সুনির্মল বসু
অবয়ব

বিশ্ব জোড়া পাঠশালা মোর
সবার আমি ছাত্র,
নানান ভাবের নতুন জিনিস
শিখছি দিবারাত্র।
—সুনির্মল বসু
সুনির্মল বসু (২০ জুলাই ১৯০২ - ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৭) একজন বাঙালি কবি ও শিশুসাহিত্যিক। তিনি ভারতের বিহারের গিরিডি নামক স্থানে পিতার কর্মস্থলে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় সাঁওতাল পরগণার মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ তার মনে কবিতা রচনার অনুপ্রেরণা জাগায়। তার রচিত প্রথম কবিতা 'প্রবাসী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ছড়া, কবিতা, গল্প, কাহিনি, উপন্যাস, ভ্রমণকাহিনি, রূপকথা, কৌতুকনাট্য প্রভৃতি শিশু ও কিশোরদের উপযোগী বিভিন্ন বিষয়ক রচনায় সিদ্ধহস্ত ছিলেন। প্রধানত সরস শিশু সাহিত্য রচনাকেই সাহিত্যের মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন। কবিতা রচনা ছাড়াও কিশোর বয়স থেকে চিত্রাঙ্কনেও দক্ষ ছিলেন।
উক্তি
[সম্পাদনা]- আষাঢ়ের ভোর-রাতে ভেঙে গেল ঘুম,—
বাদল নূপুর শুনি, ঝুম্ ঝুম্ ঝুম্!
আধো-আলো আঁধিয়ারে
চেয়ে দেখি বারে বারে—
জল-ভরা বাদলের নাচনের ধুম;
জলের ঘুঙুর বাজে রুম্ ঝুম্ ঝুম্।- আষাঢ়ের ভোর-রাতে, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২
- পউষ-উষায় আজ হিম ঝুরেছে,—
তারা ঝিম-লাগা নিম ফলে মৌ ঢুঁড়েছে
তারা গান জুড়েছে।- ভোম্রায় গায়, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৬
- বাতাস বহে শির্শিরিয়ে,
হিম ঝ’রে যায় ঝির্ঝিরিয়ে,
গান ধরেছে নানান সুরে
পাখীরা বিল্কুল,
ঝোপের পাশে মধুর হাসে
হল্দে-রঙা ফুল।- হল্দে-রঙা ফুল, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৩
- কিন্তু মোদের নজরেতে পড়লে ঠিকই ধরা,
আসল বুড়ো নয়কো তুমি, বুড়োর মুখোশ-পরা।
ছদ্মবেশে যতই আঁটো বুড়োর মুখোশখানা,
তুমি শিশু, চির-কিশোর, মোদের সেটি জানা।
সবাই মিলে আমরা জানি, পাড়ার হারু, বিশু,
রবি ঠাকুর বুড়ো ত নয়, মোদের মতই শিশু।- শিশু-রবির প্রতি বাঙালী শিশু-মহল, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৪
- বিশ্ব-জোড়া পাঠশালা মোর,
সবার আমি ছাত্র,
নানান ভাবের নতুন জিনিস,
শিখছি দিবারাত্র;
এই পৃথিবীর বিরাট খাতায়
পাঠ্য যে-সব পাতায় পাতায়,
শিখছি সে-সব কৌতূহলে
সন্দেহ নাই মাত্র॥- সবার আমি ছাত্র, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩
- এখনো সুদূরে দেখি মেলিয়া নয়ন—
ধোঁয়া আর কুয়াশার গাঢ় আবরণ।
পউষের মিঠে রোদে বসেছি দাওয়ায়,
নলেন গুড়ের পিঠে খাবি কে রে আয়॥- শীতের সকাল, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭২
- ঐ শোন্ দূরেতে
ব্যথা-ভরা সুরেতে
ক্যাঁচ ক্যাঁচ—বিটকেল
পেচকের কাঁদ্নি।- চাঁদনী রাতে, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৫
- ঐ চলেছে গরুর গাড়ি মাঠের পাশে,
কাঠের চাকায় ক্যাঁচোর ক্যাঁচোর শব্দ আসে।
গাড়োয়ানটা পাগড়ি মাথায় পড়ছে ঢুলে,
আপন মনে চলছে গরু ল্যাজুড় তুলে।- গরুর গাড়ির গান, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪
- পাহাড় শিখায় তাহার সমান
হই যেন ভাই মৌন-মহান্,
খোলা মাঠের উপদেশে—
দিল্-খোলা হই তাই রে।- সবার আমি ছাত্র, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩
- আসলো উড়ে প্রজাপতি
আনন্দে মশগুল;
চলতে পথে দেখতে পেলাম
হল্দে-রঙা ফুল।
তখন সবে ভোর হয়েছে,
রাতের আঁধার নাই,
হলুদ রঙের ছোপ লেগেছে
পূব গগনে তাই।- হল্দে-রঙা ফুল, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৩
- জড়সড় দেহ মোর,—বড় শীত ভাই,
রোদ-ছাওয়া দাওয়াটায় বসি এসে তাই;
দুরে দেখি ফাঁকা মাঠে আলো ঝলমল,
শালিখের ঝাঁক সেথা করে কোলাহল।- শীতের সকাল, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭১
- প্রজাপতি
চপল অতি, হাল্কা ডানা তার,—
হাওয়ার তোড়ে
ছট্কে পড়ে, পথ মেলে না আর।- ঘূর্নি হাওয়ার গান, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০৯
- পুঁজিবাদী করে টাকা নিয়ে খেলা, তাদের কুকুরো খায়,
দেখ কত শত শিশু ভগবান ক্ষুধায় মরিয়া যায়;
এমন আইন চাই—
যে আইন-বলে শিশু ও কিশোর বাঁচিবে সর্বদাই।- আমাদের দাবী, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫৪
- অদ্ভুত কারবার!
দাদা যায় গাধা চ’ড়ে
‘ডায়মন হারবার।’
তিন মণ দেহ তার
লাগে ভারি ভারভার।
গাধা ব্যাটা বাধা পেয়ে
ঠ্যাং ছোঁড়ে বারবার।- অদ্ভুত কারবার, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪১
- ঘাসের বনে আনন্দে আজ
সবুজ ফড়িং লাফিয়ে আসে,
আমার মনের চপল ফড়িং
ঘুরছে তাহার আশে-পাশে।- সবুজ-ফড়িং, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২০
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় সুনির্মল বসু সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।
উইকিসংকলনে সুনির্মল বসু রচিত অথবা সম্পর্কিত রচনা রয়েছে।