২০২২ বীরভূম সহিংসতা
অবয়ব
২০২২ বীরভূম সহিংসতা (যা বীরভূম হত্যাকাণ্ড নামেও পরিচিত) ২০২২ সালের ২১ মার্চ ভারতের বীরভূম জেলার রামপুরহাট মহকুমার বকটাই (বগতুই, বগটুই) গ্রামে ঘটেছিল। তৃণমূলের উপ-প্রধান ভাদু শেখের মৃত্যুর পর এই ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত চারটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল।
উক্তি
[সম্পাদনা]- তিনি তার বক্তৃতায় বীরভূমের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনার জন্য আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। আমি আশা করি যে রাজ্য সরকার বাংলার পবিত্র মাটিতে এমন জঘন্য পাপ যারা করেছে তাদের অবশ্যই শাস্তি দেবে।” তিনি আরও বলেন, “আমি বাংলার মানুষকেও অনুরোধ করব তারা যেন এই ধরনের ঘটনার অপরাধীদের এবং যারা এই ধরনের অপরাধীদের উৎসাহিত করে তাদের কখনো ক্ষমা না করেন।” তিনি আশ্বাস দেন যে কেন্দ্রীয় সরকার অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। “কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আমি রাজ্যকে আশ্বাস দিচ্ছি যে, অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে শাস্তি দেওয়ার জন্য তারা যে ধরনের সাহায্য চাইবে তা প্রদান করা হবে,” তিনি বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজ্যের একজন সিনিয়র মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেন, “আইনের শাসন যেন বজায় থাকে তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার দায়বদ্ধ। অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হবে।”
- “আমরা পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি জানাচ্ছি। সেখানে গণহত্যাকাণ্ড ঘটছে, মানুষ এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে... রাজ্যটি আর বসবাসের যোগ্য নেই,” অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া রূপা গাঙ্গুলি পশ্চিমবঙ্গের অবনতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন। “পশ্চিমবঙ্গে মানুষ কথা বলতে পারে না। সরকার খুনিদের রক্ষা করছে। এমন আর কোনো রাজ্য নেই যেখানে নির্বাচনের পর সরকার মানুষ হত্যা করে। আমরা মানুষ। আমরা পাথরের হৃদয়ের রাজনীতি করি না,” রূপা গাঙ্গুলি আরও বলেন।
- সহিংসতার বিষয়টি আমলে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় টুইটারে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় বলেন যে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত। তিনি লেখেন, “বীরভূমের ঘটনা নির্দেশ করে যে রাজ্যটি সহিংস সংস্কৃতি এবং অরাজকতার কবলে রয়েছে।”
- এটি সত্য। এই সহিংসতা ছিল অপ্রত্যাশিত। কেউ এটি আশা করেনি। নির্বাচনে জয় এবং পরাজয় থাকে, তবে ভোট গণনা কেন্দ্র থেকেই যেভাবে সহিংসতা শুরু হয়েছিল তা আগে কখনো দেখা যায়নি। আজ পর্যন্ত ভারতে কোথাও এমনটা দেখা যায়নি। এই স্তরের সহিংসতার জন্য বিজেপি কর্মী বা এমনকি সংগঠনও প্রস্তুত ছিল না, এই অভিযোগটি একেবারেই সত্য। আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। প্রায় ৫০,০০০ কর্মীকে ঘরছাড়া হতে হয়েছে। প্রায় ২০ জন খুন হয়েছেন। এই পুরো সময়ে আমাদের সংগঠন তার কর্মীদের সামান্যতম সাহায্যও করতে পারেনি।
- ২০২১ সালের ২ মে বিকেল থেকে যে সহিংসতা শুরু হয়েছিল তার একটাই উদ্দেশ্য ছিল – বিজেপি সংগঠনের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া। বিজেপি ৩৮% ভোট পেয়েছিল, অধিকাংশ হিন্দু ভোট বিজেপির পক্ষে ছিল, যার মানে বিশাল শতাংশ ভোটারের সমর্থন আমাদের সাথে ছিল। তাই সহিংসতার মাধ্যমে এমন পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্য ছিল যাতে ভবিষ্যতে বিজেপির প্রতি সমর্থন দূর হয়ে যায় এবং সংগঠনের মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। ভীতি এমন হওয়া উচিত ছিল যাতে বিজেপির সমর্থকরা ঘর থেকে বের না হয় এবং ঠিক সেটাই ঘটেছে।
- স্বপন দাশগুপ্ত; ইন্টারভিউ ২০২২: মুসলিমস হোল্ড এ পলিটিক্যাল ভেটো ইন বেঙ্গল দে ডিসাইড হু উইল রুল অ্যান্ড হু উইল নট স্বপন দাশগুপ্ত
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় ২০২২ বীরভূম সহিংসতা সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।