বিষয়বস্তুতে চলুন

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (১১ অক্টোবর ১৮৭১ - ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩) ছিলেন ব্রিটিশ ভারত ও পূর্ব পাকিস্তানের একজন বাঙালি সাহিত্যিক। তিনি প্রাচীন পুঁথি সংগ্রহ ও সাহিত্যের ঐতিহ্য অন্বেষণকারী অন্যতম ব্যক্তিত্ব। আবদুল করিম আমৃত্যু নিরলসভাবে পুথি সংগ্রহ করেছেন। মধ্যযুগীয় মুসলিম সাহিত্যিকদের কর্ম তার আগ্রহের বিষয় ছিল। তার সংগৃহীত পুথির অধিকাংশই ছিল মুসলিম কবিদের রচিত। আবদুল করিম সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য নদীয়া সাহিত্য সভা তাকে "সাহিত্যসাগর" খেতাব এবং চট্টল ধর্মমণ্ডলী তাকে "সাহিত্যবিশারদ" খেতাব প্রদান করে।

উক্তি[সম্পাদনা]

  • ঐতিহ্যের প্রতি অনুরাগই সংস্কৃতি সাধনার আসল সোপান।
    • ড. আহমদ শরীফ, "সাহিত্য-বিশারদ", আবদুল করিম সাহিত্য-বিশারদ স্মারকগ্রন্থ, ড. মুহম্মদ এনামুল হক ও কবীর চৌধুরী সম্পাদিত, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৯৬৯।
  • এত অশান্তির মধ্যেও আমি সাহিত্য-সেবা করি কিরূপে? তাহার কারণ, আমার হাতে গৃহস্থালীর কোন কাজেরই ভার রাখি নাই। সমস্তই আস্থর পিতৃব্যের হাতে দিয়া নিশ্চিন্ত আছি। সাংসারিক ঝঞ্ঝাটে আবদ্ধ হইতে আমার ইচ্ছা নাই। সাহিত্য-ধন ভিন্ন অপর ধন আমার হইবার নহে, চাহিও না।
    • শ্রীজীবেন্দ্র কুমার দত্তকে লিখিত চিঠি। উল্লেখিত হয়েছে, শ্রীজীবেন্দ্র কুমার দত্ত, "বঙ্গভাষার মুসলমান লেখক: আবদুল করিম", কোহিনূর, বৈশাখ ১৩১২ সংখ্যা।
  • প্রাচীন সাহিত্যের যাঁহারা কোনও খবর রাখেন তাঁহারা জানেন যে, বৃহৎ কাব্যাদি অপেক্ষা প্রাচীন সাহিত্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাব্যই অধিক। তন্মধ্যে এমন অসংখ্য গ্রন্থ আছে, যাহাদের স্বতন্ত্র প্রকাশ অসম্ভব না হইলেও কোনরূপ সুবিধাজনক নহে। অথচ ক্ষুদ্রায়ব বলিয়া এ-গুলিকে আমাদের উপেক্ষা করিবার উপায় নাই।
    • ড. নীলিমা ইব্রাহিম, "সাহিত্যিক আবদুল করিম ও তাঁর মানসলোেক", আবদুল করিম সাহিত্য-বিশারদ স্মারকগ্রন্থ, ড. মুহম্মদ এনামুল হক ও কবীর চৌধুরী সম্পাদিত, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৯৬৯।
  • মাতৃভাষার ভিতর দিয়া ধর্মীয় ও নৈতিক আদর্শের বিষয় জানিতে না পারিলে এবং জ্ঞানী ও দার্শনিকের ভাবগত সঙ্গ না পাইলে সামাজিক উন্নত আদর্শের আশা করা বিড়ম্বনামাত্র।
    • ড. নীলিমা ইব্রাহিম, "সাহিত্যিক আবদুল করিম ও তাঁর মানসলোেক", আবদুল করিম সাহিত্য-বিশারদ স্মারকগ্রন্থ, ড. মুহম্মদ এনামুল হক ও কবীর চৌধুরী সম্পাদিত, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৯৬৯।

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সম্পর্কে উক্তি[সম্পাদনা]

