খালেদা জিয়া
অবয়ব

বেগম খালেদা জিয়া (১৫ আগস্ট ১৯৪৫ – ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) ছিলেন একজন বাংলাদেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যিনি ১৯৯১-১৯৯৬ সাল এবং ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন ও দলনেত্রী ছিলেন, যা তার স্বামী জিয়াউর রহমান কর্তৃক ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
উক্তি
[সম্পাদনা]- খালেদা জিয়ার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই, এইসব স্লোগান আমি মানিনা। যখন রাজপথে থাকার কথা, তখন থাকে নাই। রাজপথে, আমি কেন, অনেককেই বলবো, আমার নেতাদেরও বলবো, যে, রাজপথে থাকার কথা, থাকে নাই। স্লোগানগুলি দয়া করে আর দেবে না। ভালো স্লোগান শেখো। বস্তির ছেলে এনে দল আমার লাগবে না।
- নেতাকর্মীদের সম্মেলনে [১]
- আমি বলেছি আমার কিছু চাই না, আমি এখন জনগণের জন্য, দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। আমার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কোন শখ নেই। আমার অন্য কোন কিছু হওয়ার শখ নেই। আমার শুধু আছে, আমার এই দেশের এই ছেলেপেলেরা, যারা নতুন ভোটার হয়েছে, এবং জনগণ, যারা ভোট দিতে পারে নাই, আগামী ভোট দিয়ে, এই কুত্তার বা..হহম.. এইযে ভোটবিহীন সরকারকে তারা বিদায় করে, দেশের জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
- জনসমাবেশ সম্মেলনে [২] [৩]
- এই মেয়ে, বাড়ি কোথায়? গোপালী? গোপালগঞ্জের নামই বদলিয়ে যাবে, বুঝছেন? বেয়াদব কোথাকার। দেশ কোথায়? গোপালী? গোপালগঞ্জের নামই বদলে যাবে। গোপালগঞ্জের নামই থাকবে না। যাঁরা এসব করছেন, আপনাদের ওপর আল্লাহর গজব পড়বে।’ , ‘আপনাদের অফিসার কোথায়? এতক্ষণ তো অনেক কথা বলেছেন....মুখটা বন্ধ কেন এখন? ... ৫৭ জন অফিসারকে হত্যা করল। সেদিন হাসিনা কোথায় ছিল? সেদিন হাসিনার এই ফোর্স কোথায় ছিল? কেন সে পাঠায়নি এই ফোর্সকে। কারণ সে নিজেই জড়িত ছিল এই হত্যাকাণ্ডে।’‘হাসিনার দালালি করে লাভ হবে না। বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে থাকুন। জনগণের সঙ্গে থাকেন। দেশের মানুষের সঙ্গে থাকেন। তবেই কাজে দেবে। দেশ বাঁচবে, মানুষ বাঁচবে। আজকে সবার দায়িত্ব হয়ে গেছে দেশ বাঁচানো। আর আপনারা এখন ঘরে ঘরে ঢুকে মানুষ হত্যা করছেন। মনে করেন এগুলোর হিসাব নাই? এই মা-বোনের কান্না ... বিডিআরের অফিসারদের ওয়াইফদের কান্না—এগুলো কি বৃথা যাবে? এগুলো কোনো দিন বৃথা যাবে না। লেন্দুপ দর্জির জীবনীটা পড়ে দেখেন। সেও কিন্তু ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে নাই। আজকে যাঁরা এই জুলুম নির্যাতন করছেন, তাঁদেরকে একদিন এদের মতো চোখের পানি ফেলতে ফেলতে চোখ অন্ধ হয়ে যাবে। ‘ধাক্কাধাক্কি বন্ধ করেন। ধাক্কাধাক্কি করবেন না। আমরা কেউ ধাক্কাধাক্কি করতে আসিনি। আমাদের গায়ের ওপর উঠে পড়বেন না। দূরে থাকেন। আপনাদের জায়গা যেখানে, সেখানে। আপনাদের তো রাস্তায় থাকার কথা, বাড়িতে এসে গেছেন কেন? আপনাদের মেয়েরা এ রকম ঝগড়া করে কেন? এই মেয়েরা চুপ করো। কয়দিনের চাকরি হয়েছে, এত কথা বলো? কিসের জন্য এত কথা বলো। চুপ থাক। বেয়াদব কোথাকার। আপনারা হলেন গণতন্ত্রের রক্ষক। আর যে পুলিশ বাহিনী রয়েছে, এরা গণতন্ত্র রক্ষায়ও নেই, দেশ রক্ষায়ও নেই। দেশরক্ষা, গণতন্ত্র রক্ষার সৈনিক আপনারা। আমরা আছি আপনাদের সাথে। থাকব ইনশাআল্লাহ। তাই সাংবাদিক ভাইদের, আইনজীবী ভাইদের ... জনগণ যারা রাজপথে নেমেছে, নানাভাবে লাঞ্ছিত হয়েছে, তাদের প্রতি আমি জানাই সহানুভূতি। আন্তরিক ধন্যবাদ। আমাদের কর্মসূচি কালকেও চলবে।’ জনগণকে গণমাধ্যমের মাধ্যমে বলতে চাই, ‘গণতন্ত্র আজকে ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন গণতন্ত্র এবং দেশ রক্ষার যে ডাক আমি দিয়েছি, সেই ডাকে যেন তাঁরা সাড়া দেন। জনগণ সাড়া দিয়েছে। আজকে সরকার ভীত হয়ে সমস্ত রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিয়েছে, যানবাহন বন্ধ করে দিয়েছে। যাতে জনগণ আসতে না পারে। কিন্তু এই কর্মসূচি চলবে। এই সরকার অবৈধ সরকার। এই সরকার অগণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারী সরকার। এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নাই। এই সরকারের যদি লজ্জা থাকে তাহলে অবিলম্বে বিদায় নেবে।’
- আল্লামা শাফী বারবার বলেছেন যে তিনি জামায়াতে ইসলামী করেন না। তারপরও আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা উনাকে জামায়াতে ইসলামী এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার দায়ে অভিযুক্ত করে চলেছে। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে, আওয়ামী লীগের সমস্যাটা আসলে রাজাকার বা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নয়, সমস্যাটা হচ্ছে ইসলাম' নিয়ে। তা না হলে শেখ হাসিনা কেন ইসলামের নবী মুহাম্মদ (স:) নিয়ে অশ্লীল গল্প লেখক রাজিব হায়দার ওরফে 'থাবা বাবাকে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ যোষণা করবেন? আর হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচীতে এত দল থাকতে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সেনাদের ক্যান্টিনে খাবারের ঠিকাদার শাহরিয়ার কবীর কেন হরতাল দিতে যাবে? এরা ভোটের রাজনীতির সময় মুখে ইসলামের কথা আর মাথায় হিজাব ও হাতে তববিহ নিয়ে ইসলাম হেফাজতের কথা বললেও বাস্তবে এরা ইসলামের শত্রু। এরা মোনাফেক। এদের বর্জন ও প্রতিরোধ করুন।
- ৪ এপ্রিল ২০১৩
- আমার এই স্বজনহীন জীবনে দেশবাসীই আমার স্বজন। আল্লাহ আমার একমাত্র ভরসা। আমি যেমন থাকি, যেখানেই থাকি, যতক্ষণ বেঁচে থাকব দেশবাসীকে ছেড়ে যাব না।
- সুবিচার নিয়ে সংশয় খালেদা জিয়ার | কালেরকণ্ঠ ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
- এদের পচতে আরো একটু সময় দিতে হবে। এজন্য আমাদের সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। এই আওয়ামী লীগ একদিন পঁচে গলে দুর্গন্ধ ছড়াবে। ... আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন এই সরকার জনবিক্ষোভে ‘করুণভাবে’ বিদায় নেবে। সবাই যখন এদের বিরুদ্ধে ঘর থেকে বেরিয়ে আসবে, তখন তারা জনগণের কাছে এসে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হবে।
- তিনি (শেখ মুজিব) বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হত না।
- ছাত্র, তরুণরা আমাদের ভবিষ্যৎ। তরুণরা যে স্বপ্ন নিয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছে সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে মেধা, যোগ্যতা জ্ঞানভিত্তিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ি তুলতে হবে। শোষণহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। সকল ধর্ম গোত্রের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শান্তি, প্রগতি আর সাম্যের ভিত্তিতে আধুনিক বাংলাদেশ নির্মাণে। আসুন আমরা তরুণদের হাত শক্তিশালী করি। ধ্বংস নয় প্রতিশোধ নয় , প্রতিহিংসা নয় ভালোবাসা শান্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলি।
- হাসপাতাল থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশে ভার্চুয়াল বক্তব্য দিলেন খালেদা জিয়া। ঢাকা টাইমস। ০৭ আগস্ট ২০২৪।
- তখন আমার নামে ছিল ৪টা মামলা। আর হাসিনার নামে ছিল ১৫টা মামলা। ক্ষমতায় আসার পর তাঁর ১৫টি মামলা হঠাৎ শেষ হয়ে গেল। কিন্তু আমার ৪টা বাড়তে বাড়তে এখন ৩৬টি। তাদের নেতা-কর্মীদের সাড়ে ৭ হাজার মামলা তুলে নিয়েছে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে।
- খালেদার সাজা হলে শক্ত আন্দোলন | প্রথম আলো ৩০ অক্টোবর ২০১৮।
- আন্দোলনের বাতাস শুরু হলে চুল তো থাকবেই না, অস্তিত্বেও টান পড়তে পারে। জনগণের আন্দোলনের বাতাসে চুল এলোমেলো হয়ে যাবে। দিশেহারা হয়ে যাবেন।
- সংবিধান থেকে একচুলও নড়বো না: শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ১৯ আগস্ট ২০১৩। প্রথম আলো।
- মুক্তিযুদ্ধকালে সত্যিকারে যারা সাধারণ মানুষকে অত্যাচার করেছিল বিএনপিও তাদের বিচার চায়। কিন্তু সেটি হতে হবে আন্তর্জাতিক মানসম্মত, স্বচ্ছ।
- একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে সবাইকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে এ কথা বলেন।
- বলা হয়, এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছে। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে, আসলে কত শহীদ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে, এটা নিয়েও বিতর্ক আছে।
- পদ্মাসেতু জোড়া তালি দিয়ে বানানো হচ্ছে, এ সেতুতে কেউ উঠবেন না।
- দেশে আজ সত্যিকারের সংসদ নেই। নেই বিরোধী দল। শাসকদের কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই। সশস্ত্র বাহিনীর সর্ম্পকে বৈরী প্রচারণা ও ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের বিরুদ্ধে দাড় করানো হয়েছে।[উৎস প্রয়োজন]
