বিষয়বস্তুতে চলুন

আস্কর আলী পণ্ডিত

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

আস্কর আলী পণ্ডিত (১৮৪৬–মার্চ ১১, ১৯২৭)একজন বাঙালি লোককবি, প্রাচীন পুঁথি রচয়িতা, গীতিকার এবং লোকশিল্পী। তার উল্লেখযোগ্য পুঁথির মধ্যে রয়েছে জ্ঞান চৌতিসা ও পঞ্চসতী প্যারজান। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে পটিয়া উপজেলার শোভনদন্ডী গ্রামে বসবাস শুরু করেন। তার পিতা মোশাররফ আলী, পিতামহ দোলন ফকির ও প্রপিতামহ বাছির মোহাম্মদ। তার এক ভাই আমিরজান এবং চার বোনেরা হলেন রহিমজান, ফুলজান, সাহেব জান ও মেহেরজান। নয় বছর বয়সে তার পিতা মারা যান।

ঊনিশ–বিশ শতকেও মধ্যযুগ–অবক্ষয় যুগের অনুসরণে সাহিত্যচর্চা চলে। আস্কর আলী পণ্ডিত এ সময়েই নিরলসভাবে নিরন্তর সাহিত্য রচনা করেন। লোকসমাজে জন্ম হওয়ায় একদিকে লোকসংস্কৃতি, অপরদিকে লোকসমাজে লিখিত ও মৌখিকভাবে লালিত মূলধারার বাংলা সাহিত্য দ্বারা তীব্র প্রভাবিত হন। ফলে তাঁর থেকে লোকসাহিত্য ও মূলধারার বাংলা সাহিত্য উভয়ই পাওয়া যায়। আস্কর আলী পণ্ডিত তাঁর জীবদ্দশায় লৌকিক অধ্যাত্মচেতনাপুষ্ট সাধন–সংগীত ও লৌকিক জীবননির্ভর সাধারণ সংগীত রচনা করেন। তাঁর এ ধরনের অনেক গান তাঁর সময়ে জনপ্রিয় হয়েছিল, এমনকি এখনও জনপ্রিয়। এক্ষেত্রে তাঁর ‘কী জ্বালা দি গেলা মোরে’, ‘ডালেতে লড়িচড়ি বৈও চাতকি ময়নারে’, ‘কেউরে ন বুঝাইয়মরে আঁর পরাণবন্ধু কালা’, ‘বসি রইলি ও মন কার আশে/রঙ্গের বাজার’, ‘মন পাখিরে বুঝাইলে সে বোঝেনা/প্রবোধ মানে না, ‘গনার দিন ত যারগৈরে ফুরাই আরত ফিরি ন আইব’, ‘বাতাসের রিত না বুঝি সুজন মাঝি ভাসায় দিছে’, ‘পরবাইস্যারে–ওরে ও পরবাইস্যারে ফজরত আঁই ধইরলাম নলর কুডি’, ‘কী লইয়া যাইয়ুম ঘরে সন্ধ্যাকালে’, ‘একসের পাবি দেড়সের খাবি ঘরত নিবি কী’, ‘দেখি না দেখিলো মোরে’, ‘হাউসের যৌবন আমার শেষ করি/বন্ধু যায়’ এবং ‘এইবার মরিব আমি বিষ খাইয়া ননদিয়া’ প্রভৃতি গান উল্লেখ করার মত। তাঁর সংগীত–সংকলনও রয়েছে অনেক; যেমন, ‘নন্দবিলাস’, ‘নন্দবেহার: প্রথম ভাগ’, ‘গীত বারমাস (ক. গীত বারমাস ২য় ভাগ)’, ‘হাফেজ বাহাদুর (গীত, বারমাস ও কবিতা: প্রথম ভাগ)’ ও ‘নন্দসাগর’ প্রভৃতি।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • তথা হীন মুই দীন আস্কর আলী নাম
    দুঃখের বসতি এই শোভনদন্ডী গ্রাম।
    ধনজনহীন আর বুদ্ধি বিদ্যাহীন
    তেকারণে নিজ কর্ম্মে নয় মনলিন।
    জনক মোসরফ আলী গুণে সুরচির
    তান পিতা নাম শ্রেষ্ঠ দোলন ফকির।
    • জ্ঞান চৌতিসা নামক আত্মজীবনী।
  • ধনজন হীন বিদ্যা শিখিতে না পারি।
    কিঞ্চিত দিলেক প্রভু সমাদর করি।
    • জ্ঞান চৌতিসা নামক আত্মজীবনী।
  • কী জ্বালা দিয়ে গেলা মোরে,
    নয়নের কাজল পরানের বন্ধুরে,
    না দেখিলে পরান পোড়ে,
    কি দুঃখ দিয়ে গেলা মোরে,
    নয়নের কাজল পরানের বন্ধুরে,
    না দেখিলে পরান পোড়ে,
    না রাখি মাটিতে, না রাখি পাটিতে,
    না রাখি পালঙ্কের উপরে
    সিঁথির সিঁদুরে রাখিব বন্ধুরে,
    ভিড়িয়ে রেশম ডোরে
    বন্ধু পরবাসী, পরের ঘরে আসি,
    এত ঘুমে কেন ধরে
    কয়লা করে ধ্বনি, পোহাইল রজনী,
    না ডাকি ননদিনীর ডরে
    নারীর প্রেম গেছে, কি টোনা কইরাছে,
    বসন খসি খসি পড়ে
    কহে আসগর আলী, সাধু শত জানি,
    উদাসী বানাইল মোরে

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]