ফ্রিডরিখ নিচে

উইকিউক্তি থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন

ফ্রিড‌রিখ‌ ভিল‌হেল্ম নিচে (জার্মান: Friedrich Wilhelm Nietzsche, ফ্রিড্‌রিখ্‌ ভিল্‌হেল্‌ম্‌ নিচে, আ-ধ্ব-ব: [ˈfʁiːtʁɪç ˈniːtʃə], জন্ম ১৫ অক্টোবর, ১৮৪৪ - মৃত্যু ২৫ আগস্ট, ১৯০০) (কখনও কখনও "নিৎশে"-ও লেখা হয়) একজন বিখ্যাত জার্মান দার্শনিক, কবি ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন। নিচে তার পেশাজীবন শুরু করেন একজন ভাষাতাত্ত্বিক হিসেবে। ১৮৬৯ সালে, ২৪ বছর বয়সে তিনি ব্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষাতাত্ত্বিক হিসেবে যোগ দেন। কিন্তু ১৮৭৯ সালে স্বাস্হ্যগত কারণে পদত্যাগ করেন যা তাকে জীবনের অধিকাংশ সময় পীড়িত রেখেছিল। ১৮৮৯ সালে, ৪৫ বছর বয়সে তিনি মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তিনি ১৯০০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উক্তি[সম্পাদনা]