- আমি সগৌরবে দেশবাসীকে জানাতে চাই, আমি কোনও দুর্নীতি করিনি, সঠিক বিচার হলে আমি বেকসুর খালাস পাব।[উৎস প্রয়োজন]
- ওদের হাতে গোলামীর জিঞ্জির আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা।[উৎস প্রয়োজন]
সম্পর্কিত উক্তি
[সম্পাদনা]- সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং আগামীকাল তাঁর নামাজে জানাজার দিনে একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছি।
- মুহাম্মদ ইউনূস, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ [৭]
- আজ আমাদের পুরো জাতি গভীর শোক ও বেদনায় নিস্তব্ধ। দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির শীর্ষ নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর আমাদের মাঝে নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। তাঁর মৃত্যুতে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে। এই গভীর শোকের মুহূর্তে তিনি খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অগণিত কর্মী-সমর্থকের প্রতি সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানান। তিনি বলেন ‘মহান আল্লাহর কাছে আমার প্রার্থনা—তিনি যেন আমাদের সবাইকে এই গভীর শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি দান করেন। খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক পরম মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর অসামান্য ভূমিকা ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব বারবার জাতিকে গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছে এবং মুক্তির প্রেরণা জুগিয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর সমুজ্জ্বল অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রাখতে তাঁর অবিচল ভূমিকা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এমন একজন মহান, দূরদর্শী ও নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। এই শোকাবহ মুহূর্তে আপনাদের প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বান—আসুন আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে মহান আল্লাহর দরবারে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। একই সঙ্গে জাতির এই কঠিন সময়ে আমরা যেন ঐক্যবদ্ধ থাকি। শোকের এই সময়ে কেউ যেন অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার অপচেষ্টা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে আমি সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। এই সময়ে আমাদের সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা অত্যন্ত জরুরি। আমি জানি, আপনারা সবাই এই সময়ে অনেক আবেগাপ্লুত। আমি আশা করছি, শোকের এই সময়ে আপনারা ধৈর্যের পরিচয় দেবেন এবং তাঁর জানাজাসহ সব আনুষ্ঠানিকতা পালনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করবেন। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে ধৈর্য, শক্তি ও ঐক্যবদ্ধ থাকার ক্ষমতা দিন।
- মুহাম্মদ ইউনূস, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ [৮]
- সে (জিয়াউর রহমান) কী করেছে, আমি বলি। কর্নেল আসলাম বেগ, সে তখন ঢাকায় কর্মরত ছিল, পরবর্তীতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হয়েছিল, সেই কর্নেল বেগ জিয়াকে একটা চিঠি দেয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন, ’৭১ সালে। সেই চিঠিতে সে লিখেছিল, আপনি খুব ভালো কাজ করছেন। আমরা আপনার কাজে সন্তুষ্ট। আপনার স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে কোনো চিন্তা করবেন না। আপনাকে ভবিষ্যতে আরও কাজ দেয়া হবে।
- শেখ হাসিনা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ সংসদ অধিবেশনে [৯]
- সূত্র: দৈনিক বাংলা, তারিখ: ২রা জানুয়ারি, ১৯৭২, শিরোনাম: মেজর জিয়ার পরিবারের উপর পাক বাহিনীর নির্যাতনের বিবরণ, মেজর জিয়া যখন দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন হানাদার খান সেনারা তখন তাঁর পরিবার পরিজনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মনজুর আহমদ প্রদত্ত। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের বীর নায়ক মেজর (বর্তমানে কর্নেল) জিয়া যখন হানাদার পাক-বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে তাদেরকে নাজেহাল করে তুলছিলেন, তখন তাঁর প্রতি আক্রোশ মেটাবার ঘৃণ্য পন্থা হিসেবে খান সেনারা নৃশংসভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তাঁর আত্মীয়স্বজন পরিবার-পরিজনদের ওপর। তাদের এই প্রতিহিংসার লালসা থেকে রেহাই পান নি কর্নেল জিয়ার ভায়রা শিল্পোন্নয়ন সংস্থার সিনিয়র কো-অর্ডিনেশন অফিসার জনাব মোজাম্মেল হক। চট্টগ্রাম শহর শত্রু কবলিত হবার পর বেগম খালেদা জিয়া যখন বোরখার আবরণে আত্মগোপন করে চট্টগ্রাম থেকে স্টিমারে পালিয়ে নারায়ণগঞ্জে এসে পৌঁছেন, তখন জনাব মোজাম্মেল হকই তাঁকে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। সেদিন ছিল ১৬ই মে। ঢাকা শহরে কারফিউ। নারায়ণগঞ্জেও সন্ধ্যা থেকে কারফিউ জারি করা হয়েছিল। এরই মধ্যে তিনি তাঁর গাড়িতে রেডক্রস ছাপ এঁকে ছুটে গিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ টার্মিনালে। বেগম জিয়াকে নিয়ে আসার দিন দশেক পর ২৬শে মে শিল্পোন্নয়ন সংস্থায় হক নাম সংবলিত যত অফিসার আছেন সবাইকে ডেকে পাক সেনারা কর্নেল জিয়ার সঙ্গে কারোর কোনো আত্মীয়তা আছে কিনা জানতে চায়। জনাব মোজাম্মেল হক বুঝতে পারলেন বিপদ ঘনিয়ে আসছে। তিনি সেখানে কর্নেল জিয়ার সাথে তাঁর আত্মীয়তার কথা গোপন করে অসুস্থতার অজুহাতে বাসায় ফিরে আসেন এবং অবিলম্বে বেগম জিয়াকে তাঁর বাসা থেকে সরাবার ব্যবস্থা করতে থাকেন। কিন্তু উপযুক্ত কোনো স্থান না পেয়ে শেষপর্যন্ত ২৮শে মে তিনি তাঁকে ধানমণ্ডিতে তাঁর এক মামার বাসায় কয়েক দিনের জন্য রেখে আসেন এবং সেখান থেকে ৩রা জুন তাঁকে আবার জিওলজিক্যাল সার্ভের এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর জনাব মুজিবুর রহমানের বাসা এবং এরও কদিন পরে জিওলজিক্যাল সার্ভের ডেপুটি ডিরেক্টর জনাব এস কে আব্দুল্লাহর বাসায় স্থানান্তরিত করা হয়। এরই মধ্যে ১৩ই জুন তারিখে পাক বাহিনীর লোকেরা এসে হানা দেয় জনাব মোজাম্মেল হকের বাড়িতে। জনৈক কর্নেল খান এই হানাদার দলের নেতৃত্ব করছিল। কর্নেল খান বেগম জিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং জানায় যে, এই বাড়িতে তারা বেগম জিয়াকে দেখেছে। জনাব হকের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর না পেয়ে তাঁর দশ বছরের ছেলে ডনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ডন কর্নেল খানকে পরিষ্কারভাবে জানায় যে, গত তিন বছরে সে তার খালাকে দেখে নি। সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হলে খান সেনারা তাঁর বাড়ি তল্লাশী করে। কিন্তু বেগম জিয়াকে সেখানে না পেয়ে হতোদ্যম হয়ে ফিরে যায়। যাবার আগে জানিয়ে যায়, সত্যি কথা না বললে আপনাকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপরই জনাব হক বুঝতে পারেন সর্বক্ষণ তাঁকে অনুসরণ করা হচ্ছে। যেখানেই যান সেখানেই তাঁর পেছনে লেগে থাকে ফেউ। এই অবস্থায় তিনি মায়ের অসুখের নাম করে ছুটি নেন অফিস থেকে এবং সপরিবারে ঢাকা ছেড়ে যাবার ব্যবস্থা করতে থাকেন। ব্যবস্থা অনুযায়ী ১লা জুলাই গাড়ি গ্যারেজে রেখে পেছন দরজা দিয়ে বেরিয়ে তাঁরা দুটি অটোরিকশায় গিয়ে ওঠেন। উদ্দেশ্য ছিল ধানমণ্ডিতে বেগম জিয়ার মামার বাসায় গিয়ে আপাতত ওঠা। কিন্তু সায়েন্স ল্যাবরেটরি পর্যন্ত আসতেই একটি অটোরিকশা তাঁদের বিকল হয়ে যায়। এই অবস্থায় তাঁরা কাছেই গ্রীনরোডে এক বন্ধুর বাসায় গিয়ে ওঠেন। কিন্তু এখানে তাঁদের জন্যে অপেক্ষা করছিল এক বিরাট বিস্ময়। জনাব হক এখানে গিয়ে উঠতেই তাঁর এই বিশিষ্ট বন্ধুর স্ত্রী তাঁকে জানান যে, কর্নেল জিয়ার লেখা চিঠি তাঁদের হাতে এসেছে। চিঠিটা জনাব হককেই লেখা এবং এটি তাঁর কাছে পাঠাবার জন্যে কয়েকদিন ধরেই তাঁকে খোঁজ করা হচ্ছে। তাঁর কাছে লেখা কর্নেল জিয়ার চিঠি এ বাড়িতে কেমন করে এলো তা বুঝতে না পেরে তিনি যারপরনাই বিস্মিত হন এবং চিঠিটা দেখতে চান। তাঁর বন্ধুর ছেলে চিঠিটা বের করে দেখায়। এটি সত্যই কর্নেল জিয়ার লেখা কিনা বেগম জিয়াকে দিয়ে তা পরীক্ষা করিয়ে নেবার জন্যে তিনি তাঁর বন্ধুর ছেলের হাতে দিয়েই এটি জিওলজিক্যাল সার্ভের জনাব মুজিবর রহমানের কাছে পাঠান। এদিকে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় জনাব হক তাঁর এই বন্ধুর বাসায় রাতের মতো আশ্রয় চান। তাঁদেরকে আরো নিরাপদ স্থানে রাখার আশ্বাস দিয়ে রাতে তাঁদেরকে পাঠানো হয় সূত্রাপুরের একটি ছোট্ট বাড়িতে। তাঁর বন্ধুর ছেলেই তাঁদেরকে গাড়িতে করে এই বাড়িতে নিয়ে আসে। এখানে ছোট্ট একটি ঘরে তাঁরা আশ্রয় করে নেন। কিন্তু পরদিনই তাঁরা দেখতে পেলেন পাক-বাহিনীর লোকেরা বাড়িটি ঘিরে ফেলেছে। জনাদশেক সশস্ত্র জওয়ান বাড়িটার সামনে দাঁড়িয়ে। এই দলের প্রধান ছিল ক্যাপ্টেন সাজ্জাদ আর