  • সাহিত্য-বিশারদ সাহেব ছিলেন অমায়িক সরল প্রকৃতির ষোল আনা সাহিত্য-প্রাণ। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য, বিশেষত মধ্যযুগের মুসলমান সাহিত্য সম্বন্ধে তিনি অদ্বিতীয় বিশেষজ্ঞ।
    • মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, "মরহুম আবদুল করিম সাহিত্য-বিশারদ", আবদুল করিম সাহিত্য-বিশারদ স্মারকগ্রন্থ, ড. মুহম্মদ এনামুল হক ও কবীর চৌধুরী সম্পাদিত, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৯৬৯।
  • সারা জীবন-ব্যাপী অক্লান্ত সাহিত্য-সেবা দ্বারা প্রাচীন মুসলিম পল্লী-সাহিত্য ও পুথি সাহিত্যের সংগ্রহ, পাঠোদ্বার ও আলোচনা করে মুনশী আবদুল করিম সাহিত্য-বিশারদ সাহেব ১৯৫৩ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর এই পৃথিবীর খেলাঘর থেকে চিরবিদায় গ্রহণ করেন। সত্যি সত্যিই এই পৃথিবীকে তিনি খেলাঘর বলেই জানতেন; তাই বিলাস, আড়ম্বর বা সম্মানের লোভ তিনি কোনও দিন করেননি; কখনও নিজেকে বড় বলে জাহির করবার প্রবৃত্তি তাঁকে পেয়ে বসেনি। এমন গুণী অথচ অমায়িক লোক খুব কমই দেখা যায়।
    • কাজী মোতাহার হোসেন, "সাহিত্য-বিশারদ", আবদুল করিম সাহিত্য-বিশারদ স্মারকগ্রন্থ, ড. মুহম্মদ এনামুল হক ও কবীর চৌধুরী সম্পাদিত, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৯৬৯।
  • ইংরাজী শিক্ষার ফলে হিন্দুদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ ও প্রাচীন ঐতিহ্য সন্ধান ও উদ্ধারের স্পৃহা জন্মায়। তাতে অনেক প্রাচীন পুথি ও পাণ্ডুলিপির উদ্ধার হয়। এই সময় (১৮৬৯-১৯৫৩ খৃঃ) আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদের আবির্ভাব না ঘটিলে প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রে আমরা নিশ্চিহ্ন হইয়া যাইতাম।
    • ড. এনামুল হক; উক্তিটির উল্লেখ করেছেন মুহম্মদ বরকতুল্লাহ, "আবদুল করিম সাহিত্য-বিশারদ", আবদুল করিম সাহিত্য-বিশারদ স্মারকগ্রন্থ, ড. মুহম্মদ এনামুল হক ও কবীর চৌধুরী সম্পাদিত, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৯৬৯।
  • বাঙ্গলা-সাহিত্যের ইতিহাসের মালমসলা সংগ্রহ করতে গিয়ে একটি লোক অর্ধশতাব্দী ধরে তিল তিল করে জীবন দান করেছেন। ইনি আবদুল করিম সাহিত্য-বিশারদ। এক কথায় বলা যেতে পারে, সাহিত্য-বিশারদ হচ্ছেন বাঙ্গলা-সাহিত্যের ভাণ্ডারী।
    • মুহম্মদ হাবীবুল্লাহ বাহার, "মুনশী আবদুল করিম সাহিত্য-বিশারদ", সওগাত, জৈষ্ঠ ১৩৫২ সংখ্যা। উল্লেখিত হয়েছে, আবদুল করিম সাহিত্য-বিশারদ স্মারকগ্রন্থ, ড. মুহম্মদ এনামুল হক ও কবীর চৌধুরী সম্পাদিত, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৯৬৯।
  • আবদুল করিম সাহিত্য-বিশারদ পেশাদার সাহিত্যিক ছিলেন না। সাহিত্য সাধনাকে তিনি কোনোদিন অর্থোপার্জনের উপায় হিসেবে ব্যবহার করেননি। তিনি ছিলেন খাঁটি সাহিত্য-সাধক।
    • আবুল ফজল, "সাহিত্য-বিশারদ স্মরণে", মাহেনও, নভেম্বর ১৯৫৩ সংখ্যা। উল্লেখিত হয়েছে, আবদুল করিম সাহিত্য-বিশারদ স্মারকগ্রন্থ, ড. মুহম্মদ এনামুল হক ও কবীর চৌধুরী সম্পাদিত, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৯৬৯।
  • সাহিত্য-বিশারদ ছিলেন মূলত গবেষক— তাঁর মৌলিক সৃজনধর্মী প্রতিভা ছিল না। সৃজনধর্মী সাহিত্য সহজেই জনপ্রিয়তা অর্জন করে। গবেষকগণ নীরবে সাধনা করে যান। তাঁদের ভাগ্যে জুটে না জনপ্রিয়তা ও অর্থলাভ। কিন্তু গবেষকদের নিরলস সাধনাই সাহিত্যের বুনিয়াদ গড়ে তুলে।
    • সৈয়দ মুর্তাজা আলী, "সাহিত্যবিশারদের স্মৃতি", আবদুল করিম সাহিত্য-বিশারদ স্মারকগ্রন্থ, ড. মুহম্মদ এনামুল হক ও কবীর চৌধুরী সম্পাদিত, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৯৬৯।
  • বাঙালী মুসলমানের মধ্যযুগীয় গৌরবময় শিক্ষা-সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক ঐতিহ্য-ইতিহাসের সন্ধান দিয়ে তিনি বাঙালী মুসলমানদের হীনমন্যতা ঘুচিয়েছেন- তিনিই বাংলার মুসলমানদেরে সাহিত্যের ঐতিহ্য-সম্পদ সম্বন্ধে সচেতন ও উৎসুক করে তোলেন। পুরাতন সংস্কৃতির আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে নতুন সাহিত্য সৃষ্টির পথে এগিয়ে চলার উদাত্ত আহ্বানও এসেছে তাঁর কাছ থেকে।
    • ড. আহমদ শরীফ, "সাহিত্য-বিশারদ", আবদুল করিম সাহিত্য-বিশারদ স্মারকগ্রন্থ, ড. মুহম্মদ এনামুল হক ও কবীর চৌধুরী সম্পাদিত, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৯৬৯।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

উইকিসংকলন
উইকিসংকলন
উইকিসংকলনে এই লেখক রচিত অথবা লেখক সম্পর্কিত রচনা রয়েছে: