বিষয়বস্তুতে চলুন

মামুনুর রশীদ

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

মামুনুর রশীদ (জন্ম: ২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮)একজন বাংলাদেশী নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের মঞ্চ আন্দোলনের পথিকৃৎ। তার নাট্যকর্মে প্রখর সমাজ সচেতনতা লক্ষণীয়। শ্রেণীসংগ্রাম তার নাটকের এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু। তিনি টিভির জন্যেও অসংখ্য নাটক লিখেছেন এবং অভিনয় করেছেন। বিভিন্ন সামাজিক ইস্যূ নিয়ে, শ্রেণীসংগ্রাম, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা অধিকার আদায়ের নানা আন্দোলন নিয়ে নাটক রচনা ও পরিবেশনা করে বাংলাদেশের নাট্য জগতে আলাদা স্থান করে নিয়েছেন।নাট্যকলায় বিশেষ অবদানের জন্য ২০১২ সালে তিনি একুশে পদকে ভুষিত হন।

উক্তি[সম্পাদনা]

  • সংস্কৃতি রাজনীতিকে পথ দেখাবে। তারপর সংস্কৃতি ও রাজনীতি পাশাপাশি চলবে। আর এখন সংস্কৃতি রাজনীতির দাস হয়ে গেছে। এই কথাটি বহুবার আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। একেবারে যারা মূল ধারার রাজনীতি করেন তাদের বলেছি। বামধারার রাজনীতিকদের মধ্যে এই চেতনা কিছুটা আছে। কিন্তু মূল ধারার রাজনীতিকদের মধ্যে এই চেতনা নাই।
  • আমার আজ মিশ্র প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। একাধারে আমি নাটকের জন্য সম্মানিত হচ্ছি। আবার অন্যদিকে নাটকের দর্শক ভীষণভাবে কমে গেছে। নাটকের দর্শক কমে গেল কেন?

“আমাদের পাশের দেশ ভারতের কলকাতায় একটা ছোট্ট শহরেও অনেকগুলো মঞ্চ আছে। কিন্তু আমাদের ঢাকা শহরে এই শিল্পকলা একাডেমি ছাড়া নাটক করার মতো আর কোনো মঞ্চ নেই। উত্তরা থেকে যে দর্শক নাটক দেখতে শিল্পকলা একাডেমিতে আসবে, তাকে ২ ঘণ্টার নাটক দেখার জন্য আরও ৪ ঘণ্টা যানজটে বসে থাকতে হয়। তাহলে এই ৫/৬ ঘণ্টা খরচ করে আর নাটক দেখতে অনেকেই আসতে চায় না।

    • নাট্য দিবস ২০২৩ সম্মাননা পাওয়ার পর বিডিনিউজ
  • আমার খুব কষ্ট হয়, যখন দেখি গুরু-শিষ্য পরম্পরায় ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্কগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নাটকের ক্ষেত্রে দেখেছি, আমি ছাড়াও যারা নাটকের শিক্ষক আছেন বা গুরু আছেন, এই গুরু-শিষ্যের পরম্পরার সম্পর্কটা এখনো সঠিক আছে। আমাদের সম্পর্কগুলো এখনো ঠিক পথেই আছে।
    • মামনুর রশীদের ১৯ তম জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন 'আলোর আলো নাট্যোৎসব' এ মামুনুর রশীদ বিডিনিউজ
  • ঈদের দিন নাটক মঞ্চায়ন একটি রেকর্ড এ দেশে। মঞ্চ নাটকের ইতিহাসেও একটি রেকর্ড। কেননা, ঈদের দিন নাটক মঞ্চায়ন এর আগে জামিল আহমেদ করেছিলেন। আর কেউ করেননি। বহু বছর পর আমি করতে যাচ্ছি আজ সন্ধ্যায়।
  • এই সিনেমার কারণে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। এটা চমৎকার একটি সিনেমা। এটাকে কেন আটকে রাখা হয়েছে সেই প্রশ্ন আমারও। এই সিনেমা মুক্তি দিলে আমাদের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হতো। কিন্তু তারা চিন্তা করলেন একেবারে উল্টো।

