বিষয়বস্তুতে চলুন

মাহদী

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

মাহদী বা মাহদি ( আরবি: ٱلْمَهْدِيّ, প্রতিবর্ণীকৃত: al-Mahdī, অনুবাদ 'সুপথপ্রাপ্ত') হল ইসলামি পরকালবিদ্যায় চর্চিত একজন মসীহ বা ত্রাণকর্তা, যিনি মন্দ ও অন্যায় থেকে বিশ্বকে পরিত্রাণ দেওয়ার জন্য কেয়ামতের কিছু দিন আগে উপস্থিত হবেন বলে বিশ্বাস করা হয়। তাকে নবি মুহাম্মদ (সাঃ) এর বংশধর বলা হয়, যিনি নবী ঈসা আ. এর আগে আবির্ভূত হবেন এবং মুসলিমদেরকে পুরো বিশ্ব শাসনে নেতৃত্ব দেবেন। যদিও কুরআনে মাহদীর উল্লেখ নেই এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দুইটি হাদিসগ্রন্থ: সহীহ আল-বুখারি ও সহিহ মুসলিমসহ হাদিসের বেশ কয়েকটি প্রামাণিক সংকলনেও তার আলোচনা তেমন পাওয়া যায় না; তবে হাদিসের অন্য কিছু কিতাবে তার উল্লেখ রয়েছে এবং নববী যুগ থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত তাঁর আগমনের বিষয়টি মুসলিম উম্মাহের মাঝে চর্চিত হয়ে আসছে।

উক্তি[সম্পাদনা]

  • আর যদি আমি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাদের থেকে আযাব বিলম্বিত করি, তবে তারা অবশ্যই বলবে, ‘কোন্ বস্তু তাকে ঠেকিয়ে রাখল’? সাবধান ! যেদিন তাদের উপর তা নেমে আসবে, সেদিন তাদের থেকে তা ফেরানো হবে না এবং তারা যা নিয়ে উপহাস করত, তাদেরকে তা ঘিরে ফেলবে।
    • সূরাঃ হূদ: আয়াতঃ ৮
  • আর উপদেশ দেয়ার পর আমি কিতাবে লিখে দিয়েছি যে, ‘আমার যোগ্যতর বান্দাগণই পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হবে’।
    • সূরাঃ আল-আম্বিয়া: আয়াতঃ ১০৫

হাদিস[সম্পাদনা]

    • হজরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার শেষ উম্মতের মাঝে মাহদি প্রকাশ পাবে। আল্লাহ তাআলা তাদের উপর কল্যাণের বারিধারা বর্ষণ করবেন। ভূ-পৃষ্ঠ গচ্ছিত সকল খনিজ সম্পদ উন্মোচন করে দিবে। ধন-সম্পদের সুসম বন্টন নিশ্চিত করবে। গবাদিপশু বৃদ্ধি পাবে। মুসলমানদের হারানো মর্যাদা ফিরে আসবে। সাত বা আট বছর তার রাজত্ব হবে।
    • (মুস্তাদরাকে হাকিম-৪/৫৫৭-৫৫৮)
  • হজরত উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মাহদি আমার বংশে ফাতেমার সন্তানদের মধ্যে হবে।
    • (আবূ দাউদ-১১/৩৭৩)
  • হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মাহদি আমার বংশধর। এক রাত্রিতে আল্লাহ তাআলা তাকে নেতৃত্বের যোগ্য বানিয়ে দেবেন।
    • (আল-মুসনাদ-২/৫৮)
  • হযরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মরিয়ম-তনয় ঈসা (আ.) আসমান হতে অবতরণ করবেন। মুসলমানদের সেনা প্রধান মাহদি তাকে স্বাগত জানিয়ে বলবেন, আসুন! নামাজের ইমামতি করুন। ঈসা (আ.) বলবেন, না, (তুমিই ইমামতি করো)। তোমাদের একজন অপরজনের নেতা। এই উম্মতের জন্য আল্লাহ তাআ'লার পক্ষ থেকে এ এক মহা সম্মান। (ইবনুল কাইয়িম রহ.-এর 'আল-মানারুল মুনীফ' ১৪৭-১৪৮ পৃষ্ঠায় লিখেন, হারেস বিন আবূ উসামা স্বীয় মুসনাদে সবল সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)।
  • হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পৃথিবীর জীবনসায়াহ্নে যদি একটি মাত্র দিন অবশিষ্ট থাকে, তবে সে দিনটিকে আল্লাহ তাআলা দীর্ঘ করে আমার পরিবারস্থ একজন ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন। তার নাম আমার নাম এবং তার পিতার নাম আমার পিতার নাম সদৃশ হবে।
    • (তিরমিযী-২২৩০/আবূ দাউদ-৪২৮৪)
  • উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিদ্রাবস্থায় কেমন যেন করছিলেন। (জাগ্রত হওয়ার পর) জিজ্ঞেস করলাম, এমন করছিলেন কেনো হে আল্লাহর রাসুল? বললেন, খুবই আশ্চর্যের বিষয়, আমার উম্মতের কিছু লোক কাবা ঘরে আশ্রিত কুরায়শী ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। বাইদা প্রান্তরে পৌঁছা মাত্র সবাইকে মাটির নিচে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে। আমরা বললাম, পথে তো অনেক মানুষের সমাগম থাকে!! নবীজী বললেন, হ্যাঁ! দর্শক, অপারগ এবং পথিক সকলকেই একত্রে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে। তবে অন্তরেচ্ছা অনুযায়ী আল্লাহপাক তাদের পুনরুত্থান করবেন।
    • (মুসলিম-৭৪২৬)
  • হজরত আবূ হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কেমন হবে- যখন তোমাদের মাঝে মরিয়ম-তনয় ঈসা (আ.) অবতরণ করে তোমাদের-ই একজনের পেছনে ফজরের নামাজ আদায় করবেন।
    • (মুসলিম-৪০৯)
  • সেদিন বনু কালবের সর্বনাশ ঘটবে। যে বনু কালব থেকে অর্জিত সম্পদ প্রত্যক্ষ করেনি, সে-ই প্রকৃত বঞ্চিত। অতঃপর মানুষের মাঝে তিনি সম্পদ বন্টন করবেন। নববী আদর্শের বাস্তবায়ন ঘটাবেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ইসলাম সেদিন ভূ-পৃষ্ঠে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। সাত বছর এভাবে রাজত্ব করে তিনি ইন্তেকাল করবেন। মুসলমানগণ তার জানাজায় শরিক হবে।
    • (আবূ দাউদ-৪২৮৮)

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]