বিষয়বস্তুতে চলুন

বিজ্ঞান

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
বিজ্ঞান পরম সত্যকে প্রকাশ করে না। বিজ্ঞান একটি প্রক্রিয়া। ~ আইজ্যাক আসিমভ
আধুনিক বিজ্ঞান ততক্ষণ পর্যন্ত অন্ধভাবে ধ্বংসাত্মক হতে থাকবে যতক্ষণ না সমাজ অর্থনৈতিক শক্তির নৈরাজ্যবাদ দ্বারা এর কার্যক্রম নির্ধারিত করবে। ~ ক্লিফোর্ড ডি. কোনার

ভৌত বিশ্বের যা কিছু পর্যবেক্ষণযোগ্য, পরীক্ষণযোগ্য ও যাচাইযোগ্য, তার সুশৃঙ্খল, নিয়মতান্ত্রিক গবেষণা ও সেই গবেষণালব্ধ জ্ঞানভাণ্ডারের নাম বিজ্ঞান। অন্য ভাবে বলা যায় বিজ্ঞান হলো প্রকৃতি সম্পর্কিত জ্ঞান যা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাকৃতিক ঘটনাকে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করে।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • বিজ্ঞান আলোচনার জন্য যে রচনাপদ্ধতি আবশ্যক তা অনেক লেখক এখনও আয়ত্ত করতে পারেন নি, অনেক স্থলে তাঁদের ভাষা আড়ষ্ট এবং ইংরেজীর আক্ষরিক অনুবাদ হয়ে পড়ে। এই দোষ থেকে মুক্ত না হলে বাংলা বৈজ্ঞানিক সাহিত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হবে না।
    • রাজশেখর বসু - বিচিন্তা, বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (১৯৫৬)।
  • সায়েন্স বা বিজ্ঞান বললে দুই শ্রেণীর বিদ্যা বোঝায়। দুই বিদ্যাই পর্যবেক্ষণ আর পরীক্ষার ফলে লব্ধ, কিন্তু একটি নিষ্কাম, অপরটি সকাম অর্থাৎ অভীষ্টসিদ্ধির উপায় নির্ধারণ। প্রথমটি শুধুই জ্ঞান, দ্বিতীয়টি প্রকৃতপক্ষে শিল্পসাধনা। মানুষের আদিম অবস্থা থেকে বিজ্ঞানের এই দুই ধারার চর্চা হয়ে আসছে।
    • রাজশেখর বসু - বিচিন্তা, বিজ্ঞানের বিভীষিকা (১৯৫৬)।
  • বিজ্ঞান প্রাচ্যেরও নহে, পাশ্চাত্যেরও নহে, ইহা বিশ্বজনীন৷ তথাপি ভারতরবর্ষ উত্তরাধিকারসূত্রে বংশ পরম্পরায় যে ধীশক্তি পাইয়াছে, তাহার দ্বারা সে জ্ঞানপ্রচারে বিশেষ করিয়া সক্ষম৷ যে জ্বলন্ত কল্পনা বলে ভারতবাসী পরস্পর বিরোধী ঘটনাবলীর মধ্য হইতে সত্য বাছিয়া লইতে পারে, সে কল্পনাই আবার ভারতবাসী সংযত করিতে পারে৷ এই মনঃসংযমই সত্যান্বেষণের শক্তি দিয়া থাকে৷
  • প্রাচ্য ও প্রতীচ্য বিজ্ঞানের এমন অর্থ হইতে পারে না যে একই সিদ্ধান্ত কোথাও সত্য কোথাও মিথ্যা। কুতার্কিক বলিতে পারে—শ্রাবণ মাসে বর্ষা হয় ইহা এদেশে সত্য বিলাতে মিথ্যা; মশায় ম্যালেরিয়া আনে ইহা এক জেলায় সত্য অন্য জেলায় মিথ্যা। এরূপ হেত্বাভাস খণ্ডনের আবশ্যকতা নাই। প্রাচ্য ও প্রতীচ্য বিজ্ঞানের একমাত্র অর্থ—বিভিন্ন দেশে আবিষ্কৃত বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত যাহা সর্বদেশেই মান্য।
    • রাজশেখর বসু - লঘুগুরু প্রবন্ধাবলী।
  • আমি ভাবছি কেন কিছু লোক বিজ্ঞানকে এমন কিছু হিসাবে দেখে যা মানুষকে ঈশ্বর থেকে দূরে নিয়ে যায়। আমি এটিকে যেভাবে দেখি, বিজ্ঞানের পথ সবসময় হৃদয়ের দিকে নিয়ে যায়। আমার জন্য, বিজ্ঞান সর্বদা আধ্যাত্মিক সমৃদ্ধি এবং আত্ম-উপলব্ধির পথ।
    • উইঙ্গস অফ ফায়ার: এপিজে আব্দুল কালামের আত্মজীবনী। পৃষ্ঠা ১৫।
  • বাস্তবিকই কিছু কিছু বিজ্ঞান পেশার মানুষ বিজ্ঞান মনস্কতাকে দূরে সরিয়ে রেখে নিজের বিশ্বাস-নির্ভর চিন্তাকে হাজির করতে শুরু করেছেন নতুন ভাবে, নতুন মোড়কে, বিজ্ঞানের শব্দ যুক্ত করে, বিজ্ঞানের এসেন্স মাখিয়ে। তাঁরা ভুলে যান বা ভুলে থাকতে চান—বিজ্ঞানের বেঁচে থাকার ‘অক্সিজেন’, ‘জিজ্ঞাসা’, ‘সন্দেহ’ ও ‘প্রমাণ’। বিজ্ঞানের জ্ঞানের ভিত্তি হচ্ছে, কার্যকারণের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক ও প্রকৃতির জগতে, বস্তুজগতে নিয়মের বন্ধন।
  • প্রকৃতিকে যাঁরা ঈশ্বর সংজ্ঞা দিতে চান, তারা প্রকৃতির নিয়মকে সর্বশক্তিমান, সর্বনিয়ন্তা ভাবলে বেজায় মুশকিল। বিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষ যেভাবে প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেছে, তাতে মানুষকে ঈশ্বরের নিয়ন্তা বলতে তো কোনও অসুবিধে দেখি না।
    • প্রবীর ঘোষ - আমি কেন ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না (১৯৯৬)।
  • বিজ্ঞান দ্বারা আমরা যা বুঝি তা নিয়ে একমত হওয়া কঠিন হবে না। বিজ্ঞান হল পদ্ধতিগত চিন্তার মাধ্যমে এই বিশ্বের উপলব্ধিযোগ্য ঘটনাগুলিকে যথাসম্ভব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সংঘবদ্ধ করার মাধ্যমে একত্রিত করার শতাব্দী প্রাচীন প্রচেষ্টা।
    • আলবার্ট আইনস্টাইন - বিজ্ঞান, দর্শন এবং ধর্ম, একটি সিম্পোজিয়াম, বিজ্ঞানের সম্মেলন দ্বারা প্রকাশিত।
  • আধুনিক বিজ্ঞান ততক্ষণ পর্যন্ত অন্ধভাবে ধ্বংসাত্মক হতে থাকবে যতক্ষণ না সমাজ অর্থনৈতিক শক্তির নৈরাজ্যবাদ দ্বারা এর কার্যক্রম নির্ধারিত করবে।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]