বিষয়বস্তুতে চলুন

হোমি জাহাঙ্গীর ভাভা

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

হোমি জাহাঙ্গীর ভাভা, এফআরএস (৩০ অক্টোবর ১৯০৯ – ২৪ জানুয়ারি ১৯৬৬) ছিলেন একজন ভারতীয় পরমাণু পদার্থবিজ্ঞানী এবং ভারতের পরমাণু শক্তি কর্মসূচির প্রধান স্থপতি। তিনি দুটি বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার জন্য অবদান রেখেছিলেন: টাটা মৌলিক গবেষণা ইনস্টিটিউট (টিআইএফআর) এবং ট্রম্বেতে পরমাণু শক্তি প্রতিষ্ঠান, যা তার মৃত্যুর পর ভাভা পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র (বার্ক) নামে নামকরণ করা হয়। একজন বিজ্ঞানী হিসেবে, ইলেকট্রন দ্বারা পজিট্রন বিচ্ছুরণের সম্ভাবনার সঠিক গাণিতিক রূপের জন্য তিনি স্মরণীয়, যা এখন ভাভা স্ক্যাটারিং নামে পরিচিত।

একটিই তো মন্ত্র আমার—জীবনের প্রতি এই সচেতনাকে করব অগ্নিস্ফুলিঙ্গ, দিনে দিনে উজ্জ্বলতর।

