বিষয়বস্তুতে চলুন

কুয়াশা

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে—এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয়—হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে;
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠাল-ছায়ায়;
জীবনানন্দ দাশ

কুয়াশা হলো ভূপৃষ্ঠের সংলগ্ন বায়ুমণ্ডলের স্তরগুলিতে থাকা মেঘের মতো পদার্থ যা পৃথিবীর পৃষ্ঠে বা তার কাছাকাছি বাতাসে ভাসমান অবস্থায় থাকে। ভূপৃষ্ঠের সংলগ্ন বায়ুমণ্ডলের স্তরগুলিতে অনেকসময় সূক্ষ্ম জলকণা ভাসমান থাকলে সেটি ধূলিকণা এবং ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে বায়ুমণ্ডলের স্বচ্ছতা ও দৃশ্যমানতা কমিয়ে দিয়ে কুয়াশার সৃষ্টি করে। এটি জলীয় কণা ছাড়া বরফের সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম স্ফটিক নিয়েও গঠিত হতে পারে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই কুয়াশা দেখা যায়। এমন অনেক দেশ রয়েছে যেখানে বছরের অর্দ্ধেক দিনই কুয়াশায় ঢাকা থাকে।

উক্তি[সম্পাদনা]

  • বস্তুত সকালবেলায় যদি ঘন কুয়াশা হইয়া থাকে, তবে অধীর হইয়া ফল নাই এবং হতাশ হইবারও প্রয়োজন দেখি না—সূর্য্য সে কুয়াশা ভেদ করিবেনই এবং করিবামাত্র সমস্ত পরিষ্কার হইয়া যাইবে।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ছাত্রদের প্রতি সম্ভাষণ, আত্মশক্তি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- মজুমদার লাইব্রেরি, প্রকাশস্থান-কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩১২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
  • আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে—এই বাংলায়
    হয়তো মানুষ নয়—হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে;
    হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
    কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠাল-ছায়ায়;
    • জীবনানন্দ দাশ, রূপসী বাংলা - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪
  • কী জানো মিয়া, কলের জাহাজ হলি, জানন যায় কত জোর চলতেছি, ঘণ্টায় কয় মাইল আলাম—সমুন্দুরের কোনখানে রইছি হিসাব করলি মেলে। নাও চালাইয়া জানুন কিবা?—দাড়িতে হাত বুলায় হােসেন, সকলকে অভয় দিয়া আবার বলে, ডরাইও না, দশ বাজলি কুয়াশা থাকবাে না। আইজ কাইল রোজ বিহানবেলা কুয়াশা হয়। এ্যারে কী কুয়াশা কয় মাঝি?
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, পদ্মানদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ- ৩৫, প্রকাশক- বেঙ্গল পাবলিশার্স , প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৭৯-৮০
  • বন্ধু, কুয়াশা, সাবধান এই
    সূর্যোদয়ের ভোরে;
    পথ হারিও না আলোর আশায়
    তুমি একা ভুল ক'রে।
    • সুকান্ত ভট্টাচার্য, ঠিকানা, ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থ, সুকান্ত সমগ্র- সুকান্ত ভট্টাচার্য, প্রকাশক- সারস্বত লাইব্রেরী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৬
  • দেড় হাজার ফুট উঁচুতে উঠলে মেঘের সঙ্গে দেখা হয়। দেশে বসে আকাশের পানে তাকিয়ে আমরা যেসব ভারী ভারী মেঘ দেখতে পাই, তারা মোটামুটি এইরকম উঁচুতেই থাকে। ক্রমে হয়তো ট্রেন তার ভিতরে ঢুকে যায়। তখন আর বুঝতে বাকি থাকে না যে আমরা যাকে কুয়াশা বলি, এ ঠিক সেই জিনিস। দূরে থেকে তাকে দেখলেই সে মেঘ, আর ভিতরে ঢুকে দেখলেই সে কুয়াশা।
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, উপেন্দ্রকিশোর রচনাসমগ্র, সম্পাদক- শান্তা শ্রীমানি, প্রকাশক- বসাক বুক স্টোর প্রাইভেট লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১০১০
  • এখনো সুদূরে দেখি মেলিয়া নয়ন—
    ধোঁয়া আর কুয়াশার গাঢ় আবরণ।
    পউষের মিঠে রোদে বসেছি দাওয়ায়,
    নলেন গুড়ের পিঠে খাবি কে রে আয়॥
    • সুনির্মল বসু, শীতের সকাল, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭২
  • ‘কুয়াশা, নিকটে থাকি, তাই হেলা মোরে।
    মেঘ ভায়া দূরে রন, থাকেন গুমোরে।’
    কবি কুয়াশারে কয়, ‘শুধু তাই না কি—
    মেঘ দেয় বৃষ্টিধারা, তুমি দাও ফাঁকি।’
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কুয়াশার আক্ষেপ, কণিকা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৯
  • যত দূরে দৃষ্টি যায়—
    চেয়ে দেখি ঘিরেছে কুয়াশা।
    উড়ন্ত বাতাসে আজ কুমেরু কঠিন
    কোথা হতে নিয়ে এল জড়-অন্ধকার;
    —এই কি পৃথিবী?
    • সুকান্ত ভট্টাচার্য, আসন্ন আঁধারে, পূর্বাভাস কাব্যগ্রন্থ, সুকান্ত সমগ্র- সুকান্ত ভট্টাচার্য, প্রকাশক- সারস্বত লাইব্রেরী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫৯

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]