বিষয়বস্তুতে চলুন

মুনতাসীর মামুন

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

মুনতাসীর উদ্দিন খান মামুন (জন্ম ২৪ মে ১৯৫১) একজন বাংলাদেশি ইতিহাসবিদ ও সাহিত্যিক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক। ঢাকা শহরের অতীত ইতিহাস নিয়ে তিনি গবেষণা করে থাকেন।

উক্তি[সম্পাদনা]

  • অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন আপনি কীভাবে এত লেখেন। আমি ছোট্ট এই জীবনে কী লিখে যেতে পেরেছি জানি না। জীবনে যা লিখেছি ক্রোধ থেকে লিখেছি। আমাদের সময়টি ছিল ক্রোধের, দ্রোহের, যন্ত্রণার ও প্রেমের। এই কঠিন সময়ে ভালোবাসার বড্ড অভাব হয়। তবে আমি সবার অনেক ভালোবাসা পেয়েছি।
    • স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সেমিনারে সমকাল
  • খুলনায় গিয়ে দেখি, সেখানকার একটি মহাসড়কের নাম খান-এ সবুর রোড। অনেককে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেন একজন দুর্বৃত্তের নামে সড়কের নাম। সেখানে তো বঙ্গবন্ধুর নামে কোনো সড়ক নেই। কেউ কোনো উত্তর দেয়নি। এরপর বেশ কয়েক বছর আমি খুলনায় যাইনি। সেবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের জিজ্ঞাসা করলাম, “এখানে খান-এ সবুরের নামে রাস্তাটা কি আছে? মেয়র তো আওয়ামী লীগের, আপনারা কিছু করছেন না কেন?” কেউ কিছু বলেও না। একজন বললেন, “খান-এ সবুর খুলনাকে পাকিস্তানে এনেছিলেন।” আমি বলেছিলাম, “খান–এ সবুর তখন ছিলেন একজন মাস্তান। তিনি কী করে খুলনাকে পাকিস্তানে এনেছিলেন?” তখনই ঠিক করলাম, এখানে (খুলনা) একটি জাদুঘর করব। কারণ, এখানকার সবচেয়ে বড় গণহত্যাটা খুলনার চুকনগরে হয়েছিল। তবু সেখানকার মানুষ সচেতন না। সেই ক্রোধ থেকেই আমরা জাদুঘরটি করেছি। আসলে আমরা যত কথাই বলি না কেন, বাস্তবে কিন্তু মানুষের হৃদয়ে মুক্তিযুদ্ধের যে আকুলতা, সেটায় আমরা পৌঁছাতে পারিনি। না হলে বর্তমান সরকারের আমলেও এত বড় একটা সড়কের নাম এ রকম থাকবে কেন? ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনের নাম ছিল স্বাধীনতাবিরোধী শাহ আজিজুর রহমানের নামে। বেশ কয়েকবার সরকারি পর্যায়ে এ নাম বদলের ব্যর্থ চেষ্টা করার পর আমি হাইকোর্টে রিট করি। পরে একটি রায় হয়, কোনো স্বাধীনতাবিরোধীর নামে বাংলাদেশের কোনো রাস্তা, অবকাঠামো বা স্থাপনার নামকরণ করা যাবে না।
  • বর্তমানে সৃজনশীল বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। আমরা সবাই হয়ে গেছি ঐতিহ্যবাহী বুদ্ধিজীবী। সৃজনশীল বুদ্ধিজীবীরা যেকোনও অন্যায় দেখলেই প্রতিবাদ করেন। কিন্তু আজকে আপনারা প্রতিবাদ করেন না, কারণ আপনাদের কেউ উপাচার্য হবেন, কেউ উপ-উপাচার্য হবেন। আমি এ কথাগুলো বলি দেখেই আমার কথায় কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কখনও খুশি হন না।
  • মুক্তিযুদ্ধে দুই লাখ মা-বোন ধর্ষিত হওয়ার যে তথ্য বলা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। এ সংখ্যা পাঁচ লাখের উপরে। বীরাঙ্গনাদের নিয়ে আসলে কোনো গবেষণাই হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধু নিয়ে মৌলিক কোনো গবেষণা নেই। পৃথিবীতে একমাত্র দেশ বাংলাদেশ, যেখানে স্বাধীনতার পক্ষে ও বিপক্ষে শক্তি আছে। আর কোথাও এটি পাবেন না। স্বাধীনতার এতো বছর পর ৩০ শতাংশ লোক যদি পাকিস্তানের পক্ষে থাকে, তাহলে কী হল। আমরা কী রাজনীতি করলাম? আমরা পাকিস্থানি ভাবধারা থেকেও মুক্ত হতে পারছি না, ব্রিটিশদের থেকেও মুক্ত হতে পারছি না।
  • আমরা ৩০ লক্ষ শহীদের কথা বলি। ৫০ বছর পর প্রতিটি জেলায় আমরা একটা জরিপ করছি। বের করেছি গণহত্যার ঘটনা কতটি ঘটেছে। আমরা ৩৬টি জেলায় গণহত্যার ঘটনা পেয়েছি ১৫ হাজার ১৯টি, বধ্যভূমি পেয়েছি ৭৮১টি, গণকবর ১ হাজার ১৬১টি এবং টর্চার সেল পেয়েছি ১ হাজার ৫৩টি। ৩৬ জেলার যদি এই চিত্র হয়, তাহলে সবগুলো জেলার অবস্থা কী হবে? আমরা কিন্তু শহীদদের তালিকাও করেছি। যোগ করলে দেখা যাবে ৩০ লক্ষের বেশি হয়ে যাবে।
    • মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা নিয়ে একটি জরিপ প্রসঙ্গ, প্রথম আলো
  • এই কঠিন সময়ে ভালোবাসার বড্ড অভাব। আমি সবার অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। মানুষের হাত ধরতে হবে। মানুষের হাত ধরে রাখলে মানুষ তোমার হাতটি ধরে রাখবে। মরণোত্তর পুরস্কার তিরস্কারস্বরূপ। আমি অনেক ভাগ্যবান, কারণ আমি জীবিত অবস্থায় আজ এমন সম্মাননা পেয়েছি।
  • আমি মুক্তিযোদ্ধার তালিকা করার পক্ষেই না। তা-ও একবার হয়েছে, ভালো কথা। কিন্তু বারবার কেন সুযোগ-সুবিধার নামে এই তালিকা করতে হবে? এভাবে তালিকা করে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানিত করা হয়েছে।
  • বইমেলায় প্রচুর তরুণ-তরুণী আসছে। আমরাও চেয়েছিলাম বইমেলা অবকাশের জায়গা হোক, মানুষ নিশ্বাস ফেলুক সাহিত্য-সংস্কৃতির সঙ্গে মিলিত হয়ে। বই কিনুক, বই পড়ুক। এ লক্ষ্য কিন্তু দিন দিন ক্ষীণ হয়ে পড়ছে। তরুণরা আসছে ঠিক। অবকাশের জন্যই আসছে শুধু। তারা বিভিন্ন রকমের ঘটন-অঘটনের জন্ম দিয়ে যাচ্ছে।
  • অনেকাংশে দায়ী৷ আমি এই কথাটা বারবার বলছি৷ আমাদের দেশে এটা নিয়ন্ত্রণের কোন সুযোগ আছে কিনা আমি জানি না৷ এ নিয়ে আমাদের যতটুকু বলা দরকার, লেখা দরকার আমরা করেছি৷ আমাদের সবসময় বলা হচ্ছে, এটা তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই৷ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে এটা বন্ধ করে দিতে হবে৷ সবার কাছে মনে হতে পারে, এটা আধুনিকতার বিরোধী কথা৷ কিন্তু যে প্রযুক্তি আমাদের সমাজে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে সেটাকে তো আমি রাখতে পারি না৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনি দেখবেন তাদের আদর্শগত বিশাল বাহিনী আছে, তারাই আবার প্রযুক্তির মাধ্যমে এটা ছড়িয়ে দিচ্ছে৷ বিষয়টা কিন্তু আমরা এড়িয়ে যাচ্ছি৷