  • জীবনের সামরিক শিক্ষা—যেটা আমাকে হত্যা করে না, সেটাই আমাকে শক্তিবান করে তোলে
  • "আমি বিচলিত নই যে আপনি আমাকে মিথ্যা বলেছেন, আমি বিচলিত কারন এখন থেকে আপনাকে বিশ্বাস করতে পারছি না।"
  • "কখনও কখনও মানুষ সত্য শুনতে চায় না কারণ তারা তাদের বিভ্রম ধ্বংস করতে চায় না।"
  • "জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিকে কেবল তার শত্রুদেরই ভালোবাসতে নয়, তার বন্ধুদেরকে ঘৃণা করতেও সক্ষম হতে হবে।"
  • “ব্যক্তিদের মধ্যে, উন্মাদনা বিরল; কিন্তু দল, দল, জাতি ও যুগে এটাই নিয়ম।"
  • 'সব সত্যই সরল'—এটা কি একটা যৌগিক মিথ্যা নয়?[১]
  • এই শেষবারের মতো বলতে চাই, অনেক কিছু আছে যা আমি জানতে চাই না, কারণ প্রজ্ঞা জ্ঞানকে সীমিত করে তোলে ।
  • একটি গর্ধবকে কি ট্র্যাজিক বলে অভিহিত করা যায়? তার পিঠে বোঝার ভারে সে নুইয়ে পড়েছে, সে এই কষ্ট সহ্যও করতে পারছে না, অথবা ছুড়ে ফেলে দিতেও পারছে না। .... এই অবস্থাটাই একজন দার্শনিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। [1]
  • জীবনের 'কেন'গুলো যদি ধর্তব্যের ও বোধের মধ্যে আনতে পারি, তবে জীবনের সকল কীভাবেও নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। — মানবপ্রজাতি সুখের জন্য যুক্তমান নয়; শুধু মাত্র ইংরেজরা এই কাজটা করে।
  • স্বাভাবিক হতে পারলে অস্বাভাবিকত্ব ও তৎসহ সেটার আধ্যাত্মিকতা থেকে মুক্তি মেলে।[১]
  • “সব বিষয় ব্যাখ্যার সাপেক্ষে। একটি নির্দিষ্ট সময়ে যে ব্যাখ্যাটি বিরাজ করে তা শক্তির কাজ এবং সত্য নয়।"
  • যে ব্যক্তি তার ইচ্ছাগুলোকে বাস্তবায়িত করার পথ খুঁজে পায় না, সে অন্তত তার ইচ্ছাগুলোর অর্থ দিতে সক্ষম; এর অর্থ হলো সেই সব ইচ্ছাগুলোর মধ্যেই বাস্ত বায়িত হওয়ার পথ আছে ('বিশ্বাসে'র নীতি)। [1]
  • কোনও নারীর সদগুণ থাকলে পুরুষরা তার কাছে ঘেষে না; আবার সদগুণ না থাকলে সেই নারী নিজের কাছ থেকেই দূরে থাকে।
  • অতীতে বিবেক কতটা দংশন করতো? তার দাঁত কী রকম ভালো ছিল। আর আজ? সমস্যা কী? প্রশ্নটি করলেন একজন দন্তচিকিৎসক![১]
  • সকল পদ্ধতির খাপখোপে আমার বিশ্বাস নাই, এবং আমি সে সব পরিহার করি। পদ্ধতিতে বিশ্বাস রাখার অর্থ অখণ্ড সমগ্রতায় অবিশ্বাস। [১]
  • শিল্পীর যেমন হওয়া উচিত, এই তেমন একজন শিল্পী। তার চাওয়া অত্যন্ত ক্ষুদ্র সে মাত্র দুইটি জিনিস চায়, তার খাদ্য ও তার শিল্প—[১]
  • "সত্যি বলতে, খ্রিস্টান একজনই ছিলেন এবং তিনি ক্রুশে মারা গিয়েছিলেন।"
  • "প্রেম থেকে যা করা হয় তা সর্বদা ভাল এবং মন্দের উর্ধ্বে।"
  • গায়ের উপরে পা পড়লে একটা কেঁচো পেঁচিয়ে যায়। এটা বিবেচনামূলক কাজ। এতে দ্বিতীয়বার কেউ তার উপর পা ফেলার অবস্থা কমে যায়। নৈতিকতার ভাষায় একে বলে দীনাবস্থা ।
  • মিথ্যা এবং শঠতার প্রতি ঘৃণা আসে সদাচরণ বা সত্যনিষ্ঠার সংবেদনশীল ধারণা থেকে; একই ঘৃণা ভীরুতা থেকেও আসতে পারে—কারণ ঐশ্বরিক আদেশে মিথ্যা বলা নিষিদ্ধ। মিথ্যা কথা বলা কাপুরুষতা বৈকি....
  • আমরা যারা মনস্তাত্ত্বিক তারা কখনও কখনও অশ্বের মতো অস্থির হয়ে উঠি: আমরা আমাদের সামনে আমাদেরই ছায়া চলমান দেখি। পুরোটা দেখতে চাইলে নিজেদের দিক থেকে মনস্তাত্ত্বিকদের দৃষ্টি ফিরিয়ে নিতে হবে।
  • আমরা যারা অনৈতিক ব্যক্তি তারা কি সদৃগুণগুলোতে ক্ষতিসাধন করে?— সন্ত্রাসীরা যেমন রাজরাজড়াদের করে তেমন? রাজরাজড়াদের প্রতি একবার গুলি ছোঁড়া হলে তারপরে কি আর তারা সুদৃঢ়ভাবে সিংহাসনে বসতে পারে? উপসংহার: নৈতিকতাকেই গুলি করতে হবে।
  • তুমি সম্মুখপানে দৌড়াচ্ছ?—তুমি কি রাখাল? না একজন ব্যতিক্রমী কেউ? তৃতীয় কারণ হতে পারে—তুমি যুদ্ধ না করা পলাতক সেনা...। এটা বিবেকের প্রথম প্রশ্ন! [১]
  • তুমি কি খাঁটি? না কি শুধুই অভিনেতা? কারও প্রতিভূ? অথবা যেটাকে প্রতিনিধিত্ব করার কথা তুমিই সেটা শেষমেস বলতে হয় তুমি একজন অভিনেতার নকল মাত্র...। এটা বিবেকের দ্বিতীয় প্রশ্ন।[১]
  • তুমি কে সম্মুখে তাকিয়ে? তুমি কি কর্মলি? অথবা তুমি কি তেমন নও, অন্যদিকে তাকাও, কর্মবিমুখ! এটা বিবেকের তৃতীয় প্রশ্ন। [১]
  • তুমি কি সঙ্গী হতে চাও? না কি আগবাড়িয়ে যেতে চাও? না কি একাই যেতে চাও?... কি চাও এবং কোনটা চাও সেটা অবশ্যই জানতে হবে। এটা বিবেকের চতুর্থ প্রশ্ন। [১]
  • “তোমার বিবেক কি বলে? - 'আপনি যে ব্যক্তি আপনার তা হওয়া উচিত'। [১]
  • "আসলে, এটি ইচ্ছা, কাঙ্খিতা নয়, যা আমরা ভালবাসি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

আমাকে চিনতে হলে ও শেষ জীবনের কিছু কথা -ফ্রিডরিখ_নিচে -অনুবাদঃ ফজলুল আলম . ISBN : 978-984-8892-16-9. Page 79-82. [১]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]