বিষয়বস্তুতে চলুন

২০০২ ফিফা বিশ্বকাপ

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
বিশ্বকাপ চলাকালীন, যখন প্রত্যেক কোরিয়ান তাদের কোরিয়া দলের ‘রেড ডেভিল’ সমর্থক হয়ে উঠেছিল, তখন তারা এমন এক অসাধারণ ছাপ ফেলেছিল যে, বিদেশী ভক্তরাও তাদের সেই কর্মকাণ্ডের অংশ হতে একদম ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল। ~মাইকেল ব্রিন

২০০২ ফিফা বিশ্বকাপ ছিল ফিফা আয়োজিত পুরুষদের জাতীয় ফুটবল দলগুলোর ১৭তম বিশ্ব আসর। ২০০২ সালের ৩১ মে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের মাটিতে যৌথভাবে এই ফুটবল মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। টুর্নামেন্টের জমকালো ফাইনাল ম্যাচটি বসেছিল জাপানের ইয়োকোহামা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। প্রথমবারের মতো এশিয়া মহাদেশে এবং ইউরোপআমেরিকার বাইরে আয়োজিত এই বিশ্বকাপে মোট ৩২টি দল লড়াই করেছিল। চীন, ইকুয়েডর, সেনেগাল এবং স্লোভেনিয়া—এই চারটি দেশের জন্য এটিই ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম পদার্পণ।

উক্তি

[সম্পাদনা]
এই খেলাটি জিততে হলে সত্যিকারের পুরুষ হতে হবে, বুঝেছ? ছোট ছেলেদের মতো খেললে চলবে না। আর আজকে আমরা সেই পৌরুষই প্রমাণ করতে যাচ্ছি। এই দলটিকে (মেক্সিকো জাতীয় ফুটবল দল) আমাদের (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পুরুষ ফুটবল দল) হারানোর সক্ষমতা আছে, এবং আমরা তাদের হারাবই। ~ ব্রুস এরিনা
  • বিশ্বকাপের সেই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিটি মানুষ যখন তাদের জাতীয় দলের সমর্থনে 'রেড ডেভিল' হয়ে উঠেছিল, তখন তারা এমন এক অভাবনীয় আবহ তৈরি করেছিল যে—বিদেশি ভক্তরাও মনেপ্রাণে সেই উন্মাদনার অংশ হতে চেয়েছিলেন।
  • অভিজ্ঞ স্টুয়ার্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কর্নার নিতে যাচ্ছেন। এই যে ব্রায়ান ম্যাকব্রাইড, বলটি তবে ক্লিয়ার হলো না, এইতো জন ও'ব্রায়েন পেয়ে গেলেন! চার মিনিটের মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লিড নিয়ে নিল... পর্তুগাল এখন একদম খেই হারিয়ে ফেলেছে এবং তারা আবারও ভুল করে বসল। এই যে বল নিলেন ডনোভান, ক্রস বাড়ালেন। ডিফ্লেক্টেড হলো এবং গোললল!!! দুই-শূন্য! আপনারা কি বিশ্বাস করতে পারছেন না? ল্যান্ডন ডনোভানের ক্রসটি কস্তার গায়ে লেগে ভেতরে ঢুকে গেল। দুই-শূন্য... এই যে সানাহ। আমেরিকানদের কী দারুণ সূচনা, আর এটি হলো তিন নম্বর গোল! ব্রায়ান ম্যাকব্রাইড!
  • মাঝ মাঠে মার্কাডো। পাসটি আটকে দিতে বল ফিরে এলো, সানহ বলটি নিয়ে বাড়ালেন ক্লদিও রেইনার দিকে। রেইনা আবার বল ঘুরিয়ে দিলেন ও'ব্রায়েনকে। লুইস লম্বা দৌড়ে ওভারল্যাপ করছেন। ও'ব্রায়েন বলটি ধরে রেখে মাঠের একদম কোণায় পাঠালেন। লুইস দারুণ গতিতে এগোচ্ছেন। তিনি মাঠের কোণা থেকে বল ঘুরিয়ে দিলেন, এবার মাঝ বরাবর এগিয়ে যাচ্ছেন ডনোভান। বলটি একজনের গায়ে লেগে মাঝখানে আসতেই ডনোভান! গোলল!! দুই-শূন্য!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে... আমেরিকান সকার ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মুহূর্তটি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর মাত্র আড়াই মিনিট দূরে!... ১৯৫০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো গোল না খেয়ে (শাটআউট) খেলা শেষ করতে যাচ্ছে... 'মুক্ত মানুষের দেশ আর সাহসীদের আবাহন' আজ বিশ্বকাপের সেরা আটে পৌঁছে গেছে! বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মেক্সিকোকে দুই-শূন্য গোলে হারিয়ে দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র!

  • বিশ্বকাপের মঞ্চে আমাদের কাছে হেরে যাচ্ছে দেখে ওরা হতাশ হয়ে পড়েছিল। আমার কথা হলো—তুমি আমায় মাথা দিয়ে ঢুস মারতে পারো, লাথি মারতে পারো কিংবা আঘাত করতে পারো, কিন্তু আমি ঠিকই আবার উঠে দাঁড়াব এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাব। মেক্সিকোর বিরুদ্ধে আমার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি ছিল এই বিশ্বকাপের লড়াই এবং আমি একজন বিজয়ী হিসেবেই মাঠ ছেড়েছিলাম।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]