বিষয়বস্তুতে চলুন

অদ্রীশ বর্ধন

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

অদ্রীশ বর্ধন[১] (১ ডিসেম্বর, ১৯৩২ - ২০ মে, ২০১৯) প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি লেখক, ঔপন্যাসিক ও অনুবাদক। জন্ম কলকাতায় এক শিক্ষক-পরিবারে। অ্যাডভেঞ্চারের টানে জীবনে অনেক পেশার সাথে যুক্ত ছিলেন। চাকরি, ব্যবসা ও সাহিত্যসাধনা। পরে নামী একটি প্রতিষ্ঠানের পারচেজ ম্যানেজার-পদে ইস্তাফা দিয়ে পুরোপুরি চলে আসেন লেখার জগতে। গোয়েন্দা কাহিনী দিয়ে লেখালেখির শুরু করেন। তার সৃষ্ট গোয়েন্দা ইন্দ্রনাথ রুদ্র ও মেয়ে গোয়েন্দা নারায়ণী। বাংলায় বিজ্ঞান, কল্পবিজ্ঞান, অতীন্দ্ৰিয় জগৎ অতিপ্রাকৃত, অনুবাদ ইত্যাদি লেখার ক্ষেত্রে অদ্রীশ বর্ধন অন্যতম স্বীকৃত নাম। ভারতের প্রথম কল্পবিজ্ঞান-পত্রিকা “আশ্চর্যর ছদ্মনামী সম্পাদক। সম্পাদনা করেছেন “ফ্যানটাসটিক”। সত্যজিৎ রায়ের সভাপতিত্বে প্রথম “সায়ান্স ফিকশন সিনে ক্লাব”-এর প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক তিনি। পত্রিকা, রেডিও, ফিল্ম ক্লাবের মাধ্যমে কল্পবিজ্ঞানকে আন্দোলন-আকারে সংগঠিত করেন। একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন সাহিত্যে অবদানের জন্য। কিশোর জ্ঞানবিজ্ঞান ও পরপর দুবছর "দক্ষিণীবার্তার শ্রেষ্ঠগল্প পুরস্কার”। অনুবাদের ক্ষেত্রে ‘সুধীন্দ্রনাথ রাহা’-পুরস্কার।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • আজকের দিনে মনে পড়ে ‘আশ্চর্য!' প্রকাশনার প্রথম দিনের কথা। প্রথম সংখ্যাটির আত্মপ্রকাশের পর সে কী আলোড়ন, কী রোমাঞ্চ, কী চাঞ্চল্য সাহিত্য মহলে – তেমনি তার আশে পাশে কি উন্নাসিকতা, সতর্কিত সন্দেহ, কত তাচ্ছিল্যের মৃদু হাস্যপরিহাস! অবশ্য সংবাদপত্রের ‘ফিচার-কলামে' সপ্রশংস সুরে এই দুঃসাহসের উল্লেখ হলো, শুভেচ্ছার সঙ্গে মূল্যবান পরামর্শ বর্ষিত হলো, উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলো, আশা করা হলো বস্তাপচা সাহিত্যের দুর্গন্ধ দূরীকরণের একটা সঠিক প্রচেষ্টা এবার শুরু হলো।
    • কল্পবিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা পত্রিকা কল্পবিশ্ব -এর অদ্রীশ বর্ধন -কে নিয়ে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় শ্রী সন্তু বাগ রচিত প্রসঙ্গঃঅদ্রীশ বর্ধন শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে সংগৃহীত। লেখক শ্রী অদ্রীশ বর্ধন তার স্মৃতিচারণা প্রসঙ্গে উপরিউক্ত কথাটি বলেন। কল্পবিশ্ব, প্রসঙ্গঃঅদ্রীশ বর্ধন
  • আমার জানা ছিল না ছদ্মনামে সম্পাদনা করা বেআইনি। এজন্যে আমাকে লালবাজার থেকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তৎকালীন ডিসি হেডকোয়ার্টারে ডেকে পাঠিয়ে প্রথমে খুব খোশগল্প করলেন। পরে আসল কথাটা পাড়লেন। জানিয়ে দিলেন, ছদ্মনামে পত্রিকা করা যায় না।
    • কল্পবিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা পত্রিকা কল্পবিশ্ব -এর অদ্রীশ বর্ধন -কে নিয়ে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় শ্রী সন্তু বাগ রচিত প্রসঙ্গঃঅদ্রীশ বর্ধন নামক প্রতিবেদন থেকে সংগৃহীত। লেখক শ্রী অদ্রীশ বর্ধন ছদ্মনামে পত্রিকা প্রকাশ করার কারনে যে আইনি জটিলতায় পরেছিলেন তার স্মৃতিচারণা করার সময় এই কথাটি বলেন। কল্পবিশ্ব, প্রসঙ্গঃঅদ্রীশ বর্ধন
  • তোমরা অনেক ছোট। কিন্তু সমমনস্ক। তাই কথা বলতে ভালো লাগছে। নিছক পাগলামি থেকে আমি লিখতে এসেছিলাম। পত্রিকা করেছি। তোমাদের দেখে সেই শুরুর দিনের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। কী পাগলামিই না করেছি!
