বিষয়বস্তুতে চলুন

সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
আর কারে ডাকি, তোমায় ছাড়ি যাব কার দ্বার।
তুমি হে আমার মোহ-আঁধারের আলো॥
মোহময় সংসার-মাঝে, মোহে অন্ধ সবে মোরা।
মুক্তিদাতা, দেখাও হে অমৃতের সোপান॥
—সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর

সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১ জুন ১৮৪২ - ৯ জানুয়ারি ১৯২৩) ছিলেন বাঙালি লেখক, সংগীতস্রষ্টা ও ভাষাবিদ। তিনি ছিলেন ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসে যোগদানকারী প্রথম ভারতীয়। পারিবারিক পরিচয়ে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অগ্রজ। তিনি স্ত্রীস্বাধীনতায় বিশ্বাস করতেন। সত্যেন্দ্রনাথ নয়টি বাংলা ও তিনটি ইংরেজি গ্রন্থ রচনা করেন। বাংলা গ্রন্থগুলির মধ্যে সুশীলা ও বীরসিংহ নাটক, বোম্বাই চিত্র, নবরত্নমালা, বৌদ্ধধর্ম, আমার বাল্যকথা ও বোম্বাই প্রয়াস, ভারতবর্ষীয় ইংরেজ প্রভৃতি। এছাড়াও তিলকের ভগবদ্গীতাভাষ্য, কালিদাসএর মেঘদূত এবং তুকারামের অভঙ্গের অনুবাদও তিনি করেছেন। তিনি বেশকিছু ব্রহ্ম সঙ্গীত ও দেশাত্মবোধক গানও রচনা করেন।

উক্তি[সম্পাদনা]

  • আমরা গুরুমশায়ের কাছে ক খ, বানান নামতা, কড়াঙ্কে, ষটকে —এই সব শিখতুম, তাছাড়া চিঠিপত্র লেখা অভ্যাস করতুম। যত ওঁচা ফ্যালা, জিনিষ মোড়বার মত ব্রাউন কাগজ আনা হত, —শ্রীরামপুরের সাদা কাগজ যেদিন আসত খুব ভাগ্যি মনে করতুম। এই কাগজের উপর বাঙলা কলম দিয়ে আঁচড়কাটা— সেই আমাদের পত্রলেখা।
    • নবগোপাল মিত্র, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৭
  • দয়াঘন, তোমা হেন কে হিতকারী?
    দুঃখসুখে সম বন্ধু এমন কে, শোকতাপভয়হারী?
    সঙ্কটপূরিত ঘোর ভবার্ণব তারে কোন্ কাণ্ডারী?
    কার প্রসাদে দূর-পরাহত রিপুদল বিপ্লবকারী?
    • ব্রহ্মসঙ্গীত, ত্রয়োদশ সংস্করণ, সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ, কলিকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দ, গান সংখ্যা ১৮৩, পৃষ্ঠা ৮১
  • জীবাত্মা, পরমাত্মা, সৃষ্টি, পরকাল সম্বন্ধে যে-সকল প্রহেলিকা মানব-হৃদয়ে স্বভাবতঃ উদয় হয়, বৌদ্ধ-ধর্ম্মশাস্ত্রে তাহার কোন সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায় না। তাহার কারণ এই যে, বুদ্ধদেব এই সকল গূঢ় প্রশ্নের উত্তরদানে বিমুখ ছিলেন। তাঁহার কোন শিষ্য তাঁহার নিকট এই সকল প্রশ্ন উত্থাপন করিলে, তিনি কোন উচ্চবাচ্য করিতেন না, মৌনভাব ধারণ করিতেন।
    • বৌদ্ধধর্ম, প্ৰথম পরিচ্ছেদ, বৌদ্ধধর্ম - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৩-৪
  • আর কারে ডাকি, তোমায় ছাড়ি যাব কার দ্বার।
    তুমি হে আমার মোহ-আঁধারের আলো॥
    মোহময় সংসার-মাঝে, মোহে অন্ধ সবে মোরা।
    মুক্তিদাতা, দেখাও হে অমৃতের সোপান॥
    • ব্রহ্মসঙ্গীত, ত্রয়োদশ সংস্করণ, সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ, কলিকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দ, গান সংখ্যা ৬৮৯, পৃষ্ঠা ৩৩৩
  • আমার পরীক্ষক ছিলেন ভট্ট মোক্ষমূলর। তিনি আমাকে যথেষ্ট স্নেহ করতেন। বোধ করি আমার লেখা পরীক্ষা করবার সময় আমার কাগজটার উপরে একটু সদয়ভাবে চোখ বুলিয়েছিলেন, নইলে অত উচ্চ সংখ্যা পাবার আমার আশা ছিল না।
    • শিক্ষা, আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩২২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৯
  • কুগ্রামে নিবাস, দুৰ্জ্জন সেবন,
    ক্রোধমুখী ভাৰ্য্যা, কুপথ্য ভোজন,
    বিধবা তনয়া, মূর্খ পুত্র যার
    বিনা আগুনেই দেহ দগ্ধ তার৷।
    • অগ্নি বিনা দহন, বিবিধ কবিতা, নবরত্নমালা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- আদি ব্রাহ্মসমাজ যন্ত্র, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪৩
  • তখন আমাদের মাঝে মাঝে বাঁধা নিয়মে তিনদিনব্যাপী একরকম জ্বর হত তা ম্যালেরিয়া বলতে পারি না, কেননা তখন ম্যালেরিয়া ছিল না।
    • মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২১
  • বৌদ্ধেরাই সংযম, স্বার্থত্যাগ, জ্বলন্ত ধর্ম্মানুরাগ, উদার ভ্রাতৃবন্ধনের দৃষ্টান্ত দেখাইয়া যান; তাঁহাদের ব্যবহারধর্ম্মের প্রভাব হিন্দুসমাজ হইতে কখনই সম্পূর্ণ বিদূরিত হইবার নহে। বুদ্ধজীবনীর সৌন্দর্য্য, মাধুর্য্য, নিঃস্বার্থতা ও উদার প্রেমগুণে সে ধর্ম্ম ভারতে চির-রঞ্জিত থাকিবে।
    • বৌদ্ধধর্ম, উপসংহার, বৌদ্ধধর্ম - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৩০৬
  • দুর্বল হৃদয় মোর, আশ্রয় করো দান,
    দুর্গম পথ তরাও, দাও হে পরিত্রাণ।
    দুর্জয় রিপু-দ্বন্দ্বে অন্তরে বাহিরে,
    এ সঙ্কটে ধ্রুব নেতা, তুমি করো বিজয় দান॥
    • ব্রহ্মসঙ্গীত, ত্রয়োদশ সংস্করণ, সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ, কলিকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দ, গান সংখ্যা ৬৫০, পৃষ্ঠা ৩১৫

সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে উক্তি[সম্পাদনা]

  • সত্যেন্দ্রনাথ স্ত্রীশিক্ষা, স্ত্রীস্বাধীনতা এবং স্ত্রীজাতির সর্বপ্রকার উন্নতির পক্ষপাতী ছিলেন। পত্নী জ্ঞানদানন্দিনীকে যুগোপযোগী পূর্ব-সংস্কার বর্জিত উন্নতিমূলক কার্য সম্পাদনে এবং নূতন আচার-অনুষ্ঠান প্রবর্তনে বিশেষ উৎসাহ দান করিতেন।
    • সরলা দেবী চৌধুরানী, জীবনের ঝরাপাতা- সরলা দেবী চৌধুরানী, পরিচ্ছেদ চার, প্রকাশক- শিশু সাহিত্য সংসদ প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২১৫
  • পুজ্যপাদ “সত্যেন্দ্র নাথ ঠাকুর মহাশয়ের “বৌদ্ধধর্ম্ম” ব্যতীত বাঙলা ভাষায় আর একখানিও এমন বই নেই, যার থেকে বুদ্ধের জীবন-চরিত, তাঁর প্রবর্ত্তিত ধর্ম্মচক্র এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত সঙ্ঘের প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায়। ইংরাজি ভাষার ইউরোপীয় পণ্ডিতদের লিখিত বৌদ্ধধর্ম্ম সম্বন্ধে যে সকল গ্রন্থ আছে, সেই সকল গ্রন্থের আলোচনা করেই পূজ্যপাদ ঠাকুর মহাশয় এ গ্রন্থ রচনা করেছেন।
    • প্রমথ চৌধুরী, বৌদ্ধধর্ম বইয়ের মুখপত্রে, বৌদ্ধধর্ম - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৮
  • সত্যেন্দ্রনাথ সংস্কৃত সাহিত্যে সুপণ্ডিত ছিলেন। তিনি বাংলা সাহিত্যেরও সেবা করিয়া গিয়াছেন। সাময়িক পত্রাদিতেও তাঁহার বহু রচনা প্রকাশিত হয়। সতেন্দ্রনাথ লিখিত ‘আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস’ পুস্তকখানি বাংলা সাহিত্যের একটি উৎকৃষ্ট গ্রন্থ।
    • সরলা দেবী চৌধুরানী, জীবনের ঝরাপাতা- সরলা দেবী চৌধুরানী, পরিচ্ছেদ চার, প্রকাশক- শিশু সাহিত্য সংসদ প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২১৫

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

উইকিসংকলন
উইকিসংকলন
উইকিসংকলনে এই লেখক রচিত অথবা লেখক সম্পর্কিত রচনা রয়েছে: