বিষয়বস্তুতে চলুন

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় (৬ নভেম্বর ১৯৩০ (২২শে কার্তিক ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ) - ১৯ জানুয়ারি ২০১৯) ছিলেন এক প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি লেখক।

উক্তি[সম্পাদনা]

  • অদ্ভুত স্নিগ্ধ প্রকৃতি। পুকুর, নদী, খাল, বিল, চাষের জমি। ডাঙা, জল যেন সমান সমান। আমাদের কুকুর বেড়াল ছাগল গরু, সবার একটা করে নাম! বাবা, জ্যাঠামশাই, কাকারা দূরে দূরে কাজ করতেন। আমরা বড় হয়েছি এক শিক্ষকের অধীনে। তাঁর নাম অনিল পাকরাশী। বাড়ির গৃহকর্তা ছিলেন আমার ঠাকুরদাদা। আমাদের ছিল একান্নবর্তী পরিবার।
    • ২৫ জানুয়ারী ২০১৯ সালে, বনিক বার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় কর্তৃক গৃহীত অতীন বন্দোপাধ্যায়ের সাক্ষাতকার থেকে গৃহীত। এই সাক্ষাতকারটি লেখকের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশে তার বাল্যকালের স্মৃতিচারণা প্রসঙ্গে লেখক উপরিউক্ত কথাটির অবতারনা করেন। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার
  • আমি এসেছি দেশভাগের কিছুদিন পর। সে সময় আমার ম্যাট্রিকের টেস্ট পরীক্ষা চলছিল। তখন পর্যন্ত ওপারে টেস্ট দিলে এপারে ফাইনাল দেয়া যেত। দেশভাগের খবর চাউর হতেই আমাদের বিশাল পরিবার, বাবা, জ্যাঠা, কাকা, কাকিমা, জেঠিমা, ভাইবোন ভাগ ভাগ করে এপারে আসতে লাগল।
    • ২৫ জানুয়ারী ২০১৯ সালে, বনিক বার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় কর্তৃক গৃহীত অতীন বন্দোপাধ্যায়ের সাক্ষাতকার থেকে গৃহীত। এই সাক্ষাতকারটি লেখকের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। দেশভাগের স্মৃতিচারণা প্রসঙ্গে লেখক উপরিউক্ত কথাটির অবতারনা করেন। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার
  • কলেজে পড়ার সময়। তার আগে তো ভাত-কাপড় জোগাড় করতে বাড়ির লোক হিমশিম খাচ্ছে! বহরমপুর কলেজে বন্ধুরা খুব সাহিত্যচর্চা করত। আমাদের বাড়িতে ‘দেশ’ পত্রিকা আসত। রাখাও হতো বিল্বপত্রের মতো! তখন ‘দেশ’ পত্রিকা খুব পড়ি। ততদিনে অবশ্য জাহাজ থেকে ফিরে এসেছি।
    • ২৫ জানুয়ারী ২০১৯ সালে, বনিক বার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় কর্তৃক গৃহীত অতীন বন্দোপাধ্যায়ের সাক্ষাতকার থেকে গৃহীত। এই সাক্ষাতকারটি লেখকের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। সাহিত্যের প্রতি তার অনুরাগ কিভাবে এল এই প্রশ্নের উত্তরে লেখক উপরিউক্ত কথাটির অবতারনা করেন। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার
  • খুব গুছিয়ে, পরিকল্পনা করে কোনো লেখাই আমি লিখতে পারি না। এ ব্যাপারটা আমার পাঠকরা যে যার নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করেন। এক ভদ্রলোক আমায় চিঠি লিখেছিলেন, তাঁর কথাই তাহলে বলি। লিখেছেন, আপনি গল্পের ছাঁচ মানেন না, ক্রাফটের ব্যাকরণের ধার ধারেন না। এক আশ্চর্য রোম্যান্টিক, বোহেমিয়ানিজম কাজ করে যায় আপনার লেখায়। আপনার বিবৃতি সমুদ্রের মতো দিকচিহ্নহীন...হয়তো তাই। সচেতনভাবে মাথা খাটিয়ে কিছু করি না। ভদ্রলোকের ব্যাখ্যাটা আমার বেশ মনমতো হয়েছিল। আমার গল্পসমগ্রের ব্লার্বে ওঁর মূল্যায়নটাই ছাপতে দিয়েছিলাম। নিজের মূল্যায়ন তো নিজে করা যায় না। আমি তো আরোই পারি না।
    • ২৫ জানুয়ারী ২০১৯ সালে, বনিক বার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় কর্তৃক গৃহীত অতীন বন্দোপাধ্যায়ের সাক্ষাতকার থেকে গৃহীত। এই সাক্ষাতকারটি লেখকের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার
  • আমার বিশ্বাস, আমি যা জানি, সেটুকুই লিখতে পারি। অভিজ্ঞতার বাইরে গেলেই...