মুনতাসীর মামুনকে নিয়ে উক্তি[সম্পাদনা]

  • অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনকে যাঁরা চোখে দেখেননি, যাঁরা বইয়ের মলাটে পরিচিতি পড়েননি তাঁদের কাছে ওর বয়স ৮০ না হলেও ৭০-এর কোঠায়। তার গ্রন্থ তালিকায় চোখ বোলালে অবিশ্বাস্য মনে হবে, ৬৫ বছরে কারো পক্ষে এত লেখা সম্ভব! আমাদের ভেতর সবার আগে লেখালেখি শুরু করেছে মামুন। আমাদের ভেতর সবার আগে স্বীকৃতি মিলেছে মামুনের। সম্ভবত ১৯৬৪-৬৫ সালে মামুন গল্প লিখে প্রেসিডেন্টের স্বর্ণপদক পেয়েছিল।
  • মুনতাসীর মামুন বৃত্ত ভেঙে বের হয়ে এসেছেন ইতিহাস ও মানুষের কাছে। মাঠে-ময়দানে গিয়ে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের উত্তরসূরির কাজটি করছেন। এভাবে মুনতাসীর মামুন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছেন।
  • আরেকজন বুদ্ধিজীবী মুনতাসির মামুন বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে এদেশের অনেকেই দেশে থাকতে পারবে না। কেন থাকতে পারবে না? জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় ছিলেন আপনি চাকরি করেননি? বেগম জিয়ার ক্ষমতার ওই সময় আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। আপনি কোথায় পালিয়ে গিয়েছিলেন? বরং আপনি দেশবিরোধী কাজ করেছেন। আপনি এবং আপনার বন্ধু শাহরিয়ার কবির বিদেশে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে কলঙ্ক রটিয়েছেন।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]