তোফায়েল আহমেদ
অবয়ব
তোফায়েল আহমেদ (২২ অক্টোবর ১৯৪৩ — ১ জুন ২০২৬) ছিলেন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা। ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ জুন তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তিনি নয় দফা জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পদের একজন সদস্য এবং তিনি ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
উক্তি
[সম্পাদনা]- আমার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল যে আমার কিছু থাকবে না। আমি কোনো সম্পদ রাখব না। একটি ঘটনা বলি, যা আমাকে অনেকটা অনুপ্রাণিত করেছে এমন সিদ্ধান্ত নিতে। মহাবীর আলেকজান্ডার একদিন তার পাশে থাকা গুরুত্বপূর্ণদের ডেকে তিনটি নির্দেশ দিলেন। এক. আমি মারা গেলে আমার কফিন বহন করবেন চার জন ডাক্তার, যারা আমার চিকিৎসা করেছেন। দুই. আমি যত কিছু অর্জন করেছি, সোনাদানা-সম্পদ যা আছে তা বিলিয়ে দেবে। যেখান দিয়ে লাশ যাবে, সেখানে তা বিলিয়ে দেবে। তিন. কবরে নামানোর সময় হাত দুটি কফিনের দুই পাশে ঝুলতে থাকবে। জিজ্ঞাসা করবে এর কারণ কী? কারণ হলো- ডাক্তাররা মানুষকে চিকিৎসা করে সুস্থ করতে পারেন, কিন্তু বাঁচিয়ে রাখতে পারেন না। আর যা অর্জন করেছি, তার কোনো মূল্য নেই। আমি খালি হাতে যাচ্ছি। শূন্য হাতে ফিরে যাচ্ছি। আমি কিছুই নিয়ে যাচ্ছি না। এই যে কিছুই নিয়ে যাচ্ছেন না, আমিও তো শূন্য হাতে যাব।
- সম্পদ দান করে দেওয়ার ব্যাপারে ডেইলি স্টার ২৬ জুন ২০২১
- ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু জাতির পিতা (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) ধীরে ধীরে কীভাবে কারাগারে অন্ধকার কক্ষে থেকে সংগ্রাম করে আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছে, সেই দৃশ্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে এই ছবির মাধ্যমে। অপরদিকে ১৫ আগস্ট যখন দেখাল, তখন আমার হৃদয় কেঁপে উঠেছে। বির সব কলাকুশলী অনেক ভালো অভিনয় করেছেন। আমি খুবই মুগ্ধ হয়েছি। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর চরিত্র আরেফিন শুভ অনেক ভালোভাবেই ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে।’ এ জন্য তাকেসহ সবাইকে ধন্যাবাদ জানান। যারা বঙ্গবন্ধুকে জানতে চান, বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস জানতে চান, এই চলচ্চিত্রটি তাঁদের অনেক কিছু শিখাতে পারবে। প্রতিদিনের সংবাদ
- আওয়ামী লীগ মানেই উন্নয়ন। আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবারই দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে। তাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী ৭ জানুয়ারি নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে।
তোফায়েল আহমেদ সম্পর্কে উক্তি
[সম্পাদনা]- ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠিত হলে বাকশালের যুব সংগঠন ‘জাতীয় যুবলীগ’–এর সাধারণ সম্পাদক হন তিনি।[...] ১৯৭৮ সালে কুষ্টিয়া কারাগারে অন্তরিণ থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন তোফায়েল। যদিও পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু (মুজিব)-কে হত্যার পর ‘নিষ্ক্রিয়তা’র জন্য তোফায়েল আহমেদ পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার সমালোচনার মুখে পড়েন।
- শেষ সময়ে দলে অবহেলিত ছিলেন তিনি, প্রথম আলো
- বীর মহাবীর জীবনে অনেকে একবার হন। কিন্তু তোফায়েল আহমেদ ’৬৯-এর যেমনি মহানায়ক, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধেও তেমনি মহানায়ক। মানুষের অনেক ব্যর্থতা থাকে, ভুল থাকে, ভ্রান্তি থাকে। তারপরও আমি মনে করি, তোফায়েল আহমেদ সমস্ত ভুলভ্রান্তির ঊর্ধ্বে সফল রাজনীতিবিদ।
- আবদুল কাদের সিদ্দিকী, কালের কণ্ঠে উদ্ধৃত।
- ইতিহাসের পাতায় দাগ কাটা এক জঘন্য অপরাধের সাক্ষী ১৯৬৯ সালের ১৫ আগস্ট।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার পৈশাচিক ঘটনায় তোফায়েল আহমেদ এবং হাসানুল হক ইনুর সরাসরি অংশগ্রহণের কথা আজ আর কারও অজানা নয়। শহীদ আব্দুল মালেকের 'অপরাধ' ছিল—তৎকালীন ইকবাল হলে (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) আয়োজিত এক সেমিনারে পশ্চিমা শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি ইসলামি শিক্ষা প্রবর্তনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা। সেমিনারের পর হলে ফেরার পথে রাস্তায় একা পেয়ে তোফায়েল আহমেদ, হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননের মতো তৎকালীন ছাত্রলীগের ক্যাডাররা তার ওপর পশুর মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে আব্দুল মালেক প্রাণ হারান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম রাজনৈতিক ছাত্র হত্যাকাণ্ড, যা তখন পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ ফল হিসেবেই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ডাকসু নির্বাচনে তোফায়েলদের ছাত্রলীগের ভরাডুবি ঘটেছিল।
গত পাঁচ দশকে তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশকে আসলে কী উপহার দিয়েছেন? তিনি যখনই যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, তা দুর্নীতি ও লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট থেকে শুরু করে বিচার ব্যবস্থাকে পঙ্গু করা- সবখানেই তার দীর্ঘ ছায়া ছিল।
শেখ হাসিনাকে আজ যে খুনি, স্বৈরাচারী ফেরাউন হিসেবে বিশ্ব চেনে, তার রাজনৈতিক ইন্ধনদাতা ও পরামর্শক হিসেবে তোফায়েল আহমেদের নাম ইতিহাসের কালো পাতায় খোদাই করা থাকবে।- মো. রেযাউল করিম, 'খুনি' তোফায়েল আহমেদের মৃত্যু: ইতিহাসের দায়মোচন; ২ জুন, ২০২৬
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় তোফায়েল আহমেদ সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।