বিষয়বস্তুতে চলুন

কাজী নজরুল ইসলাম

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
মহা - বিদ্রোহী রণক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত।
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না,
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ, রণ-ভূমে রণিবে না ~ নজরুল

কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬; ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ – ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) রাঢ় বাংলায় জন্ম নেওয়া একজন বাঙালি কবি এবং পরবর্তী কালে বাংলাদেশের জাতীয় কবি। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ ও দার্শনিক যিনি বাংলা কাব্যে অগ্রগামী ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রগতিশীল প্রণোদনার জন্য সর্বাধিক পরিচিত।তিনি বৃটিশ বিরোধীও ছিলেন।আজও তার ঐতিহ্য মানুষ ধরে রাখে।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • আনোয়ার! আনোয়ার!
সব যদি সুম্‌সাম, তুমি কেন কাঁদো আর?
দুনিয়াতে মুসলিম আজ পোষা জানোয়ার!
আনোয়ার! আর না!–
দিল্ কাঁপে কার না?
তল্‌ওয়ারে তেজ নাই! –তুচ্ছ স্মার্ণা,
ঐ কাঁপে থরথর মদিনার দ্বার না?
আনোয়ার! আর না!
  • আনোয়ার
  • জব্বুর তওরাত ইঞ্জিল যাহার আসার বাণী,
ঘোষিল যুগ-যুগান্ত পূর্বে, বেহেশত হইতে টানি',
আনিল পীড়িতা মুক ধরণীর তপস্যা আজি তারে,
ব্যথিত হৃদয়ে ফেলিয়া চরণ, অবতার এল দ্বারে।
সকল কালের সকল গ্রন্থ, কেতাব, যোগী ও ধ্যানী,;
মুনি, ঋষি, আউলিয়া, আম্বিয়া, দরবেশ মহাজ্ঞানী;
প্রচারিল যার আসার খবর-আজি মন্থন-শেষ,
বেদনা-সিন্ধু ভেদিয়া আসিল সেই নবী অমৃতেশ!
হেরিল প্রাচীনা ধরণী আবার উদয় অভ্যুদয়,
সব-শেষ ত্রাণকর্তা আসিল, ভয় নাই, গাহ জয়!
যে সিদ্দিক ও আমিনে খুঁজেছে বাইবেল আর ঈসা,
তওরাত দিল বারে বারে যেই মোহাম্মদের দিশা,
পাপিয়া-কণ্ঠ দাউদ গাহিল যার অনাগত গীতি,
যে 'মহামদে' অথর্ব-বেদ-গান খুঁজিয়াছে নিতি,
সে অতিথি এল, কতকাল ওরে-আজি কতকাল পরে,
ধেয়ানের মণি নয়নে আসিল। বিশ্ব উঠিল ভরে;
-আলোকে, পুলকে, ফুলে ফলে, রূপে রসে, বর্ণ ও গন্ধে,;
গ্রহতারা লোক পতিতা ধরায় আজি পূজা করে, বন্দে!
আদি উপাসনালয়,;
উঠিল আবার নূতন করিয়া ভূত প্রেত সমুদয়,
তিন শত ষাট বিগ্রহ আর মূর্তি নূতন করি';
বসিল সোনার বেদীতে রে হায় আল্লার ঘর ভরি।
সহিতে না পারি এ দৃশ্য, এই স্রষ্টার অপমান,;
ধেয়ানে মুক্তি-পথ খোঁজে নবী, কাঁদিয়া ওঠে পরান।
খদিজারে কন-'আল্লাতালার কসম, কা'বার ঐ;
'লোৎ' 'ওজ্জা'র করিব না পূজা, জানি না আল্লা বই।
নিজ হাতে যারে করিল সৃষ্টি খড় আর মাটি দিয়া;
কোন্ নির্বোধ পূজিবে তাহারে হায় স্রষ্টা বলিয়া!'
সাধ্বী প্রতিব্রতা খদিজাও কহেন স্বামীর সনে-;
'দূর কর এ লাত্ মানাতেরে, পূজে যাহা সব-জনে।
তব শুভ-বরে একেশ্বর সে জ্যোতির্ময়ের দিশা;
পাইয়াছি প্রভু, কাটিয়া গিয়াছে আমার আঁধার নিশা।'
ক্রমে ক্রমে সব কোরেশ জানিল মোহাম্মদ আমিন;
করে না কো পূজা কাবার ভূতেরে ভাবিয়া তাদেরে হীন।
  • মরু ভাস্কর
  • মস‍্জিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই,
    যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শ‍ুন‍্তে পাই॥
    আমার গোরের পাশ দিয়ে ভাই নামাজীরা যাবে,
    পবিত্র সেই পায়ের ধ্বনি এ বান্দা শুনতে পাবে।
    গোর আজাব থেকে এ গুনাহ্‌গার পাইবে রেহাই॥
    • নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, দশম খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ২১৫
  • শ্যাম-সুন্দর-গিরিধারী।
মানস মধু-বনে মধুমাধবী সুরে মুরলী বাজাও বনচারী।।
মধুরাতে হে হৃদয়েশ মাধবী চাঁদ হয়ে এসো,
হৃদয়ে তুলিও ভাবেরই উজান রস-যমুনা-বিহারী।।
অন্তর মন্দিরে প্রীতি ফুলশয্যায় বিলাস কর লীলা-বিলাসী,
আঁখির প্রদীপ জ্বালি' শিয়রে জাগিয়া রব শ্যাম, তব রূপ-পিয়াসি।
যত সাধ আশা গেল ঝরিয়া, পর তাই গলে মালা করিয়া;
নূপুর করিব তব চরণে গাঁথি' মম নয়নের বারি।।
  • শ্যাম-সুন্দর-গিরিধারী
  • খড়ের প্রতিমা পূজিস্‌ রে তোরা, মাকে ত’ তোরা পূজিস্‌নে!
প্রতি মা’র মাঝে প্রতিমা বিরাজে (ঘরে ঘরে ওরে)
হায় রে অন্ধ, বুঝিস্‌নে।।
বছর বছর মাতৃ পূজার ক’রে যাস্‌ অভিনয়
ভীরু সন্তানে হেরি লজ্জায় মাও যে পাষাণময়,
মাকে জিনিতে সাধন-সমরে সাধক ত’কেহ বুঝিস্‌নে।
মাটির প্রতিমা গ’লে যায় জলে, বিজয়ায় ভেসে যায়,
আকাশে-বাতাসে মা’র স্নেহ জাগে অতন্দ্র করুণায়।
তোরই আশে-পাশে তাঁর কৃপা হাসে —
কেন সেই পথে তাঁরে খুঁজিস্‌নে।।
  • খড়ের প্রতিমা
  • 'বার্ধক্য তাহাই যাহা পুরাতনকে, মিথ্যাকে ,মৃত্যুকে আকড়াইয়া পড়িয়া থাকে'
    • 'যৌবনের গান '
  • মিথ্যা শুনিনি ভাই,
    এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির-কাবা নাই।
    • ‘সাম্যবাদী’ কবিতা, নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৮০
  • পূজিছে গ্রন্থ ভণ্ডের দল!– মূর্খরা সব শোনো,
    মানুষ এনেছে গ্রন্থ;– গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো!
    • ‘মানুষ’ কবিতা, নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৮২
  • বল বীর—
    বল উন্নত মম শির!
    শির নেহারি আমারি, নত-শির ওই শিখর হিমাদ্রির!
    • ‘বিদ্রোহী’ কবিতা, অগ্নি-বীণা - নজরুল ইসলাম, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- আর্য্য পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫
  • বাঙালি যেদিন ঐক্যবদ্ধ হয়ে বলতে পারবে ‘বাঙালির বাংলা’ সেদিন তারা অসাধ্য সাধন করবে।
  • কারার ঐ লৌহ-কবাট
    ভেঙে ফেল, কর রে লোপাট
    রক্ত-জমাট
    শিকল পূজোর পাষাণ-বেদী!
