জীবন আমাদের নিঃশ্বাসের সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা হয় না, বরং পরিমাপ করা হয় সেইসব মুহূর্ত দিয়ে যা আমাদের নিঃশ্বাস কেড়ে নেয়। ~ ভিকি করোনা।আপনার জীবনকে বেঁচে থাকার যোগ্য করে তুলুন। ~ আলবার্ট আইনস্টাইন
জীবন বা প্রাণ হলো এমন এক অবস্থা, যা কোনো জীবকে জড় পদার্থ বা মৃত অবস্থা থেকে পৃথক করে। খাদ্য গ্রহণ, বিপাক, বংশবৃদ্ধি, চলন বা সাড়া প্রদানের মতো প্রক্রিয়াগুলো জীবনের উপস্থিতি নির্দেশ করে।
“জীবন যখন শুকায়ে যায় করুণাধারায় এসো। সকল মাধুরী লুকায়ে যায়, গীতসুধারসে এসো। কর্ম যখন প্রবল-আকার গরজি উঠিয়া ঢাকে চারি ধার হৃদয়প্রান্তে, হে জীবননাথ, শান্ত চরণে এসো।”
― গীতবিতান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
“অন্যের জীবনকে ভালোবাসা, friendship, ক্রোধ ও সহানুভূতির মাধ্যমে মূল্যায়ন করার মধ্যেই নিজের জীবনের মূল্য নিহিত থাকে।”
― সাকসেসফুল এজিং: এ কনফারেন্স রিপোর্ট (১৯৭৪)-এর ১৪২ পৃষ্ঠায় উদ্ধৃত, সিমন দ্য বোভোয়ার
“জীবন খুবই বিস্ময়কর... আর এই পৃথিবীর বিস্ময়ের কোনো শেষ নেই।”
― দ্য সিলভার স্ট্যালিয়ন: এ কমেডি অব রিডেম্পশন (১৯২৬), দ্য জেন্ডার, বুক সেভেন: হোয়াট স্যারাইডে ওয়ান্টেড, অধ্যায় ৪৫: দ্য জেন্ডার অলসো জেনেরালাইজেস, জেমস ব্রাঞ্চ ক্যাবেল
“বলো না কাতর স্বরে বৃথা জন্ম এ সংসারে এ জীবন নিশার স্বপন; দারাপুত্র পরিবার তুমি কার কে তোমার বলে জীব করো না ক্রন্দন।”
― কবিতাবলী, হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
“আমরা কতদিন বাঁচলাম তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং কীভাবে বাঁচলাম সেটাই আসল।”
― ফেস্টাস (১৮৩৯), ফিলিপ জেমস বেইলি
“সমগ্র বিবর্তন মূলত একটি বিকাশমান জীবন নিয়ে গঠিত। এটি বিকশিত হওয়ার সাথে সাথে এক রূপ থেকে অন্য রূপে স্থানান্তরিত হয় এবং সেসব রূপের মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা নিজের মধ্যে সঞ্চয় করে। মানুষের আত্মার পুনর্জন্ম বিবর্তনের কোনো নতুন নিয়ম নয়, বরং ক্রমাগত বিকশিত জীবনের ব্যক্তিকরণের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণে একটি সর্বজনীন নিয়মেরই অভিযোজন।”
― দ্য অ্যানসিয়েন্ট উইজডম (১৮৯৭), অ্যানি বেসান্ত
“বিজ্ঞান আমাদের মহান সব অর্জনের দিকে নিয়ে যায়, যা সত্যের সন্ধানকারীদের আনন্দিত করে। তবে বিজ্ঞানকে গভীরভাবে অনুসরণ করলে আমরা বুঝতে পারি যে, আমাদের অবশ্যই পরম সত্যের অন্যান্য উৎসগুলোও সন্ধান করতে হবে। একই সাথে জীবনের অর্থ, অস্তিত্ব এবং মৃত্যুর রহস্য সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের করতে হবে।”
― "মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বের জন্য মিটিং", রিমিনি মিটিং ২০০৬, আগস্ট ২৩, ২০০৬, ফ্রাঙ্কো বাসানি
বিভূতিলাভ তো মনুষ্যজীবনের উদ্দেশ্য নয়; মনুষ্যজীবনের উদ্দেশ্য হলো আত্মজ্ঞান লাভ করা বা ভগবৎপ্রাপ্তি এবং জন্ম-জরা-মৃত্যুর হাত থেকে চিরতরে মুক্তি। বিভূতি লাভ হলে ভেলকি দেখিয়ে সাময়িকভাবে হয়তো কিছু লাভ হয়, কিন্তু তাতে তো আর জীব কৃতার্থ হয়না। উল্টো লোকসমাগম বাড়ে, ফলে একাকী নির্জনে থেকে আত্মচিন্তন ও নিত্য-নিরন্তর ব্রহ্মানুচিন্তনের ব্যাঘাত ঘটে। লোকসমাগম বাড়লে, যার সাহায্যে মানুষের বাহবা বা তথাকথিত প্রশংসা পাওয়া যায়, তাও একসময় হারিয়ে যায়। তখন মনে কেবল জ্বালাই সৃষ্টি হয়।
ধ্যানপ্রকাশ ব্রহ্মচারী। শ্রীগুরুচরণতলে, শ্রীমদ্ ভক্তিপ্রকাশ ব্রহ্মচারী, ১৩৭৩, ২ বি রামমোহন রায় রোড, কলকাতা - ৯, পৃষ্ঠা ২১৫