বিষয়বস্তুতে চলুন

কাস্তে

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

কাস্তে হলো ফসল কাটার কাজে ব্যবহৃত বাঁকা চাঁদের মত গঠনের হাতলওয়ালা একধরনের যন্ত্র। বহু প্রাচীন কাল থেকেই এই যন্ত্রটির ব্যবহার হয়ে আসছে। সাধারণত কাস্তের অবতল দিকটি খাজকাটা ভাবে ধারালো করা থাকে। মেসোপটেমিয়ায় নিওলিথিক যুগেও কাস্তের ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। ইসলায়েলের আশেপাশের এলাকায় খননকার্যের সময় বেশ কিছু কাস্তের সন্ধান পাওয়া গেছে যা এপিপালিওলিথিক (খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০০-৮০০০) যুগের। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাস্তে কৃষি কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ধান পাকার পরে কৃষকেরা ধান কাটতে এটি ব্যবহার করে। এছাড়া গবাদিপশুর ঘাস, লতাপাতা এবং অন্যান্য অনেক সবজি ফসল কাস্তে দিয়ে কেটে সংগ্রহ করা হয়। বহু যুগ ধরে কাস্তের ব্যবহার হয়ে আসছে।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • বাঁকানো চাঁদের সাদা ফালিটি
    তুমি বুঝি খুব ভালবাসতে?
    চাঁদের শতক আজ নহে তো
    এ-যুগের চাঁদ হ’ল কাস্তে!
    • দিনেশ দাস, কাস্তে, দিনেশ দাসের কবিতা, প্রকাশক- পাণ্ডুলিপি, কলিকাতা, প্রকাশসাল- শ্রাবণ ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ, পৃষ্ঠা ৪৬
  • আজ শুধু কাস্তে দাও আমার এ হাতে।
    আমার পুরানাে কাস্তে পুড়ে গেছে ক্ষুধার আগুনে,
    তাই দাও দীপ্ত কাস্তে চৈতন্য প্রখর
    যে কাস্তে ঝলসাবে নিত্য উগ্র দেশপ্রেমে।
    জানি আমি মৃত্যু আজ ঘুরে যায় তােমাদেরও দ্বারে
    দুর্ভিক্ষ ফেলেছে ছায়া তােমাদের দৈনিক ভাণ্ডারে;
    তােমাদের বাঁচানাের প্রতিজ্ঞা আমার,
    শুধু আজ কাস্তে দাও আমার এ হাতে।
    • সুকান্ত ভট্টাচার্য, ফসলের ডাকঃ ১৩৫১, ছাড়পত্র- সুকান্ত ভট্টাচার্য, প্রকাশক- সারস্বত লাইব্রেরী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৬-৫৭
  • কাস্তে হাতে, চুব্‌ড়ি মাথায়,
    সন্ধে হলে পরে
    ফেরে গাঁয়ে কৃষাণ-ছেলে—
    মন যে কেমন করে।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মুর্খু, শিশু ভোলানাথ- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ (১৪০৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩১
  • বার্নার্ড শ বলেছেন, সোনা একটা অকেজো ধাতু, তাতে লাঙল কাস্তে কুড়ুল বয়লার এঞ্জিন কিছুই হয় না। পরেশবাবু সোনার মিথ্যা প্রতিপত্তি নষ্ট ক’রে ভাল করেছেন। এখন তিনি চেষ্টা কর‍ুন যাতে সোনাকে ইস্পাতের মতন শক্ত করা যায়। সোনার ক্ষুর পেলেই আমি দাড়ি কামাব।
    • রাজশেখর বসু, পরশ পাথর, গল্পকল্প - পরশুরাম, পরশ পাথর, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এণ্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫১-৫২
  • এক বোকা জোলা ছিল। সে একদিন কাস্তে নিয়ে ধান কাটতে গিয়ে খেতের মাঝখানেই ঘুমিয়ে পড়ল। ঘুম থেকে উঠে আবার কাস্তে হাতে নিয়ে দেখল, সেটা বড্ড গরম হয়েছে। কাস্তেখানা রোদ লেগে গরম হয়েছিল, কিন্তু জোলা ভাবলে তার জ্বর হয়েছে। তখন সে ‘আমার কাস্তে তো মরে যাবে রে!’ বলে হাউ-হাউ করে কাঁদতে লাগল।
    পাশের খেতে এক চাষা কাজ করছিল। জোলার কান্না শুনে সে বললে, ‘কি হয়েছে?’
    জোলা বললে, ‘আমার কাস্তের জ্বর হয়েছে।’
    তা শুনে চাষা হাসতে-হাসতে বললে, ‘ওকে জলে ডুবিয়ে রাখ, জ্বর সেরে যাবে।’
    জলে ডুবিয়ে কাস্তে ঠাণ্ডা হল, জোলাও খুব খুশী হল।
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, বোকা জোলা আর শিয়ালের কথা, টুনটুনির বই- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৭১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৭-২৮
