বিষয়বস্তুতে চলুন

গ্রাম

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
ভারতের রত্নাগিরির (মহারাষ্ট্র) একটি গ্রাম

গ্রাম হলো একটি একক জনবসতি। এটি প্রধানত কৃষিভিত্তিক অঞ্চলে মানুষের ছোটো বসতি। গ্রামে বসবাসরত মানুষেরা কৃষিভিত্তিক ও বিভিন্ন ছোটোখাটো কাজের মাধ্যমে খুব সাধারণভাবে জীবন যাপন করে থাকেন। গ্রাম সাধারণত শহর থেকে দূরে অবস্থিত হয়। গ্রামে শহরের মতো তেমন আধুনিক সুবিধাগুলো থাকেনা। গ্রামে কৃষিজীবী ছাড়াও কামার, কুমার, মাঝি, মেথর, জেলে প্রভৃতি পেশার মানুষ বসবাস করে থাকেন। গ্রাম মূলত একটি স্বশাসিত এলাকা হিসাবে পরিগণিত হতো। অনেক দেশে আধুনিক রাষ্ট্রব্যাবস্থায় গ্রাম পর্যায়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নির্বাচন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে এবং পৃথক প্রশাসনিক কাঠামোও গড়ে তোলা হয়েছে। বিভিন্ন দেশে স্থানীয় ধর্মীয় অনুসরণ অনুসারে গ্রামগুলিতে নিজস্ব মন্দির, মসজিদ বা গির্জা থাকে।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • আমাদের এই গ্রামের নামটি খঞ্জনা,
    আমাদের এই নদীর নামটি অঞ্জনা,
    আমার নাম তো জানে গাঁয়ের পাঁচজনে,
    আমাদের সেই তাহার নামটি রঞ্জনা।
    • এক গাঁয়ে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সঞ্চয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪১৮
  • এ শিল্পী যে ছবি আঁকে তা বড় মনোরম। তীর ঘেঁসিয়া সব ছোট ছোট গ্রাম। গ্রামের পর জমি। অগ্রহায়ণে পাকা ধানের মরসুম। তারপর আবার গ্রাম। আর মাঘে সর্ষেফুলের হাসি।
  • এ গ্রামের পাশে মজা নদী বারো মাস
    বর্ষায় আজ বিদ্রোহ বুঝি করে,
    গোয়ালে পাঠায় ইশারা সবুজ ঘাস
    এ গ্রাম নতুন সবুজ ঘাগরা পরে।
    • চিরদিনের- সুকান্ত ভট্টাচার্য, সুকান্ত সমগ্র, প্রকাশক- সারস্বত লাইব্রেরী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৯
  • গ্রামের ধারে কবেকার পুরানো এক পাতকুয়োর ফাটলের মধ্যে কোলাব্যাঙ তার পরিবার নিয়ে থাকত! গ্রামের মেয়েরা সেখানে জল তুলতে এসে যে-সব কথাবার্তা বলত কোলাব্যাঙ তার ছেলেদের সেই-সব কথা বুঝিয়ে দিত-আর ছেলেরা ভাবত, ‘ইস্! বাবা কত জানে!'
    • সুকুমার রায়, সুকুমার রায় সমগ্র রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড), অন্যান্য গল্প, ব্যাঙের সমুদ্র দেখা, পৃষ্ঠা ৩৭০
