আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া মজুমদার (সংক্ষেপে আবু বকর যাকারিয়া) (জন্ম: ১৯৬৯) একজন বাংলাদেশী সালাফী ইসলামী পণ্ডিত, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, অধ্যাপক, লেখক, দাঈ ও ইসলামী বক্তা। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের আল ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের একজন অধ্যাপক। তিনি এনটিভি, পিস টিভিসহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের ইসলামী অনুষ্ঠানে, ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলে এবং নানা ওয়াজ মাহফিলে আলোচনা করে থাকেন। এছাড়াও তিনি পত্র-পত্রিকায় লেখালিখি করে থাকেন। তার লিখিত বাংলা ভাষায় কুরআনের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসির যা তাফসীরে যাকারিয়া নামে পরিচিত, তা সৌদি আরবের সরকারি প্রকাশনালয় কিং ফাহাদ প্রিন্টিং প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়েছে। তার হিন্দুসিয়াত ওয়া তাসুর ও শিরক ফিল কাদিম ওয়াল হাদিস বই দুটি আরব বিশ্বে অত্যন্ত সমাদৃত ও জনপ্রিয়। পাশাপাশি তার একাধিক বই বাংলাদেশের সরকারি উচ্চশিক্ষা পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।
উক্তি
[সম্পাদনা]- ঈমান-আকিদা বিশুদ্ধ হওয়ার ১ নম্বর উপকারিতা হচ্ছে মৃত্যুভয় না থাকা। মৃত্যুভয় যাদের আছে, ঈমানের জায়গাতে তারা দূর্বল বলে মনে করতে হবে।'
- ১১.০৫.২০২৫, আল ইহসান ইনস্টিটিউট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ২৮:১৬-৩২:৪৫
- আপনি যদি মানুষকে সন্তুষ্ট করতে যান, তাহলে আল্লাহ কিংবা মানুষ কারোরই ভালোবাসা পাবেন না, কিন্তু আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে কাজ করলে আল্লাহর ভালোবাসাও পাবেন, মানুষও আপনাকে ভালোবাসবে।
- একজন মুমিনের জন্য ফরজ হলো সর্বাবস্থায় আলহামদুলিল্লাহ বলা; একজন মুমিন ভালো কিছু হলে বলবে আলহামদুলিল্লাহ, আর খারাপ কিছু হলে বলবে আলহামদুলিল্লাহ আলা কুল্লি হাল (সর্বাবস্থার উপর আলহামদুলিল্লাহ)।
- আজ যদি ১৬০ কোটি মুসলিমের আকিদা মানহাজ আমল আখলাক ঠিক হয়ে যায়, তাহলে বাকি ৫৪০ কোটি অমুসলিমও মুসলিম হয়ে যাবে।
- আমরা সালাফিরা হাদীসের নির্দেশ অনুযায়ী জালিম শাসকদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করি, তবে তা জনসম্মুখে নয়, কারণ শাসককে গোপনে নসীহত করার সহীহ হাদীস রয়েছে, তাই আমরা দুটি হাদিসের সমন্বয় করি।
- স্ত্রী চাকরি করলে স্বামীর হক আদায় হয় না, স্ত্রী চাকরি করলে সন্তানের হক আদায় হয় না, স্ত্রী চাকরি করলে তার কমনীয়তা নষ্ট হয়, স্ত্রী চাকরি করলে পরিবার ধ্বংস হয়, স্ত্রী চাকরি করলে পর্দা নষ্ট হয়, স্ত্রী চাকরি করলে সমাজ নষ্ট হয়। স্ত্রীকে যেই স্বামী বলে- আমার স্ত্রীর চাকরি করার দরকার নেই। আমি যা পাই তোমাকে খাওয়াব, সে তাকে রাজরানি হয়ে আছে। এখন সে রাজরানি না হয়ে কর্মচারী হতে চায়। আসলে স্ত্রী স্বামীর মর্যাদা বোঝেনি, স্ত্রী নিজের মর্যাদাও বোঝেনি। ঘর একটি জগৎ। অসংখ্য কাজ রয়েছে। আজ ছেলেদের বেকারত্বের বড় কারণ হচ্ছে- মেয়েরা এগিয়ে আসছে, ছেলেরা কোনো চাকরি পাচ্ছে না। একটি ছেলেকে চাকরি দিলে পুরো পরিবারের উপকার হয়। (অতএব মা-বোনেরা নিজের আত্মমর্যাদা রক্ষার্থে স্বামীর আনুগত্য ও বাসায় অবস্থান করে রানির হালাতে অবস্থান করুন। অতএব মা-বোনেরা দুনিয়া কামাতে যেয়ে আখেরাত না হারিয়ে ঘরে অবস্থান করে স্বামী-সন্তানের খেদমত করে দুনিয়া ও আখেরাত দুটিই কামাই করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাওফীক দান করুন। আমিন।)
- ২০২৩ এর সেপ্টেম্বরে তানজিম হাসান সাকিবের ভাইরাল হওয়া ফেসবুক পোস্টে যা তিনি ৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন, পোস্টের শেষে একটি মাইক্রোফোনের ইমোটিকনসহ ‘শায়খ আবু বকর মুহাম্মাদ জাকারিয়া (হাফিযাহুল্লাহ)’ নামটি লেখা ছিল [১]
- আলিম পরীক্ষায় আমি সারা বাংলাদেশে প্রথম হওয়ার পরও মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পর সেখানে গিয়ে পড়ার সময় বাংলাদেশ থেকে যা কিছু শিখে এসেছিলাম তা চালনি দিয়ে ছাকার মত ছাকতে হয়েছে।
- যার আকীদা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান নেই, সে কোন আলেম (ইসলামী পণ্ডিত) হতে পারে না। [২]
- ইসলামী রাজনীতি ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতি না, ইসলামী রাজনীতি হলো ক্ষমতায় যাওয়ার পরের রাজনীতি।
- ফেসবুক পোস্টে [৩]
- দুই শ্রেনির লোক আছে, একটা হলো জাহেল, যাদেরকে জ্ঞান দিতে হয়, আরেকটা শ্রেণী বুঝেও না বুঝার ভান করে, এদের উদ্দেশ্য হলো আপনাকে যন্ত্রণা দেওয়া, এদেরকে সোজা করার জন্য পেটাতে হয়, এজন্যই সূরা হাদীদে আল্লাহ পরপর বলেছেন, আমি নাজিল করেছি হিকমাহ আর আমি নাজিল করেছি লৌহ।
- ভাল জিনিস আল্লাহর কাছে জোর দিয়ে চাইতে হবে, খারাপ জিনিস চাওয়া যাবে না, আর যে সকল জিনিসে ভালো খারাপ উভয়ের সম্ভাবনা বা আশঙ্কা আছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে ইস্তেখারা করতে হবে। [৪]
- মৃত্যুবরণ জন্মগ্রহণ শব্দ দুটি ইসলামী আকীদা বিরোধী শব্দ, জন্ম হয় বা মৃত্যু হয়, এভাবে বলতে হবে।
- শাহাদাতের জন্য সহজ কথায় শর্ত হলো তা লা ইল্লাহা ইল্লাল্লাহ বা আল্লাহর কালিমা বুলন্দ করার খালেস নিয়তে শহীদ হতে হবে, ক্ষমতা লাভের নিয়তে হওয়া যাবে না; কেউ যদি শাহাদাতের নিয়তে মারা যায় আর শাহাদাত আল্লাহ কবুল না করেন, তাহলে আল্লাহ তা আত্মহত্যা হিসেবে গণ্য করবেন।
- গোলাম আহমেদ কাদিয়ানি ৩০ জন ছোট দাজ্জালের একজন।
- হাজ্জাজ বিন ইউসুফ, আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়েরের মত সাহাবীসহ বহু বিদ্রোহীকে হত্যা করেছেন, কিন্তু তিনি কুরআনে নুকতা লাগানোর মত আরও অসংখ্য ভালো কাজও করেছেন, যা না হলে অনারবরা কখনো আরবি পড়তে পারতো না, তার সময়ে ইসলামের ব্যাপক প্রসার ঘটে, তার সময়ে তার জামাতা মুহাম্মদ বিন কাসিমের মাধ্যমে ভারতে প্রথম ইসলাম প্রবেশ করে, তাকে কাফির বলাটা সালাফদের নীতির বিরোধী, তার কাফের হওয়া না হওয়াটা আমরা আল্লাহর উপর ছেড়ে দিবো, কিন্তু তাকে নিশ্চিতভাবে কাফির বলা কোনভাবেই সমীচীন নয়।