  • তবুও এ হাতে কাস্তে তুলতে কান্না ঘনায়:
    হালকা হাওয়ায় বিগত স্মৃতিকে ভুলে থাকা দায়;
    গত হেমন্তে ম’রে গেছে ভাই, ছেড়ে গেছে বােন,
    পথে প্রান্তরে খামারে মরেছে যত পরিজন;
    • সুকান্ত ভট্টাচার্য, এই নবান্নে, ছাড়পত্র- সুকান্ত ভট্টাচার্য, প্রকাশক- সারস্বত লাইব্রেরী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৯
  • ও পারে চরের মাঠে
    কৃষাণেরা ধান কাটে,
    কাস্তে চালায় নতশিরে।
    নদীতে উজান মুখে
    মাস্তুল পড়ে ঝুঁকে,
    গুণ-টানা তরী চলে ধীরে।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শীত, চিত্রবিচিত্র-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৩
  • কামার বললে, ‘আগুন নেই। আগুন নিয়ে আয়, কাস্তে গড়ে দি।’ তা শুনে কাক গৃহস্থদের বাড়ি গিয়ে বললে—
    গেরস্ত ভাই, দাও তো আগুন,
    গড়বে কাস্তে, কাটব ঘাস,
    খাবে গাই, দেবে দুধ, খাবে কুত্তা,
    হবে তাজা, মারলে মোষ, লব শিং,
    খুঁড়ব মাটি, গড়লে ঘটি,
    তুলব জল, ধোব ঠোঁট—
    তবে খাব চড়াইর বুক।
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, চড়াই আর কাকের কথা, টুনটুনির বই- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৭১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৩
  • জনারণ্যে কি রাজকন্যার নেইকো ঠাঁই?
    কাস্তেখানাকে বাগিয়ে আজকে ভাবছি তাই।
    অসি নাই থাক, হাতে তো আমার কাস্তে আছে,
    চাষার ছেলের অসিকে কি ভালবাসতে আছে?
    তাই আমি যেতে চাই সেখানেই যেখানে পীড়ন,
    যেখানে ঝলসে উঠবে কাস্তে দৃপ্ত-কিরণ।
    • সুকান্ত ভট্টাচার্য, ব্যর্থতা, সুকান্ত সমগ্র- সুকান্ত ভট্টাচার্য, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৭৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০৪
  • ঘরের দুয়ার বন্ধ করে বললে নাপিত আস্তে,
    “ল্যাজে বেঁধে ফুটো দিয়ে, দাও ত বাঘ, কাস্তে।’
    বুড়া বাঘ লেজ বাড়িয়ে কাস্তে যেই দিল,
    অমনি নাপিত কুচ করে লেজটি কেটে নিল।
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, কমলা নাপিত, উপেন্দ্রকিশোর রচনাসমগ্র- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, সম্পাদনা- শান্তা শ্রীমানি, প্রকাশক- বসাক বুক স্টোর প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭৮৫
  • সেই জনমণ্ডলীর মাঝখানে বরো বাগদিনীর দাওয়ার ঠিক সামনের উঠানে একটা বড় গুল-বাঘ মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। বরো বাগদিনী নাকি বাঘটাকে গত শেষরাত্রে কাস্তে বঁটি দিয়ে মেরেচে।
    জিগ্যেস করলাম—কাস্তে বঁটি দিয়ে অত বড় বাঘটাকে—?
    তখন বরো আবার আমার দিকে ফিরে তার কাহিনী গোড়া থেকে শুরু করলে। সত্যিই সে বাঘটা মেরেচে এবং বঁটি দিয়েই মেরেচে। শেষবাত্রে বাঘটা ওর ঘরের পেছনে এসে হাঁক পাড়ে। বরোর ছেলে ঘর থেকে ভয়ে চীৎকার করে উঠতেই বরোর ঘুম ভেঙে যায়। ছেলেকে বাঘে ধরেছে ভেবে ও দাওয়ার কোণ থেকে কাস্তে বঁটি নিয়ে বাঘের ঘাড়ে পড়ে।বাঘ আসলে তখন ধরেচে ওদের সেই ধাড়ি ছাগলটাকে। অন্ধকারে দেখাই যাচ্ছে না বাঘে ছাগল ধরেচে না ছেলে ধরেচে। কাস্তে বঁটি দিয়ে বাঘের ঘাড়ে মরীয়া হয়ে নির্ঘাত ঘা কতক কোপ দিতে বাঘ সেখানেই ঘাড় কাত করে মুখ থুবড়ে পড়ে যায়—এই হোল বরো বাগদিনীর বর্ণনা।
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বরো বাগদিনী, নীলগঞ্জের ফালমন সাহেব - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- বিভূতি প্রকাশন, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]