বিষয়বস্তুতে চলুন

মুহাম্মদ ইউনূস

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
যদি আমরা কল্পনা না করি তাহলে এটা হবে না যদি আমরা কল্পনা করি তাহলেই কোন একদিন এটা ঘটবে

মুহাম্মদ ইউনূস (জন্ম জুন ২৮, ১৯৪০) হচ্ছেন একজন বাংলাদেশী সামাজিক উদ্যোক্তা, অধ্যাপক, সমাজসেবক ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। তিনি ক্ষুদ্রঋণ ধারণার বিকাশকারী এবং প্রতিষ্ঠাতা। ২০০৬ সালে তিনি এবং তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। তিনি ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মহামারীটি নিশ্চিতভাবে নির্মূল করার একমাত্র উপায় হলো এমন একটি ভ্যাকসিন থাকা, যা গ্রহের সমস্ত বাসিন্দাদের দেওয়া যেতে পারে।... প্রায় একই সময়ে গ্রহের সকল মানুষের কাছে ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে এটি মালিকানা-মুক্ত হতে হবে। এটি করার জন্য আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি বিশ্বব্যাপী ফার্মাসিউটিক্যাল সামাজিক ব্যবসা চালু করতে চাই। (৪ জুলাই ২০২০)

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • আপনি একদিনে পৃথিবী বদলাতে পারবেন না... বদলাতে চাইলে শুরু করুন আপনার গ্রাম থেকে।
    • ৩ এপ্রিল ২০২৫, ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনে [১]
  • দেশ বদলাতে চাইলে পরিচালনার পদ্ধতি বদলাতে হবে, একই নিয়মে সব সময় চলে না। তরুণরাই আগামীর ভবিষ্যৎ, তাদের মাঝেই অনুপ্রেরণা। বিশ্বকে পরিবর্তন করতে হলে আগে নিজের গ্রাম থেকে পরিবর্তন শুরু করো। নতুন সভ্যতা গড়তে চাকুরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। পরিবর্তন আনতে হলে পদ্ধতি বদলাতে হবে, প্রচলিত ব্যবস্থায় বিশ্বে পরিবর্তন সম্ভব নয়।
    • ৩ এপ্রিল ২০২৫, ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনে [২]
  • উদারনীতি, বহুত্ববাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর মানুষের গভীর বিশ্বাস থেকেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হয়। ১৯৭১ সালে যে মূল্যবোধকে বুকে ধারণ করে আমাদের গণমানুষ যুদ্ধ করেছিল, সেই মূল্যবোধকে বহু বছর পরে আমাদের 'জেনারেশন জি' নতুনভাবে দেখতে শিখিয়েছে। এরকম আমরা দেখেছিলাম ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বাংলাকে মাতৃভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সময়েও।
  • একদিন আমাদের নাতি-নাতনিরা দারিদ্র্য কেমন ছিল, তা দেখতে যাদুঘরে যাবে।
  • আপনি যদি একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, আপনি যদি একজন নারী হন, তাহলে আপনি সবচেয়ে বাজে দারিদ্র্য দেখেছেন। সাংস্কৃতিক ভাবে বাংলাদেশের পরিবারগুলোতে নারীরাই সবার শেষে খাবার খায়। সুতরাং আপনার পরিবারে যদি অভাব থাকে... সে বঞ্চিত হয় এবং সবকিছুতেই সে বৈষম্যের মুখোমুখি হয়। সুতরাং, তাকে সুযোগ দেওয়া হলে সে তার জীবনকে উন্নত করার জন্য একটি পরিবর্তন আনতে খুব কঠোর পরিশ্রম করে। এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সে দুর্লভ সম্পদের সবচেয়ে দক্ষ ব্যবস্থাপক (হয়ে উঠে)। কারণ তার যে সামান্য সম্পদ আছে, তা দিয়ে বাচ্চাদের দেখাশোনা, পরিবারের দেখাশোনা এবং অন্য সবকিছুর জন্য তাকে যতটা সম্ভব প্রসারিত করতে হবে। পুরুষদের মতো নয় - পুরুষরা এখনই উপভোগ করতে চায়। সে যা-ই পায় না কেন, সে যে ছোট খাটো জিনিসই পায় না কেন, ভবিষ্যতে কী আসছে, তা নিয়ে সে খুব একটা মাথা ঘামায় না।
    • "অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে সাক্ষাৎকার" অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (২৫ মার্চ ১৯৯৭)