- আমরা সাধারণত নাম উল্লেখ করে কারও সমালোচনা করি না, তারপরও যদিও এসব (কাদিয়ানী মালিকানাধীন) কোম্পানিতে চাকরি করা এবং তাদের পণ্য ক্রয়-বিক্রয় হালাল যতক্ষণ পর্যন্ত শরিয়া আইনের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়, তবুও একজন মুসলিমের জন্য দীর্ঘমেয়াদী চিন্তায় এতে চাকরি এবং পণ্যের ক্ষেত্রে মুসলিম বিকল্প বেছে নেওয়া ভালো, যখন মুসলিম বিকল্প বিদ্যমান থাকে, কারণ কাদিয়ানীরা অমুসলিম হিসেবে প্রমাণিত, তদুপরি ফিতনার সৃষ্টিকারী হিসেবেও প্রমাণিত, এবং এই কোম্পানির মালিকরা প্রকাশ্যে কাদিয়ানী হিসেবে প্রমাণিত, এবং অমুসলিমদের অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করা হলো, অন্য অর্থে, তাদেরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী করে তোলা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ক্ষতি করতে সহায়তা করা।[৫]
- আমলে ছাড় দেওয়া যাবে কিন্তু আকিদায় কোন ছাড় দেওয়া যাবে না। [৬]
- যেহেতু হিন্দুধর্মের উপর আমার শিক্ষাগত পিএইচডি আছে, সেহেতু আমি বলতে পারি, হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলোকে আমরা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামআহর অনুসারীরা আল্লাহর নাজিলকৃত কিতাব বলে বিশ্বাস করি না, এগুলো ইরানি আর্যদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লেখা ভারতীয় আর্যদের মানবরচিত গ্রন্থ, এখান ওখান থেকে এটা ওটা যা পেয়েছে তাই এনে ঢুকিয়েছে, এতে তাওহীদের লেশমাত্রও নেই। [৭][৮]
- ইবনে কাসীর ভুল করে স্বীকার করলে ঠিক আছে, আমি ভুল করে স্বীকার করলেই দোষ।
- আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যা হলো, মুসলিম পাঠ্যক্রমে জিহাদকে জঙ্গিবাদ মনে করে এড়িয়ে যাওয়া হয়, অথচ জিহাদ ও জঙ্গিবাদ এক নয়, জিহাদ ইসলামের অপরিহার্য বিষয়, আরেকটি সমস্যা হলো, যদিও বা কখনো জিহাদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়, তখন পাঠ্যবইয়ে কোরআন হাদীসের ভুল ব্যাখ্যা করে প্রসঙ্গটিকে আবারও এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
- হাদীসে আছে, শহীদদেরা রুহ কবজ করার সময় সবচেয়ে কম কষ্ট অনুভব করে থাকে।
- শরয়ী রাজনীতির পরিভাষায় খারেজী ও বাগী বা বিদ্রোহী নামে দুটি গোষ্ঠী আছে, এরা ইহুদি ও শিয়াদের চক্রান্ত দ্বারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, শিয়ারা সবসময় মুসলিমদের ভুলভাবে ক্ষেপিয়ে তুলে সহিংস করতে চায়, যেন সহিংসতায় নিহত হয়ে সুন্নি তথা সহীহ আকীদার লোক বেশি মারা যায়, এরাই ইয়েমেনে গাজায় কৌশলে মুসলিমদের ক্ষেপিয়ে তুলে সুন্নি হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধি করে।
- কোন যঈফ খফিফ (কম দূর্বল) হাদিসের সমর্থনে যদি একাধিক যঈফ খাফীফ, হাসান বা সহীহ সনদ থাকে, এবং মাঝে কোন শায বা মিথ্যা বর্ননাকারী না থাকে তবে উক্ত হাদীস হাসান লি গাইরিহী বলে গণ্য হবে,এটি অন্যকে বলা যাবে, নিজেও আমল করা যাবে, হাসান লি গাইরিহী স্তরে না পৌছালে তা নিজে আমল করা যাবে, কিন্তু অন্যকে বলা যাবে না।
- দল জিনিসটা আমাদের মধ্যে ঢুকিয়েছে ইউরোপিয়ানরা।[৯]