ক্যাপ্টেন আরিফ। তারা ভেতরে ঢুকে কর্নেল জিয়া ও বেগম জিয়া সম্পর্কে তাঁদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জনাব হক ও তাঁর স্ত্রী জিয়ার সাথে তাদের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে যান। কিন্তু ক্যাপ্টেন সাজ্জাদ জনাব ও বেগম হকের সাথে তোলা বেগম জিয়ার একটি গ্রুপ ছবি বের করে দেখালে তাঁরা জিয়ার সাথে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। তবে তাঁরা জানান কর্নেল ও বেগম জিয়া কোথায় আছেন তা তাঁরা জানেন না। এই পর্যায়ে বিকেল পাঁচটার দিকে জনাব হক ও তাঁর স্ত্রীকে সামরিক বাহিনীর একটি গাড়িতে তুলে মালিবাগের মোড়ে আনা হয় এবং এখানে মৌচাক মার্কেটের সামনে তাঁদেরকে সন্ধ্যে পর্যন্ত গাড়িতে বসিয়ে রাখা হয়। এখানেই তাঁদেরকে জানান হয় যে বেগম জিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপর তাদেরকে দ্বিতীয় রাজধানী এলাকা ঘুরিয়ে আবার সূত্রাপুরের বাসায় এনে ছেড়ে দেয়া হয়। এখান থেকে রাতে তাঁরা গ্রীনরোডে জনাব হকের বন্ধুর বাসায় আসেন এবং সেখান থেকে ফিরে আসেন খিলগাঁয়ে তার নিজের বাসায়। উল্লেখযোগ্য যে এই দিনই জনাব এস কে আব্দুল্লাহর সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে বেগম জিয়া ও জনাব আব্দুল্লাহকে এবং একই সাথে জনাব মুজিবর রহমানকেও পাক-বাহিনী গ্রেফতার করে। এবং ৫ই জুলাই তারিখে জনাব মোজাম্মেল হক অফিসে কাজে যোগ দিলে সেই অফিস থেকেই ক্যাপ্টেন সাজ্জাদ তাঁকে গ্রেফতার করে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যায়। ক্যান্টনমেন্টে তাঁকে এফ আই ইউ (ফিল্ড ইনভেস্টিগেশন ইউনিট) অফিসে রাত দশটা পর্যন্ত বসিয়ে রাখা হয় এবং দশটায় তাঁকে স্কুল রোডের সেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেলে প্রবেশের আগে তাঁর ঘড়ি, আংটি খুলে নেয়া হয় এবং মানিব্যাগটিও নিয়ে নেয়া হয়। সারাদিন অভুক্ত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কিছুই খেতে দেয়া হয় নি। পরদিন সকালে তাঁকে এক কাপ মাত্র ঠাণ্ডা চা খাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ক্যাপ্টেন সাজ্জাদের অফিসে। সাজ্জাদ তাঁর কাছে তাঁর পরিকল্পনার কথা জানতে চায়। তিনি তাঁর কোনো পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেন। ক্যাপ্টেন সাজ্জাদ এতে তাঁকে মিথ্যাবাদী বলে অভিহিত করে এবং শাস্তি হিসেবে তাঁকে বৈদ্যুতিক শক দেবার হুমকি দেখায়। কিন্তু এরপরও কোনো কথা আদায় করতে না পেরে ক্যাপ্টেন সাজ্জাদ তাঁকে হাজার ওয়াটের উজ্জ্বল আলোর নিচে শুইয়ে রাখার হুকুম দেয়। হুকুম মতো রাতে তাঁকে তাঁর সেলে চিৎ করে শুইয়ে মাত্র হাত দেড়েক ওপরে ঝুলিয়ে দেয় পাঁচশ পাওয়ারের দুটি অত্যুজ্জ্বল বাল্ব। প্রায় চারঘণ্টা অসহ্য যন্ত্রণা তাঁকে ভোগ করতে হয়। পরদিন আবার তাঁকে ক্যাপ্টেন সাজ্জাদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সাজ্জাদ আবার তাঁর পরিকল্পনার কথা জানতে চায়। জানতে চায় শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে তাঁর কী কী কথা হয়েছে, তিনি ভারতে চলে যাবার পরিকল্পনা করেছিলেন কিনা। জনাব হক এসব কিছুই অস্বীকার করলে ক্যাপ্টেন সাজ্জাদ তাঁর ঘাড়ে প্রচণ্ড আঘাত হানে। এরপর তাঁর সেলে চব্বিশ ঘণ্টা হাজার ওয়াটের বাতি জ্বালিয়ে রাখার হুকুম দেয়। বেলা একটায় তাঁকে সেলে এনেই বাতি জ্বালিয়ে দেয়া হয়। ঘণ্টা কয়েক পরেই তিনি অসহ্য যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকেন। চিৎকার করে তিনি একটি কথাই বলতে থাকেন- আমাকে একবারেই মেরে ফেল। এভাবে তিলে তিলে মেরো না। তিনি যখন অসহ্য যন্ত্রণায় চিৎকার করছিলেন, তখন তাঁর দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল একজন পাঠান হাবিলদার। তাঁর এই করুণ আর্তি বোধ হয় হাবিলদারটি সইতে পারে নি। তারও হৃদয় বোধহয় বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছিল মানুষের ওপর মানুষের এই নিষ্ঠুর জুলুম দেখে। আর ভাই বোধহয় সে সেন্ট্রিকে ডেকে হুকুম দিয়েছিল বাতি নিভিয়ে দিতে। বলেছিল, কোনো জীপ আসায় শব্দ পেলেই যেন বাতি জ্বালিয়ে দেয়, আবার জীপটি চলে যাবার সাথে সাথেই যেন বাতি নিভিয়ে দেয়া হয়। এরপর ক্যাপ্টেন সাজ্জাদ তাঁকে আরো কয়েকদিন জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং নতুন ধরনের নির্যাতন চালায়। তাঁর কাছ থেকে সারাদিন ধরে একটির পর একটি বিবৃতি লিখিয়ে নেয়া হয় এবং তাঁর সামনেই সেগুলি ছিঁড়ে ফেলে আবার তাঁকে সেগুলি