আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর
অবয়ব
আবদুল্লাহ বিন যুবাইর (আরবি: عبد الله بن الزبير ‘Abdallāh ibn az-Zubayr; ৬২৪–৬৯২) ছিলেন একজন সাহাবি। তার বাবা ছিলেন সাহাবি জুবায়ের ইবনুল আওয়াম ও মা ছিলেন প্রথম খলিফা আবু বকরের কন্যা আসমা বিনতে আবি বকর। মুহাম্মদ এর স্ত্রী আয়েশা তার খালা ছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়ের ছিলেন হিজরতের পর মদিনায় জন্মগ্রহণকারী প্রথম মুসলিম। মুসলিম অভিজাতদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বিশিষ্ট প্রতিনিধি ছিলেন।
উক্তি
[সম্পাদনা]শেষ উপদেশ
[সম্পাদনা]- যুবাইরের পরিবার! আপনারা যদি আমার জন্য স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন তবে আমরা আরবদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারী ঘরের লোক হব। ঈশ্বরের সন্তুষ্টির জন্য আমরা নিঃশেষ হয়ে যাব, কিন্তু কোন দুর্যোগ আমাদের কষ্ট দেবে না। এবং এখন, হে যুবাইরের পরিবার, তরবারির আঘাত যেন তোমাদের ভয় না করে। যখনই আমি যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত হয়েছি, নিহতদের মধ্য থেকে আহত অবস্থায় নিয়ে গিয়েছি; এবং আমি তলোয়ারের আঘাতের যন্ত্রণার চেয়ে তরবারির ক্ষতের চিকিৎসা আরও খারাপ বলে মনে করেছি। আপনার তরবারিগুলিকে রক্ষা করুন যেমন আপনি মুখ রক্ষা করেন। আমি এমন কোন লোককে জানি না যে কখনও তার তলোয়ার ভেঙ্গে তার জীবন বাঁচিয়েছে। যদি একজন পুরুষ তার তরবারি হারায়, তবে সে একজন মহিলার ন্যায় অরক্ষিত। চকচকে তলোয়ারগুলিতে মনোযোগ দিও না; প্রত্যেকে তার প্রতিপক্ষকে নিযুক্ত করুক। আমার সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন যেন আপনাকে বিভ্রান্ত না করে এবং বল না, আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়ের কোথায় ? কিন্তু কেউ যদি আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, আমি সামনের সারিতে আছি।
- তারিখুত তাবারি, খণ্ড ২১, পৃ. ২৩০-২৩১
সম্পর্কিত উক্তি
[সম্পাদনা]- হান্নাদ ইবনুস্ সারী (রহঃ) ..... আত্বা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াযীদ ইবনু মুআবিয়ার সময় কা’বাহ ঘর দগ্ধীভূত হয়েছিল- যখন সিরীয় বাহিনী মক্কায় (মক্কায়) যুদ্ধে লিপ্ত ছিল (৬৩ হিজরী) এবং কা’বার যা হবার তাই হল। হাজ্জের (হজ্জের/হজের) মৌসুমে লোকদের আগমনের সময় ’আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) কা’বাকে এ অবস্থায় রেখে দিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল লোকদেরকে উদ্দীপ্ত করা অথবা তাদের মধ্যে সিরীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার মনোবল সৃষ্টি করা। লোকেরা সমবেত হলে তিনি বললেন, হে জনগণ! আমাকে কা’বাহ ঘর সম্পর্কে পরামর্শ দিন। আমি কি তা ভেঙ্গে ফেলে সম্পূর্ণ নতুনভাবে গড়ে তুলব, নাকি শুধু এর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করব? ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, আমার মনে একটি মতের উদয় হয়েছে, আমি মনে করি যে, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশ তুমি মেরামত করবে এবং লোকদের ইসলাম গ্রহণ ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নবুওয়াত লাভকালীন সময়ে কাবাহ ঘর ও পাথরসমূহ যে অবস্থায় ছিল, তা সে অবস্থায় রেখে দিবে। ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) বললেন, আপনাদের কারো ঘর অগ্নিদগ্ধ হলে তা সংস্কার না করা পর্যন্ত তিনি স্বস্তি লাভ করতে পারেন না। অতএব আপনাদের প্রতিপালকের ঘর কী করে এরূপ জীৰ্ণ অবস্থায় রাখা যেতে পারে? আমি আমার রব এর কাছে তিনদিন ইস্তিখারা করব (অভিপ্রায় অবগত হবার জন্য)। অতঃপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। তিনদিন পর তিনি কা’বাহ ঘর ভেঙ্গে পুনর্নির্মাণের দৃঢ় সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন। লোকেরা আশংকা করল যে, সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি কাবার ছাদে উঠবে, সে হয়ত কোন আসমানী গযবে নিপতিত হবে। শেষ পর্যন্ত এক ব্যক্তি (ছাদ ভাঙ্গার জন্য) কাবার ছাদে উঠল এবং তার একটি পাথর নীচে ফেলল। লোকেরা যখন দেখল সে কোন বিপদে পড়েনি, তখন তারাও তাকে অনুসরণ করল এবং কা’বাহ ঘর ভেঙ্গে জমিনের সাথে মিশিয়ে দিল। অতঃপর ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) কতগুলো থাম স্থাপন করে এগুলোর সাথে পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন। অবশেষে কা’বার দেয়ালের গাথুনি উচ্চ হল। ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) বললেন, অবশ্যই আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “লোকেরা যদি নিকট অতীতে কুফুরী ত্যাগ না করত এবং আমার নিকটও কা’বাকে পুনর্নির্মাণ করার মত অর্থসামর্থ্যও নেই- তাহলে আমি অবশ্যই আল-হাজার (হাতীম) এর পাঁচ গজ স্থান কা’বাহ ঘরের অন্তর্ভুক্ত করতাম এবং লোকদের প্রবেশের জন্য ও বের হবার জন্য এর দু’টি দরজা বানাতাম।" ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) বলেন, বর্তমানে আমার হাতে তা নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ আছে এবং লোকদের তরফ থেকেও কোন প্রতিবাদের আশংকা নেই। রাবী বলেন, এরপর তিনি হাতীমের পাঁচ গজ এলাকা কা’বার অন্তর্ভুক্ত করলেন। ফলে তা (পুরাতন) ভিতের উপর গড়ে উঠল যার উপর ইবরাহীম (আঃ) তা গড়েছিলেন এবং লোকেরা তা অবলোকন করল। এ ভিতের উপর দেয়াল গড়ে তোলা হল। কা’বার দৈর্ঘ্য ছিল আঠার গজ। তা যখন (প্রস্থে) বাড়ানো হল, তখন (স্বাভাবিকভাবেই দৈর্ঘ্য) তা ছোট হওয়ায় দৈর্ঘ্যে তা আরও দশ গজ বৃদ্ধি করা হল এবং এর দু’টি দরজা নির্মাণ করা হল, একটি প্রবেশের জন্য এবং অপরটি প্রস্থানের জন্য। ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) শহীদ হলে হাজ্জাজ (ইবনু ইউসুফ) ’আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ানকে তা লিখে জানাল। সে আরও জানাল যে, ইবনু যুবায়র (কাবাহ ঘর) সে ভিতের উপর নির্মাণ করেছে [যা ছিল ইবরাহীম (আঃ)-এর ভিত] এবং মক্কার (মক্কার) বিশ্বস্ত লোকেরা তা যাচাই করে দেখেছে। ’আবদুল মালিক তাকে লিখে পাঠালেন যে, কোন বিষয়ে ইবনু যুবায়রকে অভিযুক্ত করার প্রয়োজন আমাদের নেই। সে দৈর্ঘ্যে যতটুকু বর্ধিত করেছে, তা বহাল রাখ এবং হাতীমের দিকে যতটুকু বর্ধিত করেছে, তা ভেঙ্গে পূর্বাবস্থায় নিয়ে অসো। আর সে যে (নতুন) দরজা খুলেছে তা বন্ধ করে দাও। এরপর হাজ্জাজ তা ভেঙ্গে পূর্বের ভিতের উপর পুনর্নির্মাণ করে।
- মুসলিম ৩১৩৬
