বিষয়বস্তুতে চলুন

পালকি

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
গামা হিসেবে পরিচিত কোরিয়ার তৈরি পালকি (আনুমানিক ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দ)

পালকি মানুষ বহনের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন বাহন। এটি মনুষবাহিত একটি প্রাচীন যানবিশেষ। এই বাহনে এক বা দুই জন যাত্রী নিয়ে দুই, চার বা আট জন বাহক এটিকে কাঁধে তুলে একস্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেত। পালকির বাহকেরা বেহারা নামে অভিহিত। পালকি চাকাবিহীন হওয়ায় এটিকে ঘাড়ে বহন করে ঝুলন্ত অবস্থায় স্থানান্তর করা যায়। এই যানকে ডুলি, শিবিকা প্রভৃতিও বলা হয়। পর্তুগিজরা এর নাম দেয় পালাঙ্কুয়িন। বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বিয়ে ও অন্যান্য শুভ অনুষ্ঠানে বর-কনের জন্য পালকি ব্যবহারের প্রথা চালু ছিল। পালকি বিভিন্ন আকৃতি ও ডিজাইনের হয়ে থাকে।

উক্তি[সম্পাদনা]

  • পাল্কী চলে,
    পাল্কী চলে—
    দুল্‌কি চালে
    নৃত্য তালে!
    ছয় বেহারা,—
    জোয়ান তারা,—
    গ্রাম ছড়িয়ে
    আগ্‌ বাড়িয়ে
    নাম্‌ল মাঠে
    তামার টাটে!
    তপ্ত তামা,—
    যায় না থামা,—
    উঠ্‌ছে আলে
    নাম্‌ছে গাঢ়ায়,—
    পাল্‌কী দোলে
    ঢেউয়ের নাড়ায়।
    • পাল্কীর গান, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, কুহু ও কেকা - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯-৩০
  • এমন সময় ‘হারে রে রে রে রে’
    ওই-যে কারা আসতেছে ডাক ছেড়ে!
    তুমি ভয়ে পাল্‌কিতে এক কোণে
    ঠাকুর-দেব্‌তা স্মরণ করছ মনে—
    বেয়ারাগুলো পাশের কাঁটাবনে
    পাল্‌কি ছেড়ে কাঁপছে থরোথরো।
    আমি যেন তোমায় বলছি ডেকে,
    ‘আমি আছি, ভয় কেন মা, কর!’
    • বীরপুরুষ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সঞ্চয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৫৩-৪৫৪
  • কাল পত্র আসিয়াছিল। আজ সে মহেন্দ্রকে ডাকিয়া কহিল, দুটো পালকি আর বত্রিশ জন কাহার চাই, আমি এখনি তালসোনাপুরে যাব। মহেন্দ্র আশ্চর্য হইয়া প্রশ্ন করিল, পালকি বেহারা আনিয়ে দিচ্চি, কিন্তু দুটো কেন মা?
    • দেবদাস, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, দেবদাস - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রথম সংস্করণ,প্রথম প্রকাশ- মাঘ-১৩৫৪, প্রকাশক- সরকার এ্যাণ্ড কোং, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৭-৮৮
  • একদিন সন্ধ্যার সময় বৈদ্যবাটীর নিকট দিয়া একখানা জানানা সোয়ারি যাইতেছিল। নববাবুরা ঐ সোয়ারি দেখিবামাত্র দৌড়ে গিয়ে চারিদিক ঘেরিয়া ফেলিল ও বেহারাদিগের উপর মারপিট আরম্ভ করিল, তাহাতে বেহারারা পাল্‌কি ফেলিয়া প্রাণভয়ে অন্তরে গেল। বাবুরা পাল্‌কি খুলিয়া দেখিল একটি পরমা সুন্দরী কন্যা তাহার ভিতরে অছেন— মতিলাল তেড়ে গিয়া কন্যার হাত ধরিয়া পাল্‌কি থেকে টানিয়া বাহির করিয়া আনিল।
    • আলালের ঘরের দুলাল - প্যারীচাঁদ মিত্র, দ্বিতীয় সংস্করণ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দ (১২৭৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬২-৬৩

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]