ষা করে এবং ভয় পায়। তাই তারা তাদের নামে দুর্নাম ছড়ায়।
  • আমি এখন বুঝতে পারছি যে মানুষের নিজের সত্তার দিকে নিয়ে যাওয়া পথটির চেয়ে বিরক্তিকর আর কিছু নেই।
  • কেবল সেই চিন্তাগুলোরই মূল্য আছে যা আমরা বাস্তবে যাপন করি।
  • প্রত্যেককে তার নিজের জন্য কী অনুমোদিত আর কী নিষিদ্ধ তা খুঁজে বের করতে হবে। এমন হতে পারে যে কেউ কোনো আইন ভঙ্গ করেনি কিন্তু তবুও সে একজন নিচ ব্যক্তি। আবার এর উল্টোটাও হতে পারে। যারা নিজেদের হয়ে চিন্তা করতে অলস তারা অন্যের দেওয়া আইন মেনে চলে। অন্যরা নিজেদের ভেতরে থাকা আইন অনুভব করে।
  • এখন সব বদলে গেল। আমার শৈশবের জগত ভেঙে পড়ছিল। বাবা-মা আমাকে অস্বস্তির চোখে দেখতেন। আমার বোনরা আমার কাছে অপরিচিত হয়ে গেল। চারপাশের জগত তার আকর্ষণ হারিয়ে ফেলল। বইগুলো কেবল কাগজের টুকরো আর সংগীত ছিল কেবল কর্কশ শব্দ। শরতের গাছের পাতা ঝরার মতো জীবন ধীরে ধীরে ভেতরে গুটিয়ে আসছিল। গাছটি মরে যায়নি, সে অপেক্ষা করছে।
  • ভাগ্য এবং স্বভাব হলো একই ধারণার দুটি ভিন্ন শব্দ।
  • পাখি ডিমের ভেতর থেকে লড়াই করে বেরিয়ে আসে। ডিম হলো জগত। যাকে জন্মাতে হবে তাকে অবশ্যই একটি জগত ধ্বংস করতে হবে। পাখিটি উড়ে ঈশ্বরের কাছে যায়। সেই ঈশ্বরের নাম আব্রাক্সাস।
  • আব্রাক্সাস ছিলেন এমন এক দেবতা যিনি একই সাথে ঈশ্বর এবং শয়তান।
  • প্রকৃতি যদি আপনাকে বাদুড় বানিয়ে থাকে তবে উটপাখি হওয়ার চেষ্টা করবেন না। নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা ভেবে দোষারোপ করবেন না। এটি আপনাকে ভুলে যেতে হবে! আগুনের শিখা বা মেঘের দিকে তাকিয়ে যখন নিজের ভেতর থেকে কণ্ঠস্বর শুনতে পাবেন, তখন তার কাছে নিজেকে সঁপে দিন। শিক্ষক বা বাবার অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তেমনটি করলে আপনি স্থবির হয়ে পড়বেন।
  • আমাদের দেবতার নাম আব্রাক্সাস এবং তিনি একই সাথে ঈশ্বর ও শয়তান; তিনি আলো ও অন্ধকার উভয় জগতেরই অধিপতি। তিনি আপনার কোনো চিন্তা বা স্বপ্নকে বাধা দেবেন না। কিন্তু আপনি যদি খুব সাধারণ ও নির্ভুল হতে চান, তবে তিনি আপনাকে ত্যাগ করবেন।
  • আপনি যদি কোনো মানুষকে ঘৃণা করেন, তবে আপনি আসলে তার মধ্যে থাকা নিজেরই একটি অংশকে ঘৃণা করেন। যা আমাদের নিজেদের অংশ নয় তা আমাদের বিরক্ত করে না।
  • আমি আমার স্বপ্নের মধ্যে বাস করি। অন্যরা অন্যের তৈরি স্বপ্নে বাস করে। এটাই পার্থক্য।
  • আমরা শুকর নই বরং মানুষ। আমরা দেবতা তৈরি করি এবং তাদের সাথে লড়াই করি। পরে তারাই আমাদের আশীর্বাদ করেন।
  • প্রতিটি মানুষের একটিই প্রকৃত পেশা আছে—নিজের দিকে যাওয়ার পথ খুঁজে বের করা।

সিদ্ধার্থ (১৯২২)

