বিষয়বস্তুতে চলুন

কাক

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
তীব্র কালকূটে হয় শুদ্ধ রসায়ন;
কাক করে কোকিলের সন্তান-পালন;
রজনীকান্ত সেন

কাক কর্ভিডি গোত্রের তুলনামূলকভাবে বড় আকারের অতি পরিচিত পাখি। দক্ষিণ আমেরিকা ছাড়া উষ্ণমন্ডলীয় সব মহাদেশ এবং বেশ কিছু দ্বীপে কাকের বিস্তার রয়েছে। এদের দেহ চকচকে কালো রঙের এবং অধিকাংশেরই শক্তিশালী কালো ঠোঁটের গোড়া পালকে ঢাকা। কাক সর্বভুক। এরা অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও চতুর পাখি। কর্ভাস গণের মধ্যে প্রায় ৪৩টি বিভিন্ন প্রজাতির কাক দেখা যায়। তন্মধ্যে ভারত এবং বাংলাদেশে দাঁড়কাক ও পাতিকাক প্রজাতি বেশি দেখা যায়। বাংলায় কাক বলতে সাধারণত পাতিকাককে বোঝায়।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে—এই বাংলায়
    হয়তো মানুষ নয়—হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে;
    হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
    কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠাল-ছায়ায়;
    • জীবনানন্দ দাশ, রূপসী বাংলা - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪
  • বিশেষত দাঁড়-কাক, অনেকদিন পর্যন্ত বাঁচে—আশি নব্বই একশো পর্যন্ত পার হয়ে যায়। কাক যে অনেকদিন বাঁচে এই বিশ্বাস লোকের মনে বরাবরই আছে। আমরা ছেলেবেলায় ভূষণ্ডি কাকের কথা শুনেছি— সে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ দেখে বলেছিল “এর চাইতে রামায়ণের যুদ্ধ আর দেবতা অসুরের যুদ্ধটা ভালো হয়েছিল। তখন আমি হাঁ করে কাছে বসে থাকতাম আর আপনা থেকে রক্ত এসে মুখে পড়ত!”
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী- জানোয়ারের বয়স, উপেন্দ্রকিশোর রচনাসমগ্র- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, সম্পাদনা- শান্তা শ্রীমানি, প্রকাশক- বসাক বুক স্টোর প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৭২
  • আদা আর কাঁচকলা মেলে কোনদিন সে?
    কোকিলের ডাক শুনে কাক জ্বলে হিংসেয়।
    • সুকুমার রায়- আড়ি, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী, প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী ও কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭১
  • এক কুল ভাঙ্গে নদী, অন্য কুল গড়ে;
    দূষিত বায়ুরে লয় উড়াইয়া ঝড়ে;
    তীব্র কালকূটে হয় শুদ্ধ রসায়ন;
    কাক করে কোকিলের সন্তান-পালন;
    • রজনীকান্ত সেন, ভাল-মন্দ - রজনীকান্ত সেন, অমৃত, প্রকাশক- অমিয়রঞ্জন মুখােপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
  • কাকের বাসায় কোকিলশিশু প্রায়ই পুষ্ট হয়, এই জন্য পরভৃৎ কাকের নামান্তর দাঁড়াইয়াছে এবং কোকিল পরভৃত সজ্ঞায় অভিহিত হইয়াছে। অনেক সময়ে এরূপ দেখা যায় যে পরভৃৎ শুধু কাক নয়, কাকেতর বিহঙ্গ (যথা Pica ructica) যাহার নীড়ে কোকিলের ডিম্ব রক্ষিত হয়, তদ্রূপ পরভৃত শুধু কোকিল নয়, কোকিলের জ্ঞাতি-সম্পর্কীয় পক্ষিকুল, যাহারা বিহঙ্গতত্ত্ববিদ্‌গণের মতে কোকিলের সহিত এক বৃহৎ পরিবারভুক্ত।
    • সত্যচরণ লাহা, নাটকে পাখীর পরিচয়, পাখীর কথা - সত্যচরণ লাহা, তৃতীয় ভাগ, প্রকাশক- বেঙ্গল বুক কোম্পানী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫
  • এমন সময় হঠাৎ আমার কেরোসিনের শিখাটা দপ্ দপ্ করিতে করিতে নিবিয়া গেল। হঠাৎ দেখিতে পাইলাম, বাহিরে আলো হইয়াছে। কাক ডাকিয়া উঠিল। দোয়েল শিশ দিতে লাগিল। আমার বাড়ির সম্মুখবর্তী পথে একটা মহিষের গাড়ির ক্যাঁচ্ ক্যাঁচ্ শব্দ জাগিয়া উঠিল। তখন দক্ষিণাবাবুর মুখের ভাব একেবারে বদল হইয়া গেল। ভয়ের কিছুমাত্র চিহ্ন রহিল না।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নিশীথে, গল্পগুচ্ছ (দ্বিতীয় খণ্ড) - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, পৃষ্ঠা ২৭২
  • কোথায় যেন করুণ সুরে
    চাতক পাখী ডাকছে দূরে,
    ঘরের চালে ভিড় করেছে
    ঝোড়ো-কাকের দল।
    আবার এলো জল।
    • আবার এলো জল - সুনির্মল বসু, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫
  • কুমোর বললে, ‘ঘটি তো নেই। মাটি আন, গড়ে দি।’ শুনে কাক মোষের কাছে তার শিং চাইতে গেল, সেই শিং দিয়ে মাটি খুঁড়বে।
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, চড়াই আর কাকের কথা, টুনটুনির বই- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৭১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫২
  • আমরা কেউ মাস্টার হতে চেয়েছিলাম, কেউ ডাক্তার, কেউ উকিল।
    অমলকান্তি সে-সব কিছু হতে চায়নি।
    সে রো্দ্দুর হতে চেয়েছিল!
    ক্ষান্তবর্ধণ কাক-ডাকা বিকেলের সেই লাজুক রোদ্দুর,
    জাম আর জাম়রুলের পাতায়
    যা নাকি অল্প-একটু হাসির মতন লেগে থাকে।
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, অমলকাস্তি, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- ভারবি, কলকাতা, প্রকাশকাল- বৈশাখ ১৩৬৭, পৃষ্ঠা ৪৯
  • আমি বিলবোর্ডে নায়িকার বদলে দেখি কাকের ঝাক।
    পোড়া মানুষের গন্ধের চেয়ে বিরিয়ানির সুবাস
    এ শহরে বেশি ভাসে,
    মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা আর ভালো লাগে না।
    • বিরিয়ানি এবং কাকের গল্প, নির্বাচিত কবিতা, হাসান হামিদ, পৃষ্ঠা ১ [১]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]