  • আমি বিশ্বাস করি, আইন প্রয়োগকারী ও ন্যায়বিচার, জাতীয় প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি ব্যতীত বেশিরভাগ বিষয় থেকে 'সরকারের' বেরিয়ে আসা উচিত এবং বেসরকারি খাতকে, একটি 'গ্রামীণাইজড প্রাইভেট সেক্টর', একটি সামাজিক চেতনা-চালিত বেসরকারি খাতকে তাদের অন্যান্য দায়িত্ব গ্রহণ করতে দেওয়া উচিত।
    • অটোবায়োগ্রাফি : ব্যাংকার টু দ্য পুওর (২০০১)
  • আমার কাছে গরীব মানুষ বনসাই গাছের মতো। আপনি যখন ফুলের টবে সবচেয়ে লম্বা গাছের সেরা বীজ রোপণ করেন, তখন আপনি সবচেয়ে লম্বা গাছের একটি প্রতিরূপ পাবেন, মাত্র ইঞ্চি লম্বা। আপনি যে বীজ রোপণ করেছেন তাতে কোনো ভুল নেই; (ভুল) কেবল মাটির ভিত্তিতে, যা খুব অপর্যাপ্ত। গরীব মানুষের বনসাই মানুষ। তাদের বীজে কোন ভুল নেই। সহজভাবে, সমাজ তাদের বেড়ে ওঠার ভিত্তি দেয়নি। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার জন্য আমাদের জন্য তাদের জন্য একটি সক্ষম পরিবেশ তৈরি করা দরকার। একবার দরিদ্ররা তাদের শক্তি এবং সৃজনশীলতা প্রকাশ করতে পারলে, দারিদ্র্য খুব দ্রুত অদৃশ্য হয়ে যাবে।
    • দারিদ্র্য বিহীন বিশ্ব তৈরি করা: সামাজিক ব্যবসা এবং পুঁজিবাদের ভবিষ্যত (২০০৭)
  • গরীব মানুষ সবসময় তাদের ঋণ পরিশোধ করে। আমরা, প্রতিষ্ঠান ও নিয়মকানুনের স্রষ্টারাই, তাদের জন্য সমস্যা তৈরি করে চলেছি।
    • গ্রামীণ ব্যাংক II: নতুন সম্ভাবনা খোলার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে (২০০২)
  • আমরা বিশ্বের জন্য যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা তৈরি করেছি তার দ্বারা দারিদ্র্য সৃষ্টি হয়েছে। আমরা যে সব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি এবং গর্ববোধ করছি, সেগুলোই দারিদ্র্য সৃষ্টি করেছে।
    • গ্লোবাল আরবান ডেভেলপমেন্ট ম্যাগাজিনে (মে ২০০৫) "বাজার-ভিত্তিক সামাজিক উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করা"
  • আমি নিজের জন্য টাকা খরচ করব না। আমি বরং না-লাভ-না-ক্ষতি নীতিতে একটি বিশেষ ব্যবসায় এটি ব্যয় করব। আমরা একটি চক্ষু হাসপাতালও স্থাপন করব যেখানে ভিক্ষুকদেরও ১০-২০ টাকা ব্যয়ে চিকিৎসা দেওয়া হবে।
    • ডেইলি স্টার (১৪ অক্টোবর ২০০৬)
  • সব ধরনের পুষ্টিকর উপাদান দিয়ে আমরা দই তৈরি করব। আমরা দরিদ্র ও শিশুদের পুষ্টি দিতে চাই।
    • ডেইলি স্টার (১৪ অক্টোবর ২০০৬)
  • সকল মানুষের একটি সহজাত দক্ষতা রয়েছে - বেঁচে থাকার দক্ষতা। দরিদ্ররা যে বেঁচে আছে এটাই তাদের বেঁচে থাকার ক্ষমতার প্রমাণ। আমাদের তাদের শেখানোর দরকার নেই কীভাবে বাঁচতে হয়। এটা তারা ইতোমধ্যেই জানে।
  • “আমি সাহসী ছাত্রদেরকে অভিনন্দন জানাই যারা আমাদের দ্বিতীয় বিজয় দিবসকে বাস্তবে রূপ দিতে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং অভিনন্দন জানাই দেশের আপামর জনসাধারণকে যাঁরা ছাত্রদের এই আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। আসুন আমরা আমাদের এই নতুন বিজয়ের সর্বোত্তম সদ্ব্যব্যবহার নিশ্চিত করি। আমাদের কোনো প্রকার ভুলের কারণে আমাদের এই বিজয় যেন হাতছাড়া হয়ে না যায়। আমি সকলকে বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্ত থাকতে এবং সব ধরনের সহিংসা এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বিনষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানাচ্ছি এবং ছাত্র ও দলমত নির্বিশেষে সকলকে শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ করছি। আমাদের প্রিয় এই সুন্দর ও বিপুল সম্ভাবনাপূর্ণ দেশটিকে আমাদের নিজেদের ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রক্ষা করা এবং একে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন আমাদের প্রধান কাজ। একটি নতুন পৃথিবী বিনির্মাণে আমাদের তরুণরা প্রস্তুত। অকারণ সহিংসতা করে এই সুযোগটি আমরা হারাতে পারিনা। সহিংসতা আমাদের সকলেরই শত্রু। অনুগ্রহ করে শত্রু সৃষ্টি করবেন না। সকলে শান্ত থাকুন এবং দেশ পুনর্গঠনে এগিয়ে আসুন।