  • এতদিন রসিক এই গ্রামের বনবাদাড়, রথতলা, রাধানাথের মন্দির, নদী, খেয়াঘাট, বিল, দিঘি, কামারপাড়া, ছুতারপাড়া, হাটবাজার সমস্তই আপনার আনন্দে ও প্রয়োজনে বিচিত্রভাবে অধিকার করিয়া লইয়াছিল। সব জায়গাতেই তাহার একটা একটা আড্ডা ছিল, যেদিন যেখানে খুশি কখনো বা একলা কখনো বা দলবলে কিছু-না-কিছু লইয়া থাকিত। এই গ্রাম এবং থানাগড়ের বাবুদের বাড়ি ছাড়া জগতের আর-যে কোনো অংশ তাহার জীবনযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় তাহা সে কোনোদিন মনেও করে নাই। আজ এই গ্রামে তাহার মন আর কুলাইল না। দূর দূর বহুদূরের জন্য তাহার চিত্ত ছটফট করিতে লাগিল। তাহার অবসর যথেষ্ট ছিল—বংশী তাহাকে খুব বেশিক্ষণ কাজ করাইত না। কিন্তু, ঐ একটুক্ষণ কাজ করিয়াই তাহার সমস্ত অবসর পর্যন্ত যেন বিস্বাদ হইয়া গেল; এরূপ খণ্ডিত অবসরকে কোনো ব্যবহারে লাগাইতে তাহার ভালো লাগিল না।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পণরক্ষা, গল্পগুচ্ছ- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৭৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬১৭
  • আমেরিকার গ্রাম এবং ইউরোপের গ্রামে অনেক প্রভেদ রয়েছে। ইউরোপের গ্রামের পথগুলি প্রায়ই বাঁকা, ফুটপাথ অপ্রশস্ত, বাড়ীর ভিটি কোথাও বেশ উঁচু আর কোথাও একেবারে নীচে নেমে এসেছে। আমেরিকার পার্বত্য অন্‌চলে কোনও সময়ে ইউরোপের মতই বাড়ি ঘর এবং বাঁকা পথ ছিল, কিন্তু যখন থেকে ফোর্ড কোম্পানী মাটি কাটার কল তৈরী করেছে, সে সময় থেকে পার্বত্য গ্রামেও সোজা পথ, সমান লেভেলে বাড়ি গড়ে উঠেছে। আমেরিকার গ্রামে নতুনের গন্ধ পাওয়া যায়। ইউরোপের গ্রামে পুরাতনের প্রাধান্য বর্তমান। আমরা ভারতবাসী, আমরা ইচ্ছা করেই বলব, আমেরিকার গ্রামও একদিন পুরাতন হবে, ইউরোপের গ্রামের মত হবে। আমি বলছি তা হবে না। আমেরিকার গ্রাম চির নতুন থাকবে। হয়ত বর্তমান অবস্থা হতে আমেরিকার গ্রাম আরও উন্নত হবে, কারণ আমেরিকাতে এখনও ধর্মের বদ্‌খেয়ালী নাই।
    • রামনাথ বিশ্বাস, আজকের আমেরিকা - রামনাথ বিশ্বাস, তৃতীয়- সংস্করণ, প্রকাশক- পর্যটক প্রকাশনা ভবন, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩৯-১৪০
  • রমেশ সন্ধান লইয়া জানিয়াছিল, এমন অনেক গ্রাম পাশাপাশি আছে, যেখানে একটা গ্রাম ম্যালেরিয়ায় উজাড় হইতেছে, অথচ, আর একটায় ইহার প্রকোপ নাই বলিলেই হয়। ভাবিতেছিল, একটুকু সুস্থ হইলেই, এইরূপ একটা গ্রাম সে নিজের চোখে গিয়া পরীক্ষা করিয়া আসিবে এবং তাহার পরে নিজের কর্ত্তব্য স্থির করিবে। কারণ, তাহার নিশ্চিত ধারণা জন্মিয়াছিল, এই ম্যালেরিয়াহীন গ্রামগুলির জল-নিকাশের স্বাভাবিক সুবিধা কিছু আছেই যাহা এম্‌নি কাহারও দৃষ্টি আকর্ষণ না করিলেও, চেষ্টা করিয়া, চোখে আঙুল দিয়া দেখাইয়া দিলে, লোক দেখিতে পাইবে।
    • পল্লী-সমাজ- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, পঞ্চম সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২৮

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]