শরৎকুমার রায়
অবয়ব

―শরৎকুমার রায়
শরৎকুমার রায় (১৮৭৬ – ১২ এপ্রিল ১৯৪৬) ছিলেন একজন বাঙালি লেখক ও গবেষক। তিনি নাটোর জেলার দিঘাপতিয়ার রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন রাজা প্রমথনাথ রায় বাহাদুর এবং মাতা রাণী দ্রবময়ী। ‘বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি’ এবং ‘বরেন্দ্র মিউজিয়াম’ স্থাপন তাঁর জীবনের অক্ষয় কীর্তি। ‘হিতবাদী’, ‘সন্ধ্যা’, নবশক্তি প্রভৃতি পত্রিকার সহ-সম্পাদক ছিলেন। রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ৯টি। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো ভারতীয় সাধক, বুদ্ধের জীবন ও বাণী, বৌদ্ধ-ভারত, শিখগুরু ও শিখজাতি, শিবাজী ও মারাঠাজাতি, মহাত্মা অশ্বিনীকুমার, মোহনলাল প্রভৃতি।
উক্তি
[সম্পাদনা]- বৌদ্ধসাধকের ধ্যানের বিষয় চারিটি। প্রথম—নির্জ্জনে ধ্যান করিয়া চিত্ত হইতে সর্ব্বপ্রকার পাপলালসা-বিমোচন। দ্বিতীয়—পবিত্র আনন্দ ও সুখের ধ্যানের দ্বারা চিত্তসমাধান। তৃতীয়—আধ্যাত্মিক বিষয়ের ধ্যান দ্বারা চিত্তবিনোদন। চতুর্থ—চিত্তকে সুখ ও দুঃখের উর্দ্ধে উন্নত করিয়া পবিত্রতা ও শান্তির মধ্যে বিহার।
- বুদ্ধের জীবন ও বাণী- শরৎকুমার রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৭
- বাবা নানকের সার্ব্বভৌমিক সাধনা হিন্দু ও মুসলমান এই দুই ধর্ম্মের সমন্বয় সাধন করিয়াছিল। “ভগবান এক, মানুষ ভাই ভাই” এই সত্যটিই তিনি প্রচার করিতেন। তিনি নিজেকে মৃত্যুশীল, পাপী মানব বলিয়াই মনে করিতেন। সর্ব্বশক্তিমান স্বয়ম্ভু, স্বপ্রকাশ পরব্রহ্মের প্রতি বিশ্বাসই মুক্তির একমাত্র উপার বলিয়া তিনি প্রচার করিয়াছেন।
- শিখগুরু ও শিখজাতি- শরৎকুমার রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস ও ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রয়াগরাজ, প্রকাশসাল- ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪
- সমগ্র মানবজাতিকে দুঃখ হইতে মুক্ত করিবার কল্যাণকর সুমহৎ ব্রত যাঁহাকে গ্রহণ করিতে হইবে, সংসারের ক্ষণস্থায়ী সুখভোগ তাঁহাকে কেমন করিয়া বাঁধিয়া রাখিবে? রাজ-অন্তঃপুরের প্রচুর ভোগবিলাসের আড়ম্বরের মধ্যে অবস্থিত হইলেও সিদ্ধার্থ আপনার চিত্তে কখন কখন বাহির হইতে করুণ আহ্বান শুনিতে পাইতেন। জরা, ব্যাধি ও মৃত্যু নিরন্তর সমস্ত প্রাণীর জীবন দুঃখময় করিয়া রাখিয়াছে; ইহাদের আক্রমণহইতে কি উপায়ে জীবকুল নিষ্কৃতি লাভ করিতে পারে, এই চিন্তা বিদ্যুৎ-স্ফুরণের ন্যায় সময়ে সময়ে তাঁহার মনে উদিত হইত।
- বৈরাগ্যসঞ্চার, বুদ্ধের জীবন ও বাণী- শরৎকুমার রায়, তৃতীয় অধ্যায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০
- মহাপুরুষদের বিশেষত্ব এই যে, তাঁহারা মনুষ্যত্বকে মনোমোহন নব শ্রী দান করিয়া থাকেন। শর্করা যেমন জলের সহিত সর্ব্বতোভাবে গলিয়া-মিশিয়া জলকে মধুর করে, মহাপুরুষেরাও তেমনি মানবজাতির সাধনাসমুদ্রে তাঁহাদের জীবনের সাধনার ধারা মিশাইয়া দিয়া মানবসাধনাকে নবীন গৌরব দান করেন। একনিষ্ঠ সাধনার দ্বারা মানব আপনার চরম সাফল্য নিজের চেষ্টাতেই অর্জ্জন করিতে পারেন; মানব আপনিই আপনার ভাগ্যনিয়ন্তা এবং আপনিই আপনার উদ্ধারকর্তা; মুক্তিলাভের জন্য তাঁহার দ্বিতীয় কোন অবলম্বনের প্রয়োজন নাই—মহাপুরুষ সিদ্ধার্থের সাধনা মানবত্বকে এই গৌরবমুকুট পরাইয়া দিয়াছে।
- সাধনা ও বোধিলাভ, বুদ্ধের জীবন ও বাণী- শরৎকুমার রায়, পঞ্চম অধ্যায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩২১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
শরৎকুমার রায়কে নিয়ে উক্তি
[সম্পাদনা]- বাঙ্গালীর ইতিহাসের উপাদান-সঙ্কলনের আশায়,—বরেন্দ্রমণ্ডলে ধারাবাহিক রূপে তথ্যানুসন্ধানের আয়োজন করিবার অভিপ্রায়ে,—দীঘাপতিয়ার রাজকুমার শ্রীযুক্ত শরৎকুমার রায় বাহাদুর এম্-এ, [১৯১০ খৃষ্টাব্দে] একটি “বরেন্দ্র-অনুসন্ধান-সমিতি” গঠিত করিয়া, তথ্যানুসন্ধানে ব্যাপৃত হইয়াছেন। তাঁহার অকাতর অর্থব্যয়, অক্লান্ত অধ্যবসায়, এবং প্রশংসনীয় ইতিহাসানুরাগ, অল্পকালের মধ্যেই, অনুসন্ধান-সমিতিকে সকলের নিকট সুপরিচিত করিয়া তুলিয়াছে।
- রমাপ্রসাদ চন্দ, উপক্রমণিকা, গৌড়রাজমালা- রমাপ্রসাদ চন্দ, অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় সম্পাদিত, প্রকাশক- বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি, প্রকাশস্থান- রাজশাহী, প্রকাশসাল- ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৴৹-৵৹
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় শরৎকুমার রায় সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।
উইকিসংকলনে শরৎকুমার রায় রচিত অথবা সম্পর্কিত রচনা রয়েছে।