অনুগ্রহ করে নিজে শান্ত থাকুন এবং আপনার আশেপাশের সকলকে শান্ত থাকতে সহায়তা করুন।”

    • ৭ আগস্ট ২০২৪ এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রফেসর ইউনূসের বক্তব্য।[][]
  • ‘আজ সরকার মনে করছে তারা সবাই শক্তিশালী কারণ তারা সবাই শক্তিশালী। ওরা নিয়ন্ত্রণ করে, আমার ওরা বলা উচিত না, আমার ওরা বলা উচিত, কারণ বাংলাদেশে ওরা নাই। এক দেশ, এক দল, এক নেতা, এক ন্যারেটিভ দেশ। আপনি এই ফর্মুলেশনগুলির একটি থেকে বিচ্যুত হতে পারবেন না। যে মুহূর্তে তুমি সেটা থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবে, সেই মুহূর্তে তুমি গুরুতর বিপদে পড়বে। ’
    • ২ আগস্ট ২০২৪ তারিখের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাক্ষাৎকার। [][]
  • "দারিদ্র্য কোনো মানুষের তৈরি নয়। এটি মানুষের তৈরি একটি ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থাই মানুষকে গরিব করে রাখে।"

Creating a World Without Poverty: Social Business and the Future of Capitalism, Muhammad Yunus, ২০০৮মুহাম্মদ ইউনূস - উইকিপিডিয়া