[সম্পাদনা]
প্রজ্ঞা বিনিময়যোগ্য নয়। একজন জ্ঞানী ব্যক্তি যখন প্রজ্ঞা বিনিময় করতে চান তখন তা শুনতে বোকামি মনে হয়... তথ্য জানানো যায় কিন্তু প্রজ্ঞা নয়। এটি খুঁজে নিতে হয়, এটি দিয়ে জীবন কাটাতে হয়, কিন্তু একে শেখানো যায় না।
ভালোবাসাই এই পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। বড় চিন্তাবিদদের কাছে পৃথিবীকে বিশ্লেষণ করা বা অবজ্ঞা করা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু আমি মনে করি পৃথিবীকে ভালোবাসা এবং সব জীবের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করাই হলো একমাত্র জরুরি কাজ।
  • সিদ্ধার্থ সন্দেহ করতে শুরু করেছিলেন যে তার শ্রদ্ধেয় পিতা এবং অন্যান্য পণ্ডিতরা তাদের অর্জিত সব প্রজ্ঞাই তাকে দিয়ে দিয়েছেন। তারা তাদের জ্ঞানের সবটুকু তার শূন্য পাত্রে ঢেলে দিয়েছেন; কিন্তু পাত্রটি পূর্ণ হয়নি এবং তার মন তৃপ্ত হয়নি।
  • আপনি যখন পানিতে একটি পাথর ছুঁড়ে মারেন, সেটি খুব দ্রুত নিচে চলে যায়। সিদ্ধার্থের লক্ষ্য এবং সংকল্পও ঠিক তেমনই। সিদ্ধার্থ কিছুই করে না, সে কেবল অপেক্ষা করে, চিন্তা করে এবং উপবাস করে। সে জগতের সবকিছুর মধ্য দিয়ে পাথরের মতো চলে যায়। তার লক্ষ্য তাকে আকর্ষণ করে। সামানাদের কাছ থেকে সিদ্ধার্থ এটিই শিখেছেন। মানুষ যদি চিন্তা করতে পারে, অপেক্ষা করতে পারে এবং উপবাস করতে পারে তবে সে যেকোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারে।
  • তারা অনেক কিছু জানতেন। কিন্তু জীবনের একটি মাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না জেনে বাকি সব জেনে লাভ কী?
  • আমি বিশ্বাস করি সবকিছুর মূলে এমন কিছু আছে যাকে শিক্ষা বলা যায় না। আমার বন্ধু, সেখানে কেবল একটি জ্ঞান আছে যা সর্বত্র বিদ্যমান এবং সেটি হলো আত্মা। আমি বিশ্বাস করতে শুরু করেছি যে এই জ্ঞানের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো তথাকথিত জ্ঞানী ব্যক্তি বা পুথিগত বিদ্যা।
  • সিদ্ধার্থ কমলার প্রতি: আপনি আমার মতো; আপনি অন্য মানুষের থেকে আলাদা। আপনি কমলা এবং আপনার ভেতরে এমন এক নিস্তব্ধতা ও আশ্রয় আছে যেখানে আপনি যেকোনো সময় ফিরে যেতে পারেন এবং নিজের সত্তায় থাকতে পারেন। খুব কম মানুষেরই এই ক্ষমতা আছে।
  • জগত তাকে ধরে ফেলেছে; ভোগ-বিলাস, অলসতা এবং অবশেষে সেই লোভ যা সে সবসময় ঘৃণা করত—সঞ্চয় করার প্রবণতা। সম্পদ এবং সম্পত্তি অবশেষে তাকে আটকে ফেলেছে। এগুলো এখন আর খেলনা নয় বরং তার গলার শিকড় এবং বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
  • অনেক বেশি খাওয়া বা পান করার পর মানুষ যেমন বমি করে সুস্থ বোধ করে, সিদ্ধার্থও তেমনিভাবে তার ভোগ-বিলাসের এই অর্থহীন অভ্যাসগুলো ত্যাগ করতে চাইলেন।
  • একজন প্রকৃত সন্ধানী কোনো শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন না, যদি তিনি সত্যিই কিছু খুঁজতে চান। কিন্তু যিনি সত্য খুঁজে পেয়েছেন, তিনি সব পথ এবং লক্ষ্যের প্রতি সমর্থন জানাতে পারেন। কোনো কিছুই তাকে সেই হাজারো মানুষের থেকে আলাদা করতে পারে না যারা আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাস করেন।
  • যদিও তিনি কঠোর আত্মসংযম অর্জন করেছিলেন, তবুও এখন তার মনে হচ্ছে এই সাধারণ মানুষগুলোই তার ভাই। তাদের অহংকার, ইচ্ছা এবং তুচ্ছ বিষয়গুলো এখন তার কাছে আর অর্থহীন মনে হয় না। এগুলো এখন বোধগম্য এবং ভালোবাসার যোগ্য মনে হয়।