    • কল্পবিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা পত্রিকা কল্পবিশ্ব -এর অদ্রীশ বর্ধন -কে নিয়ে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় শ্রী বিশ্বদীপ ঘোষ দ্বারা লিখিত অদ্রীশ বর্ধনঃযেমন দেখেছি শীর্ষক বিশেষ স্মৃতিচারনা বিষয়ক প্রতিবেদন থেকে সংগৃহীত। শ্রী অদ্রীশ বর্ধনের সাথে শ্রী বিশ্বদীপ ঘোষের প্রথম সাক্ষাতকারের সময় উপরিউক্ত কথাটি বলেছিলেন।কল্পবিশ্ব, অদ্রীশ বর্ধনঃযেমন দেখেছি
  • জানতাম ওই ধারার লেখা সবচেয়ে অবহেলিত। কিন্তু সেটাই আমার জেদ বাড়িয়ে দিয়েছিল। ওইটা যখন অবহেলিত, তখন ওটাই আমি লিখব।
    • কল্পবিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা পত্রিকা কল্পবিশ্ব -এর অদ্রীশ বর্ধন -কে নিয়ে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় শ্রী বিশ্বদীপ ঘোষ দ্বারা লিখিত অদ্রীশ বর্ধনঃযেমন দেখেছি শীর্ষক বিশেষ স্মৃতিচারনা বিষয়ক প্রতিবেদন থেকে সংগৃহীত। শ্রী অদ্রীশ বর্ধনের সাথে শ্রী বিশ্বদীপ ঘোষের প্রথম সাক্ষাতকারের সময় তৎকালীন বাংলা সাহিত্যজগতে কল্পবিজ্ঞান বিষয়ক গল্পের তুলনামূলক কম চর্চা ও পরিচিতি প্রসঙ্গে লেখক উপরিউক্ত কথাটি বলেছিলেন।কল্পবিশ্ব, অদ্রীশ বর্ধনঃযেমন দেখেছি
  • উনি আমাকে স্টাডি করেছিলেন প্রথমদিন। আসলে দেখে নিচ্ছিলেন ধান্দাবাজ কিনা। যখন বুঝলেন আমি তা নই, তখনই আমাকে গুরুত্ব দিলেন। সায়েন্স ফিকশন সিনে ক্লাব হোক বা আশ্চর্য, পাশে থেকেছেন। লেখা তো দিয়েছেন বটেই। সঙ্গে নতুন নতুন আইডিয়াও দিতেন।
    • কল্পবিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা পত্রিকা কল্পবিশ্ব -এর অদ্রীশ বর্ধন -কে নিয়ে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় শ্রী বিশ্বদীপ ঘোষ দ্বারা লিখিত অদ্রীশ বর্ধনঃযেমন দেখেছি শীর্ষক বিশেষ স্মৃতিচারনা বিষয়ক প্রতিবেদন থেকে সংগৃহীত। মাননীয় শ্রী সত্যজিত রায়ের সাথে প্রথম দেখার স্মৃতিচারণা প্রসঙ্গে লেখক উপরিউক্ত কথাটি বলেছিলেন।কল্পবিশ্ব, অদ্রীশ বর্ধনঃযেমন দেখেছি
  • একেবারে যা আছে তার অবিকল অনুবাদ আমি করিনি। ওরকম করলে লেখা কাঠ কাঠ হয়ে যায়। ট্রান্সলেশন নয়, আমি ট্রান্সক্রিয়েশনে বিশ্বাসী। লাভক্র্যাফটের লেখা আমি হরদম এডিট করেছি। যেখানেই দেখেছি অনন্তের পিছনে ছুটতে গিয়ে লেখক জটিল হয়ে যাচ্ছে আমাকে এডিট করতে হয়েছে। আমাকে সবসময় মাথায় রাখতে হয়েছে আমার পাঠকের কথা।
    • কল্পবিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা পত্রিকা কল্পবিশ্ব -এর অদ্রীশ বর্ধন -কে নিয়ে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় শ্রী বিশ্বদীপ ঘোষ দ্বারা লিখিত অদ্রীশ বর্ধনঃযেমন দেখেছি শীর্ষক বিশেষ স্মৃতিচারনা বিষয়ক প্রতিবেদন থেকে সংগৃহীত। বিদেশি গল্প অনুবাদ প্রসঙ্গে তিনি তার নিজস্ব মতবাদ পেশ করেন উপরিউক্ত উক্তির মাধ্যমে। কল্পবিশ্ব, অদ্রীশ বর্ধনঃযেমন দেখেছি
  • আমরা যা ভিজুয়ালাইজ করতে পেরেছিলাম বর্তমান বিজ্ঞান তাকে টপকে অনেক দূর চলে যাচ্ছে। আমি বউমাকে সেদিন বলছিলাম কল্পবিজ্ঞান একটা জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। বর্তমান বিজ্ঞান তাকেও টপকে চলে যাচ্ছে। যেমন – ইন্টারনেট।
