হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
অবয়ব
মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী সি.আই.ই, এফআরএএস (৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ – ১৭ নভেম্বর, ১৯৩১) ছিলেন বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ, সংরক্ষণবিদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা। তার আসল নাম ছিল হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের আবিষ্কর্তা। তিনি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত রামচরিতম্ বা রামচরিতমানস পুঁথির সংগ্রাহক।
উক্তি
[সম্পাদনা]প্রাচীন বাংলার গৌরব
[সম্পাদনা]প্রাচীন বাংলার গৌরব, বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়
- চীনে যত বৌদ্ধ পণ্ডিত জন্মে ছিলেন, হিউয়ান্ চুয়াং তাহাদের মধ্যে সকলের চেয়ে বড়।
- বৌদ্ধ শীলভদ্র, পৃষ্ঠা ২৮
- আমি মনে করি যে, যিনি বৌদ্ধ ধর্মের কয়েকখানি খুব চলিত পুঁথি লিখিয়া গিয়াছেন, সেই মহাত্মা শান্তিদেব বাঙালী ছিলেন। কিন্তু তারানাথ আমার বিরোধী। তিনি বলেন, শান্তিদেবের বাড়ি সৌরাষ্ট্রে ছিল।
- বৌদ্ধ লেখক শান্তিদেব, পৃষ্ঠা ৩২
- তন্ত্র বলিলে কি বুঝায়, এখনও বুঝিতে পারি নাই। বৌদ্ধরা বজ্রযান, সহজযান, কালচক্রযান- সকলকেই তন্ত্র বলে। কাশ্মীরি শৈবদের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। নাথ-পন্থের সকল গ্রন্থই তন্ত্র। অন্যান্য শৈব সম্প্রদায়ের গ্রন্থও তন্ত্র। আবার শাক্তদের সব গ্রন্থও তন্ত্র। এখন আবার বৈষ্ণবদের পঞ্চরাত্রগুলিকেও তন্ত্র বলিতেছে। বাস্তবিকই বৈষ্ণবদের কয়েকখানি তন্ত্র আছে। এরুপ অবস্থায় তন্ত্র বলিলে হয় সব বুঝায়, নাহয় কিছুই বুঝায় না।
- তান্ত্রিকগণ, পৃষ্ঠা ৫৮
কাঞ্চনমালা
[সম্পাদনা]কাঞ্চনমালা, গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স্
- পাখী ও ফুলের মিল সুন্দর বটে, কিন্তু যদি ঐরূপ সমবিকসিত, সমপ্রস্ফুটিত, সমসুরভি মানুষের মিল হয়, তাহার চেয়ে সুন্দর জিনিষ পৃথিবীতে আর আছে কি?
- পৃষ্ঠা ২
বাল্মীকির জয়
[সম্পাদনা]বাল্মীকির জয়, মেসার্স জি সি বোস অ্যান্ড কো.
- বশিষ্ঠের মনে আত্মপ্রসাদ- আমি ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়ে বিবাদ মিটাইয়া তুলিয়াছি। আমি সব ভাই ভাই করিবার যোগাড় করিয়াছি।
বিশ্বামিত্রের মনে আত্মগরিমা- আমি বাহুবলে সমস্ত পৃথিবী জয় করিয়া এক করিয়া আনিয়াছি, আমার-সামনে সব ভাই ভাই হইয়া যাইবে।
আর বাল্মীকির অন্তরের অন্তরে ভাবনা কি? বিষম আত্মগ্লানি। হায়! আমি কি করিতেছি, আমি কেবল আমার ভাইয়েদের সর্বনাশ করিতেছি!!!- পৃষ্ঠা ১১
ভারতমহিলা
[সম্পাদনা]ভারতমহিলা, সংস্কৃত প্রেস ডিপজিটরী
- যদিও স্ত্রীলোকের রক্ষার জন্য ঋষিরা এত ব্যগ্র, কিন্ত তাহা বলিয়া স্ত্রীলোক যে অবরোধবর্তী থাকিতেন তাহারও কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। প্রত্যুত দেখা যাইতেছে, সীতা রামের সহিত বনগমন করিয়াছিলেন। দ্রৌপদীও পঞ্চপাণ্ডবের অদৃষ্টভাগিনী হইয়াছিলেন। ব্রাহ্মণকন্যারা ত কখনই অবরুদ্ধ ছিলেন না ও থাকিতেন না। মহাভারতীয় দেবযানী উপাখ্যান পাঠ করিলেই তাহা হৃদয়ঙ্গম হইবে। কাব্যগ্রন্থসকলে যে "শুদ্ধান্ত” “অন্তঃপুর,” অবরোধ," ইত্যাদি কথা দেখা যায়, তাহাতে এই বোধ হয় যে, ক্ষত্রিয় রাজাদিগের গৃহিণীরাই অবরোধবর্তিনী ছিলেন। যাহারা ৭০০।৮০০ বিবাহ করিবে তাহাদের অবরোধ সুতরাং প্রয়োজনীয় হইয়া উঠে।
- পৃষ্ঠা ১০
- স্বামী বিদেশে গেলে স্ত্রী পরের বাটী যাইবে না কোন সমাজ বা উৎসবস্থলে উপস্থিত হইবে না। ক্রীড়া করিবে না, হাস্য করিবে না, এবং শরীর সংস্কার করিবে না। অতএব, স্বামী গৃহে থাকিলে, স্বামীর অনুমতি লইয়া স্ত্রী সর্বত্র যাতায়াত করিতে পারিত, তাহাতে কোন সন্দেহ নাই।
- পৃষ্ঠা ১১
- ব্যাসসংহিতা পাঠ করিয়া বরং বোধ হয় স্ত্রীলোক যদি দেওয়ান হইতে দাসী পর্যন্ত সকলেরই কার্য্য করিল, পুরুষের কার্য্য কি?
- পৃষ্ঠা ৩৩
হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা
[সম্পাদনা]হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা, বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ
- যখন প্রথম চারি দিকে বাঙ্গালা স্কুল বসান হইতেছিল এবং লোকে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের বর্ণপরিচয়, বোধোদয়, চরিতাবলী, কথামালা পড়িয়া বাঙ্গালা শিখিতেছিল, তখন তাহারা মনে করিয়াছিল, বিদ্যাসাগর মহাশয়ই বাঙ্গালা ভাষার জন্মদাতা। কারণ, তাহারা ইংরাজীর অনুবাদ মাত্র পড়িত, বাঙ্গালা ভাষার যে আবার একটা সাহিত্য আছে এবং তাহার যে আবার একটা ইতিহাস আছে, ইহা কাহারও ধারণাই ছিল না।
- মুখবন্ধ, পৃষ্ঠা ১
- আমি প্রায় পাঁচ শত পুঁথি সংগ্রহ করিয়াছিলাম। এশিয়াটিক সোসাইটির জন্যই সংগ্রহ করিয়াছিলাম, এশিয়াটিক সোসাইটিতে আছে।
- মুখবন্ধ, পৃষ্ঠা ৩
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।