লিখতে বলা হয়। এবং যথারীতি আবার তা ছিঁড়ে ফেলে আবার সেই একই বিবৃতি তাঁকে লিখতে বলা হয়। এবং আবার তা ছিড়ে ফেলা হয়। এই অবস্থায় ক্লান্তি ও অবসন্নতায় তিনি লেখার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন। এদিকে হাজার ওয়াটের উজ্জ্বল আলোর নিচে থাকার ফলে তিনি দৃষ্টিশক্তিও প্রায় হারিয়ে ফেলেন। দিন ও রাতের মধ্যে কোনো পার্থক্যই বুঝতে পারতেন না। ২৬শে জুলাই বিকেলে তাঁকে ইন্টার স্টেটসঞ্জিনীং কমিটির (আই এস এস সি) ছাউনিতে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে একটি ছোট্ট কামরায় তাঁরা মোট ১১০জন আটক ছিলেন। বিকেল পাঁচটার দিকে তাঁকে বের করে রান্নাঘরের বড় বড় পানির ড্রাম ভরার কাজ দেয়া হয়। এই কাজে আরো একজনকে তাঁর সাথে লাগানো হয়। তিনি হচ্ছেন, জিওলজিক্যাল সার্ভের জনাব এস কে আব্দুল্লাহ্। তাঁরা দুজনে প্রায় পোয়া মাইল দূরের ট্যাপ থেকে বড় বড় বালতিতে করে পানি টেনে তিনটি বড় ড্রাম ভরে দেন। রাতে লাইন করে দাঁড় করিয়ে তাঁদেরকে একজন একজন করে খাবার দেয়া হয়। এতদিন পরে এই প্রথম তিনি খেতে পান গরম ভাত ও গরম ডাল। পরদিন সকালে তাঁর এবং আরো অনেকের মাথার চুল সম্পূর্ণ কামিয়ে দেয়া হয়। এখানে বিভিন্ন কামরায় তাঁকে কয়েকদিন আটকে রাখার পর ৬ই আগস্ট নিয়ে যাওয়া হয় ফিল্ড ইনভেস্টিগেশন সেন্টারে (এফ আই সি)। মেজর ফারুকী ছিল এই কেন্দ্রের প্রধান এবং এখানে সকলের ওপর নির্যাতন করার দায়িত্বে নিযুক্ত ছিল সুবেদার মেজর নিয়াজী। ফারুকী এখানে তাঁকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তাকে বিবৃতি দিতে বলে। কিন্তু বিবৃতি লেখানোর নাম করে সেই পুরনো নির্যাতন আবার শুরু হয়। একটানা তিনদিন ধরে তিনি একই বিবৃতি একের পর এক লিখে গেছেন এবং তাঁর সামনে তা ছিঁড়ে ফেলে আবার এই একই বিবৃতি তাঁকে লিখতে বলা হয়েছে। ৯ই আগস্ট তাঁকে দ্বিতীয় রাজধানীতে স্থানান্তরিত করা হয় এবং এখানে বিভিন্ন কক্ষে তাঁকে প্রায় দেড়মাস আটক রাখার পর ২১শে সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ৩০শে অক্টোবর তিনি মুক্তি পান। ইতিমধ্যে রাজাকাররা তিনদফা তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়ে সর্বস্ব লুটপাট করে নিয়ে যায়। সর্বশেষ গত ১৩ই ডিসেম্বর তারা তাঁর গাড়িটিও নিয়ে যায়। "সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র: ৮ম খণ্ড (পৃষ্ঠা: ৪৭৬) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, তথ্য মন্ত্রণালয়
- হুমায়ুন আহমেদ, জোছনা ও জননীর গল্প, ২০০৬, পৃ: ৪০৯-৪১৪
- প্রিয় জেনারেল জামশেদ, আমার স্ত্রী খালেদা আপনার হেফাজতে আছেন। যদি আপনি তার সাথে সম্মান ও শ্রদ্ধার সহিত আচরণ না করেন, তাহলে কোন একদিন আমি আপনাকে খুন করব। মেজর জিয়া
- হুমায়ুন আহমেদ, জোছনা ও জননীর গল্প, ২০০৬, পৃ: ৪০৭-৪০৮
- খালেদা জিয়া যখন বারবার পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত সেনানিবাস ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানান, তখন জেনারেল জিয়া আমাকে বলেছিলেন যে যুদ্ধের পর তিনি তাকে তালাক দেবেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর হস্তক্ষেপে তা হয়নি।
- আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী, ১৬ মে ২০১৭, লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের তৎকালীন প্রেস সচিব নাদিম কাদিরের "মুক্তিযুদ্ধ: অজানা অধ্যায়" উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখাকালে [১০]
- এদেশে লক্ষ কোটি টাকা লোপাট আর পাচার হয়। বহু চোর থাকে মহাদাপটে। জিয়ার নামে ট্রাষ্টে দুকোটি টাকা বেড়ে চার-পাচ কোটি টাকা হয়েছে। তবু খালেদা জিয়া শাস্তি পেয়েছেন। সেটিও মূলত তার কর্মর্তাদের গাফলতি আর ভুলের কারণে।
এক টাকাও আত্নসাৎ করেননি খালেদা জিয়া। তবু তার নামে অপপ্রচার হয় এতিমের টাকা মেরে দেয়ার। কিন্তু কোন অপপ্রচার মুছতে পারবে না তার অতুলনীয় জনপ্রিয়তা, মুছে দিতে পারবে না তার আত্নত্যাগ।- আসিফ নজরুলের ফেসবুক পোস্ট। নয়া দিগন্ত। ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০।
- তার লিভার নাকি পচে শেষ। কী খেলে তাড়াতাড়ি লিভার পচে সেটাতো সবাই জানে।
- শেখ হাসিনা, ৩০ আগস্ট ২০২২ [১১]
- চঞ্চল চৌধুরীর অভিনয় প্রতিভা নিয়ে আমার কোন সে নেই, তিনি ও তার মত শিল্পীরা সবসময় বলেন, আমরা রাজনীতি বুঝি না; কিন্তু তার মত শিল্পীরা এ্যাপোলিটিকাল ব্যানারে এসে ফ্যাসিস্ট শক্তিকে দিনের পর দিন পলিটিকালি ডিফেন্ড ও সাপোর্ট করে গিয়েছেন, খালেদা জিয়ার বালুর ট্রাকের সামনে তিনি দ্রোহের মিছিল করেন, কিন্তু হাসিনার তিন তিনটা বিরোধী দল ছাড়া প্রহসনের নির্বাচন তিনি চোখে দেখতে পান না।
