বিষয়বস্তুতে চলুন

নূরজাহান বেগম

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
নূরজাহান বেগম

নূরজাহান বেগম (৪ জুন ১৯২৫ - ২৩ মে ২০১৬) বাংলাদেশে নারী সাংবাদিকতার অগ্রদূত এবং সাহিত্যিক। তিনি ভারত উপমহাদেশের প্রথম নারী সাপ্তাহিক পত্রিকা "বেগম" পত্রিকার সূচনালগ্ন থেকে এর সম্পাদনার কাজে জড়িত ছিলেন এবং ছয় দশক ধরে সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

উক্তি[সম্পাদনা]

  • দেশের সর্বপ্রথম নারীপত্রিকা "বেগম পত্রিকার" অন্যতম প্রধান সম্পাদক ছিলাম। এর মাধ্যমে আমি দেশের মেয়েদের মধ্য থেকে কুসংস্কার, অশিক্ষা, জীবনের সমস্ত ভার স্বেচ্ছায় ও সাহসের সঙ্গে নেওয়া প্রকাশ করেছিলাম। নারীদের গৃহকর্মের কথা, ছবি এবং তাদের নানা সমস্যার কথা প্রকাশিত হতো। তৎকালীন সমাজে নারী পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং তাদের জন্য সাংস্কৃতিক বিনোদন দেবার একটি বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছিল।
  • আর মডেল? কোথায় পাব? কেউ রাজি হয় না। এর বোন, ওর খালার ছবি তোলা হতো প্রচ্ছদের জন্য। এখনকার অবস্থা তো ভিন্ন। তবে বেগম প্রচ্ছদের ছবিটিকে কখনোই ডিস্টার্ব করে না। শিরোনাম প্রচ্ছদে দেয় না। বেগম মনে করে ছবিটা একটা শিল্প। ওটা নষ্ট করা ঠিক নয়।
  • পড়াশোনা করে প্রকৃত মানুষ হও। দেশকে ভালোবাসো, দেশের মানুষকে ভালোবাসো। বিয়ের সময় কেবল অর্থের দিকে তাকিও না, শিক্ষা ও যোগ্যতার দিকে তাকাও। মানবিক মানুষ হও।
  • মেয়েদের বিয়ের সময় শুধু অর্থের দিকে না দেখে যদি পাত্র নির্বাচন করা হয়, তাহলে আমার মতো অনেক নূরজাহান সৃষ্টি হবে। আমাদের সমাজে যৌতুক একটি অভিশাপ। শিক্ষিত-অশিক্ষিত সব শ্রেণিতেই সেটা লক্ষণীয়। মেয়েদের শিক্ষিত হতে হবে, স্বাবলম্বী হতে হবে। মেয়েরা স্বনির্ভর হলে যৌতুকের মতো অভিশাপ সমাজ থেকে ক্রমশ দূর হবে।
  • আমার আব্বা ছিলেন আধুনিক চিন্তা ধারার মানুষ। তৎকালীন সমাজে বিশেষ করে মুসলিম সমাজে ছাপা পত্রিকাকে ভালো চোখে দেখা হতো না। ফলে সর্বপ্রথম সচিত্র প্রকাশিত ‘সওগাত’ পত্রিকা ফুরফুরার এক পীর সাহেব আব্বাকে চিঠি লিখলেন— ‘নাসির সাহেব আপনার সওগাত পড়ে ভালোই লাগল, তবে আমার অনুরোধ ছবিটা যদি না ছাপেন তাহলে ভালো হয়।’ তখন আব্বা চিঠির উত্তরে লিখলেন, ‘মৌলনা সাহেব, শুনে খুশি হলাম, সওগাত আপনার ভালো লেগেছে। তবে আপনাকে একটি প্রশ্ন করি, আপনি যখন নামাজ পড়েন তখন বিদেশি সাহেবের ছবিযুক্ত কয়েন যদি আপনার পকেটে থাকতে পারে তাহলে পত্রিকায় ছবি ছাপতে দোষের কী!’ এ রকমের বিভিন্ন সমালোচনা আব্বা নীরবে সহ্য করেছিলেন এবং পারলে যোগ্য জবাবও দিয়েছিলেন। আমার আব্বার মতো এইরকম দৃঢ স্বভাব ও মানসিকতা আজকের তরুণ সমাজের চাই।
  • নারীরা এখন নতুন নতুন পেশায় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। তবুও দেশের উন্নয়নে নারীর ভূমিকাকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। নারীদের ন্যায্য সম্মান দিতে হবে। তাদের কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে।

নূরজাহান বেগম সম্পর্কে উক্তি[সম্পাদনা]

  • বাংলাদেশের ঈদ সংখ্যার স্বর্ণযুগ বলা হয় ৯০ এর দশক থেকে পরবর্তী ২ দশককে। অথচ নূরজাহান বেগম তা শুরু করেছিলেন ৫০ এর দশকেই। তিনি তখন থেকেই তার বেগম পত্রিকায় ঈদে নারী সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ করতেন। সময় থেকে নূরজাহান বেগম কতখানি এগিয়ে ছিলেন তার একটি উদাহরণ এটি।
    • আহমাদ ইশতিয়াক; রোববার জুন ৪, ২০২৩, ১০:০৩, অপরাহ্ন প্রথম আলো

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]