    • ২৫ জানুয়ারী ২০১৯ সালে, বনিক বার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় কর্তৃক গৃহীত অতীন বন্দোপাধ্যায়ের সাক্ষাতকার থেকে গৃহীত। এই সাক্ষাতকারটি লেখকের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার
  • লেখকের অভিজ্ঞতা অনুভূতির ভিত্তিতে। রিকশাওয়ালার জীবনযাপন, মন, মেধা ওপর থেকে দেখে কতটা বোঝা সম্ভব? ব্যাপারটা আমার কাছে কৃত্রিম লাগে। আমিও ওভাবে লেখার চেষ্টা করেছি। কিছু লেখা ও রকম আছে। ‘শেষ দৃশ্য’ সেই ধরনের উপন্যাস। ডোমেদের নিয়ে লেখা। ছয়-সাত মাস আমি তাদের জীবন খুব কাছ থেকে দেখেছি, তাদের কাজে হাত লাগিয়েছি। মরদেহ পচিয়ে কঙ্কাল বের করে বিক্রি করত তারা। উপন্যাসটা পাঠকদের ভালো লেগেছিল। শীর্ষেন্দু বলেছিল, এ রকম একটা লেখা লিখতে পারলে আমি আর লিখতাম না। উৎসাহ পেয়েছিলাম ঠিকই। কিন্তু আমি নিশ্চিত, চরিত্রগুলোকে আমি পুরোটা চিনতে পারিনি। ওদের এবং পাঠকদের প্রতি অবিচার করেছি।
    • ২৫ জানুয়ারী ২০১৯ সালে, বনিক বার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় কর্তৃক গৃহীত অতীন বন্দোপাধ্যায়ের সাক্ষাতকার থেকে গৃহীত। এই সাক্ষাতকারটি লেখকের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার
  • অনেকে মনে করেন, এটাই আমার প্রথম উপন্যাস। তার আগে বেশ ক’টা উপন্যাস লিখেছি। নীলকণ্ঠ শুধু সমান জনপ্রিয় বললে ভুল বলা হবে, এর বিক্রিও বেড়েই চলেছে। জীবদ্দশায় এটা দেখা বিরল সৌভাগ্য।
    • ২৫ জানুয়ারী ২০১৯ সালে, বনিক বার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় কর্তৃক গৃহীত অতীন বন্দোপাধ্যায়ের সাক্ষাতকার থেকে গৃহীত। এই সাক্ষাতকারটি লেখকের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। লেখকের প্রখ্যাত উপন্যাস নীলকণ্ঠ পাখির খোজে -এর জনপ্রিয়তা এবং সেই লেখার কারনে লেখকের অন্যান্য রচনা অবহেলিত হয়েছে কিনা সে প্রশ্নের উত্তরে লেখকের মতামত।অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার
  • যেসব চরিত্র আছে, তারা কেউ কেউ রক্তের সম্পর্কের, বাকিরা পাশের বাড়ির অথবা আমার গ্রামের পাশের গ্রামের লোক। প্রকৃতি আমার আশপাশের গ্রামের। এখনো চোখ বুজলে গোটা অঞ্চলটা আমি দেখতে পাই। তরমুজ খেত, সোনালি বালির চর, পুকুরপাড়ে নিমগছে, নোনা ধরা ইটের প্রাচীর, মসজিদ...। আসল ব্যাপার হচ্ছে, যেকোনো লেখকের কাছে নিজের কৈশোরকালটা ভীষণ জরুরি, যার যত সেটা জাগ্রত, লেখাও তত জীবন্ত হয়।
    • ২৫ জানুয়ারী ২০১৯ সালে, বনিক বার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় কর্তৃক গৃহীত অতীন বন্দোপাধ্যায়ের সাক্ষাতকার থেকে গৃহীত। এই সাক্ষাতকারটি লেখকের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। লেখকের প্রখ্যাত উপন্যাস নীলকণ্ঠ পাখির খোজে -এর জনপ্রিয়তার কারন কি সেই প্রশ্নের উত্তরে লেখকের মতামত।অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার
  • দেশভাগ নিয়ে আরো অনেকেই উপন্যাস লিখেছেন। কালপর্ব সেখানেও ধরা আছে। আমার লেখাগুলো আমার জীবনের বড় দুঃখের, বড় মায়াময় অভিযান। আমি সেই সময়ের সন্তান। লেখার মধ্যে সেগুলোই প্রকাশ পেয়েছে।
    • ২৫ জানুয়ারী ২০১৯ সালে, বনিক বার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় কর্তৃক গৃহীত অতীন বন্দোপাধ্যায়ের সাক্ষাতকার থেকে গৃহীত। এই সাক্ষাতকারটি লেখকের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার
  • সুদীর্ঘকাল ধরে আমি যেটা উপলব্ধি করেছি, আমরা যে সংঘবদ্ধ হয়ে আছি, তার কারণ, এর মধ্যে একটি নারী আছে। যদি নারী না থাকত, তাহলে এ সমাজ, রাজনীতি, শিল্প সৃষ্টি কিছুই থাকত না। এ থাকাটাই মূল্যবান। আর এর কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে যৌনতা। আমি মনে করি, যৌনতাই প্রাণ, যৌনতাই সৃষ্টির উৎস, যৌনতাই ঈশ্বর। যৌনতা আমার কাছে ভোগের বস্তু নয়।
    • ২৫ জানুয়ারী ২০১৯ সালে, বনিক বার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় কর্তৃক গৃহীত অতীন বন্দোপাধ্যায়ের সাক্ষাতকার থেকে গৃহীত। এই সাক্ষাতকারটি লেখকের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার
  • আমার জীবনে অজস্র প্রেম। সুন্দরী মেয়েমাত্রই আমি প্রেমে পড়ে যাই। সে অনেক ঘটনা।
    • ২৫ জানুয়ারী ২০১৯ সালে, বনিক বার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় কর্তৃক গৃহীত অতীন বন্দোপাধ্যায়ের সাক্ষাতকার থেকে গৃহীত। এই সাক্ষাতকারটি লেখকের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার
  • দৈনন্দিন জীবনযাপনের ক্লেদ আমার সহ্য হয় না। বারবার দুর্নীতির মুখোমুখি হয়েছি। আপস করতে না পেরে বিপন্ন হয়েছি। শুধু টিকে থাকার জন্য অনেক কিছু মানিয়ে নিতে হয়েছে। এমনকি এখনো আমি এক ধরনের গ্লানিতে ভুগি।
    • ২৫ জানুয়ারী ২০১৯ সালে, বনিক বার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় কর্তৃক গৃহীত অতীন বন্দোপাধ্যায়ের সাক্ষাতকার থেকে গৃহীত। এই সাক্ষাতকারটি লেখকের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার
  • আমি খুব সাধারণ গদ্যে বাক্য লিখতে পারি না। আমার ভেতর একটা এলোমেলো ব্যাপার আছে। এগুলোই হয়তো এক ধরনের কাব্যের রূপ নেয়। কাব্য হিসেবে আমি লিখছি না, অথচ হয়ে যাচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ থেকে যে চালু গদ্য চলে আসছে, সেটা আমি কিছুতেই লিখতে পারি না। একটা দরখাস্তও গুছিয়ে লিখতে পারি না আমি।
    • ২৫ জানুয়ারী ২০১৯ সালে, বনিক বার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় কর্তৃক গৃহীত অতীন বন্দোপাধ্যায়ের সাক্ষাতকার থেকে গৃহীত। এই সাক্ষাতকারটি লেখকের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]