    • ভাঙ্গার গান কাব্যগ্রন্থ, নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, প্রথম খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ১৫৯
  • ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান,
    আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন বলিদান?
    • ‘সর্বহারা’ কাব্যের ‘কান্ডারী হুঁশিয়ার’, নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ১২৩
  • আমি বন্ধন-হারা কুমারীর বেণী, তন্বি-নয়নে বহ্নি,
    আমি ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম-উদ্দাম, আমি ধন্যি!
    • ‘বিদ্রোহী’ কবিতা, অগ্নি-বীণা - নজরুল ইসলাম, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- আর্য্য পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮
  • নিজে নিষ্ক্রিয় থেকে অন্য একজন মহাপুরুষকে প্রাণপণে ভক্তি করলেই যদি দেশ উদ্ধার হয়ে যেত,তাহলে এই দেশ এতদিন পরাধীন থাকত না।
    • আমার পথ প্রবন্ধ, রুদ্র-মঙ্গল, নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৪২১
  • ভুলের মধ্য দিয়ে গিয়েই তবে সত্যকে পাওয়া যায়।
    • আমার পথ প্রবন্ধ, রুদ্র-মঙ্গল, নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৪২২
  • আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে।
    • আমার পথ প্রবন্ধ, রুদ্র-মঙ্গল, নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৪২১
  • যার নিজের ধর্মে বিশ্বাস আছে, যে নিজের ধর্মের সত্যকে চিনেছে, সে কখনো অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না।
    • আমার পথ প্রবন্ধ, রুদ্র-মঙ্গল, নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৪২২
  • আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান-বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন
    • ‘বিদ্রোহী’ কবিতা, অগ্নি-বীণা - নজরুল ইসলাম, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- আর্য্য পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১
  • আমি বেদুঈন, আমি চেঙ্গিস্,
    আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ!
    • ‘বিদ্রোহী’ কবিতা, অগ্নি-বীণা - নজরুল ইসলাম, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- আর্য্য পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭
  • মহা– বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
    আমি সেই দিন হব শান্ত,
    যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না,
    অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না,
    বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
    আমি সেই দিন হব শান্ত!
    • ‘বিদ্রোহী’ কবিতা, অগ্নি-বীণা - নজরুল ইসলাম, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- আর্য্য পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০–১১
  • কত মোহররম এলো, গেল চলে বহু কাল—
    ভুলি নি গো আজো সেই শহীদের লোহু লাল!
    মুস্‌লিম! তোরা আজ ‘জয়নাল আবেদীন,’
    ‘ওয়া হোসেনা—ওয়া হোসেন।’ কেঁদে তাই যাবে দিন।
    ফিরে এল আজ সেই মহরম মাহিনা
    ত্যাগ চাই মর্সিয়া-ক্রন্দন চাহি না!
    • ‘মোহররম’ কবিতা, অগ্নি-বীণা - নজরুল ইসলাম, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- আর্য্য পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৭–৫৮
  • আমার যাবার সময় হল
    দাও বিদায়।
    মোছ আঁখি দুয়ার খোলো
    দাও বিদায়।
    • নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, সপ্তম খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ১৫৬
  • যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে!
    অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে—
    বুঝবে সেদিন বুঝবে।
    • ‘অভিশাপ’ কবিতা, দোলন-চাঁপা কাব্যগ্রন্থ, নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, প্রথম খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৮৫
  • তুমি সুন্দর, তাই চেয়ে থাকি প্রিয়, সে কি মোর অপরাধ?
    চাঁদেরে হেরিয়া কাঁদে চকোরিণী, বলে না তো কিছু চাঁদ।৷
    • বুলবুল কাব্যগ্রন্থ, নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, ষষ্ঠ খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ২৭৩
  • হয়তো তোমার পাব দেখা,
    যেখানে ঐ নত আকাশ চুমছে বনের সবুজ রেখা।৷
    • ‘আশা’ কবিতা, ‘ছায়ানট’ কাব্যগ্রন্থ, নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৩৪
  • হেথা সবে সম পাপী
    আপন পাপের বাটখারা দিয়ে অন্যের পাপ মাপি!
    • ‘পাপ’ কবিতা, ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ, নজরুল-রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রকাশক- বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৮৪
  • ভালোবাসা দিয়ে ভালোবাসা না পেলে তার জীবন দুঃখের ও জড়তার।
  • ভালোবাসাকে যে জীবনে অপমান করে সে জীবনে আর ভালোবাসা পায় না।
  • তোমারে যে চাহিয়াছে ভুলে একদিন, সে জানে তোমারে ভোলা কি কঠিন।
  • মৃত্যুর যন্ত্রণার চেয়ে বিরহের যন্ত্রণা যে কতো কঠিন,
    কতো ভয়ানক তা একমাত্র ভুক্তভোগীই অনুভব করতে পারে।
  • একটা ধর্ম কখনো সঙ্কীর্ণ, অনুদার হইতে পারে না। ধর্ম সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং সত্য চিরদিনই বিশ্বের সকলের কাছে সমান সত্য। কোন ধর্ম শুধু কোন এক বিশিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য নয়। তাহা বিশ্বের।
    • ‘ছুঁৎমার্গ’ প্রবন্ধ

কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে উক্তি

[সম্পাদনা]
  • কবি নজরুল যে-স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেটা শুধু তার নিজের স্বপ্ন নয় —সমগ্র বাঙালী জাতির স্বপ্ন।
    • সুভাষচন্দ্র বসু, নজরুল স্মৃতি- বিশ্বনাথ দে সম্পাদিত, প্রকাশক- সাহিত্যম্, কলিকাতা, পৃষ্ঠা ২
  • কবিরা সাধারণত কোমল ও ভীরু, কিন্তু নজরুল তা নন। কারাগারে শৃঙ্খল পরে বুকের রক্ত দিয়ে তিনি যা লিখেছেন, তা বাঙালীর প্রাণে এক নৃতন স্পন্দন জাগিয়ে তুলেছে।
  • ভুল হয়ে গেছে বিলকুল
    আর সব কিছু ভাগ হয়ে গেছে
    ভাগ হয়নিকো নজরুল।
    • অন্নদাশঙ্কর রায়
  • জীবনানন্দ দাশ বলতেন নজরুল ইসলামের আত্মপ্রত্যয় ছিল। পরিকীর্তিত সৎ প্রেরণাই মানুষের ও শেষ বিশ্লেষণে মানুষ সমাজের মর্মকথা এই ঘোষণায় তার অপূর্ব বিশ্বাস ছিল। মনুষ্যজীবনের পরিবর্তিত অমূল্য জিনিসগুলোর উত্তরোত্তর মূল্যনাশের ব্যথা তাঁকে সন্তপ্ত করেছিল। .. তাঁর জনপ্রেম, দেশপ্রেম পূর্বোক্ত শতাব্দীর বৃহৎ ধারার সঙ্গে সত্যিই একাত্ম। পরবর্তী কবিরা এ সৌভাগ্য থেকে অনেকটা বঞ্চিত বলে আজ পর্যন্ত নজরুলকেই সত্যিকারের দেশ ও দেশীয়দের বন্ধু কবি বলে জনসাধারণ চিনে নিবে। ” “জন ও জনতার বন্ধু ও দেশপ্রেমিক কবি নজরুল। ”

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]