বিষয়বস্তুতে চলুন

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (৬ মার্চ ১৮১২ - ২৩ জানুয়ারি ১৮৫৯) ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক। তিনি সংবাদ প্রভাকর (বা 'সম্বাদ প্রভাকর') এর সম্পাদক ছিলেন। তাঁর হাত ধরেই বাংলা কবিতা জগৎ মধ্যযুগীয় সীমানা অতিক্রম করে আধুনিকতার পথে পা বাড়িয়েছিল। তিনি "গুপ্ত কবি" নামেও পরিচিত ছিলেন। বহু সাহিত্যিক ঈশ্বর গুপ্তকে 'গুরু'পদে বরণ করেন। নানাবিধ পত্র-পত্রিকা সম্পাদনার কাজেও তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • ভ্রাতৃভাব ভাবি মনে, দেখ দেশবাসিগণে,
    প্রেমপূর্ণ নয়ন মেলিয়া।
    কতরূপ স্নেহ করি, দেশের কুকুর ধরি,
    বিদেশের ঠাকুর ফেলিয়া।
    • স্বদেশ, কবিতাসংগ্রহ - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, সম্পাদনা- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ (১২৯২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৮৭
  • বল দেখি এ জগতে ধার্মিক কে হয়,
    সর্ব জীবে দয়া যার, ধার্মিক সে হয়।
    • কে
  • তুমি মা কল্পতরু, আমরা সব পোষা গরু,
    শিখিনি সিং বাঁকানো,
    কেবল খাবো খোল, বিচিলি ঘাস্।৷
    যেন রাঙা আমলা, তুলে মামলা,
    গামলা ভাঙে না,
    আমরা ভুসি পেলেই খুশি হব,
    ঘুসি খেলে বাঁচব না।৷
    • নীলকর, কবিতাসংগ্রহ - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, সম্পাদনা- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ (১২৯২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০১
  • আনা দরে আনা যায়, কত আনারস।
    অনায়াসে করি রসে, ত্রিভুবন বশ।৷
    ক্ষীরোদ নহ তো তুমি, নহ সুধাকর।
    তবে কিসে সুধাভরা, তব কলেবর?
    • আনারস, কবিবর স্বর্গীয় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের গ্রন্থাবলী - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, সম্পাদনা- কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৭

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে নিয়ে উক্তি

[সম্পাদনা]
  • আধুনিক লেখকদিগের মধ্যে অনেকে ঈশ্বর গুপ্তের শিষ্য। কিন্তু ঈশ্বর গুপ্তের প্রদত্ত শিক্ষার ফল কত দূর স্থায়ী বা বাঞ্ছনীয় হইয়াছে তাহা বলা যায় না। দীনবন্ধু প্রভৃতি উৎকৃষ্ট লেখকের ন্যায় এই ক্ষুদ্র লেখকও ঈশ্বর গুপ্তের নিকট ঋণী।
  • ‘সংবাদ প্রভাকরে’র মারফতে তিনি এ যুগের সমগ্র বাঙালির মনে অসাধারণ প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। কলকাতার অভিজাত ব্যক্তিরাও তাঁকে শ্রদ্ধা করতেন, ইংরেজ শাসকও তাঁর পত্রিকার ও মতামতের মূল্য দিতেন। পুঁথিগত বিদ্যা তাঁর বিশেষ না থাকলেও জীবনের ব্যবহারিক ও বাস্তবক্ষেত্রে তাঁর সাধারণ জ্ঞান খুব তীক্ষ্ম ছিল।
    • ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, বাংলা সাহিত্যের সম্পূর্ণ ইতিবৃত্ত
  • বাঙালী মধ্যবিত্ত তখন জোরেশোরে সংবাদপত্রে লেখালেখি করছে, তাঁদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন খাঁটি বাঙালী কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-৫৯)। তাঁর কবিতায় সিপাহী অভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের নিয়ে যে ধরনের রঙ্গরস করা হয়েছে তার ভেতর সম্প্রদায়গত বিভেদ সৃষ্টির ক্ষতিকর উপাদান ছিল। যে-যুদ্ধটি ছিল সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক কবি তাকে নির্দয়ভাবে যবনের কাজ বলে পরিহাস করেছেন। ব্রিটিশের শাসনকে 'রামরাজ্য' বলে অভিহিত করে তিনি লিখেছেন, "যবনের যত বংশ/ একেবারে হবে ধ্বংস/ সাজিয়াছে কোম্পানির সেনা/ গরু জরু লবে কেড়ে চাপদেড়ে যত নেড়ে/ এই বেলা সামাল সামাল।” চাপদেড়ে নেড়েদেরকে সাবধান করে দিচ্ছেন বটে, কিন্তু তাদের আশু বিপদ দেখে যে উল্লসিত হয়েছেন সেটাও মোটেই লুকানো থাকে নি। সেই সঙ্গে আপন লোকদের জন্য কবির সৎপরামর্শও রয়েছে, "ভারতের প্রিয় পুত্র হিন্দু সমুদয়/ মুক্ত মুখে বলো সবে ব্রিটিশের জয়।” এরকমের লেখা পড়লে ইংরেজরা কতটা উৎফুল্ল হতো সে-বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়া গেলেও, মুসলমান পাঠকদের পক্ষে যে মোটেই আহ্লাদিত হবার কথা নয়, সেটা তো নিশ্চিত।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]