  • এই মানুষগুলো তাদের অন্ধ আনুগত্য এবং শক্তির জন্য ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার পাত্র ছিল। পণ্ডিতদের সাথে তাদের পার্থক্য ছিল কেবল একটি ছোট বিষয়ে—আর তা হলো জীবনের একত্বের চেতনা।
  • সিদ্ধার্থ যখন নদীর এই হাজারো কণ্ঠস্বরের গান মন দিয়ে শুনতেন; যখন তিনি কেবল দুঃখ বা হাসির দিকে মনোযোগ না দিয়ে সব কণ্ঠস্বরকে নিজের সত্তায় অনুভব করতেন—তখন সেই সুর কেবল একটি শব্দে পরিণত হতো: ওঁ বা পূর্ণতা।
  • সেই মুহূর্ত থেকে সিদ্ধার্থ ভাগ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা বন্ধ করে দিলেন। তার মুখে জ্ঞানের প্রশান্তি ফুটে উঠল। তিনি এখন আর ইচ্ছার দ্বন্দ্বে নেই, তিনি মুক্তি খুঁজে পেয়েছেন। তিনি জীবনের প্রবাহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে গেছেন।
  • আমি আপনাকে কী বা বলব যা আপনার উপকারে আসবে! আপনি হয়তো খুব বেশি খুঁজছেন, তাই খুঁজে পাচ্ছেন না। কেউ যখন কোনো কিছু খুঁজে বেড়ায়, তখন সে কেবল সেই জিনিসটিই দেখে। সে অন্য কিছু গ্রহণ করতে পারে না কারণ সে তার লক্ষ্য নিয়ে আচ্ছন্ন থাকে। খোঁজা মানে একটি লক্ষ্য থাকা; কিন্তু খুঁজে পাওয়া মানে হলো মুক্ত থাকা এবং কোনো লক্ষ্যহীনভাবে গ্রহণ করার মানসিকতা থাকা।
  • প্রজ্ঞা বিনিময়যোগ্য নয়। একজন জ্ঞানী ব্যক্তি যখন প্রজ্ঞা বিনিময় করতে চান তখন তা শুনতে বোকামি মনে হয়... তথ্য জানানো যায় কিন্তু প্রজ্ঞা নয়।
  • শব্দে প্রকাশ করা প্রতিটি চিন্তা একপাক্ষিক এবং অর্ধেক সত্য। এতে পূর্ণতা ও একত্বের অভাব থাকে। বুদ্ধ যখন জগত সম্পর্কে শিখিয়েছেন, তখন তাকে সংসার ও নির্বাণ, ভ্রম ও সত্য এবং দুঃখ ও মুক্তিকে আলাদা করতে হয়েছে। যারা শিক্ষা দেন তাদের এভাবেই করতে হয়। কিন্তু জগত নিজে কখনও একপাক্ষিক নয়। একজন মানুষ কখনোই পুরোপুরি সাধু বা পাপী নয়। আমাদের কেবল মনে হয় যে সময় একটি বাস্তব বিষয়, তাই আমরা একে আলাদাভাবে দেখি।
  • শোনো বন্ধু! আমি একজন পাপী এবং তুমিও একজন পাপী। কিন্তু একদিন এই পাপীই আবার ব্রহ্ম হবে, নির্বাণ লাভ করবে এবং একদিন বুদ্ধ হবে। এই "একদিন" একটি তুলনা মাত্র। পাপী আসলে বুদ্ধ হওয়ার পথে নেই বা সে বিবর্তিত হচ্ছে না। পাপীর মধ্যেই বুদ্ধের সম্ভাবনা বর্তমান; তার ভবিষ্যৎ ইতোমধ্যেই সেখানে আছে। এই সুপ্ত বুদ্ধকে চিনতে হবে। জগত ত্রুটিপূর্ণ নয় বা এটি ধীরে ধীরে পূর্ণতার দিকে যাচ্ছে না। এটি প্রতিটি মুহূর্তেই নিখুঁত। সব পাপের মধ্যেই করুণা লুকিয়ে আছে। সব শিশুই আগামীর বৃদ্ধ। গভীর ধ্যানের মাধ্যমে সময়কে জয় করা সম্ভব। তখন অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে একসাথে দেখা যায় এবং তখন সব কিছুই ভালো ও নিখুঁত মনে হয়।
  • সম্পত্তি লাভের চেষ্টা এবং চরম হতাশার অভিজ্ঞতা আমার প্রয়োজন ছিল। এর মাধ্যমেই আমি শিখতে পেরেছি যে পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই না করে একে ভালোবাসতে হয়। কল্পনার জগতের সাথে তুলনা না করে বাস্তবকে গ্রহণ করাই হলো সার্থকতা।
  • শব্দ চিন্তাগুলোকে খুব ভালো করে প্রকাশ করতে পারে না। প্রকাশের পরপরই সেগুলো কিছুটা বদলে যায় এবং কিছুটা বিকৃত ও বোকামি মনে হয়। তবুও একজনের কাছে যা প্রজ্ঞা মনে হয় অন্যজনের কাছে তা অর্থহীন মনে হতে পারে।
  • ভালোবাসাই এই পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। বড় চিন্তাবিদদের কাছে পৃথিবীকে বিশ্লেষণ করা বা অবজ্ঞা করা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু আমি মনে করি পৃথিবীকে ভালোবাসা এবং সব জীবের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করাই হলো একমাত্র জরুরি কাজ।