উক্তি

[সম্পাদনা]
পদার্থবিদ্যাই আমার একমাত্র পথ। আমি নিশ্চিত, এখানেই আমি মহৎ কিছু সাধন করব।
আমার সাফল্য হলো আমার কাজের মধ্য দিয়েই আমি যা সৃষ্টি করি।
  • ‘‘আমি সুস্পষ্ট জানি নিজের জীবন থেকে কী চাই। জীবন আর অনুভূতির স্পন্দনেই আমি জাগ্রত—এই সচেতনতার মায়াজালেই ডুবে থাকতে চাই, এর গভীরে যতটা পারি ডুব দিতে।’’ কিন্তু জীবনের পরিসর সীমিত। মৃত্যু-পরবাসের রহস্য কে জানে? জানার বাসনাও আমার নাই। যেহেতু সময়ের পরিধি বাড়ানো যায় না, তাই তো জীবনের গভীরতা বাড়াব—শিল্পকলার সুরে, সঙ্গীতের তালে, কবিতার ছন্দে, সবকিছুর মেলবন্ধনে। একটিই তো মন্ত্র আমার—জীবনের প্রতি এই সচেতনাকে করব অগ্নিস্ফুলিঙ্গ, দিনে দিনে উজ্জ্বলতর।
  • "পিতৃপ্রিয়, গম্ভীরভাবে নিবেদন—ব্যবসা বা প্রকৌশলী হিসাবে কর্মজীবন আমার জন্য নয়। এটি আমার স্বভাব, মেজাজ ও বিশ্বাস—সবকিছুর সঙ্গেই সাংঘর্ষিক। পদার্থবিদ্যাই আমার একমাত্র পথ। আমি নিশ্চিত, এখানেই আমি মহৎ কিছু সাধন করব। কারণ, মানুষ কেবলমাত্র সেই কাজেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে, যার প্রতি তার গভীর অনুরাগ, যেখানে তার অটুট বিশ্বাস—যখন সে ভাবে সেখানেই তার সর্ব সাধনা, তখনই নিয়তি সুনির্দিষ্ট।... পদার্থবিদ্যা চর্চার জন্য আমার অন্তরে অদম্য তৃষ্ণা। আমাকে এ পথেই অগ্রসর হতে হবে। এটিই আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। 'সফল' ব্যক্তি বা বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের প্রধান হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমার নয়। যারা এতে আনন্দ পান, তাদের জন্যই সে পথ উন্মুক্ত। বিটোভেনকে বললে কী লাভ—'বিজ্ঞানী হও, এটি মহান পেশা!' যখন বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর সামান্যতম অনুরাগও ছিল না? অথবা সক্রেটিসকে নির্দেশ দিলে কী ফল—'প্রকৌশলী হও, বুদ্ধিমানের এটাই করণীয়'? এগুলো প্রকৃতির নিয়মের পরিপন্থী। তাই, বিনীত প্রার্থনা—আমাকে পদার্থবিদ্যা অধ্যয়নের অনুমতি দিন।"
    • পিতার উদ্দেশ্যে লিখিত চিঠি—যান্ত্রিক প্রকৌশলের পরিবর্তে পদার্থবিদ্যা অধ্যয়নের আকাঙ্ক্ষা জানানো। পিতা শর্তারোপ করেছিলেন: যান্ত্রিক প্রকৌশলের ট্রাইপস (কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পরীক্ষা) প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হতে হবে। ভাভা তা পূরণ করেন এবং পরবর্তীতে গাণিতিক ট্রাইপসেও প্রথম শ্রেণী লাভ করেন। বিজ্ঞান প্রসার বিজ্ঞান পোর্টালের "হোমি জেহাঙ্গীর ভাভা" প্রোফাইলে উদ্ধৃত।
  • "বর্তমানে ভারতবর্ষে তাত্ত্বিক ও পরীক্ষামূলক—উভয় ক্ষেত্রেই পদার্থবিদ্যার মৌলিক সমস্যা নিয়ে গবেষণার কোনো বৃহৎ প্রতিষ্ঠান নেই। তবে সারা দেশজুড়ে দক্ষ গবেষক ছড়িয়ে রয়েছেন, যাদের একত্রিত করে উপযুক্ত নির্দেশনায় নিয়ে এলে তাদের কাজের গুণগত মান আরও উৎকর্ষ পাবে। পদার্থবিদ্যার মৌলিক গবেষণায় একটি প্রাণবন্ত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ভারতের জন্য অপরিহার্য, কারণ এমন একটি প্রতিষ্ঠানই গবেষণার অগ্রভাগ হিসেবে কাজ করবে—কেবল কম উন্নত শাখাতেই নয়, শিল্পক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক প্রায়োগিক সমস্যা সমাধানেও। বর্তমানে ভারতে যে প্রায়োগিক গবেষণা চলছে তার অধিকাংশই হতাশাজনক বা নিম্নমানের, যা সম্পূর্ণরূপে দক্ষ মৌলিক গবেষকের অভাবের ফল। এরা গবেষণার মান নির্ধারণ করতেন এবং উপদেষ্টা হিসাবে নির্দেশনা দিতেন... এছাড়া, যখন আগামী কয়েক দশকে পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনে সফলভাবে প্রয়োগ করা হবে, তখন ভারতকে বিদেশী বিশেষজ্ঞের মুখাপেক্ষী হতে হবে না—দেশেই তাদের পাওয়া যাবে। আমি মনে করি, অন্যান্য দেশের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল যে কেউই ভারতের জন্য আমার প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করবেন।
    গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্র হবে তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যা—বিশেষত মহাজাগতিক রশ্মি ও নিউক্লীয় পদার্থবিদ্যার মৌলিক সমস্যাসমূহ—এবং মহাজাগতিক রশ্মির পরীক্ষামূলক অনুসন্ধান। নিউক্লীয় পদার্থবিদ্যা ও মহাজাগতিক রশ্মির মধ্যে তাত্ত্বিক সংযোগ অত্যন্ত নিবিড় হওয়ায় এদের পৃথক করা সম্ভব বা কাম্যও নয়।"
  • "ভারতবর্ষে আমরা প্রায়শই এ বিশ্বাস পোষণ করি যে সরকারি আদেশ বা ডিক্রির মাধ্যমেই উৎকৃষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায়। কিন্তু একটি বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান—তা গবেষণাগার হোক বা একাডেমি—লালন করতে হয় সযত্নে, গাছের মতো। এর গুণগত মান ও অর্জনের বৃদ্ধি কেবল সীমিত পর্যায়েই ত্বরান্বিত করা সম্ভব। এটি এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে অসংখ্য মাঝারি মানের বা দ্বিতীয় শ্রেণীর গবেষকও কয়েকজন অসাধারণ মেধাবীর অভাব পূরণ করতে পারে না। আর সেই মেধাবীরা গড়ে উঠতেই কমপক্ষে ১০-১৫ বছর সময় নেন।
    আমাদের অনেক জাতীয় গবেষণাগারই তৈরি হয়েছে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র নির্বাচন করে এবং বিদেশী বৃহৎ গবেষণাগারের আদলে সংগঠনমূলক কাঠামো ঠিক করে। এরপর সহজ-সরল মনে ধরে নেওয়া হয়েছে যে বিজ্ঞাপন দিয়েই সেই কাঠামোর পদগুলো পূরণ করা যাবে। এটা ভুলে গিয়ে যে, প্রয়োজনীয় উচ্চমানের গবেষক ভারতে নেই, অথবা তাদের পাওয়া গেলেও তা অন্য প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে তুলবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, যা সর্বদাই দুর্বল ছিল, এই প্রক্রিয়ায় আরও দুর্বল হয়েছে।"
    • গবেষণা প্রতিষ্ঠান গঠন প্রসঙ্গে ভারতীয় জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমিতে দেওয়া ভাষণ (১৯৬৩), বিজ্ঞান প্রসার পোর্টালের "হোমি জেহাঙ্গীর ভাভা" প্রোফাইলে উদ্ধৃত।
  • "আমার সাফল্য নির্ভর করে না কে বা কারা আমার ব্যাপারে কী ভাবে। আমার সাফল্য হলো আমার কাজের মধ্য দিয়েই আমি যা সৃষ্টি করি।"

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]