সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
অবয়ব

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (১১ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮২ - ২৫ জুন, ১৯২২) বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জনপ্রিয় কবি ও ছড়াকার। কবিতায় ছন্দের সমৃদ্ধতার জন্য তিনি ছন্দের যাদুকর বলে খ্যাত। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত প্রকৃতিপ্রেমিক কবি হিসেবেও পরিচিত। তিনি বিভিন্ন ভাষা থেকে বাংলায় অনুবাদকর্মও করেছেন। তার কবিতায় ছন্দের কারুকাজ, শব্দ ও ভাষা যথোপযুক্ত ব্যবহারের কৃতিত্বের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ছন্দের যাদুকর নামে আখ্যায়িত করেন।
উক্তি
[সম্পাদনা]- বাবুই কোথা বাসা বোনে—
চাতক বারি যাচে রে?
সে আমাদের বাংলা দেশ,
আমাদেরি বাংলা রে!- কোন দেশে - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, কাব্য-সঞ্চয়ন, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৩
- দুই কিনারায় ফুলের ফসল, পর্ণে শাড়ী ফুল-পেড়ে,
আমের ছায়া নিমের ছায়া এড়িয়ে আগে যাস্ বেড়ে;
বসন্তে তোর ডাইনে বাঁয়ে ফুলের ধূলোট, ফুলের বান,
মগজ ভরে মন হরে তোর সাত-আতরের ঐকতান!- ঘুম্তী নদী, বিদায়-আরতি- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- আর, এইচ, শ্রীমানী এণ্ড সন্স, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৩
- ভোলা স্বপন সফল হ’ল
সোনার শরৎ-শেষে গো!
যে আলোকে কাঁদন হরে
শিউলি মরে—হেসে গো!- (আবির্ভাব)
- জগত জুড়িয়া এক জাতি আছে
সে জাতির নাম মানুষ জাতি;
এক পৃথিবীর স্তন্যে লালিত
একই রবি শশী মোদের সাথি।- মানুষ জাতি কবিতা
- ধন্য জীবন তাহারি,—যে জন নিজে বিচারিয়া
নিজের তরে
নীতি ও নিয়ম করি’ প্রণয়ন, আমরণ তাহা
পালন করে;- বীরের ধর্ম্ম কবিতা, তীর্থরেণু কাব্যগ্রন্থ
- ইলশে গুঁড়ি! ইলশে গুঁড়ি!
পরীর কানের দুল,
ইলশে গুঁড়ি! ইলশে গুঁড়ি!
ঝরো কদম ফুল।
ইলশে গুঁড়ির খুনসুড়িতে
ঝাড়ছে পাখা - টুনটুনিতে
নেবুফুলের কুঞ্জটিতে
দুলছে দোদুল দুল্;
ইলশে গুঁড়ি মেঘের খেয়াল
ঘুম-বাগানের ফুল। (ইলশে গুঁড়ি)
- পাল্কী চলে,
পাল্কী চলে—
দুল্কি চালে
নৃত্য তালে!
ছয় বেহারা,—
জোয়ান তারা,—
গ্রাম ছড়িয়ে
আগ্ বাড়িয়ে- পাল্কীর গান, কুহু ও কেকা - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯-৩০
- কুকুরের কাজ কুকুর করেছে
কামড় দিয়েছে পায়,
তা বলে কুকুরে কামড়ানো কিরে
মানুষের শোভা পায়? (উত্তম ও অধম)
- বাজ্ল কখন বিসর্জ্জনের বাঁশী,
আঁধার এল মুগ্ধ আঁখির ’পরে;
গোলাপ যখন ফুট্ছে রাশি রাশি
গোলাপ-ফুলের ভক্ত গেল মরে’!- কবি দেবেন্দ্র, বিদায়-আরতি- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- আর, এইচ, শ্রীমানী এণ্ড সন্স, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৬৮
- তাই উন্মনা আমি তৃষিত নয়নে
দুয়ারে ছুটিয়া আসি;—
ওগো গগনে, পবনে, পরাণে আমার
নিয়ত বাজিছে বাঁশী!- বাঁশী, ফুলের ফসল - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান্ প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, পৃষ্ঠা ২৫
- আদাড়ের মশা পাঁদাড়ের মশা
জুটেছে মানস-সরে,
রক্ত-পদ্মে রক্ত না পেয়ে
ছেঁকে ধরে মধুকরে!- বর্ষার মশা, বিদায়-আরতি- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চতুর্থ সংস্করণ, প্রকাশক- আর, এইচ, শ্রীমানী এণ্ড সন্স, পৃষ্ঠা ৪০
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে নিয়ে উক্তি
[সম্পাদনা]- তুমি বঙ্গভারতীর তন্ত্রী-‘পরে একটি অপূর্ব তন্ত্র এসেছিলে পরাবার তরে এ শুধু প্রিয়জনের প্রশংসা নয়, এ এক ঐতিহাসিক সত্য।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।
উইকিসংকলনে সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত অথবা সম্পর্কিত রচনা রয়েছে।
উইকিমিডিয়া কমন্সে সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত সংক্রান্ত মিডিয়া রয়েছে।