স্টেপেনউলফ (১৯২৭)

[সম্পাদনা]
নিজের সত্তার বিসর্জন ছাড়া মানুষ গভীরভাবে বাঁচতে পারে না। বুর্জোয়ারা তাদের অস্তিত্বের সুরক্ষাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। তারা প্রজ্ঞার চেয়ে মানসিক শান্তি, আনন্দের চেয়ে আরাম এবং স্বাধীনতার চেয়ে সুবিধাকে বেশি পছন্দ করে। বুর্জোয়ারা স্বভাবতই দুর্বল এবং তাদের শাসন করা সহজ।
  • প্রতিবেশী বা বাইরের জগতের জন্য তার ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রচেষ্টার শেষ ছিল না। তিনি কারো ক্ষতি করতে চাইতেন না। তার প্রতিবেশীর প্রতি ভালোবাসা ছিল তার নিজের প্রতি ঘৃণার মতোই গভীর। তার জীবন ছিল একটি উদাহরণ যে নিজেকে না ভালোবাসলে প্রতিবেশীকে ভালোবাসা সম্ভব নয়। নিজের প্রতি ঘৃণা আসলে এক ধরণের স্বার্থপরতা যা মানুষকে একাকীত্ব ও হতাশার দিকে ঠেলে দেয়।
  • অধিকাংশ মানুষ সাঁতার শেখার আগে পানিতে নামতে চায় না। এটি কি মজার নয়? স্বাভাবিকভাবেই তারা নামবে না! তারা মাটির জন্য জন্মেছে, পানির জন্য নয়। তেমনি তারা চিন্তাও করবে না। তারা জীবন যাপনের জন্য জন্মেছে, চিন্তা করার জন্য নয়। যারা চিন্তাকেই পেশা হিসেবে নেয় তারা হয়তো অনেক দূর যাবে কিন্তু তারা স্থলের বদলে পানি বেছে নিয়েছে এবং একদিন তারা ডুবে যাবে।
  • মানুষের জীবন তখনই প্রকৃত যন্ত্রণায় বা নরকে পরিণত হয় যখন দুটি যুগ, দুটি সংস্কৃতি এবং ধর্ম একে অপরের ওপর এসে পড়ে।
  • আমি কল্পনায় স্বর্গের মধ্য দিয়ে গিয়েছি এবং ঈশ্বরকে কাজ করতে দেখেছি। আমি পবিত্র বেদনা অনুভব করেছি। আমি আমার সব প্রতিরক্ষা ছেড়ে দিয়েছি এবং জগতের কোনো কিছুকেই ভয় পাইনি। আমি সব কিছু গ্রহণ করেছি এবং সব কিছুর কাছে নিজের হৃদয় সঁপে দিয়েছি।
  • আমি সেই সাধারণ আনন্দগুলো বুঝতে পারি না যেগুলোর জন্য হাজার হাজার মানুষ লড়াই করে। অন্যদিকে আমার বিরল মুহূর্তের আনন্দগুলো বাইরের জগত বোকামি মনে করে। যদি ক্যাফের সংগীত এবং সাধারণ আমোদ-প্রমোদই সঠিক হয়, তবে আমি ভুল এবং পাগল। আমি আসলে সেই স্টেপেনউলফ যার কোনো বাড়ি নেই এবং যে এই অবোধ্য জগতে কোনো খাবার বা আনন্দ খুঁজে পায় না।
  • জাদুকরী থিয়েটার। সবার প্রবেশের অধিকার নেই।
  • উষ্ণতার জন্য বৃথা আকাঙ্ক্ষায় নিজেকে ক্ষয় করা কত বড় বোকামি! নিঃসঙ্গতাই স্বাধীনতা। এটিই আমার ইচ্ছা ছিল এবং বছরের ব্যবধানে আমি তা অর্জন করেছি। এটি শীতল ছিল, কিন্তু এটি মহাকাশের শীতল স্তব্ধতার মতো চমৎকার ও বিশাল ছিল।
  • এই ব্যক্তিদের সবার ভেতরে দুটি আত্মা বা দুটি সত্তা বাস করে। তাদের মধ্যে ঈশ্বর এবং শয়তান উভয়ই আছে। সুখ এবং দুঃখ সহ্য করার ক্ষমতাও আছে। হ্যারির মধ্যে নেকড়ে এবং মানুষের যে দ্বন্দ্ব ছিল এটিও ঠিক তেমনই।
  • অনেক বেশি আত্মহত্যার পেছনের কারণ হলো এই ধারণা যে বিপদে বের হওয়ার রাস্তা বা আত্মহত্যার পথ সবসময়ই খোলা থাকে।
  • মানুষ একশটি স্তর দিয়ে তৈরি একটি পিঁয়াজের মতো বা অনেক সুতো দিয়ে বোনা একটি কাপড়ের মতো।