সিনেমার আঙ্গিকগত দিক থেকেও এই সিনেমাটি অনেক উন্নত। এটি একটি ওয়ান শট ফিল্ম বা আনকাট ফিল্ম। প্রায় ১২ দিন রিহার্সাল করে তারপরে আমরা একটা শটে এই সিনেমার শুটিং করেছি। এমন সিনেমা পৃথিবীতে খুব কম হয়।

  • চাওয়ার কিছু নেই। দেওয়ার কী আছে সেটাই ভাবি। কী দিতে পারলাম মানুষকে-দেশকে, এসব নিয়ে ভাবি। আমার জীবনে অর্থের প্রতি, সম্পদের প্রতি কোনো লোভ ছিল না কোনোদিনও। টাঙ্গাইল শহরে একটি পৈত্রিক বাড়ি আছে। সেখানে অমার মা এখনো আছেন। এটাই বিরাট আশার কথা। যেখানেই যাই, মানুষ ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখে। মানুষ সম্মান করে। এটাই কম কী? যতদিন বাঁচি দিতে চাই। লেখার মাধ্যমে হোক, অভিনয়ের মাধ্যমে হোক, প্রতিবাদ করার মাধ্যমে হোক।
  • ৯০ দশকের পর থেকে মানবিক সংস্কৃতি ক্রমাগত কমে গেছে। শিক্ষাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় স্পর্শ করে না। এর একটি হচ্ছে শিক্ষা। আমেরিকাতে তাই, জাপানেও তাই। এটা শিক্ষাবিদদের ব্যাপার। কিন্তু জিয়াউর রহমানের আমল থেকে শুরু হয়েছে শিক্ষকদের সামনে আঙুল উঁচিয়ে কথা বলা। এই আঙুল উঠতে উঠতে কোথায় গেল। শিক্ষকদের গলায় জুতার মালা, শিক্ষককে স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
    • কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন আখ্যান ও সমান্তরাল বাস্তবতা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে আজকের পত্রিকা
  • ভালোই লাগে। ব্যতিক্রমী একটা ব্যাপার। মনে হয় বিষয়টা একদিক দিয়ে ঠিকই আছে, প্রতিবছর হলে সবার ঝামেলা হয়ে যেত। কারণ কাছের মানুষরা আমার জন্মদিনটি ইদানিং পালন করতে চায় । প্রতিবছর জন্মদিন পালনের জন্য সময় বের করা আমার জন্য কঠিন হয়ে যেত। চার বছর পর পর জন্মদিনের জন্য একটি দিন ছেড়ে দেওয়া যেতেই পারে।
  • চলচ্চিত্রের একটা সময় স্বর্ণযুগ ছিল। তখন হিন্দি, উর্দু, কলকাতার বাংলা ছবি আসত। তার মধ্য থেকে একজন জহির রায়হান, ফতেহ লোহানী, মহিউদ্দিন ভাইয়ের জন্ম। তারপর নারায়ণ ঘোষ মিতা, খান আতাউর রহমান এলেন। খান আতার নবাব সিরাজউদ্দৌলা তো ওই সময় পশ্চিম পাকিস্তান, পূর্ব পাকিস্তান ও ভারতে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। শুধু এ ধরনের সৃজনশীল শিক্ষিত পরিচালকেরই জন্ম হয়নি একের পর এক অভিনেতা তৈরি হয়েছে। টেকনিশিয়ান তৈরি হয়েছে। বেবী ইসলাম, আবদুস সামাদ, সাধন রায়, অরুণ রায় ও আবদুল লতিফ বাচ্চু। এ ধরনের গুণী ক্যামেরাম্যান চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছে। বশির ভাই ও এনামুল হক নামে চলচ্চিত্রের নামকরা এডিটর ছিলেন। তারা অসাধারণ কাজ করেছেন। এসব অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানের কারণে আমরা জীবন থেকে নেয়া, কাঁচের দেয়াল, কখনো আসিনির মতো অসংখ্য কালজয়ী ছবি পেয়েছি। আশির দশকে এসে চলচ্চিত্রের অধঃপতন শুরু হয়। গল্পের ছবি, কাটপিস, অশ্লীলতা এখন যৌথ প্রযোজনার নামে বিদেশি ছবি আমদানি হচ্ছে। জানি না চলচ্চিত্রের আগামী ভবিষ্যৎ কী?
  • ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৬০০ গাছ কেটে ফেলা হলো, আর হাস্যকর ব্যপার হচ্ছে: নগর উত্তর (উত্তর সিটি করপোরেশন) চিফ হিট অফিসার নিয়োগ দেয়।