সম্পর্কিত

[সম্পাদনা]
  • নোবেল লরিয়েট মুহাম্মাদ ইউনুসের কিছু কথা: (ভিডিওতে) আমাকে ক্লিক করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আমি মুহাম্মদ ইউনুস, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা, এবং ওহ হ্যাঁ, আমি নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীও। আপনি ঋণ দিতে চান এমন একজন উদ্যোক্তা খুঁজতে, আমার নাকে ক্লিক করুন... যদি ধরতে পারেন। এটা এখানে উপরে! এখন এখানে নিচে! খুব ধীরে হচ্ছে! ঠিক আছে, আমি স্থির রাখব। না, আমি করব না। হা-হা! বিদায়!
  • যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ণ যমুনাতে, আমি রইবো না, আমি রইবো না আর সরকারের ঐ গদিতে গো, যখন পড়বে না মোর পায়ের আিহ্ন যমুনাতে, চুকিয়ে দেবো বিবৃতি সব মিটিয়ে দেবো গো। মিটিয়ে দেবো লেনাদেনা, বন্ধ হবে আনাগোনা এই মবের। তখন আমায় নাই বা ড্রোনে রাখলে। আয়না পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে। যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন যমুনাতে।
    • ইউনূসকে নিয়ে ইয়ার্কি ডট কম থেকে প্রকাশিত এআই দিয়ে নির্মিত রম্য কার্টুন সম্বলিত গান, যা ইউনূস ও উপদেষ্টাগণ শেষ ক্যাবিনেটে দেখে মজা করেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ [৩][৪]
  • একটি দৈনিক পত্রিকা অধ্যাপক ইউনূসকে নিয়ে প্রথম পাতায় কার্টুন ছেপেছে। সেখানে তিনি হাসিমুখে রোগাভোগা একজন মানুষের পা চেপে শূন্যে ঝুলিয়েছেন। মানুষটার মুখ থেকে ডলার পড়ছে। অধ্যাপক ইউনূস বড় একটা পাত্রে ডলার সংগ্রহ করছেন। কার্টুন দেখে কেউ কেউ হয়তো আনন্দ পেয়েছেন। আমি হয়েছি ব্যথিত ও বিস্মিত। পৃথিবী-মান্য একজন মানুষকে এভাবে অপমান করা যায় না। ছোটবেলা থেকেই আমরা শুনি—‘মানীকে মান্য করিবে।’ বাংলা সাহিত্যে বিখ্যাত দুটি পঙিক্তও আছে—-‘যদ্যপি আমার গুরু শুঁড়িবাড়ি যায়, তদ্যপি আমার গুরু নিত্যানন্দ রায়।’ অধ্যাপক ইউনূসকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। তাঁর সঙ্গে আমার কখনো দেখাও হয়নি। এর প্রধান কারণ, অতি গুরুত্বপূর্ণ মানুষের কাছ থেকে আমি নিরাপদ দূরত্বে থাকতে পছন্দ করি। অনেক বছর আগে যখন অধ্যাপক ইউনূস নক্ষত্র হয়ে ওঠেননি, আমি তাঁর কর্মকাণ্ডে মুগ্ধ হয়ে একটা বই উৎসর্গ করেছিলাম। সেই বইও আমি নিজের হাতে তাঁকে দিইনি। যত দূর মনে পড়ে, ইউনূস সাহেবের ছোট ভাই সাংবাদিক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের হাত দিয়ে পাঠিয়েছি। মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর সমাজের অতি গুরুত্বপূর্ণ কেউ না বলে তাঁর সঙ্গে আমার কিঞ্চিৎ সখ্য আছে। অধ্যাপক ইউনূস যখন নোবেল পুরস্কার পান, তখন আমি নাটকের একটা ছোট্ট দল নিয়ে কাঠমান্ডুর হোটেল এভারেস্টে থাকি। হোটেলের লবিতে বসে চা খাচ্ছি, হঠাৎ আমার ইউনিটের একজন চেঁচাতে চেঁচাতে ছুটে এল। সে বলছে, ‘স্যার, আমরা নোবেল পুরস্কার পেয়েছি। স্যার, আমরা নোবেল পুরস্কার পেয়েছি।’ সে বলেনি অধ্যাপক ইউনূস নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। সে বলেছে আমরা পেয়েছি। অধ্যাপক ইউনূসের এই অর্জন হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের অর্জন। আমার মনে আছে, এই আনন্দ সংবাদ শোনার পর আমি শুটিং বাতিল করে উৎসবের আয়োজন করি। সেই উৎসবের শিখা আমি বুকের ভেতর এখনো জ্বালিয়ে রেখেছি। দেশের বাইরে যখন সবুজ পাসপোর্ট নিয়ে যাই, তখন আগের মতো হীনম্মন্যতায় ভুগি না। কারণ, এই সবুজ পাসপোর্ট অধ্যাপক ইউনূসও ব্যবহার করেন, আমাদের ক্রিকেট খেলোয়াড়েরা ব্যবহার করেন। আমার ছোট ছেলে নিষাদ ‘সাহস’ বলতে পারে না। ‘হ’ উচ্চারণে তার সমস্যা হয়। সে বলে ‘সাগস’। আমিও তার মতো করে বলছি, অধ্যাপক ইউনূসকে ছোট করছে কার এত বড় সাগস। মানী লোকদের অসম্মান করে আমরা কী আনন্দ পাই? ব্যাপারটার মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা থাকতে পারে। আমরা যাঁরা সাধারণ, তাঁরা বলতে পারি, এই দেখ, তুমি আমাদের মতোই সাধারণ। একটি পত্রিকায় পড়লাম, গান্ধীজিকে নিয়ে বই লেখা হয়েছে। সেই বইয়ে যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করা হয়েছে, গান্ধীজি ছিলেন সমকামী। হায়রে কপাল! অধ্যাপক ইউনূসকে গান্ধীজির মতো গভীর গর্তে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা হলেও আমি বিস্মিত হব না। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে সব সময়ই তাঁর পেছনে থাকব এবং আশা করব, তাঁর মাথার ওপরের ঘন কালো মেঘ সরে সূর্যকিরণ ঝলমল করে উঠবে। আশা করা ছাড়া একজন লেখক আর কী-ই বা করতে পারেন! ‘দুঃখ যদি না পাবে তো, দুঃখ তোমার ঘুচবে কবে?’ —রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গীতালি
    • হুমায়ুন আহমেদ, বসন্ত বিলাপ

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]
অডিও
ভিডিও