  • মানুষ কোনো নির্দিষ্ট বা স্থায়ী রূপ নয়। সে বরং একটি পরীক্ষা এবং একটি পরিবর্তনশীল অবস্থা। সে প্রকৃতি এবং আত্মার মধ্যকার একটি সরু ও বিপজ্জনক সেতু। তার নিয়তি তাকে ঈশ্বরের দিকে টানে আর তার আকাঙ্ক্ষা তাকে প্রকৃতির দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এই দুই শক্তির মাঝেই মানুষের জীবন দোদুল্যমান।
  • প্রতিটি মানুষের নিজের সত্তাকে একটি অখণ্ড একক হিসেবে দেখার প্রয়োজনীয়তা জন্মগত। এই ভ্রম যতবারই ভেঙে যাক না কেন, এটি আবার জোড়া লেগে যায়।
  • আমাদের পুরো সভ্যতা এখন একটি কবরস্থান। যেখানে যিশু খ্রিস্ট, সক্রেটিস বা দান্তে কেবল পাথরে খোদাই করা নাম। যারা এই কবরের সামনে দাঁড়িয়ে শোকের ভণ্ডামি করে তারা একসময় পবিত্র থাকা এই নামগুলোতে বিশ্বাস করতে অনেক কিছু দিতে পারে। কিন্তু এখন তাদের কেবল বিব্রতকর মুখভঙ্গি ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
  • তারা আসলে না চাইলেও সবার সাথে কথা বলে এবং ডেস্কে বসে কাজ করে। এই সব কিছুই বাধ্যতামূলক ও যান্ত্রিক। এটি যন্তের মাধ্যমেও হতে পারত। এই যান্ত্রিকতাই তাদের নিজেদের জীবন সম্পর্কে সমালোচনা করতে বাধা দেয়। তারা জীবনকে যাপন করছে, ব্যবসা করছে কিন্তু তারা শূন্যতার দিকে তাকিয়ে নেই।
  • শরীর হিসেবে প্রত্যেকে একক, কিন্তু আত্মা হিসেবে কখনোই নয়।
  • জন্ম মানেই অখণ্ডতা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া, সীমাবদ্ধতায় বন্দি হওয়া এবং ঈশ্বর থেকে দূরে সরে যাওয়া। অখণ্ডতায় ফিরে যাওয়া এবং ঈশ্বরের সাথে পুনরায় মিলনই হলো আত্মার মুক্তি।
  • "মৃত ব্যক্তিদের খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়। এটি তাদের প্রতি অন্যায়। আমরা অমররা কোনো কিছুকে গুরুত্ব দিতে পছন্দ করি না। আমরা কৌতুক পছন্দ করি। গুরুত্ব দেওয়া হলো সময়ের একটি দুর্ঘটনা। অসীমতায় কোনো সময় নেই। অনাদিকাল হলো একটি মুহূর্ত মাত্র, যা একটি কৌতুকের জন্য যথেষ্ট দীর্ঘ।"
  • আপনার বিশ্বাস শ্বাস নেওয়ার জন্য আর বাতাস খুঁজে পাচ্ছে না। আর শ্বাসরোধ হয়ে মরা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।
  • প্রথমবার আমি গ্যোতের হাসি বুঝতে পারলাম যা ছিল অমরদের হাসি। এটি কোনো উদ্দেশ্যহীন হাসি ছিল। এটি ছিল কেবল আলো এবং স্বচ্ছতা। এটি সেই জিনিস যা একজন মানুষ সব দুঃখ, ভুল এবং আবেগ কাটিয়ে অসীমতায় পৌঁছানোর পর অবশিষ্ট থাকে।
  • "মানুষ যখন নিজের যুক্তিকে অতিরিক্ত ব্যবহার করে এমন সব বিষয়কে নিয়মের মধ্যে আনতে চায় যা যৌক্তিক নয়, তখন তা ভালো ফল দেয় না। মানুষের রূপ একসময় উচ্চ আদর্শ ছিল কিন্তু এখন তা যন্ত্রে তৈরি পণ্যে পরিণত হচ্ছে। হয়তো আমাদের মতো পাগলদেরই একে আবার মহিমান্বিত করতে হবে।"
  • "জীবন সবসময়ই ভয়াবহ। আমরা এর জন্য দায়ী না হলেও আমরাই এর জন্য দায়বদ্ধ। জন্মের পরপরই মানুষ দোষী হয়ে যায়।"
  • একদিন আমি এই খেলায় আরও দক্ষ হব। একদিন আমি হাসতে শিখব। পাবলো আমার জন্য অপেক্ষা করছিল এবং মোৎসার্টও।