- ৬৩৯০-(২২৯/২৫৪৫) উকবাহ ইবনু মুকাররাম আল আম্মী (রহঃ) ..... আবূ নাওফিল (রহঃ) বলেন যে, আমি (মক্কায়) উকবাতুল মদীনাহ নামে ঘাটিতে আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) কে (শুলীকাষ্ঠে ঝুলতে) দেখতে পেলাম। রাবী বলেন, তখন অন্যান্য লোকজন তার কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। পরিশেষে আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) তার কাছ দিয়ে যাওয়াকালে বললেন, আসসালামু ’আলাইকা ইয়া আবূ খুবায়ব! আসসালামু ’আলাইকা ইয়া আবূ খুবায়ব! আসসালামু ’আলাইকা ইয়া আবূ খুবায়ব! আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্য আপনাকে এ থেকে বিরত থাকতে বলেছিলাম। আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্য আপনাকে এ থেকে নিষেধ করেছিলাম, আমি অবশ্য আপনাকে এ থেকে নিষেধ করেছিলাম। আল্লাহর শপথ আমি যদ্দুর জানি আপনি ছিলেন সর্বাধিক সিয়াম পালনকারী, সর্বাধিক সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায়কারী এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক সম্মিলনকারী। আল্লাহর শপথ, শ্রেষ্ঠ উম্মাতের দৃষ্টিতে আজ আপনি (আপনার মতো মহৎ ব্যক্তিত্ব) নিকৃষ্ট মানুষে গণ্য হয়েছেন।তারপর আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) সেখান হতে প্রত্যাবর্তন করলেন। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) এর এ অবস্থান (থামা) ও তার বক্তব্য হাজ্জাজের নিকট পৌছল। তখন সে আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়রের নিকট লোক প্রেরণ করল এবং তাকে শূলীর উপর থেকে নামানো হলো। তারপর ইয়াহুদীদের কবরস্থানে তাকে নিক্ষিপ্ত করা হলো। তারপর সে তার মা আসমা বিনত আবূ বকর (রাযিঃ) কে ডেকে নেয়ার জন্য দূত পাঠায়। তিনি তার নিকট আসতে অস্বীকৃতি জানালেন। হাজ্জাজ আবার তার নিকট লোক পাঠাল তাকে তার নিকট আসার জন্য এই বলে যে, তোমাকে অবশ্যই আসতে হবে। অন্যথায় তোমার নিকট এমন লোক পাঠাব যে, তোমাকে চুলে ধরে টেনে নিয়ে আসবে। রাবী বললেন, এরপরও তিনি অস্বীকৃতি জানালেন এবং বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি সে পর্যন্ত তোমার নিকট আসব না যতক্ষণ না তুমি আমার নিকট এমন লোক পাঠাবে যে, আমার চুলে ধরে টেনে নিয়ে আসবে। রাবী বলেন, তারপর হাজ্জাজ বলেন, আমার জুতা নাও। তারপর সে জুতা পরল এবং সদৰ্পে আসমা বিনত আবূ বকর (রাযিঃ) এর নিকট পৌছল এবং সে বলল, তুমি তো দেখলে আল্লাহর শত্রুর সাথে আমি কী ব্যবহার করেছি। তিনি বললেন, “হ্যাঁ আমি তোকে দেখছি, তুই তার দুনিয়া বরবাদ করে দিয়েছিস। আর সে তোর আখিরাত নষ্ট করে দিয়েছে। আমি জানতে পেরেছি যে, তুই তাকে (তিরস্কার স্বরূপ) দুটি কোমরবন্ধনীর ছেলে বলে সম্বোধন করে থাকিস। আল্লাহর শপথ! আমিই দু’ কোমরবন্ধ ব্যবহারকারিণী। এর একটির মাঝে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর (রাযিঃ) এর খাদ্যদ্রব্য বেঁধে তুলে রাখতাম যাতে বাহনের পশু থেকে খেয়ে ফেলতে না পারে। অপরটি হলো যা স্ত্রীলোকের জন্য প্রয়োজন। জেনে রাখো, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, সাকীফ সম্প্রদায়ে এক মিথ্যুকের এবং নরহত্যাকারীর অভ্যুদয় হবে। মিথ্যুককে তো আমরা সকলে দেখেছি (মোখতার সাকাফী), আমি রক্ত প্রবাহকারী তোমাকে ব্যতীত আর কাউকে মনে করছি না।" এ কথা শুনে হাজ্জাজ উঠে দাঁড়াল এবং আসমা (রাযিঃ) এর কথার কোন প্রত্যুত্তর করল না।
- মুসলিম ২৫৪৫ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬২৬৫, ইসলামিক সেন্টার ৬৩১৪)
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।