    • কল্পবিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা পত্রিকা কল্পবিশ্ব -এর অদ্রীশ বর্ধন -কে নিয়ে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় লেখকের সাথে সাক্ষাতকারের বিশেষ প্রতিবেদন যা অদ্রীশ বর্ধনের সঙ্গে কথোপকথন নামে প্রকাশিত হয়েছিল, সেখান থেকে সংগৃহীত। কল্পবিজ্ঞান ও আধুনিক বিজ্ঞানের বিস্তার সম্পর্কে লেখকের মতামত। অদ্রীশ বর্ধনের সঙ্গে কথোপকথন
  • আমি কিন্তু লিখতাম মনের আনন্দে। কারোর পড়ে ভালো লাগবে কখনও ভাবিনি। দেওয়াল পত্রিকা নিয়ে আমার সাহিত্য সাধনা শুরু হয়েছিল। প্রথম দিকে আমি ছবি আঁকতাম, গল্পও লিখতাম। প্রথম লেখা ভূতের গল্পটার নাম ছিল ‘পোড়োবাড়ির খাঁড়া'। ওটাই আমার জীবনের প্রথম গল্প। প্রথম ছাপা গল্প ‘রহস্য' পত্রিকায়। ‘কোণের দোকান'৷ সে রহস্য পত্রিকাও নেই, তার সম্পাদকও নেই। শুধু আমি আছি।
    • কল্পবিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা পত্রিকা কল্পবিশ্ব -এর অদ্রীশ বর্ধন -কে নিয়ে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় লেখকের সাথে সাক্ষাতকারের বিশেষ প্রতিবেদন যা অদ্রীশ বর্ধনের সঙ্গে কথোপকথন নামে প্রকাশিত হয়েছিল, সেখান থেকে সংগৃহীত। স্বলিখিত বিভিন্ন বিষয়ের গল্প নিয়ে লেখকের মতামত। অদ্রীশ বর্ধনের সঙ্গে কথোপকথন
  • কৈশোরের ধর্মই হচ্ছে প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়ে যাওয়া, যেদিকে বাধা সেদিকেই যেতে হবে। আমারও ঠিক তাই ছিল। যেখানে বাধা সেটাকে টপকে টপকে যাব। ‘কল্পবিজ্ঞান'— এই প্রতিশব্দটাই কারও মাথায় ছিল না। আমিই ওটা তৈরি করি। আসলে সায়েন্স ফিকশনের কোনও যোগ্য প্রতিশব্দ বাংলায় ছিল না। আমি শব্দটাকে উলটে দিলাম। আজকে সব জায়গায় কল্পবিজ্ঞানই ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ইতিহাসটা কেউ জানে না।
    • কল্পবিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা পত্রিকা কল্পবিশ্ব -এর অদ্রীশ বর্ধন -কে নিয়ে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় লেখকের সাথে সাক্ষাতকারের বিশেষ প্রতিবেদন যা অদ্রীশ বর্ধনের সঙ্গে কথোপকথন নামে প্রকাশিত হয়েছিল, সেখান থেকে সংগৃহীত। অদ্রীশ বর্ধনের সঙ্গে কথোপকথন
  • কল্পবিজ্ঞানের বাইরেও একটা জগৎ আছে। সেখানে বিজ্ঞানকে ধরা যায় না। যেমন – বিগ ব্যাং। বিগ ব্যাং- এর পরিচয় জানার জন্য এখনও প্রচেষ্টা চলছে। আমায় আনন্দবাজারে রিভিউ করতে বলেছিল। আমি একটাই কথা বলেছিলাম। বিগব্যাং-এর আগে কী ছিল, সেটা কি কেউ বলতে পারবে? এই মহাবিস্ফোরণটা কেন হল? ব্রহ্মের স্বরূপ কী? কেউ কি বলতে পেরেছেন?
    • কল্পবিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা পত্রিকা কল্পবিশ্ব -এর অদ্রীশ বর্ধন -কে নিয়ে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যায় লেখকের সাথে সাক্ষাতকারের বিশেষ প্রতিবেদন যা অদ্রীশ বর্ধনের সঙ্গে কথোপকথন নামে প্রকাশিত হয়েছিল, সেখান থেকে সংগৃহীত। কল্পবিজ্ঞান প্রকৃত বিজ্ঞানের কতটা পরিধি অবধি পৌছতে পেরেছে এবং আরো কিছু বাকি আছে কিনা সে সম্পর্কে লেখকের মতামত। অদ্রীশ বর্ধনের সঙ্গে কথোপকথন

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]
  1. Who's who of Indian Writers, 1999: A-M। দিল্লি: Sahitya Akademi। ১৯৯৯। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০১৭