নার্সিসাস অ্যান্ড গোল্ডমুন্ড (১৯৩০)

[সম্পাদনা]
আপনি যাকে আবেগ বলেন তা আধ্যাত্মিক শক্তি নয়, বরং আত্মা এবং বাইরের জগতের মধ্যকার ঘর্ষণ।
  • মারিয়াব্রন মঠের প্রবেশপথে একটি একাকী চেস্টনাট গাছ দাঁড়িয়ে ছিল। এটি ছিল একটি মহৎ ও শক্তিশালী গাছ যা শীতের বাতাসকে উপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে থাকত। এটি বসন্তে সবার পরে সবুজ হতো এবং অক্টোবরে যখন সব ফসল তোলা হয়ে যেত তখন তার ফলগুলো ঝরিয়ে দিত। মঠের ছাত্ররা এই গাছের নিচ দিয়ে বছরের পর বছর যাতায়াত করত।
  • মঠের সেই লাল পাথরের স্তম্ভ এবং খিলান দেওয়া কক্ষে সন্ন্যাসীরা বাস করতেন এবং শিক্ষা দিতেন। সেখানে বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখা, ধর্ম এবং জাগতিক জ্ঞান সব কিছুই চর্চা করা হতো।
  • সেখানে অনুশোচনা এবং নিঃসঙ্গতার যেমন জায়গা ছিল তেমনি ভালো জীবনযাপন এবং বন্ধুত্বেরও স্থান ছিল।
  • গোল্ডমুন্ড মঠে প্রবেশ করে ভয় পেল না। কারণ সে অনুভব করেছিল যে সে দুটি সত্তার দেখা পেয়েছে—একটি গাছ এবং অন্যটি দারোয়ান—যাদের সাথে খুব সহজেই বন্ধুত্ব করা সম্ভব।
  • নার্সিসাস: "বিজ্ঞান হলো পার্থক্য খুঁজে পাওয়ার এক অদ্ভুত আকাঙ্ক্ষা। মানুষের জন্য পার্থক্যের সুস্পষ্ট সংজ্ঞার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই। উদাহরণস্বরূপ, প্রতিটি মানুষের মধ্যে এমন চিহ্ন খুঁজে বের করা যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে—এটিই হলো তাকে জানা।"
  • আমাদের উদ্দেশ্য একে অপরের মতো হওয়া নয়; বরং পরস্পরকে চেনা এবং সম্মান জানানো। আমরা প্রত্যেকেই একে অপরের বিপরীত এবং পরিপূরক সত্তা।
  • "গোল্ডমুন্ড, একজন পুরুষ কেবল তার বধূকেই চুম্বন করতে পারে। তুমি কি তা ভেবে দেখনি?" গোল্ডমুন্ড: "না, আমি তা ভাবিনি। আমি জানি তুমি কখনোই আমার বধূ হতে পারবে না। আমি কেবল এটুকুই চাই যে একদিন তুমি আমাকে চুম্বন করবে। আমরা খুব বেশি কথা বলছি; প্রেমিকদের এত কথা বলতে নেই।"
  • আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই, জীবনের অস্থিরতায় শিউরে উঠি এবং পাতা ঝরা দেখে কষ্ট পাই। আমরা জানি আমাদের অস্তিত্বও ক্ষণস্থায়ী। শিল্পীরা যখন ছবি আঁকেন এবং চিন্তাবিদরা যখন নিয়ম খোঁজেন, তখন তারা আসলে মৃত্যুর এই মহাতাণ্ডব থেকে কিছু একটা রক্ষা করতে চান। তারা এমন কিছু তৈরি করতে চান যা আমাদের চেয়ে বেশিদিন টিকে থাকবে।
  • সব অস্তিত্বই দ্বৈততা বা বৈপরীত্যের ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে। কেউ পুরুষ অথবা নারী, কেউ যাযাবর অথবা স্থায়ী বাসিন্দা, কেউ চিন্তাশীল অথবা অনুভূতিপ্রবণ। কেউ একসাথে নিঃশ্বাস নিতে এবং ছাড়তে পারে না। একটি পেতে হলে অন্যটি হারাতে হয় এবং উভয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
  • এই জীবন কত রহস্যময় ছিল! এর পানি কত গভীর ও কর্দমাক্ত ছিল, তবুও সেখান থেকে কত নির্মল ও মহৎ কিছু বেরিয়ে এসেছিল।
  • স্বপ্ন এবং সত্যিই মহান শিল্পকর্মের মধ্যে একটি মিল আছে—আর তা হলো রহস্য।
  • আমি যদি জানি ভালোবাসা কী, তবে তা তোমার কারণেই জেনেছি।
  • মা ছাড়া কেউ ভালোবাসতে পারে না। মা ছাড়া কেউ মরতেও পারে না।

জার্নি টু দ্য ইস্ট (১৯৩২)

[সম্পাদনা]
  • একটি মহান অভিজ্ঞতার অংশ হওয়া ছিল আমার নিয়তি। 'লিগ'-এর সদস্য হওয়ার সুযোগ পাওয়ায় আমি এক অনন্য যাত্রায় অংশ নিতে পেরেছি। সেই যাত্রার মহিমা ছিল এক ধুমকেতুর মতো উজ্জ্বল, যা খুব দ্রুত মানুষ ভুলে গেছে।
  • শব্দ চিন্তাগুলোকে খুব ভালো করে প্রকাশ করতে পারে না। প্রকাশের পরপরই সেগুলো কিছুটা বদলে যায় এবং কিছুটা বিকৃত ও বোকামি মনে হয়। তবুও একজনের কাছে যা প্রজ্ঞা মনে হয় অন্যজনের কাছে তা অর্থহীন মনে হতে পারে।
  • এটি সেবার নিয়ম। যে দীর্ঘকাল বাঁচতে চায় তাকে অবশ্যই সেবা করতে হবে। কিন্তু যে শাসন করতে চায় সে বেশিদিন বাঁচে না।
  • আমাদের যাত্রার লক্ষ্য কেবল পূর্ব দিক ছিল না বা এটি কোনো ভৌগোলিক দেশ ছিল না। এটি ছিল আত্মার যৌবন এবং বাড়ি। এটি সব সময়ের একত্ব।

দ্য গ্লাস বিড গেম (১৯৪৩)

