বিষয়বস্তুতে চলুন

বৃষ্টি

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
— আর মনে পড়ে, ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর-টুপুর, নদেয় এল বান।’ ঐ ছড়াটা যেন শৈশবের মেঘদূত।—জীবনস্মৃতি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বৃষ্টি হলো ফোঁটা আকারে তরল জলকণা যা বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প থেকে ঘনীভূত হয়ে মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে ভূপৃষ্ঠে পড়ার সময় ভারী হয়ে ওঠে। বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টি সুপেয় জলের বড় উৎস। জীববৈচিত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি সচল রাখতে ও কৃষি সেচব্যবস্থা সচল রাখতে বৃষ্টির প্রয়োজন হয়।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • যে মেঘের জলকণার আকার যত বড়ো সে মেঘ তত তাড়াতাড়ি নীচে নামে। জলকণাগুলি আকারে বেশি বড়ো হইয়া গেলে বৃষ্টি আকারে মাটিতে পড়ে। খুব উঁচুতে যে মেঘ থাকে, তাহাতে অনেক সময়ে জলকণাগুলি জমিয়া বরফের কণা হইয়া থাকে। এই মেঘ আবার নীচে গরম বাতাসের মধ্যে নামিলে সেই বরফ গলিয়া জলকণা হইয়া যায়। ঠাণ্ডা দেশে এই বরফকণাই তুষার বৃষ্টি হইয়া মাটিতে পড়ে।
    • মেঘবৃষ্টি- সুকুমার রায়, সুকুমার রায় সমগ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৪
  • বৃষ্টি পড়ে দিবস-রাতি,
    ছিল না কেউ খেলার সাথি,
    একলা বসে পেতেছিলেম
    সাধের খেলা।
    নালার জলে ভাসিয়েছিলেম
    পাতার ভেলা॥
    • খেলা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ক্ষণিকা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ (১৪০০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬২
  • এতক্ষণ বৃষ্টি ছিল রিমঝিমে, ছন্দমধুর। সহসা সে-বৃষ্টি ক্ষেপিয়া গেল। মার্ মার্ কাট্‌ কাট্ শব্দে বৃষ্টি আকাশ ফাঁড়িয়া পড়িতে লাগিল। সাঁ সাঁ ঝম্ ঝম্ সাঁ সাঁ ঝম্ ঝম্‌ শব্দে কানে বুঝি তালা লাগিয়া যায়। তীর-ভূমি, তীরের মাঠ-ময়দান, ‘গাঁ-গেরাম’ আর চোখে দেখা যায় না। ধোঁয়াটে শাদা আবছায়ায় চারিদিক ঝাপসা হইয়া গিয়াছে।
    • তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৩
  • আয় বৃষ্টি ঝুড়িয়ে,
    কাক দেবো পুড়িয়ে।
    কাকটা মরে ধড়্‌ফড়িয়ে,
    বৃষ্টি এলচড় বড়িয়ে।
    • যোগীন্দ্রনাথ সরকার, বৃষ্টি এল, খুকুমণির ছড়া - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৬
  • বৃষ্টির জল মাটিতে পড়িলে তাহার অধিকাংশই নদী সমুদ্রে জমা হইয়া ক্রমে বাষ্প হয় এবং সেই বাষ্পই মেঘ হইয়া আবার বৃষ্টির আকারে মাটিতে পড়ে। বৃষ্টি হইতে মেঘ এবং মেঘ হইতে আবার বৃষ্টি, সৃষ্টির প্রথম হইতে চলিতেছে।
    • জগদানন্দ রায়, নীহারিকা, গ্রহ-নক্ষত্র- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, প্রকাশস্থান- এলাহাবাদ (প্রয়াগরাজ), প্রকাশসাল- ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩২২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২৪
  • বাবুই পাখীরে ডাকি’ বলিছে চড়াই,—
    “কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই?
    আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে
    তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে!”
    • স্বাধীনতার সুখ - রজনীকান্ত সেন, অমৃত, প্রকাশক- অমিয়রঞ্জন মুখােপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬
  • আরও মনে পড়ে শ্রাবণের গভীর রাত্রি, ঘুমের ফাঁকের মধ্য দিয়া ঘনবৃষ্টির ঝমঝম শব্দ মনের ভিতরে সুপ্তির চেয়েও নিবিড়তর একটা পুলক জমাইয়া তুলিতেছে, একটু যেই ঘুম ভাঙিতেছে মনে মনে প্রার্থনা করিতেছি সকালেও যেন এই বৃষ্টির বিরাম না হয় এবং বাহিরে গিয়া যেন দেখিতে পাই, আমাদের গলিতে জল দাঁড়াইয়াছে এবং পুকুরের ঘাটের একটি ধাপও আর জাগিয়া নাই।
  • বৃষ্টি থামিতে বেলা কাবার হইয়া আসিল। আকাশের এক প্রান্তে ভীরু লজ্জার মতো একটু রঙের আভাস দেখা দিল। বটগাছের শাখায় পাথিরা উড়িয়া আসিয়া বসিল এবং কিছু দূরে মাটির গায়ে গর্ত হইতে উই-এর দলকে নবোদ্গত পাখা মেলিয়া আকাশে উড়িতে দেখিয়া হঠাৎ আবার সেই দিকে উড়িয়া গেল। হারুর স্থায়ী নিস্পন্দতায় সাহস পাইয়া গাছের কাঠবিড়ালীটি এক সময় নীচে নামিয়া আসিল।
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, পুতুলনাচের ইতিকথা - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- প্রকাশ ভবন, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২
  • নিবিড় বন-শাখার পরে
    আষাঢ় মেঘে বৃষ্টি ঝরে,
    বাদলভরা আলস ভরে
    ঘুমায়ে আছে রাত।
    • গীতাঞ্জলি -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- এলাহাবাদ-ইন্ডিয়ান্‌ প্রেস্‌, ইন্ডিয়ান্‌ পাব্‌লিশিং হাউস, কলিকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩২০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৯
  • বৃষ্টিতে ভিজিয়া ভিজিয়া উঠানটা কাদা ও পিছল হইয়া আছে। গৃহাঙ্গনের এই নােংরা পচা পাঁকের চেয়ে নদীতীরের কাদা অনেক ভালাে। সেই কাদায় হাঁটু পর্যন্ত ডুবিয়া গেলেও যেন এরকম অস্বস্তি বােধ হয় না।
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ১৯

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]