তাপ কমানোর জন্য তো তিনি গাছ লাগাবেন। আর এদিকে কয়েক দিনের মধ্যে ধানমন্ডি সাত মসজিদ সড়ক বিভাজক থেকে ৬০০ গাছ কেটে ফেলা হলো।

  • আমি কি ক্লাসে গ্যালিলিও পড়াতে পারব না। গ্যালিলিও পড়াতে গেলে কি আমাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব কী হচ্ছে? বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে বড় ধরনের দুর্নীতি হচ্ছে। ম্যানেজিং কমিটি থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাই ওত পেতে বসে থাকে কবে শিক্ষক নেওয়া হবে। কখন লাখ লাখ টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা হবে। এসব সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বলি হচ্ছে হৃদয় মন্ডলরা। আমরা টিনের তলোয়ার নিয়ে হৃদয় মন্ডলের পাশে থাকব। দেখি রাষ্ট্র কী করে। বিচারব্যবস্থা কী করে। এটা আমরা দেখে ছাড়ব।
    • ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কারাবন্দি মুন্সীগঞ্জের বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় মন্ডলকে নিয়ে সময় টিভি
  • হ্যাঁ, ওই যুদ্ধে দেশ প্রেমটাই প্রধান নিয়ামক হলেও এটাও ঠিক যে, সেখানে মতাদর্শগতও বহুতা ছিল। আমাদেরও একটা ভিন্ন আদর্শ ছিল। আমি এখনো বিশ্বাস করি এবং তখনো বিশ্বাস করতাম মানুষের ইতিহাস শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস। কাজেই জাতীয় সংগ্রামের পরে সেটা পরবর্তী সময়ে শ্রেণি সংগ্রামে মোড় নেবে এমন একটা প্রত্যাশা তো ছিলই। সেটা হয়নি বলেই ১৯৭১ এ জাতীয় সংগ্রাম যেখানে এক পাটাতনে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছিল। দেশ স্বাধীনের পর শ্রেণি সংগ্রাম এক পাটাতনে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি।
  • সব চ্যানেলই চায় হাসির নাটক প্রচার করতে। তার মানে মজার নাটক। এই মজা খুঁজতে গিয়ে আমাদের সমস্যা বাড়ছে। সব জায়গায় একটা হুড়াহুড়ি। এর মধ্যে কি ভালো কোনো কাজ হয়? এই হুড়াহুড়িটা কী করে যে আমদানি হয়ে গেল বিশ্বায়নের বদৌলতে বুঝতে পারলাম না এবং হঠাৎ করে আমরা ওয়েস্টার্ন হয়ে গেলাম। সামনের বাসায় কী হচ্ছে আমরা জানি না, খবরও রাখি না। এখন শত সিকিউরিটির মধ্যে হাজারো সমস্যা। টেলিভিশন মিডিয়ায় যারা কাজ করে তারা তো মহাব্যস্ত। সারা দিন-রাতে অবসর নেই। একেকজন তিন-চারটি সিরিয়ালের কাজ করেন প্রতিদিন। এই ব্যস্ত শিল্পীদের মাস হয় চল্লিশ দিনে।

মামুনুর রশীদকে নিয়ে উক্তি[সম্পাদনা]

  • মামুনুর রশীদের মতো এমন জীবন ঘনিষ্ঠ নাট্যকার কমই আছেন। মঞ্চে ওরা কদম আলী, জয়জয়ন্তী দেখেছি। টেলিভিশনে অনেক আগে তার একটা নাটকে অভিনয় করেছিলাম তার আর এখন কোনো রেকর্ড নেই।
  • এই মানুষটার সান্নিধ্যে না এলে হয়তো আমি অভিনেতা পরিচয়ে পরিচিত হতে পারতাম না। সৃষ্টিশীল যেকোনো সাধনা করতে গেলে গুরু লাগে, আমার অভিনয়গুরু মামুনুর রশীদ। আজ তাঁর জন্মদিন। নিজের হাতে তাঁর ছবি এঁকে ক্ষুদ্র একটা গুরুদক্ষিণা দিলাম। শুভ জন্মদিন গুরু।
    • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টে চঞ্চল চৌধুরী কালের কন্ঠ

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]