[সম্পাদনা]
আপনি যে পরম ও নিখুঁত মতবাদটি চাইছেন তা আসলে নেই। আপনার উচিত নিজের পূর্ণতা খোঁজা। ঈশ্বর আপনার ভেতরেই আছেন, বই বা আইডিয়ার মধ্যে নয়। সত্য যাপন করতে হয়, শেখানো যায় না।
  • যদিও হালকা মনের মানুষদের কাছে অস্তিত্বহীন বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা সহজ, কিন্তু একজন গম্ভীর ও সচেতন ইতিহাসবিদের কাছে এটি সম্পূর্ণ উল্টো। যে জিনিসের অস্তিত্ব নেই বা প্রমাণিত নয় তা নিয়ে কথা বলা কঠিন কিন্তু অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। যখন সচেতন মানুষ এগুলোকে বাস্তব হিসেবে গ্রহণ করেন তখনই সেগুলোর অস্তিত্ব লাভের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
  • গ্লাস বিড গেম একসময় গণিতবিদ, ভাষাবিদ বা সংগীতশিল্পীদের বিনোদন ছিল। কিন্তু এখন এটি সব বুদ্ধিজীবীকে আবিষ্ট করেছে। এমনকি ক্যাথলিক সন্ন্যাসীরাও এই গেমের প্রতি ঝুঁকেছেন।
  • আগে গেমের মূল বিষয় ছিল দ্রুত মনোযোগ এবং স্মৃতিশক্তির ব্যবহার। কিন্তু এখন আরও গভীর এবং আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গির দাবি উঠেছে।
  • প্রতিটি প্রতীকের ব্যবহারের পর খেলোয়াড়কে সেই প্রতীকের অর্থ এবং উৎস নিয়ে গম্ভীর ধ্যানে মগ্ন হতে হতো। এর ফলে গেমের চিহ্নগুলো কেবল অর্থহীন চিহ্নে পরিণত হতো না।
  • সংগীত এবং গণিতের নিয়ম অনুযায়ী এই গেম পরিচালিত হতো। এটি বাখ-এর সংগীত বা উপনিষদের কোনো বাণীর ওপর ভিত্তি করেও শুরু হতে পারত। এর মাধ্যমে ধ্রুপদী সংগীতের সাথে প্রাকৃতিক নিয়মের মিল খুঁজে বের করা হতো।
  • গেমের লক্ষ্য ছিল দুটি বিপরীত ধারণা যেমন আইন ও স্বাধীনতা বা ব্যক্তি ও সমাজকে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ফুটিয়ে তোলা। এটি ছিল পূর্ণতা খোঁজার এক প্রতীকী রূপ—যা সব বৈচিত্র্যের ঊর্ধ্বে অখণ্ড চেতনার দিকে বা ঈশ্বরের দিকে নিয়ে যেত।
  • যোগ্যতম হওয়ার জন্য আধ্যাত্মিক শক্তি এবং উষ্ণতার প্রয়োজন। আপনি যাকে আবেগ বলেন তা আধ্যাত্মিক শক্তি নয় বরং আত্মা এবং বাইরের জগতের মধ্যকার ঘর্ষণ। যেখানে আবেগের আধিপত্য থাকে সেখানে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ভুল পথে পরিচালিত হয়।
  • যারা তাদের সব ইচ্ছার শক্তি কেন্দ্রের দিকে বা সত্য সত্তার দিকে চালিত করেন তারা অনেক সময় শান্ত থাকেন। তাদের সেই তেজ সব সময় বাইরে থেকে দেখা যায় না।
  • "সত্য আছে আমার ছেলে। কিন্তু আপনি যে নিখুঁত মতবাদটি চাইছেন যা প্রজ্ঞা দেবে, তার কোনো অস্তিত্ব নেই। আপনার বরং নিজের পূর্ণতা খোঁজা উচিত। ঈশ্বর আপনার ভেতরেই আছেন, বই বা আইডিয়ার মধ্যে নয়। সত্য যাপন করতে হয়, শেখানো যায় না।"
  • মানুষের ওপর ক্ষমতা প্রদর্শন করা এবং অন্যদের সামনে উজ্জ্বল হওয়া ছিল প্রলুব্ধকর। কিন্তু ক্ষমতার নিজস্ব বিপদ আছে। ইতিহাসের সব শাসক বা নেতা শুরুতে ভালো থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে গেছেন।
  • এটি দুঃখজনক যে তোমরা শিক্ষার্থীরা যে প্রাচুর্যের মধ্যে বাস করছ সে সম্পর্কে সচেতন নও। আমরা যখন পড়াশোনা করি তখন মনে করি আমরা খুব পরিশ্রম করছি কিন্তু আমরা আমাদের স্বাধীনতার গুরুত্ব বুঝি না। যখন কর্মজীবনে প্রবেশ করি তখন দায়িত্বের জালে এমনভাবে আটকে যাই যা দিন দিন আরও শক্ত হয়।
  • প্রতিটি কাজ হয়তো ছোট কিন্তু সেগুলো নির্দিষ্ট সময়েই করতে হয়। ক্লাসরুম, মিটিং এবং অফিসের কাজের চাপে আমরা আমাদের ফেলে আসা স্বাধীনতার কথা মনে করে দীর্ঘশ্বাস ফেলি।
  • বাদ্যযন্ত্র শিল্পী হওয়ার মাধ্যমে তিনি সংগীতকে মানুষের উচ্চতর লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। সংগীত তার শরীর ও আত্মার প্রতিটি অঙ্গে মিশে গিয়েছিল—তার হাতের আঙুল থেকে শুরু করে হৃদস্পন্দন ও স্বপ্ন পর্যন্ত। তিনি তখন কেবল সংগীতের এক মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।
  • আমি হঠাৎ বুঝতে পারলাম যে গ্লাস বিড গেমের স্পিরিটে সব কিছুই অর্থবহ। প্রতিটি প্রতীকের সমন্বয় জগতের অন্তর্নিহিত রহস্যের দিকে নিয়ে যায়। একটি সংগীতের সুর পরিবর্তন বা কোনো ধর্মের রূপান্তর আসলে মহাজাগতিক রহস্যের এক একটি পথ—যেখানে নিঃশ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার মাঝে পবিত্রতা সৃষ্টি হচ্ছে।

ধাপসমূহ

[সম্পাদনা]
  • প্রতিটি ফুল যেমন শুকিয়ে যায় এবং যৌবন ফুরিয়ে যায়,
জীবনের প্রতিটি ধাপ এবং সত্যের বোধও তেমনি চিরস্থায়ী নয়।
জীবন যখনই আমাদের ডাক দেবে, হৃদয় যেন প্রস্তুত থাকে
পুরনো বন্ধন ছিন্ন করে নতুন আলোর খোঁজে বেরিয়ে পড়তে।
প্রতিটি শুরুতেই এক জাদুকরী শক্তি থাকে যা আমাদের বাঁচতে সাহায্য করে।
আসুন আমরা শান্ত মনে অজানার দিকে এগিয়ে যাই।
মহাজাগতিক চেতনা আমাদের আটকে রাখতে চায় না বরং ধাপে ধাপে বিশালতার দিকে নিয়ে যায়।
আমরা যদি নিজের তৈরি ঘরেই আটকে থাকি তবে অলসতা আমাদের গ্রাস করবে।
আমাদের বিচ্ছেদের জন্য প্রস্তুত হতে হবে নাহলে আমরা অভ্যাসের দাস হয়ে থাকব।
এমনকি মৃত্যুর মুহূর্তও আমাদের নতুন কোনো জগতের দিকে পাঠিয়ে দিতে পারে।
তাই হে হৃদয়—হাসিমুখে বিদায় জানাও।

হেরমান হেস সম্পর্কে উক্তি

[সম্পাদনা]
  • "খুব কম লেখকই মানুষের আত্মার ক্রমবিকাশকে এত নির্ভীক সততা এবং স্বচ্ছতার সাথে বর্ণনা করেছেন।" — ড. টিমোথি লিয়ারি
  • "সামগ্রিকভাবে হেসের অর্জন আধুনিক সাহিত্যে অতুলনীয়। এটি একটি ধর্মীয় ধারণার ক্রমাগত উন্নতি যা মানুষকে আরও সমৃদ্ধভাবে বাঁচতে শেখায়। হেসের কল্পনাশক্তি শেক্সপিয়র বা তলস্তয়ের মতো না হলেও তার ধারণার প্রাণশক্তি অতুলনীয়। তিনি একজন ঔপন্যাসিক যিনি উপন্যাসের মাধ্যমে আমাদের জীবনের করণীয় নিয়ে অনুসন্ধান করেছেন।" — কলিন উইলসন, 'দি আউটসাইডার' (১৯৫৬)
  • হেস মেধাবী শিশুদের মতো ছিলেন যাদের বাবা-মায়ের কাছে সহ্য করা কঠিন ছিল—তার অঢেল অভ্যন্তরীণ সম্পদের কারণে। একটি শিশুর তীব্র অনুভূতি এবং কৌতূহল অনেক সময় বাবা-মায়ের তৈরি করা নিয়মের সাথে সংঘর্ষ তৈরি করে। হেসের শৈশবও ঠিক তেমনই ছিল।
  • ১৯১৮ সালের ডায়েরিতে হেরমান হেস একটি স্বপ্নের কথা লিখেছিলেন যেখানে তিনি দুটি কণ্ঠস্বর শুনতে পান। প্রথমটি তাকে কষ্ট জয় করে শান্ত হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছিল—যা ছিল স্কুল বা চার্চের মতো। কিন্তু দ্বিতীয় কণ্ঠস্বরটি বলছিল যে কষ্ট তখনই লাগে যখন আপনি তাকে ভয় পান বা তা থেকে পালাতে চান। তুমি নিজের গভীরে জানো যে ভালোবাসাই একমাত্র শক্তি এবং মুক্তি। তাই নিজের কষ্টকে ভালোবাসো। এর বিরুদ্ধে লড়াই করো না, একে গ্রহণ করো। কেবল তোমার অনিচ্ছাই তোমাকে কষ্ট দেয়, অন্য কিছু নয়।
    • ম্যারিলিন ফার্গুসন, দি অ্যাকোয়ারিয়ান কন্সপিরেসি (১৯৮০)

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]