বিষয়বস্তুতে চলুন

মহাদেব সাহা

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

মহাদেব সাহা (জন্ম: ৫ আগস্ট ১৯৪৪) বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীকালের একজন অন্যতম প্রধান কবি। তিনি তার সাহিত্যিক অবদান দিয়ে সব ধরনের পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। তিনি রোম্যান্টিক গীতিকবিতার জন্য জনপ্রিয়। তার কবিতা অপরিশ্রুত আবেগের ঘনীভূত প্রকাশে তীব্র। তিনি জীবিকাসূত্রে একজন সাংবাদিক ছিলেন, এবং দীর্ঘকাল দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৬ থেকে তিনি কানাডা প্রবাসী।

উক্তি[সম্পাদনা]

  • তবু মানুষ বেঁচে থাকতে চায়, আমি বেঁচে থাকতে চাই
    আমি ভালোবাসতে চাই, পাগলের মতো
    ভালোবাসতে চাই—
    এই কি আমার অপরাধ!
    • মন ভালো নেই, কাব্যসমগ্র, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- অন্যন্যা, ঢাকা, পৃষ্ঠা ২৪৯
  • এই মাসে আমার কেবল জন্মদিন না। একই দিনে শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের জন্মদিন, ৮ তারিখ বেগম ফজিলাতুন্নেছার জন্মদিন। ১০ তারিখ আমার বাবা মারা যান, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হারালাম। সব মিলিয়ে আনন্দের চেয়ে আগস্ট আমার জন্য ভয়াবহ স্মৃতির মাস।
  • এই যে আমি সারাটা জীবন পাঞ্জাবি পরলাম, চুল বড় রাখলাম, এর কি কোনো মানে নেই? আমার কি শার্টপ্যান্ট, জিনস পরতে ইচ্ছা করেনি। পরিনি, কারণ কবি হতে চেয়েছি।
  • কবি যদি হতে চাও, গদ্য লিখবে না। একবার গদ্য লিখতে শুরু করলে যত ভালো কবিতাই লেখো না কেন, লোকে তোমাকে আর কবি হিসেবে মানতে চাইবে না।
  • ২৫ মার্চ কাঁচা পায়খানা নিয়ে সম্পাদকীয় হতে পারে না। আমি পারব না। বরং ওই কাজটা করে দিতে পারব।
  • বাংলাদেশ চায় না তোমাকে, তুমি চলে যাও, যাও
    কত যে মায়ের খালি বুক ফেলে দীর্ঘশ্বাস—
    রক্তমাখা হাত, তুমি ক্ষমা চাও, ক্ষমা ভিক্ষা চাও।
    তোমাকে চায় না এই সোনালি ধানের ক্ষেত, কচি দূর্বা, দীর্ঘ শালবন...
  • বঙ্গবন্ধু ছাড়া আর কে আমাদের দিয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা? আর কে দিতে চেয়েছে সমাজতন্ত্র! তাঁকে ভালোবাসব, না তো কাকে ভালোবাসব!
  • বিজয়ের মাস ডিসেম্বর, লক্ষ প্রাণে লেখা বিজয়ের
    সেই সোনালি অক্ষর,
    দিকে দিকে শুনি জয়ধ্বনি বাংলাদেশের নামে, এই
    স্বাধীনতা কেনা রক্তের দামে;
    হৃদয়ে হৃদয়ে বাজে মুক্তির শত গান, ডিসেম্বরে
    পেয়েছি আমরা বিজয়ীর সম্মান;
    মার্চের সেই অমর কবিতা মুক্তির সংগ্রাম, ঘরে ঘরে গড়েছে দুর্গ,
    মুক্তিযুদ্ধে লিখেছি আমরা নাম,
    অশ্রুভেজা ডিসেম্বর বিজয়ের মাস, বিশ্বজুড়ে বাঙালির
    সেই গর্বের ইতিহাস।

তাঁর সম্পর্কে উক্তি[সম্পাদনা]

  • মহাদেবদার এই কবিতাটা কিন্তু খুব ভালো। এত নরম! এত নরম যে আমার মতো নরম মানুষের কাছেও এটাকে বেশি নরম বলে মনে হয়। মনে হয়, করুণা করে লেখা চিঠি আমি কেন নেব।
  • আমি মনে করি, মহাদেবদার এই কথার একটা তাৎপর্য আছে। আজকালকার বিজনেস-পড়া ছেলেমেয়েরা বলবে, এর নাম হলো ব্র্যান্ডিং। ব্র্যান্ডিং ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামকে দেখলেই আমরা বুঝব, তাঁরা কবি। চুল বড় না রাখলেও কবি হওয়া যায়। জীবনানন্দ দাশ যেমনটা ছিলেন। তবুও নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহার চেহারা দেখলেই লোকে বুঝে নেবে, এঁরা কবি বা শিল্পী। আবার আইয়ুব বাচ্চু বা জেমসকে দেখলেই বোঝা যাবে, এঁরা ব্যান্ড গায়ক। আপনি যখন এই মেকাপ-গেটাপটা নেন, তখন আপনি ২৪ ঘণ্টাই নিজেকে বলতে পারেন, আমি কবি। আমি শিল্পী। আয়নার সামনে দাঁড়ালেই আপনি নিজের ব্রতটাকে চিনে নিতে পারেন। আপনার তখন সংকল্পচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা কমে আসে।
  • মহাদেব আসলে মহৎ হতে চায়, অমর হতে চায়।
  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে মহাদেব সাহার একটা মূল্যায়ন জানতে পেরেছিলাম তাঁর সঙ্গে আড্ডায়। তিনি বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু ছাড়া আর কে আমাদের দিয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা? আর কে দিতে চেয়েছে সমাজতন্ত্র! তাঁকে ভালোবাসব, না তো কাকে ভালোবাসব!
    আমি মনে করি, বঙ্গবন্ধুকে বোঝার জন্য এই উপলব্ধিটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুটো মাত্র বাক্য, কিন্তু এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সারা জীবনের সাধনার, অভীষ্টের একটা বড় পরিচয় খুব সহজে স্পষ্ট হয়!

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]