বিষয়বস্তুতে চলুন

প্রেমেন্দ্র মিত্র

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

প্রেমেন্দ্র মিত্র (৪ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ - ৩ মে ১৯৮৮) একজন বাঙালি কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক এবং চিত্রপরিচালক। প্রেমেন্দ্র মিত্র কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন। কবিতা, উপন্যাস, গল্প ছাড়াও তিনি সৃজনশীল প্রবন্ধ, গান, চিত্রনাট্য, রম্যরচনা এবং গোয়েন্দা কাহিনিও লিখেছেন। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ প্রথমা, সম্রাট, সাগর থেকে ফেরা, ফেরারী ফৌজ, অথবা কিন্নর প্রভৃতি। রচিত গল্পগ্রন্থর মধ্যে রয়েছে পঞ্চশর, বেনামী বন্দর, পুতুল ও প্রতিমা, মৃত্তিকা, মহানগর, সামনে চড়াই, সপ্তপদী প্রভৃতি। উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলি হলো পাঁক, কুয়াশা, মিছিল, প্রতিশোধ, স্তব্ধ প্রহর, স্বপ্নতনু প্রভৃতি। বাংলা সাহিত্যে তার সৃষ্ট জনপ্রিয় চরিত্রগুলি ঘনাদা, পরাশর বর্মা, মেজকর্তা এবং মামাবাবু আজও অনবদ্য।

উক্তি[সম্পাদনা]

  • স্বপ্ন দেখি সে-পথের,
    অস্তাচল উত্তীর্ণ হয়ে আগামী কালের পানে—
    স্বপ্ন যেখানে নির্ভীক,
    বৃদ্ধের চোখে শিশুর বিস্ময়,
    পৃথিবীতে উদ্দাম দুরন্ত শান্তি।
    • পথ, প্রেমেন্দ্র মিত্রের সমগ্র কবিতা, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- গ্রন্থালয় প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ৮ মে ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ (২৫ বৈশাখ ১৩৯৬বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৫
  • শিশুর চোখ সে নয় – জীবনের সমস্ত বিরস বিস্বাদ পাত্রে চুমুক দিয়ে তিক্তমুখে কোনো বৃদ্ধ যেন সে-চোখকে আশ্রয় করেছে।
    • ‘পুন্নাম—’ প্রেমেন্দ্র মিত্রের শ্রেষ্ঠ গল্প, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- নাভানা, কলকাতা, প্রকাশসাল- জুলাই ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (শ্রাবণ ১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭
  • তারপর জীবনের ফাটলে-ফাটলে
    কুয়াশা জড়ায়,
    কুয়াশার মতো কথা হৃদয়ের দিগন্তে ছড়ায়।
    • কথা, প্রেমেন্দ্র মিত্রের সমগ্র কবিতা, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- গ্রন্থালয় প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ৮ মে ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ (২৫ বৈশাখ ১৩৯৬বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯
  • মহানগরের বিশাল অরণ্যে কত মানুষ আসে কত কিছুর খোঁজে;—কেউ অর্থ, কেউ যশ, কেউ উত্তেজনা, কেউ বা বিস্মৃতি।
    • মহানগর, প্রেমেন্দ্র মিত্রের শ্রেষ্ঠ গল্প, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- নাভানা, কলকাতা, প্রকাশসাল- জুলাই ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (শ্রাবণ ১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬৮
  • আমায় যদি হঠাৎ কোনো ছলে
    কেউ করে দেয় আজকে রাতের রাজা।
    ওলট-পালট করি বিশ্বখানা
    ভাঙি যেথায় যত নিষেধ মানা;
    মনের মতো কানুন করি ক’টা
    রাজা হওয়ার খুব ক’রে নিই ঘটা।
    • হঠাৎ যদি, প্রেমেন্দ্র মিত্রের সমগ্র কবিতা, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- গ্রন্থালয় প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ৮ মে ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ (২৫ বৈশাখ ১৩৯৬বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪৩
  • অন্যান্য কথা হয়তো তাহারা আবার কহিবে, সংসারের প্রয়োজনে, পরস্পরকে আহত করিবার অদম্য প্রেরণায়, কিন্তু তবু অন্তরের এ-নিঃশব্দতার ভার ঘুচিবার নয়। জীবনের একটিমাত্র বিলাস চরিতার্থ করিবার জন্য এ-নিঃশব্দতার নির্বাসন তাহাদের নিঃসঙ্গ আত্মা স্বেচ্ছায়ই বরণ করিয়া লইয়াছে।
    • শৃঙ্খল, প্রেমেন্দ্র মিত্রের শ্রেষ্ঠ গল্প, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- নাভানা, কলকাতা, প্রকাশসাল- জুলাই ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (শ্রাবণ ১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭৯-৮০
  • আমি কবি যত কামারের আর কাঁসারির আর ছুতোরের,
    মুটে মজুরের,
    আমি কবি যত ইতরের!
    আমি কবি ভাই কর্মের আর ঘর্মের;
    বিলাস-বিবশ মর্মের যত স্বপ্নের তরে ভাই,
    সমর যে হায় নাই!
    • কবি, প্রেমেন্দ্র মিত্রের সমগ্র কবিতা, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- গ্রন্থালয় প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ৮ মে ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ (২৫ বৈশাখ ১৩৯৬বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩
  • নিরবচ্ছিন্ন বর্ষার রাতে এখনও নিশ্চয় কলকাতার একটি কর্দমাক্ত নোংরা ও কুৎসিত পথের ধার কেরাসিনের ডিবিয়ার ম্লান আলো দেখা যায়। ডিবিয়ার ধূমবহুল শিখাকে শীর্ণ হাতে সযত্নে বৃষ্টির ঝাপটা হইতে আড়াল করিয়া গভীর রাত্রি পর্যন্ত এখনও নিশ্চয় বিগতযৌবনা রূপহীনা রজনী এক রাত্রের অতিথির জন্য হতাশনয়নে পথের দিকে চাহিয়া প্রতীক্ষ৷ করে।
    • সংসার সীমান্তে, প্রেমেন্দ্র মিত্রের শ্রেষ্ঠ গল্প, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- নাভানা, কলকাতা, প্রকাশসাল- জুলাই ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (শ্রাবণ ১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২৪

প্রেমেন্দ্র মিত্রকে নিয়ে উক্তি[সম্পাদনা]

  • আধুনিক কবিদের মধ্যে প্রথমেই উল্লেখযোগ্য প্রেমেন্দ্র মিত্র। প্রমাণের আবশ্যক বোধহয় নেই।
    • সুকান্ত ভট্টাচার্য, ছন্দ ও আবৃত্তি, সুকান্ত সমগ্র- সুকান্ত ভট্টাচার্য, প্রকাশক- সারস্বত লাইব্রেরী, কলিকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৩৮১


বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]