- ওসমান হাদি, ১১ অক্টোবর ২০২৫
- ওসমান হাদি কে এজেন্সি হত্যা করাইছে দুটি কারণে, ১. তারেক রহমান (TR 10) % সাহেবের আসার জন্য। ভারতের সামনে তারেক ভিন্ন কোন অপশন ই নেই। ২. #বিএনপি গুম খুনে জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের বিচার না করার ঘোষণা দিয়েছে। এজেন্সি ক্রিমিনাল সেনা অফিসারদের বাচানোর জন্যই একজন দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী কে ক্ষমতায় আনতে চায়। উল্লেখ্য বিএনপি মেগা প্রজেক্ট না করার ঘোষণা দিয়েছে শুধু তিস্তা প্রকল্প না করার জন্য। উল্লেখ্য হাদীর উপর গুলির দিনই তারেকের আসার ঘোষণা হয়। যাতে সে দেশে আসার আগেই প্রধানমন্ত্রীর মত নিরাপত্তা পায়। এছাড়া খালেদা জিয়া অনেক আগেই মারা যায় বর্তমানে হিমাগারে আছে। অন্যথায় কেন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কোন ছবি/ ভিডিও আসেনা।
- বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ফেসবুক পোস্ট, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ [১২]
- ৯৬তে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে চুপচাপ কাটিয়ে দেন ফালু। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় বিএনপির রাজনীতি থেকে আবারও নিজেকে গুটিয়ে নেন তিনি। ২০০১ সালে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতাসীন হলে ফালু বেগম জিয়ার কাছাকাছি থাকতে ব্যর্থ হন। ক্ষমতাসীন হওয়ার পরপরই বিএনপির নেতৃত্ব তারেক রহমানের হাতে। তখন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ফালুর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি ভালভাবে নেননি পুত্র তারেক রহমান। তারেক রহমানের হাতে ক্ষমতা যাওয়া পর ক্ষমতার শীর্ষস্থান থেকে ছিটকে পড়েন ফালু। একপর্যায়ে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ফালুর ঢোকাও বন্ধ হয়ে যায়। ২০০১ সরকারের শেষের দিকে বি. চৌধুরী-মেজর (অব) মান্নানের নেতৃত্বে বিএনপিতে ভাঙ্গন ধরে। এর আগে বিএনপির মনোনীতি রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরীকে মগবাজারের রেললাইন ধরে দৌড়ানি দেয় বিএনপি। বি. চৌধুরীর রেললাইন ধরে দৌড়ানোর দৃশ্য সামনে আসার নেপথ্যের কারিগর ছিলেন তারেক রহমান। বি. চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপিতে ভাঙ্গন দেখা দেয়। শূন্য হয় ঢাকা-১০ আসন। অনেক প্রভাবশালী প্রার্থীকে টপকিয়ে তখন বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মনোনয়ন বাগিয়ে নেন ফালু। ভোটারবিহীন তুমুল বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ফালু সাংসদ নির্বাচিত হন। সরকার পতনের পরে ওয়ান ইলেভেন এলে ফালু তখন আটক হন। ওয়ান ইলেভেন সরকারের কাছে ফালু তার সহায় সম্পত্তির বিবরণ দিলে চমকে যান দেশবাসী। তখনই প্রকাশ পায়, শাজাহানপুরের ফালু ছিলেন সামান্য একজন গোরখোদকের সন্তান। কিন্তু বেগম জিয়ার দু’দফা সরকারের সময়ে ফালু হাজার কোটি টাকার সহায় সম্পত্তির মালিক বনে গিয়ে সবাইকে চমকে দেন।
- শংকর কুমার দে, জনকণ্ঠ, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫ [১৩]
- সময়টা তখন ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডনে গেছেন। খুব কষ্ট করে নয়, অনায়াসেই খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করলেন পাকিস্তানি সিনেমার পরিচালক বিলোয়াল হোসাইন। বেগম খালেদা জিয়া এবং মোসাদ্দেক আলী ফালুকে নিয়ে একটা রোমান্টিক সিনেমা বানানোর প্রস্তাব নিয়ে সেদিন বিলোয়াল দেখা করেছিলেন। পকিস্তানি একটি চলচিত্র সংস্থার পক্ষ থেকে সিনেমাটির চিত্রনাট্য লেখার কাজ শেষ করেই খালেদা জিয়ার সামনে উপস্থাপন করেছিলেন পরিচালক। কিন্তু প্রায় ৬ বছর হয়ে গেছে। এখনো আলোর মুখ দেখেনি, খালেদা জিয়া এবং মোসাদ্দেক হোসেন ফালুকে নিয়ে রোমান্টিক সিনেমা। কারণ হিসাবে খালেদা জিয়ার কারবরণ এবং অসুস্থতা থাকলেও মূল যে জায়গাটিতে আটকে গেছে, সেটি হলো অর্থলগ্নিকারী সেই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটির পিছিয়ে যাওয়া। লন্ডনে খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করার পর আশাবাদী হয়ে পরিচালক বিলোয়াল বলেছিলেন, আমরা রোমান্টিক ছবির কাহিনীর জন্য কত জায়গায় ঘোরাঘুরি করি, রাধা-কৃষ্ণ, শিরি-ফরহাদ, চন্ডিদাস-রজকিনি, দেবদাস-পার্বতী। অথচ চোখের সামনেই কত চমৎকার একটা উজ্জ্বল প্রেমকাহিনী। এটা কারো চোখে পড়লোনা, বড়ই আফসোস! খালি কি প্রেম কাহিনী? এ কাহিনী আরব্য উপন্যাসের রয়্যাল প্রেম কাহিনীগুলোকেও হার মানায়। রাজনীতি ও ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও, প্রায় ছেলের বয়সী খুবই সাধারন ঘরের ছেলের সাথে প্রেম, এ কাহিনী বাঘা বাঘা চলচ্চিত্রকারদের কলম দিয়েও বের হবে না। আমি গ্যরান্টি দিয়া বলতে পারি, খালেদা-ফালুর এই প্রেম কাহিনী হাজার বছর ধরে অমর হয়ে বেঁচে থাকবে। আর তাই আমিই প্রথম এই অমর কাহিনী নিয়ে সিনেমা বানানোয় হাত দিয়েছি। তিনি তখন আরো বলেন, আমরা এখন ছবির চিত্রনাট্য অনুযায়ী বিভিন্ন লোকেশন ঘুরে ঘুরে দেখছি এবং যায়গা সিলেক্ট করার চেষ্টা করছি। আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে এই রোমান্টিক সিনেমাটিকে ঘিরে, যেন এমনভাবে বানাতে পারি যে যুগযুগ ধরে এই প্রেম কাহিনী অমর হয়ে থাকে। ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে কাকে দেখা যাবে এমন প্রশ্নের জবাবে বিলোয়াল হোসাইন তখন বলেছিলেন, এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খালেদা জিয়া এমন একটি চরিত্র যে চাইলেই এই চরিত্রে যে কাউকে দেয়া যায় না। আর ফালুর চরিত্রের জন্য প্রাথমিকভাবে দুইজনকে সিলেক্ট করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় চরিত্র ফাইনাল হলেই তাদের কাস্ট করা হবে। সিনেমাটির বিষয়ে খালেদার সঙ্গে কোন যোগাযোগ করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি তখন গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, "খালেদা জিয়ার সঙ্গে এই বিষয়ে অনেক আগেই যোগাযোগ করা হয়েছিল। উনি সিনেমাটির বিষয়ে বেশ আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। সেই জন্যই উনি আমাকে লন্ডনের হোটেলে উনার সঙ্গে দেখা করতে বলেন।” দেখা কি হয়েছে জানতে চাওয়া হলে বিলোয়াল হোসাইন বলেন, হ্যাঁ দেখা হয়েছে। ম্যাডামকে ছবির চিত্রনাট্য পড়ে শুনানোর পর তিনি তা পছন্দ করেছেন। শুধু তাইনা, উনি আমাদের সিনেমার স্বার্থে ফালু সাহেবের সঙ্গে উনার রিয়েল লাইফের কিছু রোম্যান্টিক ঘটনাও শেয়ার করেন। তবে তিনি ফালু সাহেবের চরিত্রে কাকে ফাইনাল করা হচ্ছে সেই বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। এখনো ফাইনাল করা হয়নি শুনে খালেদা জিয়া বলেন, ফাইনাল করার আগে অবশ্যই যেন তাকে জানানো হয়। তিনি নিজেই দেখে ফাইনাল করতে চান ফালুর ক্যারেক্টারটি। আর সিনেমায় খালেদা জিয়া ব্যাবহার না করে খালেদা মোসাদ্দেক নামটি ব্যাবহারের কথা বলেন। আমি সেই অনুযায়ী খালেদা জিয়ার চরিত্রের নাম বদলিয়ে খালেদা মোসাদ্দেক রেখেছি। ছবিটি কবে নাগাদ মুক্তি পাবে জানতে চাওয়া হলে পরিচালক বিলোয়াল হোসাইন বলেছিলেন, যতদ্রুত সম্ভব সিনেমার কাজ শুরু করতে চাচ্ছি। আশা করছি, ম্যাডামের নেক্সট জন্মদিনের দিনই ম্যাডামকে তার প্রেম কাহিনী উপহার দিতে পারব। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে, প্রস্তাব দেয়ার পর ৫ টি ভুয়া জন্মদিন চলে গেলেও খালেদা-ফালুর রোমান্টিক সিনেমার কাজ শুরুই হয়নি।
- দৈনিক ভোরের পাতা, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ [১৪]
- ‘খালেদা জিয়ার মা লক্ষ্মী রানী মারমা দার্জিলিংয়ের চা-বাগানের মালিক উইলসনের চাকরানি ছিলেন। চা বাগানের মালিকের ছিল মদ ও নারীর প্রতি আসক্তি। লক্ষ্মী রানী গর্ভবতী হলে উইলসনের দারোয়ান মুরালী মোহন মারমার সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হয়। উইলসনের তত্ত্বাবধানে ১৯৪৫ সালের ১৩ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্ম হয়। খালেদা জিয়া ইহুদি ঔরসজাত। তাঁর গয়ের রং ও খাদ্যাভ্যাস তার প্রকৃত ইহুদি পিতার সঙ্গে মিল আছে। ১৯৬০ সালে জিয়াউর রহমান ফুর্তি করতে এসে ফেঁসে গিয়ে খালেদা জিয়াকে বিয়ে করেন। ১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তানের সেনা কর্মকর্তা জানজুয়ার সঙ্গে পরকীয়ায় মত্ত ছিলেন। লোকে বলে জানজুয়ার অবিকল চেহারা পেয়েছে কোকো।’
- অপু উকিল, সিদ্দিক সালিকের ‘ইন্দো-পাকিস্তান ওয়ার অব ১৯৬৫, ২০ জানুয়ারি ২০১৩, বাংলাদেশ সংসদ অধিবেশন [১৫][১৬]
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় খালেদা জিয়া সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।
উইকিমিডিয়া কমন্সে খালেদা জিয়া সংক্রান্ত মিডিয়া রয়েছে।